প্রকৃত বুদ্ধিজীবী

প্রকৃত বুদ্ধিজীবী (ইন্টেলেকচুয়াল) ও সত্যিকারের বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় (ইন্টেলিজেন্সিয়া) থাকা মানে জাতি মেধাশূন্য নয়; তারা শ্রদ্ধার পাত্র, সামনে এগিয়ে যাওয়ার সহায়ক শক্তি। জাতিকে ঘুরে দাঁড়াতে, শিক্ষার প্রসার ঘটাতে- বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা বিকশিত করা প্রয়োজন। সাধারণভাবে বুদ্ধিকে উপজীব্য করে যারা জীবিকা নির্বাহ করেন তাদের বুদ্ধিজীবী বলা হলেও বাস্তবে কলমজীবী মাত্রই বুদ্ধিজীবী নন।

বুদ্ধিজীবী না থাকা বড় শূন্যতা, যা মেধাহীনতার নমুনা; তাই তাদের কীর্তি ও কৃতিকে ধরে রাখার ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন। যাতে দেশ বিরোধী সব প্রয়াস বানচাল করে দিতে অবদান রাখতে বুদ্ধিজীবীরা সংঘবদ্ধ থাকে। ফলে সঙ্গত কারণেই কখনো প্রয়োজন ফু্রায় না জ্ঞান-গবেষণার এসব নির্মোহ কারিগরদের। এরা সমাজ নিয়ে জটিল ভাবনা-চিন্তা করেন, সমসাময়িক ঘটনাবলী নিয়ে মননশীল বিশ্লেষণ-গবেষণা করেন এবং সমাজকে প্রভাবিত করে৷

এক নজরে দেখে নিন লুকিয়ে রাখুন

কে বুদ্ধিজীবী

বুদ্ধিজীবীরা তাদের সময়ের নৈতিক চেতনাকে বিনির্মাণ করেন, সমাজ ও রাজনীতিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্বাধীনভাবে নিজেদের চেতনা অনুযায়ী এসব বিষয়ে মতামত দেন৷ বুদ্ধিজীবীরা হন মানবিক, গণতান্ত্রিক, মুক্তমনা এবং জনগণ ও সমাজের মঙ্গলকামী৷  তারা অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদি, আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসনের বিরোধী৷

সমাজে গ্রহণযোগ্য গণব্যক্তিত্ব হিসেবে সম্মান পান সেসব বুদ্ধিজীবীরা, যারা কথা বলেন জনগণের পক্ষে, থাকেন শান্তি-ন্যায়-কল্যাণ ও সত্যের সঙ্গে৷ রাষ্ট্র ও সমাজের সমস্যাগুলি নিয়ে নিরপেক্ষভাবে আলোচনা করেন, বিরাজমান ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং সমাধানের পথ নির্দেশনা দেন৷  শক্তি ও ক্ষমতার মধ্যে থেকে রাষ্ট্রীয় বুদ্ধিজীবীর ব্যাজ লাগালে বিশেষ সম্মান আর থাকে না।

প্রকৃত বুদ্ধিজীবীরা পরিবেশ পরিস্থিতিকে ও জগৎটাকে বুদ্ধির সাহায্যে ব্যাখা করেন, এই ব্যাখাকে অন্যের কাছে পৌঁছে দেন এবং বিদ্যমান ব্যবস্থার পরিবর্তনের আকাঙ্খা নিয়ে কাজ করেন৷ এরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সংস্কৃতি চালু রাখেন, অন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নেন না৷ ফলে বুদ্ধিজীবী শব্দটি বললে বা উচ্চারিত হলেই মুখ টিপে হাসতে দেখার মতো হাস্যকর কোনো ঘটনা এদের ক্ষেত্রে ঘটে না।

কারা প্রকৃত বুদ্ধিজীবী?

প্রকৃত বুদ্ধিজীবী খুঁজে পাওয়া কঠিন। ইতালীয় চিন্তাবিদ আন্তনিও গ্রামসি লিখেছেন, প্রতিটি মানুষই বুদ্ধিজীবী৷ প্রতিটি মানুষই তাদের পেশাগত কাজকর্মের বাইরে কোনো না কোনো বুদ্ধিগত কাজে লিপ্ত৷ প্রতিটি মানুষেরই রয়েছে একটি বিশ্ববোধ ও দর্শন৷ তবে সব মানুষই সমাজে বুদ্ধিজীবীর কাজ করে না৷

প্রকৃত বুদ্ধিজীবী কখনো নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকেন না, তিনি ব্যস্ত থাকেন সমাজকে নিয়ে৷ বিপুলসংখ্যক মানুষকে আলোকিত ও আশাবাদী করতে তারা নিবেদিত হন৷ গ্রামসি বলতে চেয়েছেন, কোনো একটা জনগোষ্ঠীর ভেতরকার মানুষ, যিনি তার সমাজের স্বার্থের কথা ভাবেন এবং কাজে যুক্ত থাকেন, তিনিই বুদ্ধিজীবী৷ লেনিনের ওয়ার্কিং ক্লাস বুদ্ধিজীবীরা বুর্জোয়া শ্রেণিকে উৎখাত করতে সক্ষম৷

ভয়-ভীতি উপেক্ষা করা জনমুখী বুদ্ধিজীবীদের কাজ। ফরাসি দার্শনিক জুলিয়েন বেন্দা বলেন, প্রকৃত বুদ্ধিজীবী তারাই যারা জাগতিক লাভের উর্ধ্বে উঠে নিঃস্বার্থ এবং আপোষহীন জ্ঞানচর্চায় ব্যস্ত থাকেন৷ সত্য উচ্চারণে তারা থাকেন নির্ভীক, এমনকি সত্য প্রকাশের জন্য প্রাণ সংশয়ের মতো ঝুঁকি নিতেও তারা দ্বিধা করেন না৷ বরং জাতির সংকটে নিজের জীবনকে তুচ্ছ জ্ঞান করেন৷

বুদ্ধিজীবীর কাজের ব্যাপ্তি

বিশ্বের অন্যতম সেরা দার্শনিক, বুদ্ধিজীবী ও ইংরেজী সাহিত্যের সেরা অধ্যাপক এডওয়ার্ড ডব্লিউ সাঈদ ‘বুদ্ধিজীবীর পরিচয়, ব্যাপ্তি ও কাজ নিয়ে লিখেছেন ‘Representations of the Intellectuals’। এডওয়ার্ড সাঈদের মতো পাবলিক ইন্টেলকচুয়্যালরা সব সময় সক্রিয় থাকেন, মানুষের মুক্তির কথা বলেন৷

তিনি খ্রিস্টান হয়েও লেখালেখির মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের মুক্তির জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছেন৷  স্বাধীনতা ও ন্যায় বিচারের পক্ষে একটি নির্দিষ্ট বার্তা, একটি দৃষ্টিভঙ্গী ও একটি সুচিন্তিত মতামত জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন, সত্য প্রকাশ থেকে বিচ্যুত হননি৷

তার চিন্তায় সমাজের কল্যাণের মহৎ উদ্দেশ্যে কাজ করা বুদ্ধিজীবীদেরই দরকার সমাজে। তিনি বলেছেন, বুদ্ধিজীবীদের কাজ হলো- সমাজের ওপর চেপে বসা জগদ্দল পাথর উপড়ে দেওয়া বা সমাজের ক্ষত নিরাময় করা।কারণ সমাজের ক্ষত নাগরিকের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে, চিন্তার সামর্থ্যকে সীমিত করে৷

এছাড়া জঁ পল সর্ত্র-এর মতো বুদ্ধিজীবীরা চিন্তার জগতকে নাড়া দিয়েছেন, শান্তি ও মুক্তির জন্য কাজও করেছেন৷ জঁ পল সার্ত্রের ভাষায়, বুদ্ধিজীবী ডান বা বামপন্থী নন, তিনি ন্যায়পন্থী৷

চিন্তাবিদ বুদ্ধিজীবী নোয়াম চমস্কি বুদ্ধিজীবির দায়বদ্ধতা প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘বুদ্ধিজীবীর দায়িত্ব হচ্ছে রাষ্ট্র ও সরকারের মিথ্যাগুলোকে জনগণের সামনে উন্মোচন করা৷’ তার মতে,  বুদ্ধিজীবীরা যুক্তিভিত্তিক চিন্তা-ভাবনা অনুসরণ করে রাষ্ট্র ও সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কাজের চুল চেরা বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ করবেন এবং সেসব নিয়ে কথা বলবেন৷ তারা জনগণের পক্ষে থেকে সত্যকে অনুসন্ধান করবেন এবং তা জনগণের সামনে প্রকাশ করবেন৷

বুদ্ধিজীবীদের  প্রয়োজনীয়তা

মানব জীবনের সকল দিক ও বিভাগে ক্রমাগত উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষার যতদিন পরিসমাপ্তি না ঘটবে ততদিন প্রয়োজন থাকবে জ্ঞান-গবেষণার।  আর প্রকৃত বুদ্ধিজীবীদের চিন্তা-গবেষণা-কথা জাতিকে-মানুষকে সঠিক পথ দেখায়৷

প্রকৃত বুদ্ধিজীবীরা জনগণের পক্ষে কাজ করেন, জ্ঞান-বিবেক-স্বচ্ছচিন্তা-দূরদৃষ্টি দিয়ে সমাজকে বিশ্লেষণ করেন এবং মানুষকে দিক নির্দেশনা দেন৷ তারা ব্যক্তিগত স্বার্থের বাইরে গিয়ে মানুষের জন্য কথা বলেন, মুক্তির জন্য কথা বলেন, মানুষের জন্য মাঠে নামেন, নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে কথা বলেন৷ তারা জাতির জন্য দাঁড়ান এবং অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পন্থায় কথা বলেন বলেই শক্তির কেন্দ্রগুলো তাদের অপছন্দ করলেও সমীহ করে৷

বুদ্ধিজীবীদের বৈশিষ্ট্য

সাধারণত সত্যিকারের বুদ্ধিজীবীরা নিজেদের স্বার্থ বিবেচনা করে কথা বলেন না, সাধারণত কোনো প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক হন না৷ তারা নিজস্ব চিন্তা-চেতনা দিয়ে জীবন পরিচালনা করেন, পঠন বা পাঠনে অভ্যস্ত হন, গভীর চিন্তা করতে পারেন, সত্যিকারের জ্ঞানের মধ্য দিয়ে প্রশ্নোত্তর পান।

বিবেকবান বুদ্ধিজীবী স্বাধীন চিন্তা করেন। মুক্তবুদ্ধির মানুষ মানে রুদ্ধঘরে সঙ্গীহীন মানুষ- এমনটি নয়। সমাজে বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণে চেষ্টারত মানুষ। সাধনায় সিদ্ধিলাভের মাধ্যমে মানবসেবার কোনো কাজ করতে পারলে এরা আনন্দ লাভ করেন। প্রচলিত চিন্তাগুলোকে নাড়িয়ে দেন৷

মানসম্পন্ন বুদ্ধিজীবীরা (Senior intellectuals) উদার মনের, ভারসাম্যপূর্ণ চিন্তার অধিকারী এবং দৃষ্টিভঙ্গীর দিক থেকে খুবই বাস্তববাদী এবং প্রায়োগিক। তারা হোক উঁচু মানের কিংবা মাঝারি মানের; তারা অনেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে লিডার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

প্রকৃত বুদ্ধিজীবীকে সাহসী ও মানসিকভাবে শক্তিশালী হতে হয়। ক্ষুরধার যুক্তির পাশাপাশি পরনির্ভরশীলতা কমাতে হয়। অন্য পেশাজীবীরাও স্বাধীন চর্চার মাধ্যমে বুদ্ধিজীবী হয়ে ওঠতে পারেন- নিজস্ব চিন্তা করার মাধ্যমে, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্ন করা ও ব্যাখ্যা দেয়ার মাধ্যমে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চিন্তা ছড়িয়ে দেয়ার মতো গণমুখী হবার মাধ্যমে৷

বুদ্ধিজীবীতার সক্রিয়তা

বর্তমান সময়ে অনেক তরুণ-তরুণীর বুদ্ধিজীবীতার সক্রিয়তার জায়গা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম; চিন্তার প্রকাশের যে জায়গায় মানুষ পছন্দ করলে ফলো করেন৷ কোনো মতাদর্শের ধারক-বাহক না হলেও নতুন বুদ্ধিজীবী শ্রেণিকে ব্যক্তি হিসেবেও চেনা যায়৷

বুদ্ধিজীবীদের নেতিবাচক দিক

বুদ্ধিজীবীদেরও সন্দেহের চোখে দেখা হয়। কিছু বিশেষ শ্রেণির বুদ্ধিজীবীর ওপর শাসকেরা বেশি ক্ষুব্ধ হন৷ সরকারের চাটুকারিতা করে সমাজে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা বিতর্কিত হয়। গভীর দর্শন ছাড়াই  জনতার বুদ্ধিজীবী হতে চেয়ে অনেকে হাস্য-কৌতুকের সৃষ্টি করেন। অন্যরা উপকৃত না হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন চিন্তা করে অনেকে সমাজচ্যুত হন ও বকা খান।

নিজ নিজ সেফ জোনে বসবাস করে, ক্ষমতার বলয়ের আশপাশে থেকে, ক্ষমতাসীনদের  কাছে থাকার প্রতিযোগিতা করে, রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হয়ে সার্বজনীন আবেদন ও গ্রহণযোগ্যতা হারান। ইন্টেলেকচুয়ালরা চিন্তার বাস্তবায়ন ঘটায়ে যদি এমন অ্যাকটিভিস্ট হিসেবে চিহ্নিত হন; যা দেশজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য পরিপন্থী; তবে সাধারণ মানুষ তাদের বর্জন করেন। বুদ্ধিজীবীর চিন্তা যদি সমাজের কাজে না লাগে, চিন্তার প্রায়োগিক দিক না থাকে তবে সে চিন্তা অর্থহীন হয়ে পড়ে৷

চাটুকার বুদ্ধিজীবী

ক্ষমতাসীনদের তোষামোদকারী বুদ্ধিজীবী শ্রেণি বা চাটুকার বুদ্ধিজীবী গোষ্ঠী জাতির জন্য ক্ষতিকর ও দেশেরও শত্রু। কারণ তারা ক্ষমতাবানদের স্বার্থে নিজেদের বিদ্যা-বুদ্ধিকে ব্যবহার করে, সমাজকে ও নতুন প্রজন্মকে নষ্ট করে। বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চাকে আত্মরতিতে নামিয়ে এনে পরিবেশকে বিপর্যস্ত করে, অগ্রহণযোগ্য চেতনার অসুস্থ চর্চা করে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা বাড়ায়।

 সুবিধাবাদী বুদ্ধিজীবী

সুবিধাবাদী কখনও বুদ্ধিজীবী থাকেন না, কারণ তিনি পরিবর্তনের পক্ষে থাকেন না৷  বিপদ ও নজরদারির কারণে সৃষ্ট ভয়ের সংস্কৃতির কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেন৷ জাতির উন্নতি-অগ্রগতির জন্য আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখার চেয়ে সুবিধাবাদী হয়ে থাকাকেই নিরাপদ মনে করেন।

বুদ্ধি বেচে জীবিকা নির্বাহকারী পদক বুদ্ধিজীবীরা বা দলীয় বুদ্ধিজীবীরা আদতে বুদ্ধিজীবী নন; কারণ তারা স্বাধীন চিন্তা করেন না, মানুষের পক্ষে কথা বলেন না, নিজের স্বার্থের বাইরে চিন্তা করেন না৷ এদেরকে কেনা যায়, টাকার বিনিময়ে এরা বিক্রিও হন৷ সুবিধাবাদী হলে, মুখাপেক্ষি হলে তিনি আর বুদ্ধিজীবী থাকেন না৷

নতজানু বুদ্ধিজীবী

যারা সুযোগ-সুবিধা পেয়ে নতজানু হয়ে যায়, একটু বাধা আসলেই হতাশ ও নির্জীব হয়ে পড়ে তারা প্রকৃত বুদ্ধিজীবী নয়। কারণ নিজেদের সুযোগ-সুবিধাগুলো বৃদ্ধির কাজে ব্যস্ত থেকে কিংবা সুবিধাবাদিতায় মুখ গুঁজে দিয়ে বৃহত্তর কল্যাণে নিবেদিত থাকা যায় না।

নিষ্ক্রিয় বুদ্ধিজীবী

লেখক-বুদ্ধিজীবীদের নিরবতা-নির্লিপ্ততা-দায়িত্বহীনতা স্বপ্নের বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অন্তরায়। অগ্রযাত্রার জন্য যেটি বজ্র কণ্ঠে বলা দরকার, সেটি মৃদু কণ্ঠে বললে আসলে সাহায্য করা হয় না। তাইতো  সমাজে বুদ্ধিজীবীরা দুর্বল ভূমিকা রাখার কারণে এমনভাবে বিতর্কিত হয়ে পড়ছে যে, বুদ্ধিজীবী শব্দটাই এখন অনেকের কাছে নেতিবাচক ও অস্বস্তিকর কিছু৷ যাদের নিষ্ক্রিয়তা দেশের অগ্রগতি ও প্রগতির পথ রুদ্ধ করে দেয় চিন্তাবিদ হিসেবে তারা জনসমর্থন হারান৷

নীতিহীন বুদ্ধিজীবী

ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিন্তা এবং ব্যক্তিআকাঙ্খা বড় হয়ে যাওয়ার কারণে বুদ্ধিজীবীদের ভয়ঙ্কর নিরবতা দেখা যাচ্ছে। কারণ অসচেতন বুদ্ধিজীবী শ্রেণি অদরকারী বিষয়েই বেশি সোচ্চার হয়৷ চাটুকার বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে এথিক্স বলে কিছু থাকে না৷ যার বিরুদ্ধে নোংরা-নিকৃষ্ট কথা বললে ক্ষমতাসীনদের নেকনজরে পরা যাবে- তার বিরুদ্ধে বলবে৷ ভালো মানুষের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাতেও তাদের রুচিতে বাধে না, গোপন কথা প্রকাশ্যে আনাকেও তারা অশোভনীয় মনে করে না৷ তাদের সকল আক্রোশ-প্রতিশোধ-প্রতিবাদ ক্ষমতাহীনদের প্রতি৷ তাদের নিজস্ব কোনো নেতৃত্ব নেই, চিন্তা-ভাবনার কোনো সুনির্দিষ্ট গতিপথ নেই।

দলীয় বুদ্ধিজীবী

দলীয় বুদ্ধিজীবী উন্নত মানের ও চিন্তার বুদ্ধিজীবী হতে পারে না৷ যারা প্রশ্নহীন হয়ে পড়েন, সব কিছু সেটেল মনে করেন তারা বিড়ম্বনা এড়াতে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকেও মুখ ফিরিয়ে রাখেন৷ পাওয়া অন্যায্য সুযোগ সুবিধা হারানোর ভয়ে কোনো বিষয়ে অবস্থান গ্রহণ না করে চুপচাপ থাকার অন্যতম কারণ শক্তি বা ক্ষমতার বাইরে না থাকা৷ জনমুখী না হয়ে ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত থেকেতো আর ক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায় না, অন্যায়-অপকর্মের বিরুদ্ধে স্পষ্ট-সোচ্চার প্রতিবাদ দেখানো যায় না ৷

দলকানা বুদ্ধিজীবী, দলীয় বুদ্ধিজীবী, বুদ্ধি ব্যবসায়ীরা দলীয় চিন্তার বাইরে যেতে পারেন না। বিপদে পড়ার আশংকা, সুযোগ-সুবিধা হারানোর ভয়ে সমাজের-রাষ্ট্রের প্রয়োজনেও কথা না বলে চুপ থাকায় তারা বলহীন-নির্জীব মানুষে পরিণত হন৷ ক্ষমতাবানরা অন্যায় করলেও প্রয়োজনীয় সমালোচনা না করায় তাদের কাছ থেকে সময়ে সঠিক কোনো দিক নির্দেশনা পাওয়া যায় না৷

আপোসকামী বুদ্ধিজীবী

কথা না বলে চুপচাপ থাকার ফলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে৷ সুবিধাবাদিতা এসে যাওয়ায় আপোসকামী বুদ্ধিজীবী আসলে কোনো বুদ্ধিজীবীই নয়, দুর্বল চিত্তের মিথ্যাবাদী প্রতারক মাত্র!

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে বুদ্ধিজীবী কমে আসার অন্যতম কারণ বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার চেয়ে রাজনীতি চর্চায় বেশি মনোযোগী হওয়া৷ বিদেশে বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রিধারীরা সেই পিএইচডি থিসিস পেপার বাংলায় প্রকাশ না করার কারণ থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ার আশংকা৷

অহংকারী বুদ্ধিজীবী

বুদ্ধিজীবী বুদ্ধি দিয়ে যিনি সমাজের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে চান৷ নিজেকে সুপিরিওর মনে করন৷ সত্যি সত্যিই যিনি পণ্ডিত, তিনি অকারণে নিজেকে সুপিরিওর বা শ্রেষ্ঠ ভাবেন না। পণ্ডিত যখন নিজেই নিজেকে ঈশ্বর ভাবতে শুরু করে দেন, তখন বোঝা যায়, আসলে তিনি আর বুদ্ধির চর্চা করছেন না৷

বুদ্ধিজীবী হয় ব্যাক্তিগতভাবে

আসলে কেউই পেশাগতভাবে বুদ্ধিজীবী নন। বুদ্ধিজীবী হয় ব্যাক্তিগতভাবে৷ বুদ্ধিজীবী তার ব্যাখাকে কথার মধ্য দিয়ে, লেখার মধ্য দিয়ে অন্যের কাছে পৌঁছে দিতে চান বা চেষ্টা করেন এবং ব্যবস্থাটাকে বদলাতে অতি সামান্য হলেও ভূমিকা রাখেন৷

পেশাজীবী বনাম বুদ্ধিজীবী

পেশাজীবী আর বুদ্ধিজীবী এক না৷ অনেকেই সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর বুদ্ধিজীবী হয়ে যান৷ পেশার ক্ষেত্রেও বুদ্ধিবৃত্তিক অনুশীলন থাকে। তবে বুদ্ধিজীবী পেশার সঙ্গে যুক্ত না, এটার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে৷ বুদ্ধিজীবী কোনো না কোনো পেশায় থাকেন৷ বুদ্ধিজীবী হতে কারো পেশাজীবী থাকায় অসুবিধা নেই৷ বুদ্ধিজীবীরা উপার্জন-জীবিকার জন্য পেশার উপর নির্ভর করলেও পেশার বাইরে যান৷

অনেক বুদ্ধিজীবীও রয়েছে যারা কায়িক শ্রম আর মগজের শ্রমের মধ্যে কোনো তফাত না দেখে একটিকে আরেকটির পরিপূরক মনে করে নিজেদেরকে শ্রমজীবী হিসেবে ব্যাখ্যা করেন৷ বুদ্ধিজীবী কোন উপাধি নয়, পেশাও নয়, এমনকি এটি স্বভাবজাত বিষয়ও নয় বরং অনেকটাই হয়ে ওঠার ব্যাপার৷

বুদ্ধিজীবীর উৎস

বিরামহীনভাবে বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক-সাংগঠনিক লড়াই চালিয়ে যাবার মতো বুদ্ধিজীবী জম্ম দেওয়া যায় না: স্ব প্রচেষ্টায় ব্যক্তিকেই বুদ্ধিজীবী হিসেবে গড়ে উঠতে হয়।  তবে বুদ্ধিজীবীর অভাব যেখানে প্রকট সেখানে খুবই আন্তরিক, সহানুভূতিশীল, সদালাপি, মৌলিক মানবীয় গুণাবলীসম্পন্ন, ঝোঁক-মুক্ত ও গভীর জ্ঞানসম্পন্ন স্কলারদের সামান্য প্রচেষ্টায় মেধাবী তরুণ-তরুণীদের বুদ্ধিজীবী হিসেবে গড়ে তোলার দৃষ্টান্তও রয়েছে। সমাজ থেকেই বুদ্ধিজীবী উঠে আসেন এবং তার কর্ম, সৃজনশীলতা ও দায়িত্ববোধের প্রকাশ ঘটিয়েই তিনি অনেকের মধ্যে পৃথক হয়ে উঠেন৷

বিজ্ঞানী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৗশলী, শিল্পী, কবি, লেখক, গবেষক, ইতিহাসবিদ, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, বিজ্ঞানী, শিল্পবোদ্ধা, আইনজীবী,রাজনীতি আলোচক -সব পেশাজীবীর মধ্যেই বুদ্ধিজীবী আছে, অর্থাৎ থাকতে পারে৷ কেউ বুদ্ধিজীবী হয়ে জন্মায় না৷ তাঁকে বুদ্ধিজীবী হয়ে উঠতে হয় এবং নিজেকেই শেষ পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখতে হয়৷ অধ্যাপকদের গুটিকয়েকই বুদ্ধিজীবী, যাদের চিন্তার ক্ষমতা আছে, যারা নতুন জ্ঞান উৎপাদন করতে পারেন৷ একজন আমলাও চর্চা করে বুদ্ধিজীবী হতে পারেন৷ শুধু পেশাজীবীই নয়, একজন শ্রমজীবী মানুষও বুদ্ধিজীবী হতে পারেন৷

বুদ্ধিজীবীর লালন ও বিকাশ

তরুণ বুদ্ধিজীবীগোষ্ঠীর লালন ও বিকাশ কোনো কম গুরুত্বপূর্ণ কাজ নয়; অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও জরুরি কাজই।  কমজনই বুদ্ধিজীবী লালন ও বিকাশের কাজের প্রক্রিয়া বাস্তবতা ও প্রয়োজনের আলোকে শুরু করতে পারেন এবং সময়ের সাথে সাথে প্রক্রিয়াটির পদ্ধতিগত এবং গুণগত উৎকর্ষ সাধন করতে পারেন। জ্ঞানে, কর্মে, মননে, চিন্তায় এবং তার প্রকাশের চর্চার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি ধীরে ধীরে বুদ্ধিজীবী হয়ে ওঠেন৷

বুদ্ধির চর্চাকারী মাত্রই বুদ্ধিজীবী নন

বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা করলেই বুদ্ধিজীবী হয় না, নিজের ভেতরের অনুপ্রেরণা থেকে করতে হয়, বিদ্যমান ব্যবস্থার বদল করার আকাঙ্খা থাকতে হয়৷ বুদ্ধির চর্চা করে এবং অন্যের কাছে তা ব্যাখা করে বিনিময় নিলে তা হয় পেশা-জীবিকা৷

প্রকৃত বুদ্ধিজীবীদের কোনো বিশেষ সুবিধা নেই, কোনো ভাতার ব্যবস্থা নেই। এরা নিজস্ব পেশা থেকে করা আয়-উপার্জনের উপরই নির্ভর করেন, কারো কাছ থেকে প্রাপ্তির আশা করে না, পৃষ্ঠপোষকতা আশা করে না৷

বুদ্ধিজীবীদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা

বুদ্ধিজীবীর ইংরেজি প্রতিশব্দ ইন্টেলেকচুয়াল এর অপভ্রংশ ‘আঁতেল’ বহুদিন ধরেই বিদ্রুপার্থে এদেশে ব্যবহার করা হয়৷ অনেকে একে ‘গালি’ হিসেবেও দেখেন৷ জনমনে ধারণা ‘আঁতেল’রা খামোকাই সহজ বিষয়কে কঠিন করে তুলতে পারদর্শী আর নিজের যতটা বুদ্ধি আছে তারচেয়ে বেশি প্রদর্শনের চেষ্টায় তৎপর৷

মার্কসবাদী রুশ বিপ্লবী নেতা ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন রুশ সাহিত্যিক ম্যাক্সিম গোর্কিকে লেখা চিঠিতে বুর্জোয়া শ্রেণির বুদ্ধিজীবীদের তুলনা করেছিলেন ‘বিষ্ঠা’র সঙ্গে৷ বলেছিলেন, এরা পুঁজির পা চাটা, এরা জাতির মগজ নয়, জাতির বিষ্ঠা৷ কম্বোডিয়ার খেমাররুজ নেতা পলপট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, লেখক-বুদ্ধিজীবীদের শহর থেকে তাড়িয়ে গ্রামে কৃষি খামারে কাজ করতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন৷

জাহির করতে পছন্দকারী বুদ্ধিজীবী হাস্যকর হয়ে ওঠেন, অন্যরা মুখ টিপে হাসেন! বুদ্ধিজীবীদের কার্যকলাপ-ভূমিকা নিয়ে সমাজ কখনো কখনো বীতশ্রদ্ধও হয়ে ওঠে। কেবল আদর্শের বিভেদের কারণেও বুদ্ধিজীবীরা বিভিন্ন সময়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন কারা-প্রকোষ্ঠে৷

বুদ্ধির চর্চা করে নিষিদ্ধ হওয়া সক্রেটিসকে বিষপান করতে হয়েছে, গ্যালিলিওকে জীবন্তু পুড়িয়ে মারা হয়েছে, জিওর্দানো ব্রুনোকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে, আলবার্ট আইনস্টাইনকে দেশ ছেড়ে শরণার্থী হিসাবে জীবন কাটাতে হয়েছে, সাহিত্যে নোবেলজয়ী লেখক নাদিন গোরদিমার দুটি বই নিষিদ্ধ করা হয়েছে, ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হয়েছে সালমান রুশদি ও হুমায়ূন আজাদকে। বুদ্ধির চর্চা করা ধর্মবিদ্বেষী বা আইন বিরোধী না হওয়াটার গুরুত্ব এখানে স্পষ্ট! আর যে সমাজে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা হচ্ছে সেই সমাজের অবস্থা-পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে ভূমিকা পালন করাও জরুরি৷

বাংলাদেশে বুদ্ধিজীবীদের সমালোচনা

শিক্ষবিদ ও সমাজ বিশ্লেষক আবুল কাশেম ফজলুল হক এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, ‘‘স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাধীন চিন্তার চর্চা নেই৷ আত্মবিক্রীত বুদ্ধিজীবীরা কেবল অর্থ বিত্ত আর ক্ষমতার ধান্দায় লিপ্ত থাকেন৷’

১৯৭২ সালে আহমদ ছফা তার ‘বুদ্ধি বৃত্তির নতুন বিন্যাস’ গ্রন্থে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের সুবিধাবাদিতা বিষয়ে খোলামেলা সমালোচনা করেন৷ ৪৭ এর দেশভাগ থেকে শুরু করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ – পর্যন্ত ২৪ বছরে এ অঞ্চলের বুদ্ধিজীবীরা কিভাবে মানসিক দাসত্ব ও দৈন্যের চর্চা করেছেন তা তথ্য উপাত্তসহ তুলে ধরেন৷

আহমদ ছফা বলেন, ‘একাত্তরে বুদ্ধিজীবীরা যা বলেছিলেন, তা শুনলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না৷ আর এখন যা বলছেন তা শুনলে বাংলাদেশের সমাজ কাঠামোর আমূল পরিবর্তন ঘটবে না৷ বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দাঁড়াতে পারবে না৷’ তার মতে , বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীরা সুবিধাবাদি৷ তারা নিজেদের আখের গোছাতেই বেশি ব্যস্ত, সমাজের কল্যাণ সাধন তাদের উদ্দেশ্য নয়৷ মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতার পক্ষে তারা নিজেদের জ্ঞান বুদ্ধি ব্যয় করতে আগ্রহী নন৷ নিজের স্বার্থের বাইরে তারা একচুলও নড়েন না৷

সমাজে অনেকে আছেন যারা ঐতিহ্যগতভাবেই বুদ্ধিজীবী যেমন, শিক্ষক, যাজক, পুরোহিত, ইমাম৷ আর অর্গানিক বুদ্ধিজীবীরা সবসময়ই নিজ নিজ শ্রেণীগত অবস্থানে থেকে জগতকে ব্যাখ্যা করেন এবং তারা পুঁজিবাদী অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও রাজনীতি বিশ্লেষণের মাধ্যমে চেষ্টা চালান জনমতকে প্রভাবিত করতে৷

বুদ্ধিজীবীর দায়

বুদ্ধিবৃত্তির যেভাবে নতুন বিন্যাস ঘটছে সেক্ষেত্রে বুদ্ধিজীবীর দায় রয়েছে। কারণ সময় পাল্টানোর সাথে সাথে নয়া নয়া চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। পাল্টায় মানুষের ভাবনা-চিন্তা, রুচিবোধ ও চাহিদা। পরিবর্তিত বাস্তবতাকে বিবেচনায় রেখেই বুদ্ধিভিত্তিক শূন্যতা দূরীকরণের উদ্যোগ-প্রয়াস দরকার হয়।

সরকারের সুনজরে থাকার চেষ্টা করলে দায়িত্বশীল ভূমিকা নেয়া যায় না৷ আর নিজেরা সচেতন না হলে অন্যদের সচেতনও করা সম্ভব হয় না৷ সব বুদ্ধিজীবীরা চাটুকার নন, সবাই অনাচারে মুখবন্ধ করে থাকেন না, সবাইকে সমানভাবে সংবাদমাধ্যমে দেখাও যায় না৷

বুদ্ধিজীবীদের অনেকে সরকারের সমালোচনাও করেন, নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা জলাঞ্জলি দেন না৷ বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা সঠিকভাবে পালন করতে হলে সবসময় যুক্তিসঙ্গত কথা বলতে হয়, আবেগপ্রবণ হয়ে বেশি কথা বলে ফেলা যায় না৷

সমাপনী কথা

ক্ষমতার সঙ্গে যোগসূত্র থাকায় বাংলাদেশে অনেক বুদ্ধিজীবী তাদের ভূমিকা পালন করছেন না৷  অথচ বুদ্ধিজীবীদের কাজ শুধু সরকারের সমালোচনা করা নয়, পরামর্শও দেয়া। সত্যিকারের মুক্তবুদ্ধির চর্চাকারীরা বিভিন্ন ঘটনায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে নিজস্ব বিচার বিবেচনার আলোকে মতামত দেন৷ নিজ নিজ জ্ঞান-বুদ্ধির আলোকে স্বতন্ত্র ব্যক্তিগত চিন্তা ভাবনার প্রকাশ ঘটাচ্ছেন৷

আর যারা ব্যক্তিগত লাভ-ক্ষতির স্বার্থে অবলীলায় নিজেদের নৈতিকতা বিসর্জন দিচ্ছেন এবং স্বেচ্ছায় সরকারি নীতি স্বার্থ ও এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছেন; তাদেরকে মানুষ বর্জন করছে। রাষ্ট্রযন্ত্রের ভাড়াটে বুদ্ধিজীবীদের কারণে বুদ্ধিজীবীতার মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান পাল্টে গেছে, সম্মানের জায়গাটা নড়বড়ে হয়ে গেছে, মানুষের কাছে বুদ্ধিজীবীদের সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা- বিশ্বাসযোগ্যতা কমে গেছে৷

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: [email protected]

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published.