সারল্যই পুঁজি জোকো উইদোদোর

আনিসুর রহমান এরশাদ

রাজনৈতিক অভিজাত বা সেনাবাহিনীর অফিসার বৃত্তের বাইরে থেকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট হওয়া প্রথম ব্যক্তি জোকো উইদোদো। নদীর পাড়ে সস্তা ভাড়ার এক বস্তির ছেলে। তিনবার বস্তি থেকে উৎখাত করা হয়েছিল গরিব পরিবারটিকে। শৈশব কেটেছে প্রচণ্ড আর্থিক সঙ্কটে। প্রাইমারি স্কুলে পড়ার সময় বই-খাতা-কলম-পেনসিল কিনতে পারতেন না টাকার অভাবে। পড়াশোনার খরচ যোগাড় করতে উপার্জনে নামলেন।

১২ বছর বয়সেই পিতার ফার্নিচারের দোকানে কাজ করতে থাকেন। পিতার ব্যবসা সফল করতে ফেলে দেয়া কাঠ কুড়িয়েছেন। কোনো বাধাকে বাধা বলে মানেননি। জীবনে প্রতিষ্ঠা পাওয়াই ছিল লক্ষ্য। কঠিন দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। তিনি ‘জনতার মানুষ’ হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি গড়ে তোলেছেন। আজ আমরা জানব সারল্যকেই পুঁজি করে সস্তা ভাড়ার বস্তির ছেলে থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া জোকো উইদোদোর কথা।

জোকো উইদোদোর নেই অর্থের দেমাগ। সারল্যকে পুঁজি করে এগিয়ে গিয়েছেন। গ্রামের একজন সাধারণ মানুষের মতো নেই কোনো আভিজাত্যের আভা, না আছে গরিমার কোনো ছাপ। দামি পোশাক পরেন না। পায়ে দেন না দামি জুতা। শারীরিক গড়ন লিকলিকে ও দেখতে সাদাসিধে হলেও অনর্গল বলতে পারেন ইংরেজি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কিভাবে কাজ করতে হয় তা জানেন।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও এক সময় যখন মেয়র নির্বাচিত হন সে সময় কাজের ফাঁকে তিনি এসব রপ্ত করেন। তবে তার উচ্চারণে রয়েছে জন্মস্থান জাভার টান। তাকে ভালোবাসে ইন্দোনেশিয়ার সাধারণ মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ, শিক্ষিত মানুষ- সবাই। কারা থাকবে তার মন্ত্রিসভায় এ বিষয়ে তিনি একনায়কের মতো সিদ্ধান্ত না নিয়ে জনমতকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই একগুচ্ছ নাম অনলাইনে ছেড়ে দিয়ে জনগণকে আহ্বান জানান ই-পোল ব্যবস্থায় তাদের সিদ্ধান্ত জানাতে।

জোকো উইদোদো ইন্দোনেশিয়ার ৭ম রাষ্ট্রপতি। ২০১২ সালের ১৫ অক্টোবর থেকে ২০১৪ সালের ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত জাকার্তার ১৬তম গভর্নর এবং ২০০৫ সালের ২৮ জুলাই থেকে ২০১২ সালের ১ অক্টোবর পর্যন্ত সুরাকার্তার ১৬তম মেয়র ছিলেন। রাজনৈতিক অভিজাত বা সেনাবাহিনীর অফিসার বৃত্তের বাইরে থেকে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি হওয়া তিনি প্রথম ব্যক্তি।

২০১২ খ্রিষ্টব্দে জোকো উইদোদো তার দল ইন্দোনেশিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ স্ট্রাগল কর্তৃক জাকার্তার গভর্নর নির্বাচনের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। বাসুকি জাহাজা পুরনামা ছিলেন তার রানিং মেট। সে বছরের ২০ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের পর জাকার্তার গভর্নর নির্বাচিত হন। তার বিজয়কে ইন্দোনেশিয়ার রাজনীতিতে পুরনো ধাচের রাজনীতির বদলে নতুন বা স্বচ্ছ নেতাদের প্রতি ভোটারদের সমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়।

২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ মার্চ ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে তার দলের তরফ থেকে তার নাম ঘোষিত হয়। সে বছরের ৯ জুলাই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ফলাফল নিয়ে কিছু বিতর্কের পর ২২ জুলাই নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নাম ঘোষিত হয়। ২০১৪ সালের ২০ অক্টোবর থেকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

জোকো উইদোদো জাভানিজ বংশোদ্ভূত। জন্ম ১৯৬১ সালের ২১ জুন সুরাকার্তায়। তাকে মুলয়ুনু ডাকা হত। তার বাবা কারানগানয়ার এবং তারা দাদা বুয়ুলালির গ্রাম থেকে এসেছিলেন। অস্বচ্ছল নাগরিকদের স্কুল বলে পরিচিত স্টেট প্রাইমারি স্কুল ১১১, টিরটুয়ুসুতে তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়। শৈশবে তিনবার উচ্ছেদের অভিজ্ঞতা তার চিন্তা এবং সুরাকার্তার মেয়রের দায়িত্বে প্রভাব ফেলে যখন তিনি শহরের আবাসন পুনর্গঠিত করেন।

প্রাথমিক শিক্ষার পর তিনি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এসএমপি নেগেরি ১ সুরাকার্তায় শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি এসএমএ নেগেরি ১ সুরাকার্তায় তার শিক্ষা গ্রহণ করতে চেয়েছিলেন কিন্তু ভর্তি পরীক্ষায় তিনি অকৃতকার্য হন এবং এসএমএ নেগেরি ৬ সুরাকার্তায় পড়াশোনার জন্য যান। গাদজাহ মাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

সুরাকার্তার মেয়রের পদে লড়বার সময় তিনি ছিলেন আসবাবপত্রের ব্যবসায়ী। তিনি জনসাধারণের সাথে মজবুত সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তার প্রতি মানুষের বিশ্বাস জন্মায়। ব্যবসায়ী হিসেবে তার ভ্রমণ করা ইউরোপীয় শহরের উন্নয়ন কাঠামো তিনি তার নিজ শহর সুরাকার্তায় গ্রহণ করেন।

সুরাকার্তার মেয়র হিসেবে তার সাত বছরের কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে। দুর্লভ জিনিসের মার্কেট ও গৃহস্থালি দ্রব্যের মার্কেটসহ নতুন প্রথাগত মার্কেট নির্মাণ করেন। সুরাকার্তার প্রধান সড়কের পাশাপাশি ৭ কিমি দীর্ঘ সড়ক ও ৩ মিটার চওড়া ফুটপাত নির্মাণ করেন। বেলকামবাং ও স্রিওয়েদারি পার্ক সংস্কার করেন। শহরের প্রধান সড়কের পাশের গাছ কাটার উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ জারি করেছিলেন। সুরাকার্তাকে জাভার সংস্কৃতি এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলায় মূলবাণী ছিল ‘জাভার আত্মা’। শহরকে বৈঠক, প্রদর্শনী ইত্যাদির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলেন।

শহরের প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে তার পরিবারের সদস্যদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। সকল বাসিন্দার জন্য স্বাস্থ্যসেবার ইন্সুরেন্স কার্যক্রম চালু করেন। দ্বিতল বাস ও রেলবাসের মাধ্যমে গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটান। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সামাজিক কাজে জড়িত হওয়ার উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। স্থানীয় টিভিতে নিয়মিতভাবে আসার মাধ্যমে তিনি স্থানীয় জনতার সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি করেন।

তার উদ্যোগে ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দে সুরাকার্তা অর্গানাইজেশন অফ ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সিটিসের সদস্য হয় এবং ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবরে সংগঠনের সম্মেলনের আয়োজক শহর হিসেবে নির্বাচিত হয়। ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দে সুরাকার্তা বিশ্ব সঙ্গীত উৎসবের আয়োজক হয় যা ভাসতেনবুর্গ দুর্গ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে এই উৎসব মানকুনেগারান প্রাসাদ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হয়।

তার ব্যক্তিগত কর্মপ্রণালীর মধ্যে ‘করতে পারি’ স্লোগান জনপ্রিয় হয়। জাকার্তার গভর্নর থাকাকালীন সময়ে জোকো ব্লুসুকান নামক নীতি অনুসরণ করেন। এর মাধ্যমে নিয়মিতভাবে জাকার্তার বিভিন্ন দরিদ্র এলাকা সফর করতেন। এসকল সফরে তাকে সাধারণ পোষাকে দেখা যেত।

তিনি এসময় বিভিন্ন বাজার ও সরু গলিতে হেটে বাসিন্দাদের বিভিন্ন সমস্যা যেমন খাদ্যের মূল্য, আবাসন সমস্যা, স্থানীয় বন্যা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এসব বিষয়ে খোঁজ নিতেন। সরাসরি বিভিন্ন এলাকার মানুষদের দাবি শোনতেন। তার এসকল কর্মপ্রণালী জাকার্তা ও ইন্দোনেশিয়ার অন্যত্র তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করে।

২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল ও জুন মাসে জোকো লেলাং জাবাতান নামক আমলাতান্ত্রিক নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করেন আক্ষরিকভাবে যার অর্থ অফিস পদের নিলাম। এই প্রক্রিয়া ইতিপূর্বে ইন্দোনেশিয়ায় চালু ছিল না। এর মাধ্যমে প্রত্যেক সরকারি কর্মচারী যোগ্যতা পূরণ ও পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সাপেক্ষে নির্দিষ্ট পদ লাভের সুযোগ পেত। এই পরীক্ষার ফলাফল স্বচ্ছভাবে ঘোষণা করা হত এবং প্রাদেশিক সরকার কর্মচারীদের যোগ্যতা অনুযায়ী পদ প্রদান করত।

২০১২ খ্রিষ্টাব্দে দায়িত্ব গ্রহণের কিছুকাল পর জাকার্তায় তিনি হেলদি জাকার্তা কার্ড (কারতু জাকার্তা সেহাত) এর ভিত্তিতে স্বাস্থ্য সেবা কর্মসূচি চালু করেন। এই কার্যক্রমের ফলে প্রথম কয়েক মাসেই হাসপাতালগুলো থেকে স্বাস্থ্য সেবার চাহিদা ৭০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ ডিসেম্বর জোকো ‘স্মার্ট জাকার্তা কার্ড’ চালু করেন। জাকার্তার দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সাহায্য করা এর উদ্দেশ্য ছিল। এর কার্ডে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হত এবং শিক্ষার্থীদের বই, ইউনিফর্ম ইত্যাদি শিক্ষা উপকরণের জন্য প্রয়োজনীয় এই অর্থ এটিএম থেকে উত্তোলন করা যেত। কার্ডের ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করা হত। শিক্ষার কাজ ছাড়া অন্য উদ্দেশ্যে কার্ড ব্যবহার করার অনুমতি ছিল না।

২০১৩ খ্রিষ্টাব্দের ১০ অক্টোবর জোকো উইদোদো জাকার্তার মেট্রো নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন। সে বছরের ১৬ অক্টোবর তিনি জাকার্তা মনোরেলের গ্রীন লাইনের নির্মাণকাজ পুনরায় চালু করেন। তিনি মাসিক বেতন এবং প্রাদেশিক বাজেট জনসাধারণের সম্মুখে পেশ করতেন। এছাড়াও তারা স্বচ্ছতার জন্য কিছু কার্যক্রম চালু করেন যেমন অনলাইন ট্যাক্স, ই-বাজেট, ই-কেনাকেটা ও নগদ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম। তাদের সকল বৈঠক রেকর্ড করে সেগুলো ইউটিউবে আপলোড করা হত।

জোকো উইদোদো পাসার মিঙ্গু ও পাসার তানাহ আবাং এর হকারদেরকে নতুন ভবনে স্থানান্তর করেন। তাদের কারণে ট্রাফিক জ্যাম হচ্ছিল বলে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়। ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি পাঁচটি এবং ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে চারটি প্রথাগত বাজার তৈরী ও সংস্কার করেন। এসকল বাজারের বিক্রেতাদেরকে উপর ভাড়া ধার্য করা হয়নি তবে তাদেরকে বিক্রয়ের স্থান রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয় এবং এগুলো তারা বিক্রি করতে পারে না। বিক্রেতাদের শুধু রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুত ও পানির মূল্য দিতে হয়।

বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য ড্রেজিং ও জলাধার বিষয়ক কার্যক্রম চালু করা হয়। এসকল কার্যক্রমের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য তিনটি হল প্লুইট জলাধার, রিয়া রিও জলাধার এবং পেসাঙ্গারাহান নদী। জলাধারের আশেপাশের বসতি স্থানান্তর এসকল কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত ছিল। বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার পর ড্রেজিং শুরু হয়। এসকল কার্যক্রমের ফলে বন্যর প্রকোপ কমে আসে।

জোকো উইদোদোর রাষ্ট্রপতি পদের জন্য শপথ গ্রহণ, ২০ অক্টোবর ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দ। মেঘবতী সুকর্ণপুত্রী জোকো উইদোদোকে তার দলের জন্য রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেন। বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের দ্রুত গণনার ফলাফল পাওয়ার পর ৯ জুলাই জোকো উইদোদোকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। বিজয়ের পর জোকো উইদোদো বলেন যে কর্তৃত্ববাদী ও দুর্নীতিগ্রস্থ শাসনের অধীনে বড় হওয়ার কারণে তিনি কখনো ভাবেননি যে নিম্ন শ্রেণীর একজন রাষ্ট্রপতি হতে পারবে।

মাদক পাচার ও দুর্নীতির ক্ষেত্রে ইন্দোনেশীয় আইনে মৃত্যুদন্ডের বিধান রয়েছে। জোকো উইদোদো দায়িত্বগ্রহণের পর ঘোষণা করেন যে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত মাদক পাচারকারীদের কোনো প্রকার ক্ষমা প্রদর্শন করা হবে না। বিচারিক আদালতের আদেশের পর রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে ইন্দোনেশীয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।

২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের ১ জানুয়ারিতে জোকো জ্বালানির উপর ভর্তুকি হ্রাসের পদক্ষেপ নেন। এই পদক্ষেপের দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়। তবে জোকো উইদোদো বলেন যে অবকাঠামো, শিক্ষা, ও স্বাস্থ্য সেবা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য এই পদক্ষেপ দরকার ছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘কেউ কেউ বলে যে যদি আমি জ্বালানি ভর্তুকি হ্রাস করি তবে আমি অজনপ্রিয় হব। আমি বলি আমি জনপ্রিয়তা চাই না।’

আগে পররাষ্ট্র নীতি ছিল, ‘হাজার বন্ধু এবং শূণ্য শত্রু’। তবে জোকো উইদোদো বৈদেশিক নীতিতে পরিবর্তন আনেন। তার প্রণীত তিন দফা নীতির মধ্যে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষা, ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকদের সুরক্ষা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনীতি বৃদ্ধি।

ইন্দোনেশিয়ার ম্যাগজিন টেম্পু ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে তাকে টেম্পু’স লিডার্স অফ চয়েস মনোনীত করে; তিনি ইন্দোনেশিয়ার শীর্ষ দশ মেয়রের অন্যতম বিবেচিত হন। তিনি ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে রিপাবলিকা পত্রিকা থেকেচাঙ্গেমাকের্স এওয়ার্ড লাভ করেন। ২০১১ সালে বিনতাং জাসা উতামা সম্মাননা লাভ করেন।

‘অপরাধ প্রবণ শহর থেকে শিল্প, সংস্কৃতি ও পর্যটক আকর্ষণের শহরে রূপান্তর’ কৃতিত্বে ২০১২ এর বিশ্ব মেয়র পুরস্কারের জন্য তৃতীয় স্থান লাভ করেন। ফরেন পলিসি ম্যাগাজিন কর্তৃক ২০১৩ এর নেতৃত্বাস্থানীয় বিশ্ব চিন্তাবিদ্দের অন্যতম। সে বছরের ফেব্রুয়ারিতে লন্ডনভিত্তিক দ্য সিটি মেয়রস ফাউন্ডেশন কর্তৃক গ্লোবাল মেয়র অফ দ্য মান্থ হিসেবে মনোনোয়ন লাভ করেন।

২০১৪ সালে বিনতাং রিপাবলিক ইন্দোনেশিয়া আদিপুরনা সম্মাননা লাভ করেন। ২০১৪ সালে ফরচুন ম্যাগাজিন কর্তৃক বিশ্বের ৫০ জন বড় নেতার তালিকায় স্থান লাভ করেন। ২০১৫ সালে ব্রুনাইয়ের দারজাহ কেরাবাত লাইলা উতামা ইয়াং আমাত দিহুরমাতি লাভ করেন। ২০১৫ সালে সৌদি আরবের অর্ডার অব আবদুল আজিজ আল সৌদ লাভ করেন।

জোকো উইদোদো উচ্চশব্দের রক সঙ্গীত পছন্দ করেন এবং তার ভারী মেটাল ব্যান্ড মেটালিকার রবার্ট ট্রুজিলোর স্বাক্ষর করা একটি বেস গিটার একসময় তার কাছে ছিল। তিনি একজন মেটালিকা, ল্যাম্ব অব গড, লেড জেপেলিন ও নাপাম ডেথের ভক্ত।

জাকার্তার গভর্নর থাকাকালীন সময়ে ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দের ২ নভেম্বর সুরাকার্তার একটি রক উৎসবে তা সাধারণ পোষাকে দেখা যায়। এই উৎসবে এটি তার দ্বিতীয় আগমন। এর পূর্বে ২০১১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি এই রক উৎসবে প্রথমবার এসেছিলেন।

জোকো উইদোদো তার বাবা নোতো মিহারদজো ও মা সুদজিয়াতমি নোতোমিহারদজোর জ্যেষ্ঠ সন্তান। তার তিনজন ছোট বোন রয়েছেন। জোকো ও তার স্ত্রী ইরিয়ানার তিন সন্তান রয়েছেন। তারা হলেন জিবরান রাকাবুমিং রাকা, কাহিয়াং আয়ু ও কাইসাং পাঙ্গারেপ। ১৯৮৬ সাল থেকে ইরিয়ানা তার দাম্পত্য সঙ্গী।

২০১৩ এর জুন মাসে জোকো উইদোদোর শৈশব ও যৌবনকাল নিয়ে একটি চলচ্চিত্র প্রচারিত হয়। জোকো উইদোদো চলচ্চিত্রের কিছু বিষয় নিয়ে আপত্তি তুলে বলেন যে তার জীবন সাধারণ ছিল এবং চলচ্চিত্রে তুলে ধরার মতো উল্লেখযোগ্য ছিল না।

সংযুক্ত আরব আমিরাত রাজধানী আবুধাবির একটি প্রধান সড়কের নাম পরিবর্তন করে রেখেছে ‘প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো স্ট্রিট’। তারা এভাবে সম্মান জানিয়েছে- দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের জন্য, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে আসার জন্য। আবুধাবির জাতীয় প্রদর্শনী কেন্দ্রের পার্শ্ববর্তী সড়কটিকে আগে আল মা’আরিদ (প্রদর্শন) স্ট্রিট নামে ডাকা হতো।

 

পরিবার.নেট

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: poribar.net@gmail.com

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *