মানবিক বিপর্যয়ের মুখে প্লাবিত জনপদ

নজিরবিহীন বন্যায় প্লাবিত বহু জনপদ!
ডুবছে মানুষ! ভুগছে মানুষ!
কাঁদছে অসহায় বনি আদম!
বন্যাক্রান্তদের ভোগান্তির শেষ নেই!

মহাদুর্যোগে রূপ নেয়া বন্যায় বিপন্ন মানবতা!
বন্যায় বিপদ বাড়ছে! বন্যার তীব্রতা বাড়ছে!
বন্যার তাণ্ডবে বিপর্যস্ত জীবনে নিদারুণ অনিশ্চয়তা!
লন্ডভন্ড সবকিছু! অবিশ্বাস্য অকল্পনীয় অবস্থা!

যেন কোনো এক বিধ্বস্ত জনপদ!
এক ঘন্টা পরে কী হবে অনিশ্চিত!
কালকে কোথায় থাকবে অজানা!
জামাকাপড় নাই!
কাকভেজা ভিজে জবুথবু!

খাবারের তীব্র সংকট!
কেনার সামর্থ্য আছে অথচ খাবার নেই!
বিশুদ্ধ পানি পাবারও নিশ্চয়তা নেই।
কত শিশুরাও না খেয়ে আছে দিনের পর দিন।
দিনে এনে দিনে খাওয়া পরিবারগুলোর সঞ্চিত খাবার শেষ!
মানুষ খাবারের জন্য আর্তনাদ করছে!

কয়েক ঘন্টা পূর্বেও যার অনেক কিছ ছিল,
কয়েক ঘন্টা পর সব হারিয়ে সে একেবারেই নিঃস্ব!
সড়কে ঢলের পানি মারাত্মক রূপ ধারণ করছে!
মানুষকে উদ্ধার করার মত প্রয়োজনীয় পরিবহন নাই।
বন্যা কবলিত মানুষের দুর্দশা সীমাহীন!

ঘরেও কেউই নিরাপদ বোধ করছেন না।
ভয়াবহ বন্যার ছোবলে কত কত মানুষ গৃহহীন হয়েছে!
পানির কারণে ঘর বের হতে পারছেন না!
রান্নাঘরের ভিটা পানিতে তলিয়ে গেছে!
পানি ঢুকে পড়েছে বসতঘরে-বাসাবাড়িতে!
ছাদে আশ্রয় নিয়েছে মানুষ ও গবাদিপশু!

প্রধান-প্রধান সড়ক ও নদীপথ একাকার হয়ে গেছে।
নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দিশেহারা মানুষ!
শহরে অবস্থানকারীরা গ্রামে থাকা-
পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে পারছে না!
পানির ওপরেই ভাসছে মানুষ!

কোথাও কোথাও নৌকা চলছে অনেক বাড়ির চালের উপর দিয়ে!
অর্থলোভীরা সব রাস্তা প্লাবিত হওয়ায় অসহায়ত্বের সুযোগ নিচ্ছে।
৮০০ টাকার নৌকাভাড়া ৫০ হাজার , ১ লাখ টাকা।
পর্যাপ্ত পরিমাণ নৌকার সরবরাহ নেই!
জ্বালানি সরবরাহজনিত সংকটে-
ব্যাহত হচ্ছে নৌ পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও।
আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার মতো প্রয়োজনীয় নৌকা কখন মিলবে?

দুর্যোগকালে যেন উপরে আকাশ আর নিচে পানি!
পুণ্যভূমির চারিদিকে শুধু পানি আর পানি!
বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে!
জনপদের অচলাবস্থা ও দুর্ভাবনার কোনো শেষ নেই!

মূল্যবান সম্পদ হারিয়ে শুধু প্রাণ নিয়ে জলবেষ্টিত অনেকে!
শহরে কারো বাসার নিচতলায় পানি!
বের হওয়ার কোনো উপায় নাই।
আর গ্রামের অবস্থা বর্ণনাতীত!
গ্রামীণ জনপদে দুঃসহ সময়!
কারো ঘরের ছাদ পর্যন্ত পানি!
প্রাণ রক্ষা করাটা এখন বড় চ্যালেঞ্জ !

কোথায় যাবে বানভাসি মানুষ?
গ্রামে গ্রামে লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি !
হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে!
ভেসে গেছে অনেকের গবাদিপশু, বন্যপ্রাণী, গাছপালা, গাড়ি!
পানির তোড়ে তলিয়ে গেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, স্কুল-কলেজ!
শহরেও ডুবে গেছে ঘর বাড়ি, অফিস আদালত!
পানির নিচে ফসলি জমি, দোকানপাট, রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎকেন্দ্র!

রাস্তাগুলো ডুবে গেছে!
গোটা দেশের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন!
রেলওয়ে স্টেশনে পানি! বন্ধ রেল চলাচল!
রেলসেতু পানির তোড়ে ভেঙে গেছে!
বিমানবন্দরে পানি প্রবেশ করেছে!
সকল ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে!

বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত!
ঝুঁকি এড়াতে পাওয়ার গ্রিড বন্ধ করা হয়েছে!
বৈদ্যুতিক খুঁটি তলিয়ে গেছে!
বিদ্যুৎ কবে আসবে কেউ জানে না!
ইন্টারনেট নেই! মোবাইলে চার্জ নাই!
মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা অকার্যকর!

মারাত্মক বিপর্যয়ে-
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা
যেন বিপর্যস্ত সবকিছুই!
কেউ কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না!
গ্যাস স্টেশনগুলো বন্ধ!
তলিয়ে যাওয়া এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ!
হাসপাতাল তলিয়ে গেছে!
জরুরি সেবাগুলো সবই হুমকির মুখে!

যেন একেকটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ! দুর্গম এলাকা!
কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে যোগাযোগ!
ছোট ছোট শিশু আর প্রবীণদের অবস্থা বড়ই করুণ!
চেষ্টা করেও শহর থেকে বের হতে পারছে না অনেকে!
সোশ্যাল মিডিয়ার টাইমলাইন জুড়ে স্বজনদের হাহাকার!

আশ্রয়হীন মানুষকে উদ্ধারে কে যথাযথ তৎপরতা চালাবে?
উদ্ধার সরঞ্জামসহ পর্যাপ্ত জনবল কখন হাজির হবে!
চাহিদানুযায়ী ত্রাণ সহায়তা পৌঁছবে কখন?
আগে বন্যার কারণে বিপদগ্রস্তদের জান বাঁচুক। মালের চিন্তা পরে।

কে প্রশ্ন করবে?
ডুবলো কেন?
গড়ে তোলার কথা বলে ডুবালো কেন?
কই অত্যাধুনিক ড্রেনেজ সিস্টেম?
কই পরিকল্পিত উঁচু রাস্তা?
কই উপযোগী বাঁধ?
কোথায় সঠিক পরিকল্পনা?

টেকসই উন্নয়নে ব্যর্থতা কেন?
কেন চরম অব্যবস্থাপনা?
কেন আমজনতার স্বার্থকে অবহেলা?
কেন দায়িত্বহীনতা সীমাহীন?
কেন উপেক্ষার পর উপেক্ষার পাহাড়?

পানির উৎস কী কেবলই জলাশয় ভরাট?
নাকি উজানে অতিবৃষ্টি? পাহাড়ি ঢল?
নাকি পানি যাওয়ার রাস্তাগুলো সব বন্ধ হওয়া?
নাকি নদীর নাব্যতা হারানো?

নাকি বাঁধ খুলে দেয়া? সিস্টেমের দোষ?
নাকি দুর্দশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অন্য কিছু!
নাকি হাওরগুলোর বুকের নানা অবকাঠামো?
নাকি ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সড়ক?
হাওরের বুক চিড়ে বানানো রাস্তা!

সড়কে পানি চলাচলের জন্য নেই যথেষ্ট পরিমান সেতু!
হাওরের মাঝখানে প্রকৃতিবিরুদ্ধ নির্মাণে পানির গতিধারা ব্যহত!
কেন হাওরের পানি নদীতে নামতে পারছে না?
কেন হাওরের প্রাকৃতিক ব্যবস্থাপনা মেকানিজম কাজ করছে না?
অপরিকল্পিত উন্নয়নে আগের চেয়ে বহুগুণে বাড়ছে বিপদ!
এ বন্যা প্রাকৃতিক ব্যবস্থাপনাকে ঠিক রেখে উন্নয়নের ভয়ানক বার্তা!

প্রতিবাদহীন জনগণতো যেন আলুর বস্তা!
কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সাহায্যের হাত বাড়াবে!
ট্যাক্স দেবে! ভ্যাট দেবে!
তবে টাকা কোথায় যায় সে প্রশ্ন তুলবে না!

কারো কাজ ও দায়িত্ব নিয়ে কথা বলবে না!
ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির কথা স্বপ্নেও ভাববে না!
নিরব থাকবে! বোকা হয়ে থাকবে!
বাধ্যানুগত নাগরিক হয়ে থাকবে!

আর বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ!
১২২ বছরের মধ্যে বড় বন্যা! ইতিহাসে বিরল এ বন্যা!
অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে গেছে!
স্মরণকালের ভয়াবহ দুর্যোগে মারাত্মক মানবিক বিপর্যয়!

ভয়াবহ বন্যা যেভাবে গ্রাস করেছে, তাতে কে কাকে হেল্প করবে?
কে কিভাবে কার পাশে দাঁড়াবে?
বন্যার মতো নেতিবাচক খবর সোশ্যাল মিডিয়াতেই বেশি!
কী যে আকস্মিক বন্যা!

কদিন ধরেই টানা প্রবল ভারী বৃষ্টিপাত!
উজানের ঢলে পরিস্থিতি অবনতির দিকে।
একদিকে তুমুল বৃষ্টি! আরেকদিকে বজ্রপাতের আওয়াজ!
সেইসাথে অমাবস্যার অন্ধকার!

প্রতিটি সেকেন্ড যেন একেকটি দিনের সমান!
দোকানগুলোতে পানি নেই, খাবারও ফুরিয়ে যাচ্ছে!
সবাই হুড়মুড় করে শুকনো খাবার কিনছে।
অনেক রেস্টুরেন্ট বন্ধ করে দিয়েছে।
ভাসমান ও জনবিচ্ছিন্ন মানুষের দুর্যোগ ভয়াবহ।

দোয়া করছি-
হে আল্লাহ হেফাজত করুন-
বন্যাকবলিত এলাকার মানুষকে।
হে আল্লাহ রক্ষা করুন-
চরম বিপর্যস্ত বিপন্ন মানুষকে।

আল্লাহ রহম করুন,
অসহায়দের সহায় হোন;
রহমত করুন,
এই বিপদ থেকে উদ্ধার করুন।
সকল মানুষ ও পশুপাখি সুরক্ষিত রাখুন।

তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করুন-
যারা গলা পর্যন্ত ডুবে ডুবে ত্রাণের ব্যাগ তুলে দিচ্ছেন ঘরে ঘরে,
আক্রান্ত পরিবারের কাছে জরুরি খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন,
যারা বিপদে বন্যা কবলিত মানুষদের পাশে থাকছেন,
মেডিকেল টিম দিয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সাহায্য করছেন,
বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করছেন।

বন্যার্তদের সহায়তায় সকলে নিঃস্বার্থভাবে এগিয়ে আসা দরকার।
আর্ত-মানবতাকে শুকনো খাবার দেয়া প্রয়োজন!
দুর্যোগময় পরিবেশ থেকে উদ্ধার হবার অপেক্ষায় কত মানুষ!
ঔষধপত্র বিতরণ করা জরুরি! নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা জরুরি!

অবশ্যই সৃষ্টিকর্তা এই বিপদ থেকে দ্রুত রক্ষা করবেন।
ইনশাআল্লাহ বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা হবে যথাযথভাবে!
এই সংকট দ্রুত-ই কেটে যাবে!

আসুন আমরা বানভাসি মানুষের পাশে ভালোবাসার হাত বাড়াই।
মুড়ি, চিড়া, মোমবাতি, পানি, স্যালাইন, ওষুধ, বিস্কিট দিয়ে সহায়তা করি।
দ্রুত বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে বন্যা দুর্গতের পাশে থাকি,পাশে দাঁড়াই!

আসুন বানভাসি মানুষের জন্য দোয়া করি।
দ্রুত বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি কামনা করি।
অসহায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করি।
ভালো থাকুক বাংলাদেশ। বেঁচে থাকুক দেশের মানুষ।

About আনিসুর রহমান এরশাদ

শিকড় সন্ধানী লেখক। কৃতজ্ঞচিত্ত। কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী। ভেতরের তাগিদ থেকে লেখেন। রক্ত গরম করতে নয়, মাথা ঠাণ্ডা ও হৃদয় নরম করতে লেখেন। লেখালেখি ও সম্পাদনার আগ্রহ থেকেই বিভিন্ন সময়ে পাক্ষিক-মাসিক-ত্রৈমাসিক ম্যাগাজিন, সাময়িকী, সংকলন, আঞ্চলিক পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ব্লগ ও জাতীয় দৈনিকের সাথে সম্পর্ক। একযুগেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা, গবেষণা, লেখালেখি ও সম্পাদনার সাথে যুক্ত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন। পড়েছেন মিডিয়া ও জার্নালিজমেও। জন্ম টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর থানার হাতীবান্ধা গ্রামে।

View all posts by আনিসুর রহমান এরশাদ →

Leave a Reply

Your email address will not be published.