সমাজ গঠনে সুস্থ দেহ ও সুন্দর মনের মানুষ

পরিবেশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হয়ে নিয়ন্ত্রণ করুন। ভাবুনতো পরিবেশ ব্যক্তির আচরণের রূপরেখা গড়ে থাকে? ব্যক্তি কেমন আচরণ করবে তা যদি পরিবেশ, পারিপার্শ্বিকতা, বিদ্যমান বাস্তবতা দ্বারাই নির্ণিত হয় তবে একই পরিবেশে মানুষ লালিত পালিত হয়েও ভিন্ন আচরণ করে কেন? পরিবেশ স্থির থাকে না, তাহলে এটি পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে কে?

কে শক্তিশালী প্রকৃতি-পরিবেশ নাকি মানুষ-নাকি অন্য কেউ? প্রত্যেকটি আচরণের পেছনেই কি কোনো কারণ থাকে নাকি অকারণেও কোনো আচরণ প্রকাশ পায়? আচরণকে ঘিরেই যৌক্তিকতার আবির্ভাব হয় নাকি যৌক্তিকতা বিবেচনায় রেখেই আচরণের উদ্ভব ঘটে? ‘ইচ্ছাকৃত আচরণ’ ‘বাধ্য হয়ে করা আচরণ’ কিংবা ‘ জেনেবুঝে আচরণ’ ‘না জেনে-বুঝে করা আচরণ’-এগুলোর ভিন্নতার জায়গাগুলো কোথায়?

‘ভালো আচরণই’ ‘খারাপ আচরণ’ কোনো মানদণ্ডে বিচার হয়ে নির্ণিত হয় সেই মানদণ্ড কে ঠিক করে কিভাবে ঠিক করে? বিচারের প্রক্রিয়া আদৌ প্রশ্নের উর্দ্ধে কীনা? চেতনমনে যৌক্তিক অযৌক্তিক আচরণ আর অবচেতন মনের যৌক্তিক বা অযৌক্তিক আচরণ দুটোতে পার্থক্য কোথায়? যুক্তির উৎপত্তির স্থান কী মন, না মগজ, কোথায়? আচরণকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে শক্তিশালী কে আবেগ নাকি বিবেক? দুটোর মধ্যকার আন্ত:সম্পর্ক কী? এদের মধ্যে কী পার্থক্য রয়েছে?

অনেকেই পরিবেশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হলেও কিছু মানুষ শত ঝঞ্ঝা বিক্ষুদ্ধ, প্রতিকুলতার সাথে সংগ্রাম করেও স্বমহিমা নিয়ে টিকে থাকে, পরিবেশকেই নিয়ন্ত্রণে আনেন, প্রতিকুলতাকে অনুকুলে ফিরিয়ে আনেন। সমাজ, সংস্কৃতির চর্চায়, সমাজের ব্যবধানে নানান বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়, এটাই পরিবেশ ও বাস্তবতার মধ্যেও ভিন্ন চরিত্রের, ভিন্ন আচরণের মানুষ লক্ষণীয় করে থাকে।

একটি সমাজে-সংস্কৃতিতে যে আচরণ গ্রহণযোগ্য আরেকটি সমাজে-সংস্কৃতিতে তা অগ্রহণযোগ্য হতেই পারে। মানুষই সমাজ-সংস্কৃতি সৃষ্টি করেছে, আর পরবর্তীতে অনেক পরিবর্তন ঘটিয়েছে। নিয়ন্ত্রক ও স্রষ্টার যে ভূমিকা তা থেকে নিয়ন্ত্রিত হবার পরিণতি অনেকের হয়ে থাকে। এভাবেই মানুষের নানান ধরনের আচরণ পরিলক্ষিত হতে দেখি।

স্বাভাবিক আচরণ আর ‘অস্বাভাবিক আচরণ’ বলে মানব আচরণকে গ্রহণযোগ্যতার আলোকে দুভাবে দেখা হয়। একজন বা একা যেটাকে স্বাভাবিক আচরণ ভাবছে আরেকজন বা আরেকটি ঐ সেটাকেই অস্বাভাবিক আচরণও ভাবতে পারে। এ ধরনের নানান-দ্বিমুখী, পরস্পরবিরোধী, পথে-বিপথে কথাবার্তা, দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে এটাই বাস্তবতা।

আর এই বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে দ্বন্দ্বমুখর মানব জীবন, সমাজ জীবন, সাংস্কৃতিক জীবনের গতিধারা প্রবাহমান থাকবে, অব্যাহত থাকবে। তবে সুন্দর সমাজ গঠনে সুস্থ দেহ ও সুন্দর মনের মানুষের বিকল্প নেই , সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত গাইডলাইনেরও বিকল্প নেই । তাই করণীয় হচ্ছে,

সুন্দর মনের হওয়া

‘মন’ কি কোনো অদৃশ্য শক্তির দ্বারা বেশি প্রভাবিত হয় নাকি দৃশ্যমান বাস্তবতা দ্বারাই প্রভাবিত হয়। মানসিক প্রতিক্রিয়া কি পারিপার্শ্বিক বাস্তবতারই ফলাফল নাকি আচরণিক বহিঃপ্রকাশ মানবিক অবস্থারই প্রতিফলন মাত্র। পরিবেশ মনকে নিয়ন্ত্রণ করে নাকি মনের কার্যক্রিয়াই ‘বাস্তবতার স্বরূপ’ নির্মাণের প্রচেষ্টা চালায়।

‘মানব মন’ কতটুকু স্বাধীন? কতটুকু স্বাধীন হওয়া তার জন্য সম্ভবপর? ‘মনের স্বাধীনতা’ তার জন্যে কল্যাণকর নাকি অকল্যাণকর? ‘মানব মন নিয়ন্ত্রণ’ কতটুকু প্রাসঙ্গিক? এর প্রয়োজনীয়তা কতটুকু? আদৌ মানব মন নিয়ন্ত্রণ বাস্তব সম্মত কি-না? আসলে মন এর স্বরূপ, কার্যক্রিয়া এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট জগৎ অনুধাবণ আয়াসবোধ্য কিছু নয়।

মন সংক্রান্ত ধারণা হাজির করা কঠিন, অত্যন্ত সরল নয়। মন প্রসঙ্গ অত্যন্ত জটিল। ‘মানব মনের স্বেচ্ছাচারিত’ সমাজে ‘ইতিবাচক’ নাকি ‘ নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সামাজিক প্রয়োজনেই ‘মানব মনকে’ ‘ইচ্ছা স্বাধীনতা’ কে নিয়ন্ত্রণ করা হয় নাকি ব্যক্তিসত্তা বিদ্যমান জগতের সাথে খাপ খাইয়ে চলতে গিয়ে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। কে শক্তিশালী দেহ নাকি মন? মনই দেহকে সচল রাখে নাকি দেহই মনকে ক্রিয়াশীল রাখে? দেহ ও মনের কর্মকাণ্ডকে অস্তিত্বকে আলাদা করে ভাবাটা সমীচীন কী-না? একত্রে ভাবলে সেটা কীভাবে যৌক্তিক?

প্রত্যেকটা মানবদেহেই কি মনের উপস্থিতি আছে? তাহলে মানুষের এত বৈচিত্র্য, এত ভিন্নতা কেন? ধরে নেব সবার মন আছে তবে একই ধরনের নয়। দৈহিক সৌন্দর্য, শারীরিক গঠন, শিক্ষা, বংশগত ভিন্নতা এগুলোর কার্যক্রিয়া কি মনের ধরণ ঠিক করে? নাকি ভিন্ন ধরনের মনআছে? থাকলে কী রকমের? মন কি কখনো চেতন কখনো অবচেতন থাকে? এর মূলত কাজটা কী?

আমরা অনেক পঙ্গু,প্রতিবন্ধি, অসুস্থ মানুষকেও দেখি অফুরন্ত প্রাণশক্তির জোরে কি বিপুল প্রাণচঞ্চলতা দেখিয়েছেন। ক্ষীপ্ততা, উদ্দীপ্ত করে, উজ্জীবিত করে, অনুপ্রাণিত করে আমাদের। শারীরিক দুর্বলতা মনের অসাধারণ শক্তির কাছে হেরে গেছে। অস্বাভাবিক জীবনযাপনকারী মানুষও মনের শক্তির জোরে অসাধ্যকে সাধ্য করেছেন। মনই মুখ্য ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। যেখানে মনের শক্তিই সকল শক্তিকে ছাড়িয়ে গেছে।

এখন মন কীভাবে গড়ে ওঠে? এটির রূপ কি পরিবর্তন হয় নাকি স্থির? মন কী শুধু মানুষেরই আছে নাকি অন্য প্রাণীরও? শুধু মানুষের থাকলে মন থাকার জন্য কোন্ কোন্ বৈশিষ্ট্যগুলো থাকা প্রয়োজন। মন কীভাবে থাকে, কোথায় থাকে, এর অস্তিত্ব ক্ষণস্থায়ী নাকি চিরস্থায়ী। ‘মনমরা’ ‘মনতাজা’ ‘সতেজ মনের অধিকারী’ ‘দুর্বল মনের অধিকারী’ –তার মানে মনের নানা রূপ আছে?

‘সুন্দর মনের মানুষ’ ‘অসুন্দর মনের মানুষ’ ও আছে? তাহলে মনটা ভাল হলে মানুষটাও ভাল হয় নাকি ভাল মানুষের মনটাও ভাল হয়? এখন ‘সুন্দর মন’, ‘অসুন্দর মন’ বলে কি ভিন্ন ধরনের মন নাকি ‘মন’ কে কীভাবে ব্যবহার করা হয় তার উপর নির্ভর করে এই পরিচয় নিহিত হচ্ছে। ‘অন্তর্নিহিত শক্তি’ ছাড়া ‘বাহ্যিক শক্তি’ কী আদৌ মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে? মন কী আদৌ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব? হলে সেটা কীভাবে?

মন জগতের সাথে কী ভিন্ন কোনো জগতেও যোগসূত্র আছে। মনই মনোজগত তৈরি করে নেয় নাকি ভিন্ন কোনো জগৎ নানান প্রক্রিয়ায় মনোজগৎ গঠন করে? মনোজগৎটা আসলে কী? এ জগতের অস্তিত্বটা কীভাবে প্রমাণ করা সম্ভব? কি আচরণ করা হবে তাকি মনই ঠিক করে দেয় নাকি অন্যকেউ?

সবারই যদি মন থাকে তবে মন আছে মানে জীবন আছে। মন নেই মানে জীবন নেই। তাহলে ‘প্রাণ’ ‘মন’ জীবন এগুলোকে কীভাবে দেখা যায়? মানুষের জীবন আছে বলে জীব, প্রাণ আছে বলে প্রাণী মন আছে বলে যদি মানুষ হয় তবে কী মানুষ ছাড়া অন্যকোনো প্রাণীর মন নেই। তাহলে ‘মনহীন প্রাণী’ আর ‘মনযুক্ত প্রাণী’ দুটোর কি কি ভিন্ন বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে?

টাকা আছে তবে মন নেই, ‘সুন্দর কিছু করার জন্য তো মন থাকা প্রয়োজন’ ‘ওর আবার মন, ও শালাতো মন নাই’ তার মানে মন মানেই ইতিবাচক কিছু, ভাল কিছু, আবার মন বলে যদি কিছু থাকত তবে এমন নিষ্ঠুর কাজটা করতে পারতি না’-তার মানে সবারই মন থাকে না?

‘তোর মনটাই কুৎসিত’ তার মানে মন কুৎসিত হতে পারে, সুন্দরও হতে পারে। এক্ষেত্রে কে দায়ী মন নিজে, নাকি দেহ নাকি এ দুটো ছাড়া অন্য কেউ? মনের মতো মানুাষ মানে তার আচরণ পছন্দ। তার মানে আচরণ মনের রূপের প্রতিফলন। আচরণেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মন কেমন তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। মন নিয়ে যত ধরনের কথাই হোক মনের অস্তিত্ব নিয়ে কোনো সন্দেহ সংশয় নেই। সুন্দর মনের মানুষ সুন্দর পৃথিবী গড়ায় ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালাবে এটাই প্রত্যাশা।

গভীর অন্তর্দৃষ্টি

দৃষ্টিটা বৃক্ষে বসা পাখির উপর এমন গভীরভাবে আটকে গিয়েছে যে পুরো গাছটা আর দেখাই হয়নি। পুরো গাছটি কিংবা বিশাল আকৃতির রূপ সৌন্দর্য উপভোগেরই সুযোগ হয়নি। হয়তো, প্রকৃতির বিশালতা সম্পর্কেই ধারণা নেই ফলে পাখিটা দেখতে পেরেই যে তৃপ্ত। আর অতৃপ্তিও নেই।

দৃষ্টি বিশাল হয়ে গেলে সংকীর্ণ কিছুতে তৃপ্ত থাকা অত সহজ নয়। মনের চোখ বা অর্ন্তচক্ষু যার শক্তিশালী নয় তার সীমিত পরিসরেই সক্রিয় অস্তিত্ব। তাই অজ্ঞতার কারনে, অযোগ্যতা ও দুর্বলতা ও অসচেতনার কারনে যে তৃপ্তির সৃষ্টি হয় সেই ধরনের প্রশান্ত আত্মাকে সৌভাগ্যবান বলা যুক্তিহীন।

বাস্তবতাকে উপলব্ধি করা

দীর্ঘ সফর। ওরা দুইজন। গাড়ীতে হয়তো পাশাপাশিই বসেছে। একজন সুন্দর প্রকৃতির নয়ন জুড়ানো দৃশ্য দেখেছে। আকাশের বিষণ্নতা, প্রকৃতির উদারতা দেখে মুগ্ধ হয়েছে। মাঝে মাঝে দেশের গান শুনেছে। শ্রবণেন্দ্রিয়, দর্শনেন্দ্রিয় ও চিন্তাশক্তির আধার মস্তিষ্ককে ব্যবহার করেছে। আরেকজন নাক ডেকে ঘুমিয়েছে।

একজন রাস্তায় বের হয়ে মানুষের সাথে কথা বলেছে, তাদের সমস্যা-সম্ভাবনা জেনেছে। সেখানকার সমাজ, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনাচরণ বুঝেছে। গভীর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে বাস্তবতাকে উপলব্ধি করেছে। দুঃখী অসহায় কাউকে ফেলে সামর্থানুযায়ী সহযোগিতা করেছে, সান্ত্বনা দিয়েছে। হতাশা কাউকে আশার বাণী শুনিয়ে উৎসাহিত, অনুপ্রাণিত করেছে। কর্মব্যস্ত থেকে সময়টা কাটিয়েছে। আরেকজন চোখ দিয়ে দেখেছে অনেক কিছু। এ দেখার সাথে মন ছিল না। চিন্তাশক্তির যোগসূত্র ছিল না। সাদা মাঠ দর্শন, কোনো প্রতিক্রিয়া হয়নি।

নিঃসন্দেহে দু’জনকে একই সারিতে ফেলা যাবে না। কেউ মায়ের পেট থেকে বের হয়, পরে একসময় মাটির পেটে ঢুকে। এর মাঝে অতিক্রান্ত সময়টা চোখ মুখ বুঝে কাটায়। আরেকজন পেট থেকে কবরে যাবার পথে অনেক কর্মব্যস্ত থাকে, সর্বশক্তি ব্যবহার করে, থাকে কর্মতৎপরতা ও স্বতঃস্ফুর্ততা, এই যে কর্ম এটিই মূলত দু’জনের মধ্যকার শ্রেষ্ঠত্ব নির্ণয় করে, দু’জনকে আলাদা করে।

উদ্দেশ্য বিবেচনা

একজন মনীষী বলেছিলেন, একজন ব্যক্তি গোটা মানবজাতির কণ্ঠরোধ করলে তার যে অপরাধ হবে গোটা মানবজাতির একজন ব্যক্তির মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করলে তাদেরও সেই অপরাধ হবে। আসলে গধলড়ৎরঃু সঁংঃ নব মৎধহঃবফ কথাটার যৌক্তিকতার বিতর্কিত। কেননা সংখ্যাধিক্যের মতামতই সব সময় সঠিক হওয়াটা মোটেই যুক্তিসঙ্গত নয়।

আমরা দেখেছি গোটা মানবজাতি একসময় মহানবী (সা) এর বিপক্ষেই ছিল। তিনি একাই এক পক্ষে ছিলেন। কিন্তু তার অবলম্বন সঠিক ছিল। ফলে পরবর্তীতে অনেকেই তার পক্ষে চলে এসেছে। গ্যালিলিও কে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। সমাজ সংস্কারক, বড় বড় মহামানবরা অনেকেই বিরোধীতার সম্মুখীন হয়েছেন, অধিকাংশ মানুষই তাদের বিরোধীতা করেছে, স্বল্প সংখ্যকই করেছেন সমর্থন। গণতন্ত্রে সংকট এখানেই।

প্রতিটি নাগরিক ভোটার যদি সজাগ ও দূরদর্শি না হয় তবে তাদের অধিকাংশের মতামতও সম্পূর্ণ ভ্রান্ত হতে পারে।তাই কোনো দলের সমর্থক কত বেশি তা দেখে শ্রেষ্ঠত্ব বিচারের যৌক্তিকতা নেই। মাথা গুণে হিসাব করেছে সেতো এক প্রকারের মুর্খ। কেননা জ্ঞানীরা মস্তিষ্কের উর্বরতা ও তার প্রয়োগে ফলাফলটা বিচার করেই মূল্যায়ন করে ব্যক্তিকে। আর দলের আদর্শ, চেতনা, লক্ষ-উদ্দেশ্য, কর্মপদ্ধতি বিবেচনায় এনেই শ্রেষ্ঠত্ব বিচার করে।

অতি লোভ নয়

অর্থের জন্য জীবন নাকি জীবনে জন্য অর্থ। অর্থের পিছনে বিরাম বিরতিহীন ছুটে চলা মানুষের নজরে পরার মত সংখ্যাধিক্য এক্ষেত্রে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তৈরি করে। অর্থ উপার্জনের জন্য নয়া নয়া নানা কৌশল আবিষ্কৃত হচ্ছে-যা কারো জন্য সুখপ্রদ হলেও অনেকের জন্য মরণফাঁদ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। অর্থাৎ একটি আয়োজনের ফলে সৃষ্ট প্রভাবের। সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্রও দৃষ্টিগোচর হচ্ছে।

অর্থের লোভে অনেক সময় বন্ধু ও শত্র“তে পরিণত হয়। স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে শত্র“র সাথেও গলাগলি ধরে চলতে আপত্তি থাকে না। আপনজন পর হয়ে যায় আর পর আপন হয়। অর্থের প্রয়োজনে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও মানুষ জীবনে নানা পদক্ষেপ নেয়। বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। অর্থ প্রেম অনেক মানুষকে মানবিকতা বিবর্জিত যান্ত্রিক মানুষে পরিণত করে।

অর্থ উপার্জন বা হাসিলের প্রত্যাশা ব্যক্তিকে সক্রিয়-কাজে-কর্মে গতিশীল রাখে, কর্মতৎপর ও ব্যস্ত রাখে। প্রত্যাশা অনেক সময় সীমানা ছাড়িয়ে গেছে। এত বেশি মানুষের চেয়েছে যে আশা পূরণ করতে গিয়ে প্রকৃতি ও পরিবেশের বিপর্যয় ডেকে এনে নিজেকে ধ্বংসের মুখোমুখি করেছে।

জীবনকে ভালোবাসা

আসলে অর্থ তো জীবনেরই জন্য। সেই জীবনকে বিপন্ন করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রয়াস মারাত্মক ক্ষতিকর নিঃসন্দেহে। অর্থকে মুখ্য ধরে জীবনকে যখন গৌণ জ্ঞান করা হয় তখন সেটা মেনে নেয়াটা বড়ই কঠিন। কেননা অর্থকে স্থান দেয়া মানেই মানুষ নিজের জীবন, সময়কে তুচ্ছ জ্ঞান করে সবার উপরে বলে ধরে নেয়া যায়। এতে সৃষ্টির অপমান, স্রষ্টার অপমান।

সময়কে কাজে লাগানো

জীবন মানে সময়ের সমষ্টি। এখন সময়ের দাম বেশি নাকি টাকার দাম বেশি? অর্থ-সম্পদ ব্যবহার করে অনেক মানুষে সময়কে, মেধাকে, কিনে নেয়া যায়। অর্থাৎ একজন মানুষ অর্থ শক্তির জোরে আরেক মানুষের কর্মঘণ্টা, সময়কে তথা জীবনকে, জীবনের একটি অংশকে ইচ্ছামতো নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারেন। যার অর্থ নেই সে অনেক সংখ্যক মানুষকে ব্যবহার করতে পারেন না।

এক্ষেত্রে অর্থ যেহেতু সময়কে কিনে নিতে পারে মনে হয় তাই অনেকে বলতেই পারে অর্থের মূল্যই বেশি। আসলে ব্যাপারটাকে এতটা সরলীকরণ করে ব্যাখ্যা দেয়া যায় না। সময় যদি না থাকে, জীবনই যদি না থাকে তবে টাকা দিয়ে কি করবেন? প্রাণহীন হাত মানুষের কাছে তার অর্থ-সম্পদ, মূল্যহীন বিবেচিত হয়। আমি আপনাকে যত টাকা চান, যত অর্থ চান দেব। আপনি কি আমাকে একজন টমাস আলভা এডিসন কিংবা আলবার্ট আইনস্টাইন দিতে পারবেন? পারবেন না? অর্থাৎ কিছু জীবন, কিছু মানুষের সময়কে অর্থমূল্যে পরিমাপ করা যায় না।

এখন কথা হলো, অধিকাংশ মানুষই তার মূল্যবান সময়কে নষ্ট করে। হেলায়-খেলায়-অবহেলায়-অথবা অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যস্ত থেকে সময় কাটায়। আসলে সময়ই জীবন। সুতরাং সময় যার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয় তার জীবনটাই মূল্যহীন। জীবনটাকে যিনি অবমূল্যায়ন করবেন তিনি তো অপমানিত হওয়ার যোগ্য। আর এই নীচু স্তরের মানুষেরই ৫ টি টাকাকে যেভাবে দেখেন ৫ টি সেভাবে মূল্যবান মনে করেন না। জীবনের গত হয়ে যাওয়ার আগে প্রান্তসীমায় দাঁড়িয়ে অন্তিম মুহূর্তের ৫ টি মিনিটকে কে কিভাবে দেখেন জানি না। কিন্তু তখন সময়ের মূল্য বুঝে কোনো লাভ হয় না।

টাকা বেশি মূল্যবান নাকি সময় বেশি মূল্যবান। আমরা দুই ধরনের মানুষ দেখি। একধরনের মানুষের জীবনও সময়ের চেয়ে মনে হয় যেন টাকাই বেশি মূল্যবান। তাই টাকার যেমন মায়া, সময়ের প্রতি, জীবনের প্রতি দরদের পরিমাণ অতটা নেই। আবার আরেক ধরনের মানুষের সময়ের দাম, জীবনের দাম বেশি। যাদেরকে অর্থ দিয়ে পরিমাপ করা যায় না, কেনা যায় না। যারা অর্থের বিনিময়ে আরো মানুষের শ্রম, মেধা, সময়কে কিনে নিতে পারেন।

যিনি টাকার কাছে নিজের সবকিছু বিক্রি করেন আর যিনি অন্যের জীবন ও সময়কে টাকার বিনিময়ে সবকিছু বিক্রি করেন আর যিনি অন্যের জীবন ও সময়কে টাকার বিনিময়ে ক্রয় করে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেন দু’জন সমান নয়। কে শ্রেষ্ঠ সেটি বলছি না তবে কে শক্তিশালী সেটা সহজেই অনুমেয়। এখন এই দুর্বল মানুষগুলোর দুর্বলতার জন্য কে দায়ী? সে নিজে নাকি অন্য কেউ।

অন্য কেউ দায়ী থাকতে পারে তবে সে নিজে সে কম দায়ী নয়। এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। নিজেকে মাথা নত যে হতে দেয় সে অপমানিত হবার যোগ্য। তাই নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য সচেতন না হয়ে নিজের পরিণতি, অবস্থার জন্য অন্যকে দোষারোপ করে কোনো লাভ নেই। আমার পরিবর্তন না হলে অন্য কেউ পরিবর্তন হবে এটা আশা করতে পারলেও দাবী করতে পারি না।

ক্ষমতার অপব্যবহার নয়

উপর থেকে নিচের দিকে চাপিয়ে দেয়ার যে দৃষ্টি ভঙ্গি এটা মোটইে যৌক্তিক নয়। আর হ্যাঁ পলিসি নির্ধারণে, নীতিমালা বা কর্মপদ্ধতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে নীচের দিকে সুবিধা অসুবিধার কথা বিবেচনা রেখে পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। তবে হ্যাঁ উপর থেকে নীচের দিকেই কোনো সংস্থা, দল বা প্রতিষ্ঠানে কর্ম ধারার আদর্শ প্রবাহিত হয়।

উপরে থেকেই নীচের দিকে চিন্তা- চেতনা গড়িয়ে পড়বে তবে হ্যাঁ সেটা চাপানো বাধ্য করার চেয়ে-গ্রহণ করার মানসিকতা তৈরি করা তথা নতুনকে মেনে নেয়ার মত পরিস্থিতি সৃষ্টি বেশি ফলপ্রসূ নিঃসন্দেহে। বাধ্য-বাধকতার নিরুপায় হয়ে কিছু মানা, অনুশীলনে অভ্যস্ত হওয়ার কারনে আর বুঝে শুনে, স্বেচ্ছায় হাসিমুখে কোনো পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির দিকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে খাপ খাইয়ে নেয়ার ফলাফলটা একই রকম হয় না।

যারা অধঃস্তন তারা উর্ধ্বতনদের অনুকরণ করে, আর ঊর্ধ্বতনরা অধঃস্তনের উপর প্রভাব বিস্তার করে থাকে। এই প্রভাবটা, ক্ষমতাটার অনেক সময় অপব্যবহার হয় এতেই সামষ্টিক পর্যায়ে মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আসে।

তাই উভয় পক্ষেই প্রয়োজন সচেতনতার। বিচার-বিবেচনা করার মত বোধসম্পন্ন আন্তরিকতাসম্পন্ন বিবেকবান ব্যক্তিত্বের। কর্মধারার আদর্শ গ্রহণের ভাগ্য অনেক মানুষের অনেক মতের ওপর ছেড়ে দিলে হবে না। পরামর্শ হতে পারে, তবে সিদ্ধান্তটা একটি উঁচু স্তরের বুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তিত্বদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি থেকেই হওয়াটা ভাল।

সচেতনতাই কাম্য

এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয় অনেক সময়। সেক্ষেত্রেও উপযুক্ত ব্যক্তির পরামর্শ গ্রহণ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম করে। চাই যৌথ উদ্যোগ, কিংবা সামষ্টিক পরিসরে বৃহৎ কোনো প্রতিষ্ঠানে তা সংগঠনে ভুল সিদ্ধান্ত অনেক সময় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। সিদ্ধান্ত সঠিক বা বেশি হওয়া ভুল বা নির্ভুল হওয়ার ক্ষেত্রে পরামর্শ প্রদানকারীরা দায়ী নয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাই দায়ী থাকবে।

কেননা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাসম্পন্ন উঁচুস্তরের পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিই বিবেচনা করবেন অনেকের অনেক ধরনের পরামর্শের মধ্যে কোনটি গ্রহণযোগ্য বা উত্তম। সিদ্ধান্ত প্রদানকারী যদি পরামর্শদানকারীদের দ্বারা প্রভাবিত হন, নিজস্ব সামর্থ্যরে আলোকে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত দেয়ার পরিপক্ক না হন তবে সেটি বড়ই অমঙ্গলজনক হবে। আর কি করা হবে, কি করা উচিৎ, কি করা হবে না, কিভাবে করতে হবে এসব ব্যাপারে যদি চূড়ান্ত নীতিমালা না থাকে, নীচের দিকে ছেড়ে দেয়া হয় তবে মারাত্মক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। যে বিশৃঙ্খলা পতনকে অনিবার্য করে তুলবে। তাই পূর্বসতর্কতা ও সচেতনতাই কাম্য।

বিশ্বাস ও কর্মে বৈপরিত্য নয়

মানুষের ভিতরের দ্বিমুখী চেতনা তাকে বাস্তবিক জীবনে বহুরূপী সত্তা হিসেবে উপস্থাপন করে। বিশ্বাসের প্রতিফলন কর্মে ঘটে। বিশ্বাসের বিভিন্ন মাত্রা বা পর্যায় থাকে। সেজন্যই বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ ব্যক্তিভেদে নানানরূপে ঘটতে দেখা যায়। বিশ্বাসী মন অত্যন্ত শক্তিশালী । সর্বোচ্চ পর্যায়ের বিশ্বাস সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে দারুণভাবে ক্রিয়াশীল হয়। তবে হ্যাঁ বিশ্বাসটা অন্তর্নিহিত ব্যাপার। তাই সত্যিকারে বিশ্বাস করা না করার প্রসঙ্গটা প্রমাণিত হতে পারে না ।

তবে মৌখিক স্বীকৃতি বা ক্রিয়াকর্মকে বিশ্লেষণ করে বিশ্বাসের মাত্রার ব্যাপারে ধারণা করা হয়, তবে সিদ্ধান্তে আসা যায় না। বিশ্বাস ও কর্মে বৈপরীত্য ব্যক্তিকে উপলব্ধির ব্যাপারকে জটিল করে তুলে। সরল ও জটিল চিন্তার মানুষের পার্থক্য তাদের বাস্তব কাজ-কর্মেই প্রকাশ পায়। যা বলা হয়, যা চিন্তা করা হয়, যা বিশ্বাস করা হয়, যা আশা করা হয়, তার মধ্যে যদি নির্ভরযোগ্য সমন্বয় করা সম্ভব হয় নিঃসন্দেহে তা গ্রহণযোগ্য হবে।

তবে ভেতর এবং বাহিরটা সম্পূর্ণ একই রকম হওয়াটা মোটেই সহজ নয়। যদি দুটোকেই কাক্সিক্ষত ও বঞ্চিত মানে আনা যায় তবে প্রকৃত মানুষের উপস্থিতিই দৃষ্টিগোচর হবে। বিশ্বাসের বিভিন্ন ধরণ আছে, সূর্য পূর্ব দিকে উঠে পশ্চিম দিকে অস্ত যায়-এটা অবিশ্বাসের কিছু নেই। প্রকাশিত সত্য, ঘটমান দৃষ্টান্ত, চলমান প্রক্রিয়া ও বাস্তব আমগাছে আম ধরবে, কাঁঠাল গাছে কাঁঠাল ধরবে-তথা প্রকৃতিকে যতটা সহজেই বুঝা যায় মানুষকে অত সহজে বুঝা অসম্ভব। কারণ প্রকৃতি তার স্বাভাবিক নিয়মে চলছে। এটির রূপ পাল্টানোর স্বাধীনতা নেই। অন্যের হস্তক্ষেপের ফলেই তার বিদ্যমান চলার গতিপথ পাল্টায়।

অতীতে যা ঘটে গেছে তাতে বিশ্বাস যতটা অনায়াসে করা সম্ভব, ভবিষ্যতে কি ঘটবে তাতে বিশ্বাস অতটা সরল প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হতে পারে না। যা আমাদের কাছে আছে, যা ছিল, যা থাকবে তিনটির সময়ের ব্যবধান ও সংশ্লিষ্ট বাস্তবতা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে নানান প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ভবিষ্যতের বিশ্বাসও সব এক ধরনের নয়। আগামীতে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সমুদ্র উপকুলবর্তী অঞ্চল তলিয়ে যেতে পারে-এই বিশ্বাস আর সবার পরও একটি জগৎ আছে এই বিশ্বাস এক নয়।

একটিতে অতীত ও বর্তমান বিরাজমান পরিস্থিতিকে যাচাই বাছাই করে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা-পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে মন্তব্য করা হয়েছে আর অন্যটিতে কোনো সাধারণ বিদ্যা-বুদ্ধি-মুক্তি-প্রমাণের সুযোগ নেই। এখন কথা হলো মানুষ যা করে, যা বলে তা যেমন সব সময় নিজে বিশ্বাস করে না আবার যা বিশ্বাস করে তার আলোকেই কাজ-কর্ম সবসময় করে না। অর্থাৎ মাঝে মাঝে বিশ্বাস ও কর্মে যেমন মিল থাকে তেমনি অমিলও থাকে।

এখন কথা হলো-‘বিশ্বাস কী নিস্ক্রিয়, নির্জীব বা প্রতিক্রিয়াবিহীন হতে পারে?’ ব্যক্তিবিশেষে এর ভিন্নতার স্বরূপ কি উন্মোচিত হতে পারে? তবে সেটি দুর্বল বিশ্বাস। শক্তিশালী মানুষের বিশ্বাস শক্তিশালী আর দুর্বল যিনি তার বিশ্বাস দুর্বল-ব্যাপারটা কী এক রকম? বিশ্বাসও ব্যক্তির যোগ্যতার মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনায় চলে আসতে পারে। অর্থাৎ বিশ্বাস যার মজবুত, গভীর, শক্তিশালী কর্মক্ষেত্রে তার সফলতা তত বেশি।

বিশ্বাসের বসবাস কোথায়? অন্তর বা মনে। সুতরাং বিশ্বাসের রূপ- সৌন্দর্যে মনের চেহারাকে পাল্টে ফেলে। আবার মনের অবস্থার কারণে বিশ্বাসটারও সুগন্ধি, সৌরভের ব্যপ্তি কমে বাড়ে। অর্থাৎ যে পাত্রে রাখা হচ্ছে যেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। মনটা রাখা যে দেহে সেই দেহের সুস্থতা, অবস্থাও যেমন মনকে প্রভাবিত করে সেই দেহটার পরিবেশ তার প্রভাবও দেহে মনে পড়ে।

সুন্দর অস্তিত্ব যে মনের জন্য দরকার সুস্থ-সবল সুন্দর দেহ, আবার শারীরিক প্রশান্তি সুখের জন্যও প্রয়োজন তৃপ্ত, আলোকিত মন। কাক্সিক্ষত দেহ ও মন কাক্সিক্ষত পরিবেশেই হাড়ে উঠতে পারে। সুতরাং পারিপার্শ্বিকতা, চারপাশের জগৎটা কে এড়িয়ে চলার মতো পশ্চাদপদতা আর নেই।তাই বিশ্বাস বাস্তবতার আলোকে হতে হবে। বাস্তবসম্মত হতে হবে।

অবাস্তব ও কল্পনাবিলাসী বিশ্বাসের মতো ক্ষতিকর আর কিছু নেই। অপ্রয়োজনীয়, অযৌক্তিক বিশ্বাস জমা করে বিশ্বাসের পাল্লা ভারী করা হবে বোকামী। যে তার বিশ্বাসকে মূল্যায়ন করতে পারে না, তবে হ্যাঁ বিশ্বাস করে কৃতকর্মের ফলাফলের ইতিবাচক হলে আত্মবিশ্বাসের যে বৃদ্ধি ঘটে তা অবশ্যই বিশ্বাসের অস্তিত্বকে আরো সজীব ও প্রাণবন্ত করে তোলে।

অনেক ক্ষেত্রে বিশ্বাসী গভীর হলে যেমন কার্যে নিয়োজিত হওয়া যায় তেমনি অনেক সময় কাজ করতে করতে বিশ্বাস তৈরি হয়। বিশ্বাস করে শুরু করা কাজ, আর কাজ করতে বিশ্বাস সৃষ্টি হওয়া-এক নয়। বিশ্বাসের মাত্রা বাড়ে। জীবন ও জগৎ এর বিদ্যমান বাস্তবতা যেমন বিশ্বাস সৃষ্টি করে, বিশ্বাসকে ভেঙ্গেও ফলে। পুরাতন বিশ্বাসকে দূরে ঠেলে নতুন বিশ্বাসের সৃষ্টি হয়।

তাই বিশ্বাসের জন্ম-মৃত্যুর খেলার ধরণ সময়ের ব্যবধানে নানান তালে দৃশ্যমান কিংবা অদৃশ্যমান সরবতাকে হাজির করে। তাই কি বিশ্বাস করবে? কিভাবে বিশ্বাস করবো? বিশ্বাস প্রসঙ্গ এবং ধরণ বা প্রক্রিয়া দুটোই সুন্দর হউক, বিশ্বাসী হৃদয়গুলো হউক আরো প্রাণচঞ্চল, দেহগুলো হউক কর্মচঞ্চল, আর পরিবেশটা হউক ভারসাম্যপূর্ণ, উপযোগী । সুন্দর সমাজ গঠনে সুস্থ দেহ ও সুন্দর মনের মানুষ বৃদ্ধি পাবে এটাই এ’সময়ের প্রত্যাশা ।

 

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: [email protected]

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published.