প্যারেন্টিংয়ে প্রচলিত ভুলসমূহ

কাজী নিশাত আরা

প্যারেন্টিং নিয়ে অনেক ভ্রান্ত ধারণা ও চর্চা আমাদের সমাজে ব্যাপক প্রচলিত। বাবা-মার দিক হতে যে ধারণা ও চর্চা গুলো সঠিক নয় তা সন্তাদের জন্য নানা ধরণের খারাপ অভিজ্ঞতার কারণ হতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে আমাদের সমাজে যুগযুগ ধরে চলে আসা কিছু ব্যাড প্যারেন্টিং কে সন্তান প্রতিপালনের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মানা হয়। এমন কিছু বিষয় হলো-

ছোট মানুষের মন খারাপ হয় না!  “মাইরের উপর ঔষধ নাই”।  শিশুদের দ্বারা কাজ আদায় করার জন্য একটু আধটু মিথ্যা বলা যায়। অতিরিক্ত চুপচাপ, সব সময় শান্ত ও লাজুক বাচ্চারাই লক্ষী বাচ্চা! বকা, শাসন ও ভয় দেখিয়ে শিশুদের মাঝে কাঙ্খিত অভ্যাস গড়ে তোলা যায়। বেশী বেশী পড়লে যে কোনো শিশুই পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে পারে।

অন্যের সাথে তুলনা করলে কোন কাজে শিশুর উৎসাহ ও প্রচেষ্টা বাড়ানো যায়। ও তো ছোট মানুষ, বুঝে না! বড় হলে তখন আর এমন করবে না! (বলার মাধ্যেমে খারাপ আচরণ পরিবর্তনের চেষ্টা না করা)”  অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের জন্য শাস্তি প্রদান করা (কিন্তু কি কারণে শাস্তি দেওয়া হলো, তা ব্যাখ্যা না করা।)

বাচ্চারা বেশী কিছু বুঝে না, তাই তাদের সামনে বড়দের গোপন বিষয়ে কথা বলা যায়!  সন্তানদের নিজেদের ভেতর শিশুতোষ ঝগড়া ও মনোমালিন্যে মা-বাবার হস্তক্ষেপ করা। আদর প্রকাশের অংশ হিসেবে শিশুকে বিভিন্ন লাইফ স্কিল (রান্না করা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, বাজার করা, টাকা পয়সার হিসাব ইত্যাদি) না শেখানো।

সন্তানদের মাঝে কাউকে ভালো সন্তান ও কাউকে দুষ্ট সন্তান হিসেবে চিহ্নিতকরণ। অনুভূতির যথাযথ প্রকাশ না শিখিয়ে অনুভূতির প্রকাশে বাঁধা দেওয়া ও নিরুৎসাহিত করা। ছোটদের সব প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় না, কিছু বিষয় তারা তাদের সমবয়সীদের থেকে জেনে নিবে! (যেমন বয়সন্ধিকালীন পরিবর্তন) সন্তানের দায়িত্ব হলো মা-বাবার ইচ্ছা পূরণ করা।

মা বাবা যে ধরণের চিন্তা ও আচরণ নিয়ে বেড়ে উঠেছে, শিশুর থেকেও অবিকল তাই প্রত্যাশা করা। তোমার ভালো আমি বুঝি (তুমি এখনো নিজের জন্য কোন সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম না) নিজের প্রয়োজন না পূরণ করে সন্তানের শখ পূরনে বেশী মনোযোগ দেওয়া। (প্রয়োজন ও শখের মাঝে পার্থক্য করতে না পারা) এখানে বেশী তো বলা হয়ই নাই,বরং এই লিস্ট আরো বড় হবে। শিশুদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে ব্যাড প্যারেন্টিং প্র্যাকটিস সম্পর্কে নিজে সচেতন হওয়া ও অন্যকে সচেতন করা গুরুত্বপূর্ণ!

লেখক:  অ্যাসিস্ট্যান্ট ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট
এমফিল গবেষক, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: [email protected]

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published.