ব্যক্তিগঠনে উদারতা অপরিহার্য

চন্দ্র সর্বত্রই চন্দ্র। চন্দ্রের রূপ সর্বত্রই এক। এটির রূপ পাল্টায় না। কিন্তু মানুষ রূপ পাল্টায়। সুবিধার জন্য স্বার্থপরতা ও চতুরতার আশ্রয় নেয়। তাই মানুষ নিয়ে কাজ করা বড়ই কঠিন। এটি সত্য শুধু রূপ আকর্ষণের একমাত্র উপায় নয়। অবশ্য রূপের প্রভাবটা অনেক সময় রহস্যে পরিপূর্ণ থাকে। যে এই রহস্য উন্মোচন করতে পারে সেই গুণের সন্ধান পায়। কেউ রূপের আকর্ষণে সুন্দর হাসির আহ্বানে সহজেই সাড়া দিয়ে পৃথিবীতেই স্বর্গসুখের আশা করে।

মানুষের শ্রেষ্ঠ অলংকার হাসি। তবে সব হাসিকেই গ্রহণ করব কি করব না সেটি চিন্তার ব্যাপার। সৃষ্টিশীল মানুষের স্বপ্ন থাকাটা নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছার পূর্বশর্ত। এ পূর্বশর্ত যিনি পূরণ করেন তিনি প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী হন । এদের বিশাল চিন্তা ও মুক্তমন অন্যদেরও নতুন প্রেরণায় উজ্জীবিত করে। তাই কাংখিত ব্যক্তিত্বগঠনে উদারতার প্রয়োজনীয়তা ও সংকীর্ণতামুক্ততার অপরিহার্যতা নি:সন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। সেক্ষেত্রে করনীয় হচ্ছে,

দ্বিধা-দ্বন্দ্ব নয়

কাজকর্মে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব অস্তিত্বের বিনাশে কার্যকর। যারা বেশি দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভোগে তাদের সিদ্ধান্ত বেশি ভুল হয়। ফলে পায় নিন্দা, হয় সর্বনাশ, বয়ে আনে কলঙ্ক। মানুষ নিজেই নিজের ক্ষতি ঢেকে আনে বেশি। সংকীর্ণমন উদার মনের আনন্দ বুঝে না । স্বার্থপরতা মানুষের দৃষ্টিকে বিশাল আকাশ থেকে ফিরিয়ে ছোট্ট পরিসরে বন্দী করে রাখে। একমাত্র সাহসীরাই পরিসরকে বিস্তৃত করতে পারে।

হাজারো সমস্যার ভীড়েও অনেকের মাঝেই বিপুল সম্ভাবনা খুঁজে পাওয়া যায়, আশার আলো দেখা যায়। কেননা, অগ্নিদ্বগ্ধ হয়ে সে খাঁটি সোনায় রূপান্তরিত হয়েছে। সত্যের চেয়ে মিথ্যার মূল্য বেশি হলে ষড়যন্ত্র বৃদ্ধি পায়। বিবেকের চেয়ে বুদ্ধিকে বেশি গুরুত্ব দিলে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। তাই এক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধি খুবই প্রয়োজন।

সতর্কতা অবলম্বন

শক্তি ও সৌন্দর্যের প্রতি সবারই একটা আকর্ষণ রয়েছে। সেই আকর্ষণে অনেকেই বেশি আবেগী হলে বিপথগামী হবার সম্ভাবনা প্রবল। তাই ভালোলাগা ও পছন্দের কোনো বিষয়ের আকর্ষণে সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করা যাবে না। একটি ভুল সিদ্ধান্ত জীবনের অনেক বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। সিদ্ধান্ত যদি সঠিক হয় তবেই সাফল্য আসে। তাই এ ব্যাপারে যথেষ্ঠ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, সফলতা আসবেই তবে।

সময়ের দাবি পূরণ করে পথ চলা

সময় সব সময় একই রকম কাটে না। তবে সময়ের একটা দাবি থাকে। যারা সময়ের সে দাবী পূরণ করে সময়োপযোগী করে নিজেকে গড়তে পারে তারাই এগিয়ে যায়। আসলে পিছিয়ে পড়া মানুষের বড় শত্রু সে নিজেই। নিজের অলসতা, আরামপ্রিয়তা, অদূরদর্শিতা ও স্বভাবগত ত্র“টির কারণে সে পিছিয়ে পড়ে। নিজে যদি সদা সচেতন ও সতর্ক থাকা যায় তবে মানুষ তো দূরের কথা শয়তানও কোনো ক্ষতি করতে ব্যর্থ হবে।

মানুষের যেকোনো যোগ্যতা, দক্ষতা, ক্ষমতা স্রষ্টার পক্ষ থেকে আশীর্বাদ। তবে আশীর্বাদকে অভিশাপে পরিণত করে মানুষই। আত্মমর্যাদাশীল মানুষ আত্মমর্যাদাকে কখনোই লোভ-লালসার বশবর্তী হয়ে বিকিয়ে দিতে পারেন না। পৃথিবীতে খুব কম সংখ্যক লোকেরই কথা ও কাজের মধ্যে মিল থাকে। সেই সংখ্যার মধ্যে যারা পড়েন নিঃসন্দেহে তারা সৌভাগ্যবান। নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে হয় স্বকীয়তার বিনির্মাণ ও ব্যক্তিত্বের বিকাশের মধ্য দিয়ে।

তবে অহংকার ও গর্ব থেকে মুক্ত হয়ে অপরকে মেনে নেয়ার মানসিকতা থাকা প্রয়োজন। কেননা, নিজের প্রভাববলয়কে শক্তিশালী করার একরোখা-মানসিকতা নানা অসন্তোষ ও বিরোধের সূত্রপাত ঘটায়। ভাল মানুষের ভান করে নয় ভাল মানুষ হয়েই জীবনে পথ চলতে হবে।

কাংখিত আচরণ করুণ

‘অর্থ ও যৌনতাতেই সব সুখ’ এ ধারণাটা সঠিক নয়। শুধু অর্থের জৈলুস দেখেই তৃপ্তির ঢেকুর গেলা নয় বরং অর্থের উৎস ভাল না মন্দ সেটিও বিবেচনায় আনা উচিত। অর্থ থাকলেই সম্মান পাওয়া যায় না। অভাবীদের কল্যাণে অর্থ ব্যয় হলে ভাল, না হলে আতঙ্ক গ্রাস করে, উৎকণ্ঠা বাড়ে।

কেউ যদি অর্থের পিছে পাগলপারা হয়ে ছুটে শরীর নষ্ট করে, সেটা অযৌক্তিক। কারণ সুস্থ শরীরই পারে সুখ-শান্তি-আনন্দকে উপভোগ করতে। সুস্থ শরীরের পাশাপাশি নৈতিকতার ব্যাপারটিও গুরুত্বপূর্ণ।

বাস্তবতাকে মেনে নিন

জীবন সংগ্রামে বিজয়ী হলে অনেক অভিনন্দনই পাওয়া যায় তবে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ালে তা অন্তসারশূন্য হয়ে পড়ে ফলে নিন্দা ও তিরস্কারই কপালে বেশি জুঁটে। তাই কাংখিত আচরণ করুণ; বাস্তবতাকে মেনে নিতে অভ্যস্ত হোন ।

জ্ঞানার্জনকে গুরুত্ব দিন

বিদ্যান্বেষণ মহৎ কাজ। জগতের সবচেয়ে পবিত্র বস্তু জ্ঞান আহরণ করে জ্ঞানী ব্যক্তি সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী হতে পারে। বিদ্যা অর্জনের মাধ্যমে অমরত্ব লাভ হয়।

জ্ঞানের শক্তিই সকল শক্তির সেরা। সব শক্তির উপরই প্রভাব বিস্তার করতে পারে জ্ঞানের শক্তি। তাই অজ্ঞতা মানেই বড় ধরনের সমস্যা । এ সমস্যার সমাধানে শিক্ষা অর্জন ও অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম ।

তবে হ্যাঁ সুশিক্ষাই শ্রেষ্ঠত্ব পরিমাপের অন্যতম মানদণ্ড হতে পারে, কুশিক্ষা নয়। কাজের মধ্যেই মানসিক তৃপ্তি খুঁজে নেয়া, ব্যক্তিগত যোগ্যতার বিকাশ, নিজের প্রতি পরিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস, উচ্চ আশা, বিশাল স্বপ্ন, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও দূরদর্শিতা এগুলো সাফল্য অর্জনে ভূমিকা রাখে।

বাস্তবতা উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে প্রজ্ঞা গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি যৌথ উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন করতে হলেও প্রত্যেক ব্যক্তিকেই দক্ষ হতে হবে। উৎসাহ-উদ্দীপনা, আবেগ-উচ্ছ্বাস আর প্রাণচঞ্চলতা ও প্রাণোচ্ছলতায় পরিপূর্ণ মনের অধিকারী হতে হবে।

অন্যের জন্য ভাবুন

নিজের মনে আলো না জ্বেলে অন্যের মনে আলো জ্বালাতে চাওয়াটা দু:সাহসিকতা ও চরম বোকামীর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ছাড়া কিছুই নয়। নিজে আলোকিত মানুষ হলেই অপরের মাঝে আলো সঞ্চারিত করাটা সম্ভব হবে।

সকল আলোকিত মানুষই শিক্ষিত কিন্তু সকল শিক্ষিত মানুষ আলোকিত মানুষ নন। তাই নিজের ব্যর্থতার কারণ ও সফলতার প্রকৃত ব্যাপার খুঁজে বের করা এবং বাস্তবতার আলোকে ভবিষ্যত করণীয় ঠিক করতে পারাতেই বুদ্ধিমত্তার পরিচয়।

শুধু নিজেকে নিয়েই ভাবনা নয়

যিনি যথার্থ বুদ্ধিমান তিনি শুধু নিজের পরিসরে সীমাবদ্ধ ব্যক্তিত্ব না হয়ে দেশ ও দশের সম্পদরূপেও নিজেকে উপস্থাপন করতে পারে। সমস্যার ভিড় দেখেও হতাশ না হওয়া, বিপদের পাহাড় দেখেও ভেঙ্গে না পড়া, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতেও বুদ্ধি লোপ না পাওয়া-এগুলো সফলতা অর্জনের প্রয়োজনীয় অসাধারণ গুণ।

বিদ্যা-বুদ্ধির কারণে সমাজের নিম্ন শ্রেণী থেকেও অনেকে বিশাল ব্যক্তিত্বশালী সফল মানুষ হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেন আবার নির্বুদ্ধিতা, অজ্ঞতা ও মূর্খতার কারণে অনেক উচ্চবিত্ত শ্রেণী থেকেও মর্যাদাহীন নগণ্য ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটে।

বোকামী করা মর্যাদার খেলাপ। তন্মধ্যে শিক্ষিত বোকা অগ্রহণযোগ্য আর পুরুষ বোকা হচ্ছে বোকার রাজা । কেউ যদি শুধু পুঁথিগত বিদ্যায় পারদর্শী হয় তার জ্ঞান থেকে যদি বাস্তবতাকে মানবতা কোনো উপকৃত না হয় তবে তাকে খুব ভালো কিছু বলে প্রশংসা করা আমার দ্বারা সম্ভব নয়।

অহংকার নয়

নিজেকে খুব বেশি জ্ঞানী ও বিজ্ঞ মনে করা বড় বোকামী। মনের চোখ দিয়ে বাস্তবতাকে দেখতে শিখতে হবে। ধৈর্য আর আত্মবিশ্বাস নিয়েই যোগ্যরা এগিয়ে চলে। মহৎ ব্রত উদযাপনে করে দুষ্কর সাধনা। কুসংস্কারাচ্ছন্ন এ সমাজের উন্নতি তখনই সম্ভব হবে যখন জ্ঞানের আলো উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে। অহংকার কখনোই কারো জন্যই কাম্য নয়।

মনের সম্পূর্ণ কল্যাণ নিহিত জ্ঞান অর্জনের প্রবল প্রয়াসের মধ্যে। সত্যিকারার্থে জ্ঞানী ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে হলে মেপে মেপে ঠোঁট নাড়ার অনুশীলন করা চাই। কোনো কিছু অর্জনের ক্ষেত্রেই তাড়াহুড়ো করা ঠিক হবে না। ধীরে ধীরে অগ্রসর হওয়াতেই শক্তি ও সুবিধা বাড়ার সম্ভাবনা বেশি।

ব্যক্তিত্বের বিকাশে সচেষ্ট হোন

অর্জিত জ্ঞান-অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। তাই নিজেকে চিনতে হবে, জানতে হবে এবং জ্ঞানচর্চা করতে হবে। কেননা, জ্ঞানচর্চার উপরই ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করে।

হিম্মতের অধিকারী হোন

সার্বজনীন ভালোবাসার প্রসারতায় ভরা চক্ষুর সামনে আলোর মশাল জ্বেলে হিম্মতের সাথে মহৎ ও কল্যাণের কাজ বাস্তবায়ন করা যায়। কর্মে আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে সর্বদা সফল হওয়ার চেষ্টা করলে সাফল্য না এসে পারে না। দায়িত্বে অবহেলা মনুষ্যত্বের বিকাশ-সাধনের বড় প্রতিবন্ধকতা। জ্ঞানের শক্তি আছে, মূল্য আছে। তাই সব দুর্ভোগের মূল অজ্ঞতাকে তাড়াতে হবে।

চর্চা বাড়ান

ব্যক্তিগত ও যৌথ উদ্যোগে পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে ব্যাপকভাবে। নিরক্ষরকে স্বাক্ষরজ্ঞান দানকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। আলোকিত মানুষ গড়ার প্রয়াসে আত্মনিয়োগের মধ্যেই সার্থকতা ও প্রশান্তি খুঁজে নিতে হবে। জ্ঞানচর্চায় নিজেকে উজাড় করে দিতে হবে, বিলিয়ে দিতে হবে। কোনো কাজই নিখুঁতভাবে আয়ত্ব করতে চাইলে চর্চার কোনো বিকল্প নেই; এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

চাই ত্যাগের মানসিকতা

দুঃখীর দুঃখ দূরের প্রচেষ্টা হৃদয়ে প্রশান্তির পরশ লাগায়। তাই দুঃখে, কষ্টে, অভাবে পতিত আর্তমানবতার কল্যাণে যতটুকু পারা যায় ততটুকুতেই এক নির্মল আনন্দের স্বাদ পাওয়া সম্ভব। ভোগে নয় ত্যাগেই প্রকৃত সুখ। নিজের জন্য নয় পরের কল্যাণে কিছু করতে পারার মধ্যেই সার্থকতা।

যারা অবৈধ আকর্ষণের শক্তিকে শত্রু নয় বরং মিত্রভাবে তারা সহজেই আগুনের তাপে জ্বলে পুড়ে ভষ্ম হয়, জ্ঞানের আলো সেখানে নিস্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে। তাই জ্ঞানের শক্তির যথার্থ ব্যবহারেই অবৈধ আকর্ষণ এড়ানো সম্ভব, জ্ঞানের আলোর প্রতিফলন ও অবৈধ আকর্ষণের প্রতিসরণ একসঙ্গে হওয়াটা মোটেই যৌক্তিক নয়।

বিলিয়ে দেয়ায় প্রকৃত সুখ

মানসিকভাবে কেউ নিজেকে দুর্বল মনে করলে তার দেহ-মন সদা সতেজহীন ও নিস্ক্রিয় থাকে এবং আয়ু ক্ষয়প্রাপ্ত হয় কি-না সে ব্যাপারে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থাকলেও জীবন অর্থহীন হয়ে পড়ে নিঃসন্দেহে। তবে স্বার্থের আশা না করে যারা পরের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দেয় নির্মল শান্তির ছোঁয়া তারাই পায়।

সচেতনতা বাড়ান

অতীত অতীতই। তাকে যেমন একেবারেই গুরুত্বহীন মনে করা যাবে না তেমনি খুব বেশি গুরুত্ব দিয়ে ক্ষতি ডেকে আনা যাবে না। বর্তমানকে যথাযথ মূল্যায়ন করে ভবিষ্যতের সফলতা লাভের প্রচেষ্টা চালানোতেই লুকায়িত রয়েছে সত্যিকারার্থে স্মরণ করে যারা বর্তমানকে উপভোগ করতে পারেন না, ভবিষ্যতের সোনালী স্বপ্ন দেখতেও ভুলে যান তাদের অমঙ্গলই হয় বেশি।

সিদ্ধান্ত নিন

নিজের অবস্থান ও সামর্থ্যরে ব্যাপারে সচেতন থেকেই পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত নিতে হয়। শুধু উপরে দেখা কিংবা শুধুই নীচে দেখার মাঝে লাভ নয় বরং ক্ষতিই বেশি। নিজের ব্যাপারে পরিপূর্ণ সচেতনতাই সামনে এগিয়ে নিতে পারে।

জীবন্ত লাশ হবেন না

পাথর শক্ত, কঠিন। জ্ঞানহীন মানুষ ও পাথরের মতই। তার থেকে কল্যাণ আশা করাটাও অযৌক্তিক। সে কল্যাণ করতে চাইলেও অজ্ঞতার কারণে অকল্যাণ করে বসবে, লাভ করতে ক্ষতি করে ফেলবে। লোভ, স্বার্থপরতা ও কামনার সমন্বয়ে জীবনের প্রতি অতিরিক্ত মায়া যাকে অমানুষ করে ফেলে তার মাঝে মারাত্মক হিংস্রতা তীব্র রূপ ধারণ করে।

শান্তির আশায় মানুষ অনেক মত, পথ খুুঁজে নেয়। বেশি শান্তি, সুখ খুঁজতে গিয়েই অশান্তির এক মহাসাগরের সাক্ষাৎ পায়। কেউ সে সাগর সাঁতরে কুল কিনারা খুঁজে নেয় আবার কেউ সেখানে ডুবে মরে, আত্মাহুতি দেয়। ব্যক্তিবিশেষে এই পার্থক্যের বিভিন্ন মাত্রা পরিলক্ষিত হয়।

সংকীর্ণতা নয়

জীবন সাগরে অনেক সুখের ভেলা অহরহ ভেসে চলে যা সহজেই পাওয়া যায়। কিন্তু অতিরিক্ত লোভ, লোলুপতা, স্বার্থপর মানসিকতা মানুষের দৃষ্টিকে সংকীর্ণতার বেড়াজালে আবদ্ধ করে, সুখ অন্বেষণ করতে গিয়ে নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে সহজলভ্য সুখের ভেলার পাশে-ব্যর্থ এক জীবন্ত লাশ হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করে ভেসে চলে অনেকে।

বড় চিন্তা করুন

নিজের মতের উপর স্থির থাকা ভালো যদি সে মত সঠিক হয়। পাহাড়, পর্বত, বৃক্ষরাজি শির উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে স্থির অস্তিত্বের দৃষ্টান্ত হিসেবে। স্থিরতাতেই কল্যাণ। ঘন ঘন মত বদলানো বোকামী। খরকুটোই শুধুমাত্র সহজেই উদ্দেশ্যহীনভাবে ভেসে চলে। তাই উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্টকরণ এবং সিদ্ধান্তে অটল অবিচল থাকতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হতে হবে, কঠিন প্রতিজ্ঞা নিতে হবে।

প্রয়োজন খাঁটি সোনা। নিখাঁদ স্বর্ণ পাওয়াই লক্ষ। সে জন্যেই কর্মপ্রচেষ্টা। বিক্রেতার গুণাগুণ নিয়ে মাথা ব্যথার কোনো মানে হয় না। এ ব্যাপারে চিন্তাভাবনা অযৌক্তিক। কথা কম বলা মন্দ নয়। তাই বলে পরামর্শ বিহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ কিংবা প্রয়োজনেও মুখ না খোলার অভ্যাসকে তো কিছুতেই ভালো বলতে পারি না। তবে অতিরিক্ত কথা বলার অর্থই চিন্তা কম করা, যা কম বুদ্ধিমানেরাই করে থাকে।

পরিশ্রমী হউন

যে ক্ষুদ্র চিন্তা করে তার কাছ থেকে বৃহৎ কিছু আশা করা যায় না। আবার যে বড় চিন্তা করবে এবং চিন্তার আলোকে কর্মপ্রচেষ্টা চালাবে, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষপানে ছুটবে সে ছোট থাকবে এটাও যুক্তি সঙ্গত হতে পারে না। চিন্তা কোন্ মাপের কোন্ পর্যায়ের সেটি নির্ণয় করতে পারলেই কোন্ মাপের মানুষ সেটি বুঝা অনেকটা সহজ হবে।

ইচ্ছের শেষ নেই। সব ইচ্ছা পূরণ হবার নয়। ইচ্ছে অপূরণ থাকে বলেই মানুষ আরো বেঁচে থাকতে চায়। বেঁচে থাকতে চায় বলেই নানা কর্মপ্রচেষ্টা, তৎপরতা, সংগ্রাম ও বাস্তবতা। যদি ইচ্ছাই না থাকে তবে মানুষ বেঁচে থাকতে পারে না, জীবনে স্থবিরতা নেমে আসে, অনিশ্চিত হয়ে পড়ে জীবনের গতিপ্রবাহ। পরিশ্রমী হলে সুফল মেলে।

আনন্দের সাথে কাজ করুন

জ্ঞানী বলে জাহির করতে মুখ গোমড়া করে থাকা হাস্যকর। বড় বিদ্বান ব্যক্তির পাণ্ডিত্য প্রকাশে হাসিমুখ কোনো বাধা নয়। বরং আলোকিত ব্যক্তিত্ব হাস্যোজ্জ্বলতার পরশে দারণ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। তাই জ্ঞানে সমৃদ্ধ হতে হবে, ব্যক্তিত্ববান হতে হবে, গভীর চিন্তাশীল হতে হবে ঠিকই, তবে হাসিমুখে হাস্যোজ্জ্বল বদনে সদা-সর্বদা থাকার ব্যাপারেও নজর দিতে হবে।

ইচ্ছা থাকলেই সব কিছু হয় না। যদি উপায়টা জানা যায়, পন্থাটা বুঝা যায় তবেই ইচ্ছে বাস্তবতার মুখ দেখে থাকে। মনে-প্রাণেই ইচ্ছে করলেই আসে ইচ্ছা পূরণের নানা সুযোগ। তাই ইচ্ছাশক্তিকে সর্বদা সজাগ রাখতে হবে সুতীব্রভাবে। অধম হয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে উত্তম হয়ে মরে যাওয়াই শ্রেয়। মন্দের মাঝে ডুবে থেকে যা ভালো, সুন্দর, কল্যাণকর তা যদি না চেনা যায় তবে জীবনটা সত্যিকারার্থেই অর্থবহ হয় না।

বড় স্বপ্ন দেখুন

নিজেকে জ্ঞানী, যোগ্য, দক্ষ করে গড়ে তোলার বিকল্প নেই। নিজে অন্ধকারে থেকে অন্যকে আলোকিত করার স্বপ্ন দেখাটা দুঃস্বপ্ন বৈ কিছুই নয়। আলো থাকলেই তা বিতড়নের প্রসঙ্গ আসে। নিজের না থাকলে তা অপরকে বিলানো যায় না। অপরকে সক্রিয় করতে হলে আগে নিজের মধ্যেকার নিস্ক্রিয়তা দূর করতে হবে।

চিন্তাশক্তি ব্যবহার করুন

চিন্তার অগ্রগতি হলে অবশ্যই সামগ্রিক অগ্রগতি হবে। চিন্তাশক্তি সবচেয়ে বড় শক্তি। চিন্তার রাজ্যে বিপ্লব হলে সে বিপ্লবের ঢেউয়ে সকল রাজ্যই প্লাবিত হয়। তাই চিন্তার ক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত বিপ্লবের কোনো বিকল্প নেই।

ব্যক্তিগঠনে উদারতার প্রয়োজনীয়তা ও সংকীর্ণতামুক্ততার অপরিহার্যতা নি:সন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ । মানসিক সংকীর্ণতা নিয়ে জগতের বড় কিছু সাধন করা যায়না । তাই বড় স্বপ্ন দেখুন, স্বপ্নপূরণের উপযোগী করে নিজেকে গড়ে তুলুন।

 

 

 

 

 

 

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: [email protected]

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published.