হৃদয়জয়ী নেত্রী জ্যাসিন্ডা আরডার্ন

আনিসুর রহমান এরশাদ

জ্যাসিন্ডা কেট লরেল আরডার্ন শান্তিপ্রিয় দেশ নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী। দেশের সীমানা পেরিয়ে সারাবিশ্বেই তুমুল জনপ্রিয়। বিশ্ব নেতৃত্বের আদর্শ হিসেবে খ্যতিও পেয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের ১৫০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী সরকারপ্রধান। মসজিদে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা, বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও করোনা মহামারির মধ্যেও দেশ পরিচালনায় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। দেশটির মানুষ তাকে দ্বিতীয়বারেও বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছে। প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে লেবার পার্টির প্রতি নিউজিল্যান্ডের মানুষের সবচেয়ে বড় সমর্থনের পেছনে জ্যাসিন্ডার ব্যক্তি-জনপ্রিয়তার ব্যাপক ভূমিকা ছিল। আজ আপনাদেরকে জানাব দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত দ্বীপ দেশটির প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে।

প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা

নিউজিল্যান্ডর রাজনীতিতে অনুপ্রেরণামূলক নেতৃত্ব জ্যাসিন্ডা ব্যক্তিগত জীবনেও প্রাণচঞ্চল মানুষ। তিনি ১৯৮০ সালের ২৬ জুলাই নিউজিল্যান্ডের হ্যামিলটনে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা রস আরডার্ন একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন এবং মাতা লরেল (বটমলি) আরডার্ন স্কুলের সহকারি ছিলেন। জ্যাসিন্ডা পিতার কর্মস্থল মরিন্সভিল ও মুরুপারায় বেড়ে ওঠেন। মরিন্সভিল কলেজে পড়াশোনার সময় স্কুলের বোর্ড অব ট্রাস্টির শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি ছিলেন। ২০০১ সালে ইউনিভার্সিটি অব ওয়াইকাটোর থেকে রাজনীতি ও গণসম্পর্ক বিষয়ে ব্যাচেলর অব কমিউনিকেশন স্টাডিজ (বিসিএস) ডিগ্রি অর্জন করেন।

কর্মজীবন

২০০১ সালে ওয়াইকাটো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে জ্যাসিন্ডা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হেলেন ক্লার্কের দপ্তরে গবেষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি পরবর্তী কালে যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের নীতি-নির্ধারণী উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। ইসরাইল, জর্ডান, আলজেরিয়া এবং চীনে ঘুরে বেড়িয়েছেন নীতি-নির্ধারণী কাজের প্রয়োজনে।

রাজনৈতিক জীবন

খালার আগ্রহে মাত্র ১৭ বছর বয়সেই জ্যাসিন্ডা যুক্ত হয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের লেবার পার্টির রাজনীতিতে। নিজের প্রতিভা এবং কর্মকাণ্ড দিয়ে সেখান থেকে ধাপে ধাপে আজকের এই অবস্থানে আসেন তিনি। ২০১৭ সালের ২৬শে অক্টোবর থেকে নিউজিল্যান্ডের ৪০তম এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। ১লা আগস্ট ২০১৭ থেকে ২৬ অক্টোবর ২০১৭ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের ৩৬তম বিরোধীদলীয় নেত্রী ছিলেন।

এছাড়াও তিনি ২০১৭ সালের ১লা আগস্ট থেকে নিউজিল্যান্ড লেবার পার্টির ১৭তম সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। বিরোধী দলের সহ-সভাপতি ছিলেন ৭ মার্চ ২০১৭ থেকে ১লা আগস্ট ২০১৭ পর্যন্ত। নিউজিল্যান্ড লেভার পার্টির ১৭তম সহ-সভাপতি ছিলেন ১লা মার্চ ২০১৭ থেকে ১লা আগস্ট ২০১৭ পর্যন্ত। তালিকাভুক্ত আসনের নিউজিল্যান্ড সংসদ সদস্য ছিলেন ৮ নভেম্বর ২০০৮ থেকে ৮ মার্চ ২০১৭ পর্যন্ত।

জ্যাসিন্ডা ২০১৭ সালের ৮ই মার্চ থেকে মাউন্ট অ্যালবার্ট ইলেক্টোরেটের সংসদ সদস্য। তিনি ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে তালিকাভুক্ত সংসদ সদস্য হিসেবে প্রথম হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের জন্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে তিনি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব সোশ্যালিস্ট ইয়ুথের সভাপতি নির্বাচিত হন।

মা হিসেবেও অনন্য

মা হিসেবেও অনন্য জ্যাসিন্ডা। তিনি প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী যিনি জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সন্তান নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়েছিলেন। সন্তানকে কাছেই রেখেছিলেন। সন্তানকে বুকের দুধও পান করাতেন। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সন্তানের জন্ম দেয়া দ্বিতীয় কোনো বিশ্ব নেতা। ২০১৮ সালে এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন।

মা হিসাবেও দায়িত্বে কোনো অবহেলা করেননি। একজন রাষ্ট্র প্রধান হয়েও কাজ কিংবা ব্যস্ততার জন্য সন্তানকে দূরে অন্যের তত্ত্বাবধানে রাখেননি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সন্তানের জন্ম দেন জ্যাসিন্ডা। মাত্র ছয় সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়েছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চাইলে আরও বেশি ছুটি নিতে পারতেন, তা করেননি। মা হিসেবে তিনি একেবারে সাধারণ! এই ‘সাধারণ মা’-ই তাকে আরও বেশি অসাধারণ করে তুলেছে।

মুসলমানদের প্রতি সম্মান

মুসলমানদের প্রতি সম্মান দেখিয়েছেন জ্যাসিন্ডা। ১৫ই মার্চ ক্রাইস্টচার্চের দুইটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ৫১ জন মুসল্লিকে হত্যা করে ব্রেন্টন টারান্টে। হত্যার ঘটনাটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে মোকাবেলা করে প্রশংসিত হন তিনি। তিনি বোরখা পরে মুসলিমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। স্বজন হারানোদের সান্ত্বনা দেন। দ্রুত ঘাতককে গ্রেপ্তার এবং তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করেন। অন্য ধর্মের প্রতি উদার মনোভাব দেখান।

ভয়াবহ সংকটের সময়ও মুসলমানদের পাশে দাঁড়ান, সাহসী উদ্যোগ নেন। আইনের জায়গায় বা দায়িত্বের জায়গায় অটুট-অবিচল থাকেন। যা তাকে ব্যতিক্রমী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছে। আরও বেশি মুসলমান নারীকে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করতে নিউজিল্যান্ডের পুলিশের পোশাকে হিজাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এভাবে উচ্চতার শিখরে পৌঁছে যান তিনি। মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানানোয় দুবাইয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন বুর্জ আলখলিফায় জ্যাসিন্ডার ছবি প্রদর্শন করা হয়।

অন্যতম প্রভাবশালী নারী

বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী নারী জ্যাসিন্ডা। ২০১৮ সালে ‘ফোর্বস’-এর প্রভাবশালী নারীদের তালিকায় জায়গা কওে নেন তিনি। ছিলেন টাইম সাময়িকীর সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকাতেও। বিভিন্ন সমস্যার সামনে কর্মদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তার মানবিক চেহারার খবর ছড়িয়ে পড়েছে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মহলে।

শান্তি প্রিয়

শান্তি প্রিয় জ্যাসিন্ডা। অস্ত্র ব্যবহার কারও অধিকার নয় বলে জনিয়েছেন। নাগরিকদের দেয়া অস্ত্র নজরদারির আওতায় এনেছেন। অস্ত্র ব্যবসায় প্রচলিত নিয়ম-কানুন এবং অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে কঠোরতা বাড়িয়েছেন। লাইসেন্স নবায়নের সময়সীমা কমায়েছেন। অ্যাসল্ট রাইফেল, সব ধরনের সেমি-অটোমেটিক অস্ত্র এবং উচ্চক্ষমতার ম্যাগজিন (আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিভর্তি অংশ) নিষিদ্ধের চিন্তা করেছেন।

গণতন্ত্রের পক্ষে

জ্যাসিন্ডা সবসময় গণতন্ত্রের পক্ষে এবং সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে। মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের জেরে দেশটির সাথে উচ্চ-পর্যায়ের সব যোগাযোগ স্থগিতের ঘোষণা দেন তিনি। মিয়ানমারের সামরিক নেতাদের দেশটিতে ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। জ্যাসিন্ডা বলেন, নিউজিল্যান্ড তার সহায়তা প্রকল্পে নিশ্চিত করবে যাতে কোনো সহায়তা সামরিক সরকারের হাতে না পরে বা তারা ওই সহায়তা থেকে সুবিধা নিতে না পারে।

করোনা মোকাবেলা

করোনাযুদ্ধে আদর্শ নেতা জ্যাসিন্ডা। কোভিড মহামারী চলাকালীন অসাধারণ নেতৃত্ব প্রদর্শনের জন্য কমনওয়েলথের শীর্ষ তিন জন অনুপ্রেরণাদায়ী নারী নেতাদের অন্যতম তিনি। করোনাভাইরাসকে হারানোর যুদ্ধে যোগ্যতার প্রমাণ রাখায় ‘পৃথিবীর সবচেয়ে উপযোগী নেতা’ হিসেবে তাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের দ্য আটলান্টিক ম্যাগাজিন।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে নিজের মতো করে নেতৃত্বের পথ তৈরি করেন জ্যাসিন্ডা। দক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে জনগণের ওপর কোনোকিছু চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে তাদেরকে নিজেদের সুরক্ষার বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেন। সহজ ও সুস্পষ্ট বক্তব্যের জন্যই সব শ্রেণির জনগণ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে চলেছেন।

জ্যাসিন্ডা কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই সাদামাটা সোয়েটার গায়ে জড়িয়ে বেশ কয়েকবার ফেসবুক লাইভে এসেছেন। ফেসবুক লাইভে জনগণের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন তিনি। জনগণকে বোঝান যে, করোনাযুদ্ধ জয় করতে হলে সবাইকে একসঙ্গে লড়তে হবে। জনগণের ওপর নির্দেশনা চাপিয়ে না দিয়ে তিনি বাস্তবতা বুঝিয়েছেন। করোনা-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার

দেশের স্বার্থকেই সবসময় অগ্রাধিকার দেন জ্যাসিন্ডা। ২০১৯ সালের শেষ নাগাদ হোয়াইট আইল্যান্ডের আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণে ২১ জন নিহত হয়। বিষয়টিও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবেলা করতে সক্ষম হন তিনি। করোনা মোকাবেলায় কঠোর লকডাউনের নীতি লঙ্ঘন করায় শাস্তি দিতে ছাড়েননি নিজের দলের মন্ত্রীদেরকেও।

জ্যাসিন্ডা একজন সাহসী নারী। স্টুডিওতে লাইভ ইন্টারভিউ দেয়ার সময় শুরু হয় ভূমিকম্প। আশেপাশে সবকিছু কেঁপে ওঠলেও বক্তব্য না থামিয়ে হাসিমুখে ও দৃঢ়চিত্তে বক্তব্য শেষ করেন তিনি। রাজধানী ওয়েলিংটনে দেশটির পার্লামেন্টের লবিতে দেয়া তার বক্তব্যের সময় এ ঘটনা ঘটে।

পরিবারের প্রতি ভালোবাসা

ম্যাটার্নিটি লিভ উপেক্ষা করে, এক ফোঁটা মেকআপ ছাড়াই, কোলে মেয়ে নিভ টে আরোহাকে নিয়ে লাইভ এসে জ্যাসিন্ডা বুঝিয়ে দেন যে কাজ এবং পরিবারের প্রতি ভালোবাসাই নারীর আসল রূপসজ্জা। বাড়িতে বসে খুবই সহজভাবে স্পষ্ট ভাষায় নিজের মতামত গুছিয়ে ব্যাক্ত করেন তিনি। তার স্বামী টেলিভিশন উপস্থাপক ক্লার্ক গেফোর্ড।

সরল জীবন-যাপন

সহজ-সরল জীবন-যাপন করেন জ্যাসিন্ডা। আসন না থাকায় ওয়েলিংটনের অলিভ নামে একটি রেস্তোরাঁ থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাকে। বসার আসন না থাকায় জ্যাসিন্ডাকে সঙ্গী নিয়ে রেস্তোঁরা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। দরজার নিরাপত্তারক্ষী তাদের কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলেন। সেই সময় রেস্তোঁরাটি ছিল মানুষের ভরপুর। তবে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর আসনটি খালি হলে তিনি সেখানে তার সঙ্গী ক্লার্ক গেইফোর্ডের সাথে নাস্তা খেয়েছিলেন।

চিন্তাধারা

আমরা এখন জানব জ্যাসিন্ডার চিন্তাধারা। তিনি বলেন, আমি সুপারওম্যান নই। আমি সুপারওম্যান হতেও চাই না। কোনো নারীকেই সুপারওম্যান ভাবা উচিত না। কারণ, এটি বাস্তবে প্রায় অসম্ভব একটি ব্যাপার। নারী পরিশ্রম, মেধা, দৃঢ়তা ও সহযোগিতার মাধ্যমে সবকিছু অর্জন করে। নারী একাই দশ হাতে সব সামলাবে- এই ধারণা বিশ্বাসযোগ্য নয়। এটা কোনো যোগ্যতাও নয়। কারণ, এতে নারীর কাজ আরও কঠিন হয়। নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য পেতে যুদ্ধ করতে হয়। নিজেই সবকিছু করার প্রবণতা থেকে নারীর সরে আসা উচিত। সবার ক্ষেত্রেই জীবনসঙ্গীর সহযোগিতা খুবই দরকার।’

জ্যাসিন্ডার বেড়ে ওঠা নর্থ আইসল্যান্ডে। মাউরি আদিবাসী অধ্যুষিত ছোট্ট শহরে। সেখানে শিশুদের পায়ে দেওয়ার মতো জুতা ছিল না। এমনকি দুপুরে খাবারও পেত না তারা। এ ঘটনাই রাজনীতিতে উদ্বুদ্ধ করে জ্যাসিন্ডাকে। তিনি মনে করেন, সেখানকার মানুষের যে গরীবি হাল তিনি দেখেছেন, তা তার ব্যক্তিগত জীবনদর্শনে ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলেছে।

জ্যাসিন্ডা মনে করেন, দৃঢ় আত্মবিশ্বাস ছাড়া কঠিন কিছু অর্জন করা অসম্ভব। যতই নাজুক হোক না কেন পরিস্থিতি, শুধু আত্মবিশ্বাসী হয়েই তা কাটিয়ে উঠে সফল হওয়া সম্ভব। উৎসাহ-উৎকণ্ঠা আর উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করে সঠিক পথে চলতে হলে দূরদর্শী হতে হবে। জীবনকে কঠিন করে নয়, সহজ করে আত্মত্যাগের মনোভাব নিয়ে এগিয়ে চললে কোনো কিছুই আর অজেয় থাকবে না।

ব্যক্তিজীবন

বর্তমান বিশ্বের জনপ্রিয় নেতা জ্যাসিন্ডা ব্যক্তিজীবনে আসলে কেমন? এই ব্যাপারে ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গবেষক ভ্যান জ্যাকসন বলেন, জ্যাসিন্ডা কখনো ভুল তথ্য দেন না। কাউকে দোষারোপও করেন না। তিনি জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করেন। সবার প্রত্যাশা পূরণের জন্য তিনি নিরলসভাবে কাজ করার চেষ্টা করছেন। জ্যাসিন্ডা অ্যার্ডেন এমন একজন নেতা, যিনি বাড়িতে দুই বছরের মেয়েকে ঘুম পাড়িয়ে সাদামাটা সোয়েটার পরেই কয়েক লাখ মানুষের কাছে তাদের সুখ-দুঃখ সম্পর্কে জানতে চান। এই দৃষ্টিভঙ্গি ও নেতৃত্বের ধরনের কারণেই তিনি অনন্য।

সহানুভূতিশীল

নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হেলেন ক্লার্ক বলেন, ‘মানুষ বিশ্বাস করে, তিনি (জ্যাসিন্ডা) কারো কাছে কোনোকিছু প্রচার করতে চাইছে না। তারা জানে, সবাই এখন এক ধরনের বিপদের মধ্যে আছে। আর বিপদের সময়ে প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ডবাসীর পাশে আছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি জনগণের সম্পূর্ণ আস্থা আছে। জ্যাসিন্ডা সহানুভূতিশীল আর এজন্যই সব শ্রেণির মানুষ তার প্রতি নির্ভরশীল।

জ্যাসিন্ডা কখনো সাংবাদিকদের প্রশ্নে বিরক্ত হননি। একবার সংবাদ সম্মেলনে একজন সংবাদকর্মী প্রশ্ন করতে গিয়ে বারবার আমতা আমতা করছিলেন, ঠিকভাবে কথা বলতে পারছিলেন না। জ্যাসিন্ডা তাকে কৌতুকের ছলে বলেছেন, আমি বুঝতে পারছি দুশ্চিন্তায় আপনি রাতে ভালো ঘুমাতে পারেননি। তিনি সবসময়ই ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য সংবাদকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।’

 

পরিবার.নেট

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: poribar.net@gmail.com

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *