বেঁচে থাক আড্ডা

আড্ডাতো আড্ডাই…
তা যেখানেই হোক! যখনই হোক! যেভাবেই হোক!
আড্ডাতো প্রশান্তির! আড্ডাতো উচ্ছ্বাসের!
আড্ডাতো মুগ্ধতায়! আড্ডাতো সুস্থতায়!
নির্মল নির্ভেজাল নিরাপদ নিশ্চয়তায়!

কোথায় নেই আড্ডা?
কখনো বদ্ধ ঘরে! কখনো বাসার ছাদে!
কখনো মাঠে খোলা আকাশের নীচে!
কোনো ফাঁকা জায়গায়! গাছের ছায়ায় গোড়ায় বসে!
কখনো ক্যান্টিনে! কখনো রেস্টুরেন্টে!
কখনো রাস্তায় চায়ের দোকানে!
কখনো ফুটপাথের পাশে বসে!
কখনো শপিংমলের সিঁড়িতে! কখনো লাইব্রেরীতে!
কখনো মসজিদের আশপাশে নামাজ শেষে!

কতজনের সাথে আড্ডা!
আড্ডা বন্ধুদের সাথে!
আড্ডা প্রিয় মানুষদের সাথে!
আড্ডা সহপাঠীদের সাথে!
আড্ডা সহকর্মীদের সাথে!

কত ধরণের আড্ডা!
ইতিহাস আড্ডা! সাহিত্য আড্ডা!
অনুবাদকদের আড্ডা!
প্রবাসীদের আড্ডা! ঈদ আড্ডা!
গ্রামবাসীর আড্ডা! নগরবাসীর আড্ডা!
ভালোবাসায় আড্ডা! জয়ে আড্ডা!

আড্ডার সময়তো যখন তখন!
আড্ডার সন্ধ্যা মানে অন্যরকম সন্ধ্যা!
আড্ডার বিকাল মানে অন্যরকম বিকাল!
আড্ডার রাত মানে অন্যরকম রাত!
আড্ডা জমে উঠে ছুটির দিনে! ছুটির বিকালে!

আড্ডা মানেই পুরোনো কথা!
অতীতের স্মৃতিচারণ!
ফেলে আসা দিনগুলোর স্মৃতিরোমন্থন!
আড্ডা মানেই চমৎকার সময়! ফুরফুরে মেজাজ!
প্রাণের আড্ডা! মনের আড্ডা!
চুটিয়ে আড্ডা! যেন আড্ডার নেশা!

আড্ডায় হাসা! আড্ডায় মজা!
সিরিয়াস আড্ডা! হালকা আড্ডা!
আনন্দ আড্ডা! মনোজ্ঞ আড্ডা!
বৈঠকি আড্ডা! পারিবারিক আড্ডা!
সব আড্ডাতো আর আনন্দের স্মৃতি নয়! দুঃখেরও!
আড্ডার জীবন আর আড্ডাহীন জীবন এক নয়!

কত ভাবে যে আড্ডা!
বই পড়তে পড়তে আড্ডা!
বাদাম খেতে খেতে আড্ডা!
পুরি-সিঙ্গারা খেতে খেতে আড্ডা!
ফিল্ম দেখতে দেখতে আড্ডা!
বিদ্যুৎ গেলে হলের বারান্দায় বসে আড্ডা!
চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে আড্ডা!
আইসক্রিম খেতে খেতে আড্ডা!

কত ধরনের আড্ডাবাজ!
কখনো আড্ডা এক অফুরান প্রাণশক্তির উৎস!
সৃজনশীল আড্ডা কতজনকে জাগিয়েছে উৎসাহ!
অনুপ্রাণিত হয়েছে বহুজন বহুসময় বহুভাবে!
আড্ডায় কত যে ভাবনার সূত্রপাত!
আড্ডায় কত যে ভালো কিছুর স্বপ্ন!
কত সুন্দর আড্ডার করুণ মৃত্যু হয়!
কত আড্ডা তো দারুণ ইতিবাচক!
আড্ডা শেষেও মনে আড্ডার অস্তিত্ব থাকে সুদীর্ঘকাল!

আড্ডা দেয় না এমন কেউ কী আছে? নেই!
যদিও আড্ডা মানেই হারিয়ে যাওয়া সময়!
আড্ডাবাজির সঙ্গীও একসময় মনে রাখে না!
তবুও একটা সময় বৈকালিক আড্ডা অনিবার্য ছিল!
আড্ডাবাজি ঘুরেঘুরে! আড্ডাবাজি হেঁটে হেঁটে!
আড্ডাবাজি গল্পে গল্পে! আড্ডাবাজি গানে-গানে!

বহুদিন প্রাণখুলে আড্ডা দেয়া হয় না!
একঘেয়ে গতানুগতিক জীবনে-
প্রাণবন্ত অনুভুতিও সৃষ্টি হয় না!
হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাওয়া হয় না!
ব্যস্ততার ক্লান্তি বিরক্তি হতাশা;
আড্ডায়ই মিলে সমাধান, জাগে আশা!

তাই হোক আবার তুমুল আড্ডা!
নাইবা থাকুক ব্যাপক আয়োজন,
নাইবা হোক খুব পরিকল্পিত!
সবার নাইবা সমান হোক আড্ডার মেজাজ!
তবু বেঁচে থাক আমাদের আড্ডা!

About আনিসুর রহমান এরশাদ

শিকড় সন্ধানী লেখক। কৃতজ্ঞচিত্ত। কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী। ভেতরের তাগিদ থেকে লেখেন। রক্ত গরম করতে নয়, মাথা ঠাণ্ডা ও হৃদয় নরম করতে লেখেন। লেখালেখি ও সম্পাদনার আগ্রহ থেকেই বিভিন্ন সময়ে পাক্ষিক-মাসিক-ত্রৈমাসিক ম্যাগাজিন, সাময়িকী, সংকলন, আঞ্চলিক পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ব্লগ ও জাতীয় দৈনিকের সাথে সম্পর্ক। একযুগেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা, গবেষণা, লেখালেখি ও সম্পাদনার সাথে যুক্ত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন। পড়েছেন মিডিয়া ও জার্নালিজমেও। জন্ম টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর থানার হাতীবান্ধা গ্রামে।

View all posts by আনিসুর রহমান এরশাদ →

Leave a Reply

Your email address will not be published.