ব্যক্তিত্বের বিকাশে সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব

সম্পর্কের পরিসরকে সংকীর্ণতার বেড়াজালে আবদ্ধ করবেন না । ‘আপন’ শব্দটি জুড়ে দিয়ে সম্পর্কের পরিসরকে সীমাবদ্ধ করা, সংকীর্ণতার বেড়াজালে আবদ্ধ করার যৌক্তিকতা নেই। সম্পর্কের গভীরতাকে হৃদ্যতা-আন্তরিকতা ও উদ্দেশ্যের আলোকেই বিবেচনা করা উচিৎ। রক্ত সম্পর্ক, বংশগত বন্ধনকেই সম্পর্কের মানদণ্ড ধরার পক্ষে অবস্থান বিশ্ব নাগরিকের ভাবনা নয়। কে পর , কে অন্য সেটি দৃষ্টিভঙ্গিগত ভিন্নতা, চিন্তা- চেতনায় ও বিশ্বাসগত বৈপরীত্যের কারনে নানা রূপের হতে পারে। আদর্শিক সম্পর্ক, চেতনাগত মিল অনেক গরুত্বপূর্ণ।

টমাস ফুলারের ভাষায়, ‘ভালোবাসতে শেখো, ভালোবাসা দিতে শেখো, তাহলে তোমার জীবনে ভালবাসার অভাব হবে না। সঙ্গীর পরিচয় জানলেই সঙ্গ দেয়া ব্যক্তিকে চেনা যায়। যে যে ধরনের মনমানসিকতা পোষণ করে সে সে ধরনের মানুষকেই সঙ্গী হিসেবে বেছে নেয়। উদার আকাশের মত বিশাল হৃদয় আর বিস্তৃত মহাসাগরের বড়ত্ব অনুধাবন করার পর কেউ সম্পর্কের সীমারেখাকে ক্ষুদ্র ব্যাপ্তিতে নানা বিধি-নিষেধ দ্বারা জটিল বাস্তবতায় ফেলতে চাইলে কিছুই করার নেই।

এক নজরে দেখে নিন লুকিয়ে রাখুন

ব্যক্তিত্ব বিকাশে সম্ভাবনাকে কাজে লাগান

সম্ভাবনাকে সবাই স্বাগতম জানায়। বিপুল সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকলে মূল্যায়ন বেড়ে যায়। সম্ভাবনা বাস্তবতার মুখ দেখলে গ্রহণযোগ্যতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়। সম্ভাবনার অপমৃত্যু ঘটলে সবাই আফসোস করে। সম্ভাবনা হারিয়ে ফেললে তার প্রয়োজনীয়তা একেবারেই কমে যায়।

যেখানে কোনো সম্ভাবনা থাকে না সেদিকে কারো আগ্রহ, উৎসুক দৃষ্টিও পরে না। সম্ভাবনার ব্যাপারে সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি এ রকমই । যার মাঝে দেখা যায় উজ্জ্বল আলোর ঝলকানি, তারে নিয়ে আশার দিগন্তও সম্প্রসারিত হয় বেশি, যেখানেই সৌন্দর্য; নয়নের দৃষ্টি সেদিকে পরবেই। ফুলের সুবাস, পাখির গান, ঝর্নার কলতান,হৃদয় কাড়ে।

অন্যের দৃষ্টি কেড়ে নিয়ে হৃদয়কে জয় করতে পারা বিশাল যোগ্যতা। আর যোগ্যতার পরিমাণই মূল্যায়নের পরিমাণটা ঠিক করে।  যোগ্যতা সম্মান অর্জনের মানদণ্ড, যে যত বেশি যোগ্য তার প্রভাব; ব্যাপকতা তত বিস্তৃত। যোগ্যতার কারনেই ব্যক্তিত্ব বিকশিত হয়। নৈতিকতার অভাব সকল যোগ্যতাই আশির্বাদ নয় অভিশাপ হয়ে উঠতে পারে ।

অন্যের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিন

সবার কাছ থেকেই সমান কৃতিত্ব কেউ আশা করে না। যে যত বেশি মেধাবী, যত বেশি যোগ্য তার কাছে চাওয়ার পরিমাণটাও তত বেশি। আশা বেড়ে যায়, প্রত্যাশা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায় যোগ্যতা বৃদ্ধি পাবার ফলে। সূর্যের কাছ থেকে যেমন তীব্র আলো পাওয়া যায় চন্দ্রের কাছ থেকে কেউ সে রকম তীব্র আলো প্রত্যাশা করে না। আবার চন্দ্রের স্নিগ্ধ আলোর সাথে মোমের আলোর তুলনা চলে না।

 স্বার্থপর হবেন না

স্বতন্ত্রতা, স্বকীয়তা সুস্পষ্ট। ফলাফলে ভিন্নতাও প্রমাণিত। কারো থেকে অনেক নিয়েও তৃপ্ত হওয়া যায় না। আবার কারো থেকে কিছু পাওয়ার আশাই কেউ করে না। সবাই সমান হবে না। এটাই স্বাভাবিক। তবে সিংহ যদি বিড়ালের মত আচরণ করে তার সেটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। বুদ্ধিমান-মূর্খের মতো, শক্তিশাল দুর্বলের মতো, মেধাবী-মেধাহীনের মতো আচরণ তখনই করে যখন সে আত্মবিশ্বাস হারায়, আত্মমর্যাদাবোধ লোপ পায়, স্বকীয়তা ভুলে যায়।

আর অবৈধ প্রেমের বিভ্রান্তিকর মোহনীয় হাতছানিতে সাড়া দেয়া, নেশার আকর্ষণে আকৃষ্ট হওয়া, অতিরিক্ত লোভ-লালসা, অতিরিক্ত-আরামপ্রিয়তা-অলসতা পেয়ে বসলে সফলতার পরিবর্তে ব্যর্থতা, সুফলের পরিবর্তে কুফল, কল্যাণের পরিবর্তে অকল্যাণ বয়ে আনে। সম্ভাবনার অপমৃত্যু ঘটলে সমস্যার ঘূর্ণাবর্তে আশার আলো নিভে যায়।

যেমন মানুষ চাইবেন তেমন পরিবেশ দিতে হবে

ঘুড়ি আকাশে উড়ে। সেটি বাঁধা থাকে নাটাইয়ে সুতার দ্বারা। নাটাইয়ের সাথে সুতার দ্বারা সৃষ্ট বন্ধন বিচ্ছিন্ন হলে হয়ত! কিছুক্ষণ উড়বে তারপরেই ধপাস করে পড়ে যাবে মাটিতে। আছড়ে পড়ে হয়তবা ভেঙ্গে চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যাবে। এই যে ঘুড়ির অনাকাক্সিক্ষত পরিণতি বরণ সে জন্য শুধুমাত্র ঘুড়িকেই দায়ী করার বিরুদ্ধে আমার সুদৃঢ় অবস্থান। সন্তানের ক্ষেত্রে পরিবারের , অবিভাবকের দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ।

মহাসাগরের উত্তাল তরঙ্গমালার ঢেউ সৃষ্টির মত বিশাল কর্ম সম্পাদনের যোগ্যতা সম্পন্ন কেউ যদি পিপাসার্ত ও যোগ্যতা আছে বলে মনে করে, বিশ্বাস করে সংকীর্ণতার পরিসরে নিজেকে বন্দী করে ফেলে সে জন্য কাকে দোষ দেব? দোষ অভিভাবকের, দোষ বন্দুদের, পরিবেশের, পারিপার্শ্বিকতার; এককভাবে কাউকে দোষারোপ করলে সেটি অবিচার হবে। এটিও সত্য ব্যক্তির নিজের ভূমিকা সকলের ভূমিকাকেই ছাড়িয়ে যায় ।

নিজের প্রতি অবিচার করবেন না

পাহাড়ের মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা, সুনীল আকাশের বিশালতা, পুষ্পের সৌন্দর্য ও সুরভির পবিত্রতা যদি দৃষ্টিশক্তিকে প্রসারিত করে হৃদয়-মনকে বড় নাকরে, আকাশের নক্ষত্র, চন্দ্র, সূর্য তথা আলোকমালা যদি পরের কল্যাণে নিজ স্বার্থ বিলিয়ে দেয়ার মত ত্যাগী মানসিকতা তৈরি না করে তাহলে প্রকৃতির উদারতা-বিশালতার প্রভাবে কাক্সিক্ষত কোনো প্রতিক্রিয়াইতো হলো না।

এ জন্য কাকে দায়ী করা হবে? কেন এমন হয়? দুঃখ এখানে; যে মেধা, প্রতিভা জাতির জন্য সম্মান বয়ে আনতে পারত, কল্যাণ ও মঙ্গলের জোয়ার সৃষ্টি করতে পারত সে যদি নিজের জন্য কিছু করতেও অপারগ হয়। যে ঝর্না অগণিত মানুষের পিপাসা মেটাতে পারত সে যদি নিজেই তৃষ্ণার যন্ত্রণায় ছটফট করে তবে সে দৃশ্য বড়ই মর্মান্তিক, হৃদয়বিদারক, ভীষণ কষ্ট দেয়। সহজে মেনে নেয়া যায়না ।

প্রতিভার বিকাশে চাই সম্মিলিত উদ্যোগ

আয়নায় নিজের মুখ দেখা যায়। মেধাবীরা জাতির আয়না। সেই দর্পণ যদি ভেঙ্গে যায়, আয়নায় কাক্সিক্ষত মানের চিত্র ভেসে না আসে তবে সেটা দুঃখজনক। মেধাবীদের চেহারায় জাতির সামগ্রিক অবস্থার উজ্জ্বল প্রতিফলন দেখতে পাই। সেখানে সম্ভাবনার অপমৃত্যু, আলোকমালার অকালপতন, ভবিষ্যতের স্বর্ণালী-বর্ণালী দিগন্তের করুণ চিত্র দেখলে মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে, হৃদয়টা ক্ষতবিক্ষত হয়, কষ্টের নদীর বহমান জলরাশির স্রোত উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়।

ব্যথিত হৃদয়ের আর্তনাদ এখানে। সিংহের গর্জন শুনি, বাঘের হিংস্র থাবা দেখি, পিঁপীলিকার দলবদ্ধ পরিশ্রমপ্রিয়তা দেখি, মৌমাছির ফুলে ফুলে উড়ে মধু সংগ্রহ দেখি । স্ব স্ব কর্মে দারুণভাবে ক্রিয়াশীল সদা। অথচ, সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ নবীন সম্ভাবনাগুলো অবৈধ প্রেম, খারাপ নেশা, লোভ, সংকীর্ণতা, অলসতা, অতিরিক্ত আরামপ্রিয়তা-বিলাসিতার বেড়াজালে পড়ে মুক্তবুদ্ধি হারিয়েছে, স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে পারে না।

অনেক বড় আশা করা, বিশাল স্বপ্ন দেখা, ভাল গঠনমূলক কিছু করার চিন্তাও যেন কল্পনাতীত। সৃজনশীলতা, কর্মোদ্দীপনা, দেশ, জাতি ও মানবতার কল্যাণ এসব তো অনেক দূরের ব্যাপার। হতাশার সাগরে, অনৈতিকতার ঢেউয়ে ভেসে চলা ভোগ, বিলাসিতাতেই খুঁজে নিচ্ছে জীবনের সার্থকতা। আত্মমর্যাদাবোধ, আত্মবিশ্বাস এগুলো বিলুপ্ত। এ অবস্থা থেকে উত্তোরন ঘটাতে হবে ।

বন্ধু নির্বাচনে সতর্ক হোন

অতীতের সুন্দর দিনগুলো সবাইকেই নাড়া দেয়। সত্যিকারার্থেই ছাত্রাবস্থায় বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে সবচেয়ে বেশি। বয়সের সাথে সাথে বন্ধুত্বের অর্থ ধরণ বদলায়, গভীরতাও কমে-বাড়ে। বন্ধু মানসিক নির্ভরতার পরম আশ্রয়স্থল হতে পারে। মানুষের বন্ধুর সঙ্গ চাওয়াটা অমূলক নয়। জীবনের ধারাবাহিক গতির সাথে মিল হলেই সঙ্গ গড়ে উঠে। নিঃসঙ্গ জীবন কেউ চায় না।

বন্ধু অনেক থাকলেও বেস্ট ফ্রেণ্ডের সংখ্যা খুব বেশি হয় না, যাদের সাথে ভীষণ হৃদ্যতা থাকে। বন্ধুত্বের মাঝে অন্যরকম একটা আবেগ থাকে। জীবনের পরতে পরতে বন্ধুর ছায়া আশীর্বাদের মতো। কেননা তারা মানসিক সাপোর্ট দেয়, সাহস যোগায়। যখন থেকে চিন্তা চেতনার উন্মেষ হতে শুরু করেছে তখন থেকেই বন্ধুরা পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষাভাবে অনুপ্রাণিত করে। তাই বন্দু নির্বাচনে সতর্ক থাকতে হবে ।

বন্ধুত্ব হচ্ছে সূর্য ওঠা ভোর আর তারায় ভরা রাত। বন্ধুত্বের শর্তহীন বন্ধনের ব্যপ্তি জীবনের বিরাট অংশ জুড়ে বিস্তৃত। স্বার্থপরতা ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকলে বন্ধুত্ব টেকে না, সম্পর্কের মাঝে কখনো প্রশস্ত দেয়ালের বাঁধা পড়ে অতীতের মজা ভাবলে আজো মনটা বাল্যকালে ফিরে যায়। বন্ধু একজন মানুষের জীবনের অমূল্য সম্পদ। তবে হ্যাঁ। অবশ্যই ভাল বন্ধু হওয়া চাই।

সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতা থাকলে অশান্তি নেমে আসে, বন্ধুত্ব নষ্ট হয়। সুতরাং উদার আকাশের মত বিশাল মন না থাকলে সমস্যা। সমস্যার বেড়াজাল ছিন্ন করে কাক্সিক্ষত বন্ধুত্ব গড়ার প্রত্যাশা পূরণ হয় চিন্তার ঐক্য থাকলে। না হলে সৃষ্টি হয় দূরত্ব। ভুল বন্দু জীবনে চরম ক্ষতি বয়ে আনতে পারে । তাই বন্ধুত্বের ব্যাপারে বেখেয়াল হলে চলবেনা ।

সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করুন

সমস্যা থাকবেই। সমস্যার সমাধান করেই সামনে এগুতে হবে। পরিবেশ, পারিপার্শ্বিকতা যখন সমস্যা সৃষ্টি করে তখন তার সমাধান বড় বেশি কঠিন হয় না। কিন্তু নিজেই যখন সমস্যা সৃষ্টি করা হয় তখন সমাধানের পথ, পদ্ধতি জটিল আকার ধারণ করে, খুবই কঠিন হয়ে পড়ে।

মেধার সাথে সাথে আত্মবিশ্বাস ,উচ্চাশা ,স্বপ্ন, আশা, বিশ্বাসই অবস্থান নির্ণয় করে। লুকায়িত সম্ভাবনা ও শক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে কোনো প্রতিবন্ধকতাই ব্যক্তিত্বের বিকাশে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনা। তবে যদি বিভ্রান্তিকর মোহনীয় হাতছানিতে আটকা পড়ে যায় তবে আশঙ্কা থেকে যায়।

হতাশা কখনোই নয়

আম্রকানন। সারি সারি আমগাছ। মৌসুমে অনেক ফুল দেখা যায়। তন্মধ্যে অধিকাংশই ঝরে পড়ে। যারা থাকে তারা এক সময় ছোট ছোট গুটি থেকে মুকুলে পরিণত হয়। নানা প্রতিকূলতার কারণে বাস্তবতা সবার অস্তিত্ব মানে না । কিছু মুকুলেই ঝরে যায়। কিছু আমে রূপ নেয়। কাঁচা অবস্থায় শেষ পরিণতি ভোগ করতে হয় অনেকের।

শিলাবৃষ্টি, ঝড়ের কারণে গাছের সাথে অবস্থান করা হয় না, বন্ধন ছিন্ন করে ভূপাতিত হয়। পরিপক্ক রূপে আত্মপ্রকাশ করতে পারে স্বল্পই । চূড়ান্তধাপে কতগুলো আম টিকে থাকে তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘসময়। মানুষও তেমনি। জীবনটাও তেমনি। কার পরিণতি কেমন হয়, চূড়ান্তরূপ কি ধরনের হয় সেটা তড়িৎ ভাবে বলা যায় না। তাই ধৈর্য ধরুণ, চেষ্টা চালিয়ে যান , হতাশ হবেন না ।

চাই সুন্দর পরিকল্পনা ও কর্মপ্রচেষ্টা

পুষ্পকাননে রঙ বেরঙের নানা রূপ সৌন্দর্যের ফুল ফুটে থাকে, সুঘ্রাণ ছড়ায়, নয়ন কাড়ে, হৃদয় জুড়ায়, মুগ্ধ করে। সেই ফুলে তিন ধরনের প্রাণীর নানান সময় বিভিন্ন উপলক্ষে আগমন ঘটে। সবার উদ্দেশ্য মোটেই এক নয়। সবাই ফুল থেকে কিছু গ্রহণ করতে পারে না, কেউ পারে। যেমন-প্রজাপতি, ভোমড়া এরা ফুলে উড়ে উড়ে বসে; কিছু নিতে পারে না। কিন্তু মৌমাছি ফুল থেকে রেণু সংগ্রহ করে, নিজের চাহিদা মেটায়, অন্যের প্রয়োজনও মেটায় মধু তৈরির মাধ্যমে।

নিজেও লাভবান হয়, অপরেরও কল্যাণে লাগে। মৌমাছির গুণসম্পন্ন মানুষ খুব কম সংখ্যকই আছে। যারা আছে তারা সাধারণ থেকে একটু ব্যতিক্রম, অসাধারণ। আমি চারটি বিষয়কে জীবনে সাফল্য অর্জনের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা মনে করি। ১) অবৈধ প্রেম ২) নেশা ৩) শারীরিক দুর্বলতা ৪) অলসতা।

আত্মগঠনের পরিপূর্ণ সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য চাই সচেতনতা। যদি সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও সেগুলো কাজে যথাযথভাবে না লাগানো হয় তবে সেটা দুঃখজনক। নিজের দুরদর্শিতা, আত্মবিশ্বাস, বড় স্বপ্ন ও সুন্দর পরিকল্পনা এবং কর্মপ্রচেষ্টার অভাবে যদি ব্যর্থতা আসে সেটা সহজে মানা যায় না।

সঙ্গী দেখে মানুষ চেনা যায়

সবারই রয়েছে মধুর তিক্ত, ভালোলাগা, আনন্দ- বেদনার স্মৃতি। সময়ের প্রয়োজনে বিভিন্ন স্থানে, নানান কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়। ব্যস্ততা, সুযোগের অভাব, ঠিকানা না থাকা নানা কারণেই যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভবপর হয়ে উঠেনা পরনো পরিচিত অনেকের সাথে।

ফলে অনেকের সাথেই নতুন করে বন্ধুত্ব সৃষ্টির অব্যাহত প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে আবার বিস্মৃতির অতল গহ্বরে অনেকে হারিয়ে যাচ্ছে। তবে বন্ধুদের স্মৃতি রয়ে যায়। ছোটবেলার শৈশব কৈশোরের দিনগুলো জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মধুময় সেই আনন্দের দিনগুলোতে যাদের বন্ধুত্বের কোমল রসে সিক্ত হয়ে সঞ্জীবনী শক্তি লাভ করে তাদের ভূলা যায় না।

বন্ধহীনতা কখনো নয়

আসলে ভাল বন্ধু জীবনে বড়ই প্রয়োজন। বর্তমান সমাজে মানুষের মধ্যকার দ্বন্দ্ব, হানাহানি, একাকিত্ব, অবিশ্বাস সব কিছুর মূলে দায়ী বন্ধহীনতা। ভাল বন্ধুত্ব শুধু উপকারই করে শত্র“তা বাড়ায় না। তাই বেশি বেশি সৃষ্টি হলে একদিক থেকে জীবন আনন্দময় হয়, আরেক দিক থেকে সমাজেও শান্তির স্রোতধারা প্রবাহিত হয়।

উদ্দেশ্য বিহীন কোনো কাজ নয়

অতিরিক্ত ব্যস্ততা মানুষকে বন্ধুহীন করে। পারস্পরিক সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার ফলে সমাজে পড়ে নেতিবাচক প্রভাব। বন্ধুত্ব গড়ে উঠে ত্যাগের বিনিময়ে। এটি রক্ষার ক্ষেত্রে উভয়কেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হয়। পারস্পরিক ভালবাসা, বিশ্বাস স্থাপন হলো বন্ধুত্ব তৈরির প্রধান শর্ত। এ শর্ত পূরণের মধ্য দিয়েই  গড়ে উঠে হৃদয়ের বন্ধন।

আসলে ‘বন্ধু’ শব্দটির মধ্যে এমন কিছু আছে, যা প্রতিটি মানুষকে নিমিষেই নিয়ে যায় এমন কিছু সময়ে, যে সময় তারা পার করে এসেছে-এখন তা কেবলই স্মৃতি। বন্ধুর সাথে সময় কাটানো যেমন আনন্দের তেমনি স্মৃতি মনে করে সময় কাটানো তার চেয়েও বেশি আনন্দের। বন্ধুরা জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভাল বন্ধুত্ব জীবনের পরম পাওয়া গুলোর মধ্যে অন্যতম।

মনের সাথে মনের মিলই বিনি সুতার মালার মতো অদৃশ্য এ’দৃঢ় বন্ধন সৃষ্টি করে; হৃদয় দিয়ে হৃদয়ের ভাষা অনুভব করাটা সহজ হয়। মানসিক একাত্মতা , বিশ্বাস, পছন্দ- অপছন্দ, ভালোলাগা-মন্দলাগা সবকিছুতেই মিল থকলে বন্দুত্ব সুদৃঢ় হয় । মনে পড়লে বন্ধুদের কথা, ঘুমন্ত স্মৃতিগুলোর কথা তখন মনটা ব্যাকুল হয় ।

একজন বন্ধু অনেক নিকট আত্মীয়ের চেয়েও অনেক বেশি আপন হতে পারে। তাইতো বন্ধুহীন জীবন প্রাণহীন মরুপ্রান্তর। সমাজের কল্যাণে, মানবতার কল্যাণে, আদর্শেও কল্যাণেই গড়ে উঠবে বন্দুত্ব। বন্দুত্ব কেন কোন কাজই উদ্দেশ্য বিহীন হবেনা।

অন্যকে ক্ষুদ্র ভাবা অযৌক্তিক

ছোট থেকে বড়, ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ হওয়াটাই প্রকৃতির ধর্ম। ক্ষুদ্র শুক্রাণু ডিম্বানুর সমন্বয়ে তৈরি জাইগেট থেকে মানব শিশু, শিশুটি এক সময় পূর্ণাঙ্গ মানুষ রূপে আত্মপ্রকাশ করে। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। তাই ছোট বীজ দেখে সে বীজ থেকে বিশাল বটবৃক্ষের জন্ম হতে পারে এ ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করা নয় বরং বিশ্বাস করা উচিৎ। আর এ বিশ্বাসই ক্ষুদ্রের মধ্যেও বৃহৎ কিছুর অস্তিত্ব অনুসন্ধান করার শক্তি দেবে।

আনন্দে বা দুঃখে জীবনের প্রতিটি পর্যায়েই বন্ধুর প্রয়োজন হয়। সেই প্রয়োজন অনেকেই মিটাতে পারে। কারো সাথে সম্পর্ক পরম নির্ভরশীলতার। বিপদের সময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে পাশে দাঁড়ায়ে সহমর্মিতা প্রকাশ করে খুব কম সংখ্যক লোকই, আর এক্ষেত্রে ধর্ম, বর্ণ, ধনী-গরীবের ব্যবধানের কার্যকারিতা থাকেনা অনেক সময়। মনের মিল থাকলে সকল ব্যবধানের দেয়াল অদৃশ্য হয়ে যায়। অহংকারী হয়ে অন্যকে ক্ষুদ্র ভাবা কোন যুক্তিতেই সমীচিন নয়।

কাংখিত দৃষ্টিভঙ্গি ও অভ্যাস গড়ে তোলা

অতীতের দিনগুলো স্মৃতির মণিকোঠায় বিদ্যমান থাকে। ব্যক্তি জীবনে বন্ধুদের ভীষণ উপলব্ধি করা, গুরুত্ব দেয়া অনেকের স্বভাব। জীবনে অর্জনের পেছনে বন্ধুদের ভূমিকাও থাকে। বন্ধুত্ব হলো-প্রাণের মুকুরের মতো। বন্ধু হলো আশ্রয়। ছেলেবেলা থেকেই সখ্যতা গড়ে উঠে অনেকের সাথে। দুরন্ত সময়গুলোতে আনন্দ, ব্যস্ত সময় কাটানো, মান-অভিমানের পালা চলে।

এক এক করে জীবনের অনেকটা সময় পার করে এসে জীবন সায়াহ্নের বেলায় কৈশোরের দুরন্ত সময়ের মজার অনেক ঘটনার কথা মনে পড়ে। তাই স্মৃতির পাতায় যাতে এমন পাপ পংকিলতার ছাপ না পড়ে যা রীতিমতো বিবেককে দংশন করে কিংবা এমন কাজ করা অনুচিৎ যা পাপ করতে উদ্বুদ্ধ করে । জীবনের উষালগ্ন থেকেই নৈতিকতা ও আমলিয়াতের ব্যাপারে কাংখিত দৃষ্টিভঙ্গি ও অভ্যাস গড়ে তোলার প্রয়াস জরুরী ।

আদর্শিক সম্পর্কই বড়

ভাললাগা-মন্দলাগা, পছন্দ ও অপছন্দের ব্যাপারটি ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গি, রুচিবোধ, চিন্তাধারা ও মনমানসিকতার ভিন্নতার কারণে ভিন্ন ভিন্ন রূপে প্রকাশ পায়। প্রিয়জনের চোখের অশ্র“ কোনো বেদনার ঢেউ সৃষ্টি করে আর হৃদয়বিদারক সে দৃশ্যই কোনো কোনো হৃদয়ে প্রশান্তির ঢেউ জাগায়। কারণ সম্পর্কের ভিন্নতা। যার আনন্দে মনের আনন্দ বাড়ে, দুঃখে হৃদয় ব্যথিত হয় সেই আপন।

প্রিয় যারা হৃদয়ের মাঝে বিভিন্ন লেভেলে বিভিন্নজন অবস্থান করেন। সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছে খুব কম সংখ্যক ব্যক্তি। স্বপ্ন, আশা-আকাক্সক্ষা, সামনে এগিয়ে চলার প্রতিশ্র“তি, একই লক্ষে ছুটে চলার প্রয়াসে সৃষ্টি হওয়া আত্মার সম্পর্ক অনেক কাছাকাছি করে দ’ুটি হৃদয়। হৃদয়ের বন্ধন, মনের মিল, চিন্তাও বিশ্বাসের গভীরতা, ঐক্যের সম্পর্ক অনেক শক্তিশালী, বেশি কার্যকর, বড়ই ফলপ্রসু যা সব সম্পর্ককে ছাড়িয়ে যায়।

চাই ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতা

সুখ-দুঃখের ভাগাভাগি থাকলে, আস্থা ও বিশ্বাসের গভীরতা থাকলে, সুদূর লক্ষে পৌঁছার পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকলে, আবেগ-অনুভূতি-উচ্ছ্বাসের সুতীব্র আবেদন থাকলে সব মিলিয়ে সৃষ্টি হয় নতুন প্রেরণার, নব স্বপ্নের সোনালী দিগন্তের বর্ণালী আকর্ষণের। মনের মাঝে কাঁটে গভীর দাগ, যা মুছে ফেলা যায় না সহজে।

আত্মগঠনের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা, সময়ের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহারের কঠিন সংকল্প, মেধা ও চিন্তাশক্তির উৎকর্ষ সাধনের সিদ্ধান্ত, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ, জাতি, মানবতা, মনুষ্যত্ব ও শাশ্বত সুন্দর আদর্শের জন্য ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতা অক্ষুণ্ন থাকলে কাক্সিক্ষত মানের যোগ্য সুনাগরিক রূপে গড়ে উঠা সম্ভব।

কল্যাণ ও মঙ্গলের পথে চলা

আন্তরিকতা আছে, ভালবাসা আছে, হৃদয় ভুলানো হাসি আর মিষ্টি চেহারা। তবে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রেখে যে গুণটি কাছে টানতে ফলপ্রসু হয়েছে সেটি হৃদ্যতাপূর্ণ কোমল ব্যবহার ও উষ্ণ অভ্যর্থনা। মনের অনেক দরজা, কেউ ঢুকে, কেউ বের হয়। তবে কিছু চোখ, মুখ, হাসি, আন্তরিকতা হৃদয়ে খোদাই হয়ে থাকে। মনের পর্দায় স্থায়ী আসন করে নেয় খুব কমজনই। যাদের ভোলা যায় না, স্মরণীয় হয়ে থাকে হৃদয়পটে, মানসপটে।

স্নেহের পরশে তৈরি হয় এক ধরনের দাবি। শ্রদ্ধার পরশ পেলে সেটি রূপান্তরিত হয় অধিকারে। পারস্পরিক জানা-শুনা, মেলা- মেশা সম্পর্ককে গভীরতা দেয়। ধীরে ধীরে সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়। শেকড় বিস্তৃত হয়, ছড়িয়ে পড়ে ডালপালা চারপাশে। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে চাওয়া-পাওয়া, প্রাপ্তি-ত্যাগের বিবেচনা অনেক সময় ক্রিয়াশীল হয়। নানা দ্ব্ন্দ্ব-সংঘাত, কাক্সিক্ষত-অনাকাক্সিক্ষত বাস্তবতার মধ্য দিয়ে সম্পর্ক তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যায়।

কখনো সে গতি পরিবর্তিত হয়, কখনো বা একেবারেই থেমে যায়, কখনো সে গতি কার্যকর হয় বিভ্রান্তির পথে, কখনো স্বপ্ন-আশা, আস্থা-বিশ্বাস, আবেগ-উচ্ছ্বাস-অনুভূতির সমন্বয়ে সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ রচনায় এগিয়ে চলে নিজস্ব গতিতে। বাস্তবতা কখনোই অস্বীকার করা যায়না। কল্যাণ ও মঙ্গলের পথের সোনালী দিগন্তে সবার দুর্বার গতিই জাতির দুর্দশা লাঘবের একমাত্র পথ ।

সুন্দর স্বভাব ও সু অভ্যাস তৈরি

মাওলানা নুরুদ্দীন লিখেছেন-
‘স্বভাব কারো রয় না ঢাকা
যতই কেহ রাখুক ঢেকে
সবার কাছে ব্যক্ত হবে
ফুটবে গোপন পর্দা থেকে।

আসলে মানুষ বড় বৈচিত্র্যময়। কিছু মানুষের ব্যবহার দেখেই বুঝা যায় সে ভাল কিংবা মন্দ। কিন্তু কিছু মানুষের প্রকৃত রূপ বুঝা বড়ই কষ্টকর, পুরোটাই রহস্যের চাদরে আবৃত। স্বার্থপর মানুষ প্রয়োজন ফুরালে কাউকে কাছে রাখতে চাই না। মাঝে মাঝে ক্লান্ত পথিকের দীর্ঘশ্বাস বের হয়। সেটি স্বস্তির না দুশ্চিন্তার বুঝাটা বেশ দুঃসাধ্য। অগ্নিতাপে দগ্ধ হয়ে খাঁটি সোনার অস্তিত্ব প্রকাশ পায়। মণিমুক্তা কুড়িয়ে পাওয়াটা দুর্লভ বটে। সুলভ কিছুর চাইতে দুর্লভ কিছু পাওয়াতে আনন্দ বেশি।

কথাবার্তায়, আচার-ব্যবহারে আকর্ষণীয় ও হৃদয়গাহী চমৎকার ব্যক্তিত্ব সবদিক থেকেই সম্ভাবনাময়।একই ধরনের সম্পর্ক , একই রকম ক্রিয়া ব্যক্তিভেদে নানান রকম প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। তবে অবৈধ প্রেম ব্যক্তিত্বের বিনাশ, ইমেজ সংকট সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে । এসব জটিলতার মাঝে জড়ায়ে পড়াটা ক্ষতিকর। তবে আমার বিশ্বাস, সচেতন ব্যক্তি সাময়িক আনন্দের মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী বেদনাকে কখনোই স্বাগত জানান না। রহস্যময় বিতর্কিত চরিত্রের অধিকারী না হতে সুন্দর স্বভাব ও সু অভ্যাস তৈরি করুন ।

বল্গাহীন স্বাধীনতা নয়; মনকে নিয়ন্ত্রণ করুণ

মানুষরে স্বাধীনতা রয়েছে যে কর্মগুণে উন্নতর থেকে উন্নততর অথবা নিম্নস্তর থেকে আরো নিম্নস্তরে চলে যেতে পারে। নানা প্রয়োজনে অনেকের সাথেই মেশা, সম্পর্ক গড়া। সবক্ষেত্রেই একই উদ্দেশ্য থাকে না। স্যামুয়েল বলেছেন, ‘কিছু ভুল আছে যা প্রতিটি রক্তমাংসের মানুষই করে থাকবে।’

মধ্যমপন্থা অবলম্বনে কিছু ভুল হতেই পারে। এটা মেনে নিতেই হবে। কিন্তু সীমা ছাড়িয়ে অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়াটা ভাল নয়। যারা ভুল চিহ্নিত হলে সংশোধনে উৎসাহি থাকে তারা সফলকাম হয়। এটাই বাস্তবতা। অস্পষ্ট কাজ করে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি সৃষ্টির মানে হয়না।যিনি সামনে এগিয়ে যাবেন, হারিয়ে যাবেন না তার বর্তমান দেখেই উজ্জ্বল ভবিষ্যত বুঝা যায়।

মানসিক সতেজতার প্রাচুর্যতা চাই

কুয়াশচ্ছন্ন পরিবেশ উদিত হতে থাকা সূর্যের আলো পূর্বাকাশ অতটা আলোকিত করতে না পারলেও সময়ের ব্যবধানে সূর্যের আলোই প্রভাব বিস্তার করে, কুয়াশা দূরীভূত হয়। পানির সাথে চিনির মিশ্রণে সুমিষ্ট স্বাদের পানীয় হৃদয়ের তৃষ্ণা নিবারণ করার ক্ষেত্রে বড়ই কার্যকর, বন্ধুত্বের কোমল পরশ ও হৃদ্যতাপূর্ণ আন্তরিকতা, সৌহার্দ্য ও সমপ্রীতির মজবুত বন্ধন মানসিক প্রশান্তি বয়ে আনতে তার চেয়েও ফলপ্রসু ভূমিকা রাখতে পারে ।

আর হ্যাঁ, কারো একটি ব্যবহার দেখেই সত্যিকারার্থে তার পরিচয় অনুধাবন করা যায় না। হযরত আলী (রা) বলেন, ‘ব্যক্তি বিশেষের একটি আচরণ দেখেই তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ো না, তার অন্যান্য আচরণ সম্পর্কেও খোঁজ খবর নিও।’ কেননা ‘সব শয়তানই ভাল মানুষের ভান করে।’ অলসতা ও ওজর-আপত্তি পেশের প্রবণতা ভাল নয়। । অযৌক্তিক আচরণ বর্জনের মাধ্যমে অর্জিত সাফল্যই আনন্দ দেয়। মানসিক সতেজতার প্রাচুর্যতা চাই।

চাই কাজ পাগল তরুণ ও প্রাণচঞ্চলতা

কাজ পাগল দুরন্ত সম্ভাবনায় প্রাণোচ্ছল কোন তরুণকে কেনা ভালবাসে। কাজেই যার আনন্দ; এমন প্রাণচঞ্চলতা খুব কমই চোখে পড়ে। সময়ের চক্র তার আপন গতিতে ঘুরছে। সে চক্রের সাথে তাল মিলিয়ে মানুষও নিজেকে নতুনের পথে নিয়ে চলছে । পেছনে পড়ে থাকছে পুুরনো অতীতের মলিন হয়ে পড়ে থাকা।

হৃদয়টাকে যদি সাগরের সাথে তুলনা করা হয় তবে অনেক হৃদয় এমন এক মহাসাগর যেখানে শুধু ব্যক্তিগতই নয় পারিবারিক, সামাজিক, গোটা দেশ তথা বিশ্ববাসীর দুঃখ-কষ্ট কিংবা আনন্দের মিলন ঘটে উত্তাল ঢেউ সৃষ্টি করা শুরু করে।

যদি বিশাল আকাশের সাথে তুলনা করি মনে হয় এমন কেউ নেই যার আশ্রয় বা ঠিকানা হৃদয়ে হতে পারে না। সকল মানব তথা সমগ্র জীবের প্রতিই ভালবাসা বিস্তৃত। নানা সীমাবদ্ধতা ও সংকীর্ণতার মধ্যে বিশালতার দিকে তাকাতে হয়, অলস সময় না কাটিয়ে কর্মব্যস্ত থাকতে হয় ।

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: [email protected]

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published.