সুখী হওয়ার যত উপায়

প্রকৃতগতভাবেই সুখান্বেষী মানুষের সুখী হওয়ার লক্ষ্যে কত পরিকল্পনা-চেষ্টা। সুখ এক প্রকার ইন্দ্রিয়ানুভূতি। মানুষের মধ্যে ভালো-মন্দ, উত্তম-অধম, উচিত-অনুচিত, আনন্দ-নিরানন্দ পরিমাপের মানদণ্ড ইন্দিয়ানুভূতি সৃষ্টি করে। সুখে থাকার মূল চাবিকাঠি রয়েছে নিজের হাতেই। নিজের চেষ্টাতেই সুখী হওয়ার পথটা তৈরি করে নেয়া সম্ভব। সুখী থাকতে হলে কিছু অভ্যাস আর লাইফ-স্টাইল পরিবর্তন করা যেতে মারে।  দুঃখকে আগলে রেখে, অতীতের কথা মনে রেখে দুঃখ-সুখের সংমিশ্রণের এ জীবনটাকে বিষাদময় করে শেষ করার কোনো অর্থই নেই।

সুখে থাকার টিপস

যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞান এবং কগনিটিভ বিজ্ঞান বিভাগের একজন অধ্যাপক লরি স্যান্টোস বলেছেন, সুখী হতে হলে সচেতন প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয়। ভালো সঙ্গীত শিল্পী বা ক্রীড়াবিদ হয়ে উঠার মতোই সুখী হওয়ার ব্যাপারে চর্চা করতে হয়। জীবনে সুখী হতে কৃতজ্ঞ হতে শুরু করুন, পরিবারের সাথে আরো বেশি সময় কাটান, বন্ধুদের সাথে মেলামেশা করুন, দিনের একটা সময়ে কিছুক্ষণের জন্যে নিজেকে সবকিছু থেকে সরিয়ে ধ্যানে মগ্ন হউন, সোশাল মিডিয়া থেকে দূরে সরে এসে আরো বেশি ঘুমাতে চেষ্টা করুন।

কৃতজ্ঞতার চর্চা

প্রত্যেক রাতে যাদের কাছে বা যেসব জিনিসের কাছে কৃতজ্ঞ তার একটি তালিকা তৈরি করুন। যারা নিয়মিতভাবে এটা চর্চা করেন তাদের সুখী মনে হয়। ‍সুখি থাকার বড় উপায় হচ্ছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। অনেকেই আপনার চেয়েও অনেক কষ্টে ও দুঃখে আছেন। অতএব নিজের জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকুন। সবকিছুর জন্যই কৃতজ্ঞ হোন। কোনো কাজের জন্য অন্যদের কৃতজ্ঞতা জানান। এটি আপনার মনের সুখ অনেক বাড়াবে। প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে আপনার জীবনের জন্য বাবা মাকে মনে মনে ধন্যবাদ দিন।

নিশ্চিন্তে ঘুমানো

প্রতি রাতে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর কাজটা করা সবচেয়ে সহজ বলে মনে হয় কিন্তু আসলে এই কাজটা করা খুব কঠিন। বেশি ঘুমাতে পারলে এবং নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারলে বিষণ্নতায় ভোগার সম্ভাবনা কম থাকে। এর ফলে ইতিবাচক মনোভাবও তৈরি হয়। ঘুমানোর এবং ঘুম থেকে উঠার একটি নির্দিষ্ট টাইম সেট করুন। সে সময় সব ধরণের কাজ থেকে বিরত থাকুন। প্রতিদিন একই টাইমে ঘুমানো এবং ঘুম থেকে উঠার চেষ্টা করুন। ভাল ঘুমের জন্য প্রয়োজনে গোসল করে নিন, বই পড়ুন বা এমন কিছু করুন যারা দ্বারা মানসিকভাবে শান্তিতে থাকবেন। রুমের পরিবেশ ঘুমের জন্য উপযুক্ত করে তুলুন। রুম অন্ধকার, ঠাণ্ডা এবং শান্ত রাখার চেষ্টা করুন।

বাস্তবে যোগাযোগ

সোশাল মিডিয়া থেকে সুখের বিষয়ে মিথ্যা যেসব ধারণা পাওয়া যায় সেসবে ভেসে যাওয়া উচিত নয়। সুখী হতে সোশাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকতে হয়। যারা ইন্সটাগ্রামের মতো সামাজিক নেটওয়ার্কের মাধ্যম ব্যবহার করেন তারা, যারা এটা খুব বেশি ব্যবহার করেন না তাদের চাইতে কম সুখী।

নিজের জন্য পরিকল্পনা

বাস্তবসম্মত কোনো লক্ষ্য স্থির করে সেটি অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। সুখী হতে হলে লক্ষ্যটি অর্জন করার জন্য করা প্রচেষ্টার মধ্যেই সুখ খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতি ৫ বছরমেয়াদি পরিকল্পনা করুন এবং ওই সময়ের মধ্যেই তা বাস্তবায়ন করুন।

ইতিবাচক সঙ্গ বাছাই

সময় কাটাতে দৃষ্টিভঙ্গি যথেষ্ট ইতিবাচক এমন মানুষদের বেছে নিন। সুখী ও ইতিবাচক মানুষের সঙ্গ বেছে নিলে তাদের মানসিকতার প্রভাবে সুখী হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। পরনিন্দা বাদ দিন। অন্য মানুষের নিন্দা করা হলে তাতে প্রাথমিকভাবে মনের ওপর তেমন প্রভাব নাও পড়তে পারে। কিন্তু পরবর্তীতে তা মানুষের মনে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। অন্যের বিষয়ে যারা সারাক্ষণ অভিযোগ করে তাদের এড়িয়ে চলুন। এছাড়া যে কোনো নেতিবাচক মানসিকতার ব্যক্তিই আপনার সুখের জন্য ক্ষতিকর। তাই নেতিবাচক মানুষ থেকে দূরে থাকুন।

ব্যর্থতা থেকেও শেখা

ব্যর্থতায় হতাশ হবেন না এবং নিজেকে দায়ী করবেন না। ব্যর্থতাকে জীবন থেকে শেখার একটি অংশ হিসেবে নিন এবং এগিয়ে চলুন। অনুশোচনায় ব্যর্থতার স্থায়িত্ব বাড়ে। জীবন সবসময় সমান যায় না, তবুও ভাল কিছুর অপেক্ষা করতে শিখুন।

নিজেকে ভালোবাসা

অন্যের প্রতি হিংসা বিদ্বেষ ঘৃণা পরিহার করে নিজেকে আগে ভালোবাসতে শিখুন। নিজেকে ভালোবাসলে অন্যকেও ভালোবাসা যায় সুখি থাকা যায়। কঠোর পরিশ্রম করার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু তার মানে এটা নয় যে, পরিশ্রমের পর একদণ্ড বিশ্রাম করবেন না।  নিজেকে ভালো খাবার কিংবা উপহার দিয়ে পুরস্কৃত করুন।

নিজেকে নিয়ে সুখী হতে হবে। জীবনে যা আছে, তাকে উপেক্ষা করবেন না। বন্ধুবান্ধব, পরিবার-পরিজনসহ নিজের প্রাপ্তিগুলো নিয়ে প্রতিদিন কিছুটা সময় চিন্তা করুন। এতে দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক হবে, বিষণ্নতা দূর হবে।

প্রতিদিন নিজের জন্য কিছু সময় বরাদ্দ রাখতে হবে। ভালো কাজের জন্য নিজেকে ধন্যবাদ দিতে হবে। নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না এমন কোনো বিষয় থাকলে তার নিয়ন্ত্রণ চেষ্টা বাদ দিয়ে নিজেকে সময় দিন।

শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা

সুখের সঙ্গে স্বাস্থ্য, শারীরিক সুস্থতা ও স্বাস্থ্যসেবার নিবিড় সম্পর্ক আছে। স্থূলতা বা পুষ্টিহীনতা মানুষের মানোভাবের ওপর প্রভাব ফেলে। সুস্থতার জন্য যোগব্যায়াম ও সকালে হাঁটার মতো হাজারো উপায় বেছে নিতে পারেন।

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। নির্ভরযোগ্য প্রাকৃতিক উপাদানে ঘরে তৈরি খাবার খাওয়া এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়ার অভ্যাস করুন। সবুজ চা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন। সুখি থাকতে চাইলে খাবার হতে হবে ঠিকঠাকভাবে।  স্বাস্থ্য যদি ভাল না থাকলে আপনি সুখী হতে পারবেন না। সুস্বাস্থ্যের জন্য ভাল খাবারের কোন বিকল্প নেই। মদ ও ধূমপানে আসক্ত থাকলে তা পরিহার করুন। খাবার দেহের উপর ও মনের মধ্যেও প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম।

কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবারে সেরোটোনিন উপাদান “ভাল লাগার” হরমোন নিঃসৃত  হয়। প্রোটিনে থাকা ডোপামিন মস্তিষ্কের সাথে দেহের সংযোগ স্থাপন করে। ডোপামিন হরমোন আনন্দ ও খুশি-ভাব উৎপন্ন করে। ভাজা পোড়া খাবার হতাশার একটি কারণ। সকালের নাস্তা রাজার মত, দুপুরের খাবার প্রজার মত এবং রাতের খাবার খাবেন ভিক্ষুকের মত।

ব্যায়াম

ব্যায়াম বা শারীরিক অনুশীলন দেহকে সুস্থ রাখে, মনকেও সুস্থ রাখে। প্রতিদিন ব্যায়াম করলে মানসিক যন্ত্রণা, উদ্বেগ, বিষণ্ণতা দূর হয়ে যাবে। রাতে খাবারের পর প্রতিদিন কিছু সময় হাটার চেষ্টা করুন। সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিন ব্যায়াম করুন। আর সুস্থ দেহ মানে সুস্থ মন।

শরীর ও আত্মার যোগাযোগ নতুন আবিষ্কার নয়, অনেক পুরনো ব্যাপার।ব্যায়াম করলে স্ট্রেস সৃষ্টিকারী হরমোন কর্টিসলের মাত্রা কমতে থাকে। তাই স্ট্রেস কমানোর জন্যে হলেও নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস করা খুব জরুরী। তাছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম করলে মস্তিষ্ক থেকে এন্ডরফিন নামের ব্যথানাশক হরমোন নিঃসৃত হয়। এন্ডরফিন শারীরিক ক্লান্তিও দূর করে।

সব ধরণের অনুভূতি মেনে নেয়া

পজিটিভ-নেগেটিভ সব ধরনের অনুভূতি নিয়েই জীবন। জীবনে দুঃখ, বেদনা, হতাশা, বিষণ্ণতা থাকবেই। এইসব ইমোশন কিভাবে কাজ করে বুঝতে পারলে তা মেনে নেয়া সহজ হয়। সব ধরনের অনুভূতি মেনে নেয়ার মধ্য দিয়েই সব পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেয়া সুখি হওয়ার একটি উপায়।

নেতিবাচক চিন্তা না করা

সুখি থাকতে চাইলে কখনও নেতিবাচক চিন্তা করা যাবে না। কোনো বিষয় যদি সুখ নষ্ট করে তাহলে সেই বিষয়ে ভাবনা-চিন্তা-কাজ ত্যাগ করাই শ্রেয়। যে কাজের চাপে নেতিবাচক চিন্তা বেশি হয় সে কাজের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়াই উচিত। অন্যকে ঘৃণা করে সময় নষ্ট করার জন্য জীবন খুব ছোট, সকলকে ক্ষমা করে দিন সব কিছুর জন্য।

আশাবাদী হওয়া

আশা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি যেমন মানুষের বেঁচে থাকার অবলম্বন তেমন এটি সুখের জন্যও প্রয়োজনীয়। তাই আশা ত্যাগ করা যাবে না কোনোক্রমেই। আর এ আশাই আপনাকে সুখী রাখবে। যে কোনও কাজে ও চিন্তায় সব সময় নিজেকে পজেটিভ রাখার চেষ্টা করুন। জীবনের ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে ভাবুন। নিজেই নিজেকে আশ্বস্ত করুন।  ভাল কাজে সময় ও শক্তি ব্যয় করুন।

‍চাপ ও দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকা

সুখি থাকার আরেকটি বড় উপায় হচ্ছে পরিবার, বন্ধুবান্ধব কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে চুটিয়ে সময় কাটানো। এতে মাথা হালকা ও চাপমুক্ত থাকে। সব তর্কে জিততে হবে এমন নয়, তবে মতামত হিসাবে মেনে নিতে পারেন আবার নাও মেনে নিতে পারেন।

এখন হয়তো কোনও একটা ব্যাপারে ফলাফল ভালো হয়নি। তাই বলে যে আগামী দিনেও হবে না তা তো নয়। তাই সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করুন। চিন্তামুক্ত থাকুন। কঠিন করে কোন বিষয় ভাববেন না। সকল বিষয়ের সহজ সমাধান চিন্তা করুন। অতীতকে শান্তভাবে চিন্তা করুন, ভূলগুলো শুধরে নিন। অতীতের জন্য বর্তমানকে নষ্ট করবেন না।

সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব

মন বড় থাকলে এমনিতেই জীবনে সুখ থাকে। বিপদে আপদে অন্যের পাশে দাঁড়ান। অন্যের সমস্যাগুলো শোনার চেষ্টা করুন। নিঃস্বার্থে অন্যকে সহায়তা করা আপনার মানসিক শান্তি বাড়িয়ে দেবে। এটি আদতে দীর্ঘমেয়াদে আপনাকে সুখী করে তুলবে। গরীবকে সাহায্য করুন। দাতা হোন, গ্রহীতা নয়।

নিজের ওপর আস্থা রাখা

আত্মবিশ্বাসী মানুষ কখনও অসুখি হয় না। নিজের ওপর আস্থা রাখতে হবে। নিজেকে যোগ্য ভাবতে হবে। ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে সব কাজে এগিয়ে যেতে হবে। তবেই দিনশেষে সুখের ঠিকানা থাকবে আপনার নাগালে। অন্য লোক আপনাকে কি ভাবছে তা নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার নেই বরং আপনি আপনাকে নিয়ে কি ভাবছেন সেটা মূল্যায়ন করুন ও সঠিক কাজটি করুন।

তুলনা করা বন্ধ করা

নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করলে অসুখী থাকবেন। যা আছে তাই নিয়ে খুশি থাকার চেষ্টা করুন।  নিজের মধ্যে যা আছে তা দিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যান।  কারও সঙ্গে নিজেকে তুলনা করলে নিজের মানসিক শক্তি কমে আসে। হতাশা কাজ করে। সবার প্রতিভা এক নয়। আর সবাই সব বিষয়ে সমান প্রতিভাবান নয়। অন্যরা আপনার মতো নয়, আপনিও অন্যদের মতো নন। আপনার চাহিদা, মানসিক অবস্থা, সামাজিক শিক্ষা সবই অন্যদের থেকে পৃথক। আর তাই অন্যদের সঙ্গে আপনার তুলনা করা নিরর্থক।

 প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানো

প্রকৃতির প্রতি মানুষের আলাদা টান থাকবেই। প্রকৃতির কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষ বিভিন্ন রোগ-শোকে কম আক্রান্ত হন।  প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখা যায় এমন জানালার কাছের বেডের রোগীরা হাসপাতালের অন্য রোগীদের তুলনায় দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন।

সবুজ প্রকৃতির সাথে ৩০ মিনিট সময় ব্যয় করার দ্বারা ব্লাড প্রেশার কমার পাশাপাশি ডিপ্রেশনও কমে যায়। সবুজ প্রকৃতির জন্য প্রয়োজনে আপনার বাড়ির ছাদ কিংবা বারান্দাকেও বেছে নিতে পারেন। তবে, সেখানে যেন গাছ এবং মুক্ত বাতাসের সংস্পর্শ থাকে। ঘুম থেকে উঠেই প্রকৃতির নির্মল পরিবেশে থাকার চেষ্টা করুন। সারাদিনের করণীয় কাজ নিয়ে মন স্থির করুন।

পরিবারের সাথে সময় ব্যয়

নিজের পরিবারের সাথে সময় কাটান। পরিবারের সাথে সময় কাটানোর দ্বারা পরিবারের সাথে আপনার সম্পর্ক বৃদ্ধি পাবে, হতাশা কেটে যাবে। হতাশা আর আত্মহত্যার অন্যতম কারণ পরিবার-হীনতা। কষ্ট পুষে রাখবেন না। কারণ সময়ের স্রোতে সব কষ্ট ভেসে যায়। তাই কষ্টের ব্যাপারে খোলামেলা আলাপ করুন ও ঘনিষ্ঠদের সাথে শেয়ার করুন।

লক্ষ্য ঠিক করা

লক্ষ্য ঠিক করার দ্বারা জীবনের একটি অর্থ ঠিক করা হয়। লক্ষ্য ঠিক করলে বেচে থাকার অর্থ খুঁজে পাওয়া যায়। নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে যদি আপনি অত্যন্ত মনোযোগী হন তাহলে অন্য সব বিষয়গুলোর চিন্তা মাথা থেকে দূর হয়ে যাবে। কোনো বিষয়ে  গভীর মনোযোগী হওয়া মানসিকতায় প্রভাব ফেলে, যা সুখের দিকে নিয়ে যায়।

কর্মময় হওয়া

কর্মময় জীবনই সুখী হওয়ার সবচেয়ে মোক্ষম উপায়। জীবনে সুখী হতে, কিছু পেতে কর্মময় হতেই হবে। কেন, কেন আমরা এখানে—এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেয়ে কর্মময় হওয়াই সুখী হওয়ার মূল উপাদান। যে বিষয়গুলো ঘটলে সুখী: কারও সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক ধরে রাখলে, রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলে, কাজে ব্যস্ত থাকলে, অবসরে খেতে-ঘুরতে গেলে এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব লালন করলে।

সৎ থাকা

নিজের মনে যে আচরণ বা কাজকে অসৎ বলে মনে হয়, তা বাদ দিন। অন্যথায় এ কাজগুলোই পরবর্তীতে আপনার মনোকষ্টের কারণ হবে। সবসময় ন্যয়ের পক্ষে কথা বলুন। আদর্শে জীবন চলে না, কিন্তু আপনি আদর্শ অনুসরণ না করলে জীবনে শান্তি পাবেন না।

পরিষ্কারপরিচ্ছন্নতা

কাজের ক্ষেত্রে আপনি যতই চাপে থাকুন না কেন, টেবিলটি অপরিষ্কার করে রাখার কোনো মানে হয় না। অনুরূপভাবে মানসিক শান্তির জন্য সব ক্ষেত্রেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার মূল্য অপরিসীম।

মেডিটেশন

মেডিটেশন করলে সুখে থাকার প্রবণতা বাড়ে। ধ্যান বা মেডিটেশন, যোগব্যায়াম—এসবের চর্চা করলে মন এবং শরীর দুটোরই উপকার হয়। যেমন, যারা নিয়মিত মেডিটেশন করেন, তারা তুলনামূলক কম অসুস্থ হন। তাছাড়া, তারা স্ট্রেসজনিত কারণে সহজে রেগে যান না।

প্রত্যেকদিন ১০ মিনিট করে মেডিটেট বা ধ্যান করলে মন ভালো থাকে। নিয়মিত ধ্যান করা কাজে পূর্ন মনোযোগ দিতে হয় যা মানুষকে সুখী হতে সাহায্য করতে পারে। নির্জন কোন স্থানে একাকী অন্তত ১০ মিনিট সময় কাটান ও নিজেকে নিয়ে ভাবুন৷

বন্ধুদের সাথে সময় কাটানো

পরিবার ও বন্ধুদের সাথে ভালো সময় কাটালে আপনি সুখী হবেন। আপনার যদি ভালো বন্ধুত্ব থাকে এবং সামাজিক যোগাযোগ থাকে এবং তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ হয় তখন তারা উল্লেখযোগ্য রকমের ভালো বোধ করেন। বন্ধুদের সাথে সময় কাটালে মন প্রফুল্ল থাকে।

সুখি দেশে বসবাস

সুখের সাথে একটা দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, পরিবেশ ইত্যাদির সম্পর্ক রয়েছে। তাই সুখি দেশে বসবাসকারী মানুষেরা তুলনামূলক বেশি সুখি।  শিক্ষার হার যাদের মধ্যে বেশি তারা তুলনামূলক বেশি সুখি।

সমস্যার সমাধান খোঁজা

সমস্যায় ডুবে না থেকে সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার অভ্যাস মানুষকে সুখি করে। বেশিরভাগ মানুষই সমস্যায় এমনভাবে ডুবে যান যে কোনো সমাধানই আর চোখে পড়ে না। সমস্যাগুলো বুঝতে চেষ্টা করলে কোনো একটা বিষয় ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার অভ্যাস তৈরি হয়। এতে মানুষ বেশ পজিটিভ হয়ে ওঠেন এবং সমস্যায় আক্রান্ত না হয়ে সমাধান খুঁজে পান সহজেই।

সাধারণ জীবন যাপন

অনেক কিছু করার চাইতে অল্প কিছু অর্থপূর্ণ কাজ করা বেশি ভালো। বর্তমানে অনেক মানুষ এই কথাটি ভুলতে বসেছেন। নির্দিষ্ট একটি সময়ে যেকোন একটি কাজ মনোযোগ দিয়ে করলে—অর্থাৎ মাল্টিটাস্কিং না করলেই মানুষ সুখি থাকে। আবার, খুব বেশি বিলাসবহুল জীবন মানেই কিন্তু সুখি জীবন নয়। সবাই অসাধারণ জীবন যাপনের স্বপ্ন দেখলেও সুখ ধরা দেয় সেই সাধারণ জীবনেই।

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: poribar.net@gmail.com

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *