পর্নো-আসক্তির কারণ, পর্নোগ্রাফির প্রকোপ ও প্রভাব

বাংলাদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পর্নোগ্রাফি ব্যবহারের মনোভাব এবং ঝুঁকির কারণ নিয়ে ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাসে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমবর্ষের ১৮ থেকে ২৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের (গড় বয়স ১৯.৬৮ বছর) মধ্যে সমীক্ষার মাধ্যমে একটি অনুসন্ধানমূলক গবেষণা চালান এম এ আল মামুন, এস এম ইয়াসির আরাফাত, মোসাম্মাৎ আম্বিয়াতুন্নাহার এবং মার্ক ডি. গ্রিফিতস।

সমীক্ষায় প্রশ্ন ছিল- কে আপনাকে পর্নোগ্রাফির সাথে প্রথম পরিচয় করিয়ে দেয়?, আপনি কোন ধরণের পর্নোগ্রাফি উপভোগ করেন?, আপনি কেন পর্নোগ্রাফি ব্যবহার করেন?, পর্নোগ্রাফি দেখার করার পরে আপনি কেমন অনুভব করেন?, এবং পর্নোগ্রাফি ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে কী কী পদক্ষেপ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত?

৭২% অংশগ্রহণকারীরা তাদের সমগ্র জীবনে অন্তত একবার পর্নোগ্রাফি দেখে এবং তাদের প্রায় অর্ধেকই মাঝে মাঝে দেখে। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ (৬৭%) অংশগ্রহণকারীর উচ্চ বিদ্যালয় স্তরে অপ্রত্যাশিতভাবে পর্নোগ্রাফির সাথে প্রাথমিক পরিচয় হয়েছিল, যদিও নারীরা সাধারণত অনেক পরে পর্নোগ্রাফির সাথে পরিচিত হন। অংশগ্রহণকারীদের ৫৭.৮% বর্তমানে কোনো ঘনিষ্ঠ রোমান্টিক সম্পর্কে নেই, যাদের ৬৯% পুরুষ। পর্নোগ্রাফি আসক্ত পুরুষরা নারীদের তুলনায় ১২গুণ বেশি।

৬২% অংশগ্রহণকারী  পর্নোগ্রাফিকে  আক্রমণাত্মক ও অবমাননাকর, ৬২% অংশগ্রহণকারী এটিকে ধর্মীয় নীতিমালার লঙ্ঘন, এবং ৫৭.৫% এটি হস্তমৈথুন বাড়ায় বলে মনে করেন। প্রায় অর্ধেক অংশগ্রহণকারী পর্নোগ্রাফি দেখার সময় বা পরে হস্তমৈথুন করেছিল (৫১%), এবং পর্নোগ্রাফির সবচেয়ে পছন্দের ধরনটি ছিল ভিডিও দেখা।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের খুলনা সিটি কর্পোরেশনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের মধ্যে পর্নোগ্রাফির প্রকোপ এবং এর পেছনের অন্তর্নিহিত কারণগুলো অন্বেষণের লক্ষ্যে পরিচালিত গবেষণা ২০০৪ সালে সম্পন্ন হয়। তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নেয়া ৩০৪ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে (২০০ জন পুরুষ এবং ১০৪ জন নারী) আধা-কাঠামোগত সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছিল। গবেষক- বাবলা গোলদার, মোঃ আব্দুল জব্বার, কাজী মশরুর-উল-আলম, মোঃ তানভীর হোসাইন ও দীপিকা চন্দ্র।

বেশিরভাগ শিক্ষার্থী (প্রায় ৮১%), বিশেষ করে পুরুষ, ষোল বছর বয়সের আগে পর্নোগ্রাফির সংস্পর্শে আসে। হল বা বোর্ডিং হাউসে বসবাসকারী শিক্ষার্থীরা পিতামাতা বা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে বসবাসকারীদের তুলনায় পর্নোগ্রাফির প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়ে।

যেখানে ধর্মীয় অনুশাসন কম সেখানে পর্নোগ্রাফির প্রকোপতা বৃদ্ধি পায়। প্রযুক্তিগত ডিভাইস ও ইন্টারনেট ডেটা প্যাকেজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে পর্নোগ্রাফি বেশি সহজলভ্য হয়। ব্যক্তিগত আয় কম থেকে বেশি হলে পর্নোগ্রাফির প্রতি আসক্তি সর্বনিম্ন স্তর থেকে সর্বোচ্চে স্তরে পরিবর্তিত হয়।

নীতিনির্ধারকদের উচিত পর্নোগ্রাফির প্রকোপকে ঠেকানোর জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা। স্বাস্থ্য, আচরণ অন্যান্য সামাজিক সমস্যাগুলিতে পর্নোগ্রাফির নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে তরুণ-তরুণীদের সচেতনতা তৈরির উপর জোর দেওয়া দরকার ।

ঢাকার একটি স্কুলের মোট ৩০ জন শিক্ষার্থীর ওপর বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন পরিচালিত জরিপ। ২৯ জন মোবাইল ব্যবহার করে এবং তাদের মধ্যে ২৫ জন ক্লাসে বসেও পর্নোগ্রাফিক ফিল্ম দেখে। প্রায় ৮৬% শিক্ষার্থী পর্নোগ্রাফিক ফিল্মে আসক্ত।

মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহারের সহজলভ্যতার কারণে দেশের কিশোর-কিশোরীদের একটি বড় অংশ পর্নোগ্রাফির আসক্তির জগতে ফাঁদে আটকা পরেছে।

ঢাকা শহরের স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পর্নো দেখা এখন আর কোনো গোপন কাজ নয়, বরং পর্নো দেখার প্রচলন ব্যাপক।

২০ ডিসেম্বর ২০২০ থেকে ২৬ ডিসেম্বর ২০২০ এর মধ্যে সংগ্রহ করা তথ্য নিয়ে ‘ধর্ষণের হার বৃদ্ধির কারণ: বাংলাদেশের মানুষ কী মনে করে?’ শীর্ষক নিবন্ধে মো. রাজিব হাওলাদার, হুমাইরা আনজুম, সামিক আহমেদ এষ্টী ও খাদিজা আক্তার নুরা।

পর্নোগ্রাফি দেখা ধর্ষণের অন্যতম কারণ। ধর্ষণের আরেকটি সাধারণ কারণ হলো- পরিবার থেকে নৈতিক শিক্ষার অভাব, বাংলাদেশের মুসলমানদের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয়, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মাদকের প্রতি আসক্তি বৃদ্ধি।

ধর্ষণের হার কমানোর অন্যতম সমাধান হলো- পর্নোগ্রাফি নিষিদ্ধ করা, যাতে কেউ ভিপিএন দিয়েও পর্নো দেখতে না পারে। আরেকটি হলো- প্রত্যেক শিশু যেন পরিবার থেকে সঠিক নৈতিক শিক্ষা পায় তা নিশ্চিত করা। বাংলাদেশে পশ্চিমা সংস্কৃতি ও মিডিয়ার প্রভাব সীমিত করা। তরুণ প্রজন্ম যেন মাদক থেকে দূরে থাকে তা নিশ্চিত করা। ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা।

বাংলাদেশের ঢাকা শহরে ৬ মাসে (২০১৫ সালের মার্চ থেকে ২০১৫ সালের আগস্ট) মহাখালী, কাওরানবাজার, মগবাজার ও কমলাপুর বস্তি) থেকে ১০৮ শিশুকে (৬৫.৭% ছেলে এবং ৩৪.৩% মেয়ে) নিয়ে গবেষণা পরিচালিত হয়। ঢাকা শহরের বস্তি এলাকায় শিশুর অপরাধীকরণ শীর্ষক নিবন্ধে গবেষণাটির ফলাফল উল্লেখ করেছেন মো. কামরুজ্জামান, মো. আব্দুল হাকিম।

গবেষণায় দেখা যায়-১২% উত্তরদাতা পর্নোগ্রাফি দেখেন।

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হস্তমৈথুনের ব্যাপকতা এবং চর্চা বোঝার জন্য খুলনার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯৯ জন শিক্ষার্থীর আধা-কাঠামোগত সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। ৭০% এরও বেশি অংশগ্রহণকারীর বয়স ছিল ২১ থেকে ২৫ এর মধ্যে। শিক্ষার্থীদের ১০% এরও বেশি অভিভাবক নিরক্ষর ছিলেন এবং প্রায় ৮০% শিক্ষার্থী গ্রামীণ এলাকা থেকে এসেছেন। কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রায় ১৮% শিক্ষার্থী। হস্তমৈথুনের অভিজ্ঞতা: বাংলাদেশের স্নাতক শিক্ষার্থীদের একটি কেস স্টাডি শীর্ষক লেখায় এটি তুলে ধরেছেন- মোঃ রজওয়ান হাসান খান চৌধুরী, মোহাম্মদ রকি খান চৌধুরী, নাসরিন সুলতানা নিপা, রাসেল কবির, মোহাম্মদ আলী মনি, এবং মারিয়া কর্দোভিজ।

৩৩.৬% ছাত্ররা সপ্তাহে অন্তত একবার পর্নোগ্রাফি দেখে। ২.৩% ছাত্রীরা প্রতিদিন অন্তত এক ঘন্টা পর্নোগ্রাফি  দেখেছে। অনলাইন পর্নোগ্রাফি দেখে এমন শিক্ষার্থীদের প্রায় ৮৭%  ভাগ নিয়মিত হস্তমৈথুন করে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে হস্তমৈথুনের প্রবণতা ছিল ৩৩%, ছাত্রদের মধ্যে ৪২.২০% ও নারীদের ১২.৫০%। হস্তমৈথুন ও পর্নোগ্রাফি দেখার মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে।

ঢাকা শহরের সায়েদাবাদ এবং গাবতলীতে, অক্টোবর ২০০৯ থেকে জানুয়ারী ২০১০ পর্যন্ত পরিচালিত গুণগত গবেষণায় ২১ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৩২ জনের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়, যাদের মধ্যে ১৮ জন বিবাহিত এবং ১৪ জন অবিবাহিত। আইডিএস যৌনতা এবং উন্নয়ন প্রোগ্রাম কর্তৃক বাংলাদেশে পর্নোগ্রাফি, কামনাতৃপ্তি, লিঙ্গ এবং যৌন শিক্ষা শীর্ষক নিবন্ধ।

পর্নোগ্রাফি ব্যাপকভাবে পাওয়া যায়। পর্নোগ্রাফি যৌনতা সম্পর্কিত তথ্যের একটি মূল উৎস। পর্নোগ্রাফি লিঙ্গ, যৌনতা এবং লিঙ্গ সম্পর্কে ভুল তথ্যেরও একটি মূল উৎস।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মধ্যে অনলাইন পর্নোগ্রাফির ব্যবহার এবং সামাজিক আচরণগত ধরণগুলির মধ্যে সম্পর্ক অনুসন্ধানে কাঠামোগত প্রশ্নাবলী ব্যবহার করে  ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ২৯৯ জন স্নাতক ছাত্রের (৭০.৬% পুরুষ) সাক্ষাত্কার নেওয়া হয়। অনলাইন পর্নোগ্রাফিতে আসক্তি কি বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের আচরণগত ছাঁচকে প্রভাবিত করে?- শীর্ষক নিবন্ধে এটি উল্লেখ করেন মোঃ রজওয়ান হাসান খান চৌধুরী, মোহাম্মদ রকি খান চৌধুরী, রাসেল কবির, নির্মলা কেপি পেরেরা এবং মঞ্জুর কাদের।

বন্ধুদের সাথে গভীর রাতে জড়ো হওয়াদের মধ্যে পর্নোগ্রাফির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল (৫৮.৪%)। প্রায় ৭.৪% প্রতিদিন কমপক্ষে ১ ঘন্টা পর্নোগ্রাফি দেখে, ২৬.১% প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ১ ঘন্টা পর্নোগ্রাফি দেখে এবং ৪১.৮% প্রতি মাসে কমপক্ষে ১ ঘন্টা পর্নোগ্রাফি  দেখে।

অনলাইন পর্নোগ্রাফিতে আসক্তরা বন্ধুদের সাথে বোকামি করে, দুর্ব্যবহার করে, সময়মতো ঘুমাতে বিছানায় যায় না । এসব আচরণ ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে পড়ালেখার  ফলাফলের উপর, সামগ্রিকভাবে সামাজিকতা ও নৈতিকতার ওপর । যৌন আসক্তি, যৌন নির্যাতন, এবং পর্নোগ্রাফি অপব্যবহার দূরীকরণে পর্নোগ্রাফিতে আসক্তদের যথাযথ চিকিৎসা প্রোগ্রাম প্রয়োজন।

বাংলাদেশের ঢাকায় কোভিড-১৯ মহামারীর সময় এমবিবিএস প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্মার্টফোনের ব্যবহার সংক্রান্ত গবেষণায় সুজন সাহা ও সামিহা বুশরা নোভা। এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ৪.৪৬% (১১) শিক্ষার্থী প্রাপ্তবয়স্কদের সাইটে প্রবেশ করে এবং পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত।

পর্নোগ্রাফি বিরোধী আইন (২০১২) এবং বর্তমান আচরণ, জ্ঞানগত অবস্থা এবং মতামত জরিপ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের উপর একটি গবেষণা করেছেন অমিত কুমার সাহা, রাসেল হোসেন, গোলাম রব্বানী, ইরিন পারভিন, ওয়াসিফা তাসনিম শাম্মা, সাজ্জাদ হোসেন খান। শিক্ষার্থীদের গড় বয়স ২৩। উত্তরদাতাদের মধ্যে ৪৫% মেয়ে এবং বাকি ৫৫% ছেলে। উত্তরদাতাদের প্রায় ৬৪% গ্রামীণ এলাকায় তাদের প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেছে, যেখানে ৩৬% উত্তরদাতা প্রাথমিক শিক্ষা নিয়েছে শহর এলাকায় ।

উত্তরদাতাদের ৫৭% এর কাছে বর্তমানে পর্নোগ্রাফি রয়েছে। ৪৩% দাবি করেছেন যে তাদের কাছে এই মুহূর্তে কোনো ধরনের পর্নোগ্রাফি নেই। ৩৬% তাদের বন্ধুদের কাছ থেকে পর্নোগ্রাফি পান বা একসাথে দেখেন। ১৪% একাধিক উৎস থেকে পর্নোগ্রাফি সংগ্রহ করে। ৩৪% এই প্রশ্নের উত্তর দেয়নি বা তারা সেই প্রশ্নটি এড়িয়ে যায়। ১৬% মোবাইল ফোনে পর্নোগ্রাফি সংগ্রহ করে, ২৩.২৫% একাধিক উত্স থেকে সংগ্রহ করে। ৪১% শিক্ষার্থী অন্যদের কাছে পর্নোগ্রাফি প্রদর্শন করে। ৩৩% কেউ এই প্রস্তাব দিলে তা প্রত্যাখ্যান করে। উত্তরদাতাদের ২৫% তাদের বন্ধুদের কাছে পর্নোগ্রাফি অফার করে, ৫.৪% অন্য কাউকে অফার করে। ৩.৬% উত্তরদাতারা একমত যে তারা তাদের ছেলে বা মেয়ে বন্ধুকে এইগুলি অফার করে। ৪৫% কারো সাথে পর্নোগ্রাফি শেয়ার করে। ১৩% পেনড্রাইভ এবং ব্লুটুথ উভয়ের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি শেয়ার করেন। মাত্র ২% হাতে হতে শেয়ার  করে নেয়। শুধুমাত্র ২% শিক্ষার্থীই অনুমতি ছাড়াই কারও ছবি তোলে বা অশ্লীলতা কনটেন্ট তৈরি করে।

২০১০ সালে মুন্সীগঞ্জ জেলা শহরের আশেপাশের এলাকা থেকে ৩৮৪ জনের ওপর একটি নমুনা সমীক্ষা পরিচালিত হয়। মোবাইল ফোনের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বিবাহপূর্ব যৌন সম্পর্ক: বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জ জেলার নির্বাচিত পেরি-আরবান এলাকার একটি কেস স্টাডি শীর্ষক নিবন্ধে এটি উল্লেখ করেন আই. মাহবুব উদ্দিন আহমেদ, তৌহিদ হোসেন খান।

৩২%  প্রতিদিন মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পর্নোগ্রাফি দেখে। ৩৯.৭% মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্রাউজ করেন। মোবাইলে ইন্টারনেট ব্রাউজকারীদের ৮৯% পর্নোগ্রাফি দেখার জন্যই ব্রাউজ করেন৷ ৯১.১% উত্তরদাতার মোবাইল ফোনে রয়েছে। উত্তরদাতাদের ৫৪% পর্নোগ্রাফি দেখার জন্য মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। ৩৪.৮৮% মাঝে মাঝে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি দেখেন। ৪১.৬ শতাংশ উত্তরদাতার বিবাহপূর্ব যৌন অভিজ্ঞতা রয়েছে৷

আরব দেশগুলিতে পর্নোগ্রাফি ব্যবহারের ব্যাপকতার পেছনের কারণ অনুসন্ধানে ১৫০২৭ জনের ওপর অনলাইন সমীক্ষা চালিয়েছেন মোহাম্মদ আবদ এলজাওয়াদ, হুসেন সিদা, শেরিফ ঘোজি এমডি, আমর এহাব এল-কুশায়রি, আহমেদ এল শেরিফ, আহমেদ হুসেইন এলকাসার, মোহাম্মদ আত্তা-আল্লাহ, ওয়ায়েল ইব্রাহিম, মোহাম্মদ এ এলমাহদি এমডি, শেখ মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম।

অংশগ্রহণকারীর গড় বয়স ± 23.82 বছর ± 24.99 বছর। অংশগ্রহণকারীদের ৮৪.৫৬% ছিলেন পুরুষ, পিতামাতার সাথে বসবাস করতেন ৮১.৭১% এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ৬০.৫১%। পুরুষদের শতকরা ৯৫ ভাগই নিয়মিত পর্নোগ্রাফি দেখে।  পর্নোগ্রাফি দেখা আরব দেশগুলিতে সাধারণ এবং কিছু ব্যক্তিগত এবং আচরণগত কারণের সাথে যুক্ত।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ছয়টি কলেজের স্নাতক এবং স্নাতকোত্তরের ৮১৩ জন (৫০০ নারী, ৩১৩ জন পুরুষ)  শিক্ষার্থীদের ওপর করা একটি সমীক্ষার ফলাফল ২০০৮ সালে প্রকাশিত হয়। জেনারেশন এক্সএক্সএক্স: পর্নোগ্রাফির গ্রহণযোগ্যতা এবং বহির্গামী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ব্যবহার শীর্ষক জেসন এস ক্যারল, লরা এম. প্যাডিলা-ওয়াকার, ল্যারি জে. নেলসন, চ্যাড ডি. ওলসন, ক্যারোলিন ম্যাকনামারা ব্যারি, স্টেফানি ডি ম্যাডসেন তা প্রকাশ করেন।

৩১% যুবতী পর্নো দেখে যেখানে ২১.৩% যুবক বলেছেন যে তারা প্রতিদিন বা প্রায় প্রতিদিনই পর্ন দেখেন। গবেষণায় ৬৬.৫% যুবক এবং ৪৮.৭% যুবতী বলে যে পর্নোগ্রাফিক সামগ্রী দেখা যৌনতা প্রকাশের একটি গ্রহণযোগ্য উপায়।

২০০৯ সালে উত্তর আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ২৯০০০ জনের ওপর চালানো সমীক্ষা হয়েছিল। পর্নো ইউনিভার্সিটি: ক্যাম্পাসে যৌনতা নিয়ে কলেজের শিক্ষার্থীরা আসলে কী বলছে শীর্ষক নিবন্ধে গিলকারসন এসব তথ্য জানিয়েছেন।

৫১% ছাত্র এবং ৩২% ছাত্রীরা তাদের কৈশোর বয়স তথা ১৩ বছর বয়সের আগে পর্নোগ্রাফি দেখেছিল। মাত্র ১৩,৯% যুবক পর্নোগ্রাফি দেখেন না। ২১.৩% কলেজ ছাত্র প্রতিদিন বা দিনে একাধিকবার পর্নোগ্রাফি দেখে। ছেলেরা ১২ বছর বয়সের আগে এবং মেয়েরা ১৩ বছর বয়সের আগেই পর্নোগ্রাফি দেখছেন।

প্রায় ৬২% কিশোর-কিশোরী জানায়, তাদের বাবা-মা তারা যে ওয়েবসাইটগুলি দেখেন সে সম্পর্কে খুব কম জানে বা কিছুই জানেন না।

ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. ভ্যালেরি ভুন ১৯ থেকে ৩৪ বছর বয়সী পুরুষদের নিয়ে গবেষণা করেছেন যারা পর্নো ত্যাগ করার চেষ্টা করেছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছিল। তাদের মস্তিষ্কের স্ক্যান করা হয়। তাদের নিউরোস্ক্যানগুলি অ্যালকোহল বা হেরোইন আসক্তদের অনুরূপ ছিল।

ইউনিসেফের শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ শাবনাজ জাহেরিন স্কুল ও কলেজের ১৬ থেকে ১৯ বছর বয়সী ১৫০ শিক্ষার্থীদের উপর একটি গবেষণা করেন। ১৫০ শিক্ষার্থীর মধ্যে শতকরা প্রায় ৬০ ভাগের যৌন কার্যকলাপের অভিজ্ঞতা ছিল, যা খুবই উদ্বেগজনক। এর পেছনের কারণ পর্নোগ্রাফি ছাড়া আর কিছুই নয়। তারা যেভাবে শারীরিক আনন্দ অনুভব করতে দেখে, তা বাস্তবে অনুভব করার চেষ্টা করে থাকে।

ইস্ট লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৩ সালে ১৬-২০ বছর বয়সী ১৭৭ জনের উপর গবেষণা হয়েছে। ২০% ছেলেরা পর্নের উপর নির্ভরশীল যেখানে তাদের এক-পঞ্চমাংশ বলেছেন যে পর্নোগ্রাফি তাদের যৌন উদ্দীপিত হওয়ার পূর্বশর্ত। প্রায় এক চতুর্থাংশ ছেলে এবং ৮% মেয়ে বলেছে যে তারা পর্নোগ্রাফি দেখার অভ্যাস ত্যাগ করার চেষ্টা করেছে কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। ১৩% ছেলে এবং ১০% মেয়ে বলেছে যে তাদের অনলাইনে পর্নোগ্রাফি দেখার অভ্যাস অনেক বেশি চরম পর্যায়ে।

পরিবার ডটনেট এর সম্পাদক ও পরিবার বইয়ের লেখক আনিসুর রহমান এরশাদ লিখেছেন, পর্নোগ্রাফিতে আসক্তদের সংখ্যা বাড়ার পেছনের কারণ হচ্ছে-  অভিভাবকদের অসচেতনতা, সর্বস্তরে অসচেতনতা, কঠোর আইন ও তার যথাযথ প্রয়োগ না থাকা, সরকার ও কর্তৃপক্ষের কঠোর না হওয়া। রাষ্ট্রীয়, পারিবারিক, সামাজিক উদাসীনতা। লোকলজ্জার ভয় করে আসক্তদের কাউন্সেলিংয়ে না দেয়া। আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে সন্তানদের সম্পর্ক দৃঢ় না রাখা এবং তাদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সময় ব্যয় না করা। ফ্যামিলি বন্ডিংসটা শক্তিশালী না করা। ছেলেমেয়েকে প্রয়োজনীয় সময় না দেয়া। স্কুলের শিক্ষক এবং মা-বাবার সঙ্গে সন্তানের আন্তরিকতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি না করা। অসুস্থ যৌনশিক্ষা দেয়া। পর্নোগ্রাফির কনটেন্ট সহজলভ্য হওয়া। বাসাবাড়িতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রযুক্তিগত ডিভাইস ও মোবাইল থাকা এবং সেগুলো যত্রতত্র রাখা। ডিজিটাল ডিভাইস দেয়ার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ-কড়াকড়ি না করা এবং উপযুক্ত প্রয়োজন বিবেচনা না করা। শিশু-কিশোরদের ইন্টারনেট ব্যবহারের ব্যাপারে অভিভাবকদের খেয়াল না রাখা। ছেলেমেয়েদের ‘স্ক্রিন টাইম লিমিট’ বেঁধে দেয়া বা সময় ঠিক করে দেয়া।

শিশুদের প্রতি অভিভাবকদের সচেতনতার অভাব পর্নোগ্রাফির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। পর্নো আসক্ত প্রজন্ম মেধাহীন ও অসুস্থ সমাজ উপহার দিচ্ছে। পর্নোগ্রাফি ও অশ্লীলতা চর্চার ফলে যৌনসন্ত্রাস বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিশু ধর্ষণের জন্য বিশেষভাবে দায়ী করা হচ্ছে পর্নোগ্রাফি বিশেষ করে চাইল্ড পর্নোগ্রাফিকে। এমতাবস্থায় করণীয় হচ্ছে- চাপ প্রয়োগ না করে এমন পজেটিভ মনোবৃত্তি তৈরি করা যাতে সে লুকিয়ে লুকিয়ে পর্নোগ্রাফি বা নিষিদ্ধ কোনো জিনিস না দেখে। অভিভাবক বা শিক্ষকদের মোবাইল ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা। কারণ ছেলেমেয়েরা তাদের বাবা-মা বা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের যা করতে দেখে তাই অনুকরণ করে। পর্নোগ্রাফিকে শুধু নৈতিকতার দৃষ্টিতে না দেখে বড় সামাজিক ক্ষতি করছে বিষয়টিকে সেভাবে দেখে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া। অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি জীবনদক্ষতার অভাব কমাতে প্রশিক্ষণমূলক প্রোগ্রাম বাড়ানো। ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ জাগানো। সংযত জীবনযাপনে অভ্যস্ত করা। বকাঝকা বা ভয়ভীতি না দেখিয়ে তাদের সাথে খোলামেলা কথা বলা। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফরমকে পজিটিভলি ব্যবহার করতে শেখানো। মানসিক দক্ষতা এবং অন্যান্য দক্ষতা উন্নত করে এমন উপকারী ও শিক্ষামূলক অ্যাপ্লিকেশনগুলো ডাউনলোড করে দেয়া। মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা। ছেলেমেয়েদের পর্যাপ্ত বই পড়ার প্রতি উৎসাহিত করা। আউটডোর অ্যাক্টিভিটিতে শরীরচর্চার প্রতি উৎসাহিত করা এবং উন্মুক্ত মাঠে তাদের নিয়মিত যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

Click to access Child-Criminalization-at-Slum-Areas-in-Dhaka-City.pdf

https://link.springer.com/article/10.1007/s11469-018-0021-7

www.researchgate.net/publication/358587934_Exposure_to_Pornography_among_Students_at_educational_Institutions_in_Khulna_City_Corporation_Southwest_Bangladesh

https://en.ntvbd.com/bangladesh/9321/Porn-watching-by-teens-on-alarming-level

Click to access The-Reasons-for-the-Increasing-Rate-of-Rape-What-the-people-of-Bangladesh-think.pdf

Click to access __network.uni_staff_S1_cjoyner_Downloads_185639-Article%20Text-673154-1-10-20190830.pdf

https://opendocs.ids.ac.uk/opendocs/bitstream/handle/20.500.12413/3617/PornBangladeshONLINE.pdf;jsessionid=033A20490CA01C813B425D66AE7266F0?sequence=1

ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC5969781/

https://www.banglajol.info/index.php/AJMBR/article/view/56138

Asian Journal of Medical and Biological Research ISSN 2411-4472 (Print) 2412-5571 (Online) www.ebupress.com/journal/ajmbr

https://www.researchgate.net/publication/330400745_Anti-Pornography_Act_2012_and_the_Current_Behavior_Knowledge_Status_and_Opinion_Poll_A_Study_on_the_Students_of_University_of_Dhaka

 Journal of Law, Policy and Globalization

Click to access Access-to-Mobile-Phone-and-Premarital-Sexual-Relationships-A-Case-Study-of-the-Selected-Peri-urban-Areas-of-Munshiganj-District-of-Bangladesh.pdf

https://www.sciencedirect.com/science/article/abs/pii/S1743609520311310

https://www.researchgate.net/publication/247721479_Generation_XXXPornography_Acceptance_and_Use_Among_Emerging_Adults

https://books.google.com.bd/books?hl=en&lr=&id=MbA7oIi66ykC&oi=fnd&pg=PA9&dq=What+college+students+are+really+saying+about+sex+on+campus&ots=L-pm7eJG0h&sig=Mt35b67ngQchkqR67iAhZugfvys&redir_esc=y#v=onepage&q=What%20college%20students%20are%20really%20saying%20about%20sex%20on%20campus&f=false

https://archive.dhakatribune.com/uncategorized/2013/10/27/lets-talk-about-porn

https://en.ntvbd.com/bangladesh/9321/Porn-watching-by-teens-on-alarming-level

https://archive.dhakatribune.com/uncategorized/2013/10/27/lets-talk-about-porn

About আনিসুর রহমান এরশাদ

শিকড় সন্ধানী লেখক। কৃতজ্ঞচিত্ত। কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী। ভেতরের তাগিদ থেকে লেখেন। রক্ত গরম করতে নয়, মাথা ঠাণ্ডা ও হৃদয় নরম করতে লেখেন। লেখালেখি ও সম্পাদনার আগ্রহ থেকেই বিভিন্ন সময়ে পাক্ষিক-মাসিক-ত্রৈমাসিক ম্যাগাজিন, সাময়িকী, সংকলন, আঞ্চলিক পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ব্লগ ও জাতীয় দৈনিকের সাথে সম্পর্ক। একযুগেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা, গবেষণা, লেখালেখি ও সম্পাদনার সাথে যুক্ত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন। পড়েছেন মিডিয়া ও জার্নালিজমেও। জন্ম টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর থানার হাতীবান্ধা গ্রামে।

View all posts by আনিসুর রহমান এরশাদ →

Leave a Reply

Your email address will not be published.