পল্লীগ্রামে গ্রামীণ জীবন

ছেলেবেলা যাদের গ্রামে কেটেছে, তাদের মনোজগতে গ্রামীণ জীবনের চিত্র গেঁথে আছে। সাদামাটা সহজ-সরল জীবন। জীবিকার জন্য অপূর্ব আর অসাধারণ কষ্টকর লড়াই। হৃদয়ে ভেসে ওঠে নিখাদ ও সরল জীবনের গল্পগাথা। জীবন-জীবিকার তাগিদে শহরবাসী হয়েও গ্রামীণ জনপদের অম্ল-মধুর স্মৃতি ভোলা যায় না।

এক নজরে দেখে নিন লুকিয়ে রাখুন

পল্লীর প্রকৃতিতে উদাসী মন

পল্লীর ছোট গাঁয়ের সবুজ শ্যামল প্রকৃতি মন টানে। গ্রামে পথের ধারে গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নেয়া যায়। লতায় পাতার সৌন্দর্যে মন উদাসী হয়। মাটির কী যে মায়া! নদীর কী যে মমতা! ক্ষেতের কাঁদায় শরীর মাখানো চাষীর কী যে প্রাণশক্তি! বৃষ্টিতে ও পানিতে ভিজেও ফসলের মাঠ প্রস্তুতের উপকরণের সাথে কত যে জড়াজড়ি!

 পল্লীগ্রামে প্রশান্তির শীতল ছোঁয়া

গ্রামের মায়েদের হৃদয় আকাশের মতো বড়! এতো এতো কাজের ভিড়েও সন্তানকে স্নেহের পরশে ভরিয়ে রাখেন। গ্রামীণ জনপদে বাবার বুকতো সন্তানের নিরাপদ আশ্রয়। শরীর থেকে অঝর ধারায় ঘাম ঝড়ে, ধুলায় ধুসরিত হলেও যার পরিশ্রম থামে না। বোনের আদর এখানে বড্ড স্নিগ্ধ ও কোমল। ভাইয়ের স্নেহ যেন প্রশান্তির শীতল ছোঁয়া।

রূপসী গ্রামের রূপের মুগ্ধতা

পল্লী সমাজে অভাব-দরিদ্রতা থাকলেও কখনোই বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোর মানুষের অভাব ছিল না। গ্রামীণ জীবনে নিসর্গের রূপে কেউ যতটা মুগ্ধ না হয়, গ্রাম ছেড়ে শহরের অধিবাসী হবার পরে রূপসী গ্রামের রূপের মুগ্ধতা তার চেয়ে বেশি হয়। এতো রূপ, এতো সৌন্দর্য, এতো হৃদয় কাড়া, এতো নয়ন জুড়ানো।

গ্রামীণ সৌন্দর্যে প্রাণ জুড়িয়ে যায়

গ্রামে থাকা বা গ্রাম ঘুরে দেখার বড্ড সাধ! তাইতো সময় পেলে চলে যাই নদীর পারে, মেঠোপথের ধারে, ফসলের মাঠের পাশে। ঝরা শুকনো পাতা মাড়িয়ে হেটে চলার আওয়াজ অন্যরকম লাগে! ভোরের বাতাসে কী যে অনাবিল প্রশান্তি! পাখির কিচির-মিচির আগের চেয়ে কমলেও যতটুকু আছে তাতেই প্রাণ জুড়িয়ে যায়।

গ্রামে ফেরার  তাড়া

যখনই গ্রামে যাই, গ্রাম থেকে শহরে ফিরি; কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার গ্রামে ফেরার একটা তাড়া তৈরি হয়। গ্রামে যাওয়া মানে ঘরে ফেরা, শান্তির নীড়ে ফেরা, মায়ের কোলে ফেরা!

ঘাসের সবুজ রঙে রঙিন পা

গ্রাম মানে গাছের ঢালে রশিতে বাধা পিঁড়ির দোলনায় দোল খাওয়া শৈশব। গ্রাম মানে শিশিরে ভিজে যাওয়া প্যান্ট আর ঘাসের সবুজ রঙে রঙিন পায়ের তলার কৈশোর। গ্রাম মানে পায়জামা থেকে নিলুঞ্জি বেছে তোলার ছোটবেলা। গ্রাম মানে ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হাড়কাঁপানো কনকনে শীতের সকালে আরাম-আয়েস করে লেপ-কাঁথা-কম্বলের মুড়ি দিয়ে ঘুমানোর সুখ!

অলসের ভোগী জীবনযাপনের প্রত্যাশা

গ্রামে কিছু মানুষ আছে যারা বৈষয়িক যোগ্যতা অর্জন করতে চায় না, কষ্ট-পরিশ্রমও করতে চায় না; তবে বিদেশ থেকে পরিবারের কোনো সদস্যের পাঠানো টাকা বা চাকরিজীবী কোনো সদস্যের টাকায় ভোগী জীবনযাপনের প্রত্যাশী। এই সংখ্যাটা খুব বেশি না হলেও নেহায়েত কম নয়। এমনও কিছু সহজ-সরল মানুষ আছেন, যারা সারাজীবন দিনরাত খেঁটে যান; অথচ নিজেরা ভোগ করেন না বা ভোগ করতে পারেন না; তাদের উপার্জিত সম্পদ ভোগ করে অন্যরা।

ছায়াঘেরা জনপদে দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ

এক সময় গ্রামীণ জনপদের প্রত্যকটি পরিবারের কৃষকেরা হাস-মুরগি বা গরু-ছাগল-মহিষ পালন করতো। ডিম-দুধ নিজেরা খেতো আবার বিক্রিও করতো। ঈদের সময়, কারো বিয়ের সময়, পড়ুয়া শিক্ষার্থী কারো ফরম ফিলাপের সময় বা কোনো উপলক্ষ্যে বেশি টাকা লাগলে গরু-ছাগল-মহিষ বিক্রি করতো। তখন একটি গাছ কাটলে বা বিক্রি করলে একাধিক গাছ লাগানো হতো। ফলে গ্রাম মানেই ছিল- সবুজ-শ্যামল,  শান্ত, ছায়াঘেরা, মনোরম এক জনপদ। দিগন্তজোড়া ছিল ফসলের মাঠ।

বাপদাদার ভিটা ও গ্রামীণ জীবন

গ্রামীণ মানুষের মনস্তত্ত্বে বাপদাদার ভিটায় ঘর তোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাপদাদার ভিটা বিক্রি করা বা ছেড়ে দেয়া খুবই কষ্টদায়ক অনুভূতি তৈরি করে। যারা শহরে বাসা-বাড়ি করেন তারাও গ্রামের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে বাপদাদার ভিটায় মজবুত ঘর নির্মাণ করে নিজের অস্তিত্বের জানান দেন। বাপদাদার ভিটা থেকে বিতারিত করতে চাওয়াকে খুবই খারাপ চোখে দেখা হয়।

এর সাথে এমন আবেগ ও মূল্যবান অনুভূতি জড়িত থাকে যা গ্রামীণ জনপদের মানুষ ছাড়া অন্যদের বুঝতে ও বুঝাতে কষ্ট হয়। অনেকে পেটের জ্বালা সহ্য করতে রাজি থাকে কিন্তু বাপদাদার ভিটা থেকে উচ্ছেদে অস্তিত্বের অপমান সহ্য করতে পারে না। বাপদাদার ভিটার জন্য অনেকে জান দিতেও প্রস্তুত থাকে, অথচ জমি দিতে প্রস্তুত থাকে না।

নিজস্ব বৈশিষ্ট্য হারানো বিশৃঙ্খল জনপদ

বিশৃঙ্খল গ্রামীণ জনপদ তৈরি হচ্ছে। অপরিকল্পিতভাবে গ্রামে দালান-কোঠা নির্মিত হচ্ছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছাড়া দালান-কোঠা নির্মাণের কারণে জলাবদ্ধতা হচ্ছে, গ্রামেও জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। আর জলাবদ্ধতা মানেই মশা-মাছির উপদ্রব!

তাই এ ধরনের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে পরিবেশসম্মত গ্রামীণ জনপদ তৈরি করতে হবে। গ্রামে শহরের সুযোগ-সুবিধা জোগানোর পাশাপাশি গ্রামের নিজস্ব গ্রামীণ বৈশিষ্ট্যগুলো রক্ষা করতে হবে।

রাস্তার অপব্যবহার যানচলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ

যাতায়াতে এসেছে পরিবর্তন। যেখানে পা বাড়ানোই ছিল দুঃস্বপ্ন, সেখানে ছুটে চলছে অটোরিকশা-ভ্যানসহ ছোট ছোট সব ধরনের যানবাহন। গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা সংস্কারের ফলে এলাকার মাদ্রাসা-স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রী আর এলাকার বয়স্ক রোগীরা যেন হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন।

প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হয়েছে। রাস্তা নির্মান হওয়ায় অনেকে স্বপ্ন পূরণে একধাপ এগিয়েছে। চলাচলের ভোগান্তি দূর হওয়ায় স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে আনন্দ উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে; এলাকার মানুষ আনন্দের জোয়ারে ভাসছে।

জনস্বার্থে মসজিদ, মাদ্রাসা, গোরস্থান কমিউনিটি ক্লিনিক, রাস্তাঘাট,সেতু-কালভার্টসহ স্থাপনে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে সকলের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন হয়েছে। তবে গ্রামীণ জনপদে কৃষকরা তাদের শস্য শুকানো ও মাড়াই এর জন্য গ্রামের রাস্তার অপব্যবহার করেন। সম্পুর্ণ রাস্তা জুড়ে ধান ও খড় বিছিয়ে রাখে যা যানচলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

পাখির মিষ্টি ডাকে আনন্দমুখর গ্রামীণ জনপদ

পাখির মিষ্টি ডাকে আনন্দমুখর গ্রামীণ জনপদে শীতকালে গাছিরা খেজুর গাছ থেকে রস আহরণ করতে প্রথমে তৈরি করেন রসের থালি; তারপর কদিন পরই বসান হাঁড়ি। এখন গাছির সংখ্যাও কমে গেছে, গাছও কমে গেছে।

মুখোরোচক খেজুর রসের গন্ধে মৌ মৌ করতে কমই দেখা যায়। শীতের সকালে গাছ থেকে নামানো কাঁচা রসের স্বাদই অনন্য, জ্বাল করা রসের তৈরি বিভিন্ন খাবারের স্বাদও চমৎকার।

গ্রামীণ জনপদে রয়েছে প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য

বাংলাদেশে মোট গ্রাম আছে ৮৭ হাজার ৩১৬টি। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৮ হাজার ১৩৮টি। সবচেয়ে কম গ্রাম বরিশাল বিভাগে মাত্র ৪০৯৭টি।  বাংলাদেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ এখনও গ্রামে বসবাস করে। সমতল এলাকা ছাড়াও গ্রামীণ জনপদে রয়েছে প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য- কোথাও রয়েছে হাওড় ও জলাভূমি, আবার কোথাও বা পার্বত্যভূমি।

পরিবর্তনের ছোঁয়ায় পাল্টে গেছে গ্রাম

গত ১০ বছরে গ্রামের অধিকাংশ ছনের ঘর পরিবর্তনের ছোঁয়ায় পাল্টে গেছে। হারিকেনের আলোর বদলে বিজলি বাতি বা এনার্জি বাল্বের সরবরাহ বেড়েছে। তবে বিদ্যুত পৌঁছায়নি কিছু পার্বত্য ও হাওড়াঞ্চলে।

দেশের ৯০% লোক বিদ্যুত ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে। বর্তমানে ১৪% মানুষ সৌরবিদ্যুত ব্যবহার করছে। এখন গ্রামের ৫০-৬০ শতাংশের ঘরে স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা এবং প্রায় প্রতিটি ঘরের জন্য সুপেয় পানির বন্দোবস্ত রয়েছে।

বিনোদনের জগতে সহজ বিচরণ

গ্রামের মানুষ এখন সন্ধ্যা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুমানোর জন্য প্রস্তুত হয় না। তারা টেলিভিশন ও মোবাইল ফোনের মধ্যে বিনোদনের জগতে বিচরণ করে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খবর নিয়ে চিন্তা করার অবকাশ পায়। তবে গ্রাম থেকে ধীরে ধীরে বিদায় নিচ্ছে যাত্রা, পালাগান, জারিগান এবং পুঁথিপাঠের আসর।

জীবন ও জীবিকায় পরিবর্তন

এখন গ্রামের ক্ষুদ্র দোকানিরাও নাগরিক জীবনের সুযোগ সুবিধার অনেক উপকরণ বিক্রি করে। প্রক্রিয়াজাত অনেক খাদ্য কিংবা টিভি-ফ্রিজ এখন সহজলভ্য গ্রামে। স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনেও ঘটেছে পরিবর্তন।

তবে কোনো কোনো গ্রামীণ পরিবারে আয়ের সিংহভাগ আসে রেমিট্যান্স থেকে। আবার কোনো কোনো পরিবারের সদস্য শহরে চাকরি করে গ্রামে তাদের পরিবার প্রতিপালন করে।

কর্মসংস্থান বাড়ছে, নানান আয়ের সুযোগ বাড়ছে

গ্রামীণ কৃষকরাও এখন উন্নত জাতের ভালো ফসল ফলাতে পারছে। যথাযথ যত্ন ও পরিচর্যার ব্যাপারে দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছে। চাষী বা কৃষকরাও বাজারজাতকরণে সুবিধা ভোগ করছেন।

দামের ওঠানামা কম। কর্মসংস্থান ক্রমবর্ধিষ্ণু; নানান আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। মজুরি প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও দেখা যায় মজুরি অনেক বেড়েছে। আর রেমিট্যান্সের প্রবাহ ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

গ্রামীণ জনপদে ব্যাপক অগ্রগতি

আগের চেয়ে তুলনামূলকভাবে পরিবারগুলো ছোট হচ্ছে তথা প্রজননহার হ্রাস পাচ্ছে। সাক্ষরতা বেড়েছে তথা শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন গ্রামীণ জনপদের পরিবর্তনের অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।

পাকা রাস্তা, সেতু, স্কুল নির্মিত হয়েছে এবং বিদ্যুত ও সেচ সুবিধার ব্যাপক অগ্রগতি এসেছে। রাস্তা পাকা ও সুপ্রশস্ত হওয়ার ফলে গ্রাম-শহর দূরত্ব দ্রুত হ্রাস পেয়েছে এবং বৃদ্ধি পেয়েছে অভিবাসন।

কাজের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি

খামারবহির্ভূত কাজের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ধনী অথবা দরিদ্র কারও জীবনই এখন আর জমিকেন্দ্রিক নয়। মানুষের আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্ভরশীলতার পরিমাণ কমেছে। গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোতে জমির মালিকানার চেয়ে ক্রমবর্ধিষ্ণুভাবে শিক্ষা ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একসময় মুরব্বিদের দ্বারা গ্রামের বিচার সালিশ চলত এখন ইউনিয়ন পরিষদ বা উপজেলা সদরে বন্দোবস্ত হয়।

বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে রাজনৈতিক টাউট-বাটপাড়

রাজনীতির করাল গ্রাসে গ্রামীণ জীবনও বহুধাবিভক্ত। কায়েমি স্বার্থ ঠাণ্ডা মাথায় নিজেদের স্বার্থ টিকানোর পাকাপোক্ত ব্যবস্থায় মত্ত। গ্রামেও তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক টাউট-বাটপাড় শ্রেণী। গ্রামীণ জনপদে বিষবাষ্প ছড়াতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

আগে জমিজমা নিয়ে গ্রামে রক্তারক্তি, হাঙ্গামার ঘটনা ঘটত; চর দখলে লাঠিয়াল বাহিনীর প্রয়োজন পড়ত। এখন রাজনৈতিক লাঠিয়ালদের দাপটে সবার ত্রাহি অবস্থা। অন্যকে দেখানোর প্রবণতা গ্রামীণ জীবনে মহামারী হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে করে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতা কালবৈশাখীর গতি পেয়েছে।

বিপজ্জনক প্রবণতা

গ্রামীণ জীবনেও আছড়ে পড়েছে বৈশ্বিক ঢেউ। সেই ঢেউয়ের তোড়ে প্রভাবিত গ্রামের মানুষের যাপিত জীবন। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় চাওয়া-পাওয়ার প্রকৃতি গেছে বদলে। অল্পে তুষ্ট থাকার মানসিকতা, মানে সাদামাটা জীবনে চলন-বলনে সবার অলক্ষ্যে আমূল পরিবর্তন এসেছে।

প্রত্যন্ত অঞ্চলেও লোপ পেয়েছে সরলতা। উল্টো দানা বেঁধেছে অর্থ উপার্জনের তীব্র বাসনা। প্রযুক্তির বদৌলতে অন্যের জৌলুশপূর্ণ যাপিত জীবন দেখে আত্মগ্লানিতে ভোগার ভোঁতা বোধ বেড়েছে।

হিংসার সংস্কৃতি

ইন্টারনেট, ডিশ, স্মার্টফোনের মাধ্যমে আড়ম্বরপূর্ণ জীবন দেখে ধাঁধায় পড়েছে অনেকে। অনেকে নিজেকে বঞ্চিত ভাবছে। না পাওয়ার যাতনায় মনে জন্ম নিয়েছে অন্যের প্রতি ঈর্ষা ও ঘৃণা। ফলে জ্যামিতিক হারে বেড়েছে সামাজিক অস্থিরতা। সেই বিষবাষ্পে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে সম্পর্কের বাঁধন। প্রতিক্রিয়ায় গ্রামীণ জীবনকে গ্রাস করছে হিংসার সংস্কৃতি। ফলে জীবনের অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে হাঙ্গামা।

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: poribar.net@gmail.com

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *