পর্নোগ্রাফি পর্নো-আসক্তি ও যৌনবিকৃতি

বিশ্বব্যাপী যৌনসন্ত্রাস বৃদ্ধির ঘটনাকে বিভিন্ন সময়ে পর্নোগ্রাফি ও অশ্লীলতা চর্চার ফল।  বাংলাদেশেও পর্নো আসক্তির প্রকোপ বাড়ছে। পর্নোগ্রাফিতে বুঁদ হওয়ার মতো বিধ্বংসী ও বিষাক্ত কাজ আর কী হতে পারে! অথচ এই ব্যাপারে রাষ্ট্রীয়, পারিবারিক ও সামাজিক উদাসীনতা রয়েছে। অভিভাবকরা অসচেতন, সরকার ও কর্তৃপক্ষও কঠোর নন। পর্নোগ্রাফির ঝুঁকি যেভাবে বাড়ছে তা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে কঠোর আইন ও তার যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। পর্নো আসক্ত প্রজন্ম পারে একটি মেধাহীন ও অসুস্থ সমাজ উপহার দিতে- তাই সচেতন হতে হবে এখনই।

এক নজরে দেখে নিন লুকিয়ে রাখুন

পর্নোগ্রাফি আসক্তরা মেয়েদের  উত্যক্ত করে

স্কুল পর্যায়ে শিশু-কিশোরদের পর্নোগ্রাফির প্রতি আসক্তি এবং এ থেকে উত্তরনের উপায় নিয়ে ইউএনডিপি বাংলাদেশ এবং সেন্টার ফর ম্যান অ্যান্ড ম্যাসকুলিনিটি স্টাডিজের (সিএমএসএস) যৌথ উদ্যোগে ‘ব্রেভম্যান ক্যাম্পেইন’ পরিচালনা করে। ২০১৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৮ সালের মে রংপুর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর ও কক্সবাজার স্কুলগামী ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সী  ৯০০ ছেলের সাক্ষাৎকার  নেয়।

১৮ বছরের নিচে স্কুলগামী ছেলেদের মধ্যে শতকরা ৮৬.৭৫ ভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে এবং শতকরা ৮৪.২২ ভাগ ইন্টারনেটের জন্য মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। তন্মধ্যে  শতকরা ৬১.৬৫ ভাগ পর্নোগ্রাফি দেখে আর ৫০.৭৫ ভাগ ছেলে ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফি খোঁজে। পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত ছাত্রদের শতকরা ৬৩.৪৫ ভাগ প্রথম মোবাইলে পর্নোগ্রাফি দেখেছে। স্কুলগামী যেসব কিশোর পর্নোগ্রাফি দেখে তাদের শতকরা ৭০.৫৫ ভাগ মেয়েদের শারীরিকভাবে উত্যক্ত করতে চায়। 

স্কুলগামী অধিকাংশ শিক্ষার্থীই পর্নোগ্রাফি দেখে

শিশুদের পর্নো আগ্রহ নিয়ে গবেষণা করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া ৫০০  শিক্ষার্থীদের নিয়ে  পরিচালিত জরিপে জানা যায়, ‘ঢাকার স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের প্রায়  ৭৭ ভাগ কোনো না কোনোভাবে  পর্নোগ্রাফি দেখে৷  দেশে তৈরি পর্নোগ্রাফিগুলোয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ভিডিও দেখানো হচ্ছে, তাদের বয়স ১৮ বছরের কম। ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের মাঝে অ্যামেচার পর্নো বানানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

পর্নোগ্রাফি ছবি, ভিডিও, অডিও এবং টেক্সট আকারে ব্যবহার করে৷  প্রধানত মোবাইল ফোনে অনলাইনে পর্নোগ্রাফি দেখে৷ এর বাইরে ট্যাব, ল্যাপটপেও তারা দেখে৷ আবার পেনড্রাইভ ব্যবহার করে বিনিময়ও করে৷ ঘরে ঘরে ব্রডব্যান্ড আর ওয়াইফাই সহজলভ্য হওয়াতে এর বিস্তার বেড়েছে অনেক বেশি।  অল্প বয়স থেকেই পর্নো মুভি দেখার ফলে নানারকম সামাজিক অবক্ষয়ের ঘটনা ঘটছে।

বর্তমানে চারটি পদ্ধতিতে অশ্লীল ভিডিও তৈরি হচ্ছে। তাতে ১৮ বছরের কম বয়সী স্কুল-কলেজ পড়ূয়া শিক্ষার্থীদের দেখা যাচ্ছে। ভিডিওগুলোয় দেখা যায়, ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ঘিরে তরুণ-তরুণীরা বিভিন্ন ধরনের পর্নো ভিডিও তৈরি করছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, পর্নো ভিডিওটি তৈরির বিষয়ে নারীটি জানে না। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, তরুণ-তরুণী কেউই জানে না, তৃতীয় কোনো ব্যক্তি লুকিয়ে ভিডিও করছে। মোবাইল ফোনের সঙ্গে ভিডিও রেকর্ডিং সুবিধা থাকায় এ ধরনের পর্নো ভিডিও তৈরি হচ্ছে এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে তা দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে তৈরি পর্নোগ্রাফির তুলনায় ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ঘিরে তৈরি পর্নোগ্রাফি শিশুরা বেশি দেখছে। পর্নোগ্রাফি দেখার কারণে কিশোররা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে না। যৌন সহিংসতার প্রতি আকৃষ্ট হয়, অশ্লীলতার চর্চা বেড়ে যায়। সামাজিক মূল্যবোধ নষ্ট হয়ে যায়, মনে ধর্ষণের ইচ্ছা জাগিয়ে তোলে।’ ২ 

দেশেও তৈরি হচ্ছে পর্নোগ্রাফি

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের গবেষক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘একটা সময় ছিল যখন সিডি, ডিভিডি দেখে পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়তো শিক্ষার্থীরা। এখন তো প্রেক্ষাপট ভিন্ন। অনলাইনে আসক্তি বেড়েছে। বাংলাদেশে ৩০-৩৫ বছর যাদের বয়স এবং তাদের মধ্যে যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, তাদের শতভাগই একবার হলেও পর্নোগ্রাফি দেখেছেন। নিয়মিত পর্নোগ্রাফি দেখেন ৯০ ভাগ। আর যুবনারীদের মধ্যে সংখ্যাটা শতকরা ৫০ ভাগ।

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে পর্নোগ্রাফির প্রবণতা বাড়ছে৷ টেক্সট, ছবি ও ভিডিওর বাইরে অডিও পর্নোগ্রাফি একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে৷ পেশাদারদের মাধ্যমে সেক্স টেক্সটের অডিও তৈরি করে তা অনলাইনে ছাড়া হচ্ছে৷ ইউটিউব-এ ‘আপ’ করা হচ্ছে৷ এর বাজারও বাড়ছে৷ এর বড় একটি অংশ মোবাইলে অডিও পর্নোগ্রাফি শোনে৷ অভিভাবকেরা শিশুদের দামি মুঠোফোন, ট্যাব ও সেগুলোয় ইন্টারনেট সংযোগ দিচ্ছেন, কিন্তু তারা কি কাজে এগুলো ব্যবহার করছে সে সম্পর্কে খোঁজখবর করছেন না। এ দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

বাংলাদেশে চারভাবে পর্নোগ্রাফি তৈরি হয়। প্রথমটি হলো নারী-পুরুষের সম্পর্কের ভিডিও বা অডিও। এটি একজনের অজান্তে অন্যজন ধারণ করে৷ আবার উভয়ের সম্মতিতে ভিডিও, অডিও বা স্টিল ছবি তোলা হয় গোপন রাখার শর্তে৷ পরে যেকোনো একজন তা প্রকাশ করে দেন৷ নারী-পুরুষের অজান্তে তাদের ডেটিং প্লেস ঠিক করে দেয়া ব্যক্তিও গোপনে ভিডিও ধারণ করে। এখন বাণিজ্যিকভাবে পেশাদারদের মাধ্যমেও তৈরি হচ্ছে নীল ছবি।’

পর্নোগ্রাফির শিকার হচ্ছে কন্যাশিশুরা

২০২১ সালে বছরব্যাপী সারাদেশে নির্যাতিত কন্যাশিশু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রস্তুতকৃত জরিপ প্রতিবেদনে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম জানায়, ২০২১ সালে পর্নোগ্রাফির শিকার হয়েছে ৫২ জন কন্যাশিশু।

দেশে প্রতিদিন সহস্রাধিক কন্যাশিশু পর্নোগ্রাফি ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়। এর মধ্যে গড়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন ভিকটিম সাইবার হয়রানি সম্পর্কিত অভিযোগ কেন্দ্রে মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ দাখিল করে। প্রতিদিন ৩০টি অভিযোগ দাখিল হলে মাসে আনুমানিক ৯০০টি অভিযোগ জমা হয় বলে ধরে নেওয়া যায়।

ক্লাসে বসেও পর্নো দেখে শিক্ষার্থীরা

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল পরিচালিত ২০১৩ সালে ঢাকার কয়েকটি স্কুলে অষ্টম শ্রেণির কিছু ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর করা জরিপে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৮২ শতাংশ সুযোগ পেলে মোবাইলে পর্নো দেখে।  ক্লাসে বসে পর্নো দেখে ৬২ শতাংশ। ৭৮ শতাংশ গড়ে ৮ ঘণ্টা মোবাইলে ব্যয় করে। ৪৩ শতাংশ প্রেম করার উদ্দেশ্যে মোবাইল ব্যবহার করে।

পর্নোগ্রাফির সহজলভ্যতা বাড়াচ্ছে সহিংসতা

বাংলাদেশে ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফির সহজ বিস্তার এবং নারীর প্রতি সহিংসতা শীর্ষক জরিপ পরিচালনা করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এবং ডি-নেট । ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশের ৮টি বিভাগের ১৬টি জেলা থেকে ৫১৮জন নারী ও পুরুষের (পুরুষ ৫৩ শতাংশ) কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ডেস্ক রিসার্চ, অনলাইন রিসার্চ, হাইপোথিসিস, সার্ভে ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়। প্রতিটি সেন্টার থেকে ৩০ জন, গ্রাম ও শহর এলাকায় ৫০ শতাংশ করে নারী ও পুরুষ স্যাম্পল ধরা হয়।

জরিপে ৩৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মতামত- দিয়েছে ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফি সহজলভ্য হওয়ার কারণে নারীর প্রতি পুরুষের অবমাননাকর দৃষ্টিভঙ্গি এবং সহিংসতা বেড়েছে। ৮৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন অনলাইনে নারীর প্রতি অবমাননাকর কনটেন্ট বাড়ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে এসব কনটেন্ট তৈরিতে নারীদের ব্যবহার করা হচ্ছে। অংশগ্রহণকারী ৮২ শতাংশ নারী ও পুরুষ মনে করছে সমাজে মেয়েদের প্রতি সহিংস ও নির্যাতনমূলক আচরণ বেড়েছে। অনলাইনে মন্দ কনটেন্ট যেমন অ্যাডাল্ট ম্যুভি, ন্যুডিটি, পর্নোগ্রাফি শতকরা ৭৫ জন ছেলে দেখে থাকে বলে উত্তরদাতারা মনে করেন।

পর্নে দেখা আচরণ অনুকরণ

তরুণদের উপর পর্নোর প্রভাব নিয়ে মিডলসেক্স ইউনিভার্সিটির ডক্টর এলিনা মারতেল্লোজ্জো গবেষণা করেছেন। ১১ থেকে ১৬ বছরের এক সহস্রাধিক কিশোর-কিশোরীকে নিয়ে পরিচালিত গবেষণাটিতে দেখা গেছে- ৫০ শতাংশ ১৪ বছর বয়স থেকে পর্নো দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে।

৫০ শতাংশ প্রথমে দূর্ঘটনাবশত ‘অশ্লীল ছবি এবং ভিডিও’দেখেছিল। ১৩ থেকে ১৪ বছরের ছেলেদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশেরও বেশি জন পর্নো দেখা আচরণগুলোকেই অনুকরণ করতে চায়। ১১ থেকে ১৬ বছরের ছেলেদের অর্ধেকই পর্নোকে বাস্তব বলে মনে করে।

৫ বছর বয়সেই পর্নো অভিজ্ঞতা !

নারী, যৌনতা এবং পর্নোগ্রাফির সাথে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে গবেষণা করেছেন নেব্রাস্কা-লিঙ্কন বিশ্ববিদ্যালয়ের আলিসা বিস্কম্যান ও ক্রিসি রিচার্ডসন। ১৭ থেকে ৫৪ বছর বয়সী ৩৩০ জন পুরুষের ওপর করা জরিপের মধ্যে লোকজন প্রথম পর্নো অভিজ্ঞতা অর্জন করে গড়ে ১৩ বছর বয়সে। সবচেয়ে ছোট ৫ বছর বয়সে আর সবচেয়ে বেশী বয়স্ক হচ্ছে ২৬ বছর।

প্রায় ৪৩ শতাংশ পর্নো দেখে প্রথমবার দুর্ঘটনা বশত, যেখানে ৩৩ শতাংশ বলেছে স্ব-ইচ্ছায় দেখেছে এবং ১৭ শতাংশ তাদের জোর করে দেখানো হয়েছে কারো না কারো দ্বারা। বাকি ৬ শতাংশ কোন উত্তর দেয়নি। যত কম বয়সে একটি ছেলে পর্নো দেখে, তার মাঝে নারীদেরকে ছোট করে দেখার সম্ভাবনা তত বেশি হয়। যারা কম বয়সে পর্নো দেখেন, তাদের মাঝে নারীদের ওপর কর্তৃত্ব করতে চাওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। নারীকে সম্মানের পরিবর্তে নিজেদের চাইতে ছোট অবস্থানে দেখে তারা।

পর্ন দেখার অভিজ্ঞতা নিয়ে যৌন সম্পর্কে

শিশুদের মধ্যে পর্ন দেখার অভিজ্ঞতা নিয়ে জরিপ চালিয়েছে ব্রিটিশ বোর্ড অফ ফিল্ম ক্লাসিফিকেশন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১১ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১,১০০ শিশুর ওপর পরিচালিত সমীক্ষাটিতে দেখা যায়- ১৬ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে যাদের যৌন সম্পর্কের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের ১৮% বলেছে পর্নোগ্রাফিতে তারা যা দেখেছে সেসব তারাও তাদের জীবনে করে দেখেছে, কিংবা তাদের সঙ্গী সেরকম করতে বলেছে।

১৬ বছরের বেশি ছেলে-মেয়েদের ৩০% বলেছে পর্নো দেখার পর সেক্স সম্পর্কে তাদের মনে যেসব ইচ্ছে তৈরি হয়েছিল, বাস্তব জীবনে সেক্স করার সময় সেগুলো পূরণ হয়নি। ১১ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের ২৯% বলেছে, পর্নোগ্রাফিতে নারী ও পুরুষদের দেখার পর নিজেদের শরীরের বিষয়ে তাদের মনে খারাপ অনুভূতি তৈরি হয়েছে। তারা বলেছেন যে পর্নোগ্রাফি দেখার পর তারা তাদের শরীর অপছন্দ করতে শুরু করে।

পর্নো-আসক্তির চারটি ধাপ

পর্নোগ্রাফির প্রভাব নিয়ে ইউনিভার্সিটি অফ ইউটাহ এর ইমেরিটাস প্রফেসর ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ড. ভিক্টর বি. ক্লাইন বলেছেন, পর্নো-আসক্তির সূচনা থেকে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছতে ধাপগুলো হচ্ছে : ১) Addiction-আসক্তি ২) Escalation-বৃদ্ধি ৩) Desensitization- সংবেদনশীলতা  হ্রাস পাওয়া ৪) Acting Out-বাস্তবায়ন।১০

জননতন্ত্রের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে  নপুংসক

যারা সান দিয়েগো ইউরোলজি ক্লিনিকে জননতন্ত্রের চিকিৎসা নিয়েছেন এমন ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী তিন শতাধিক পুরুষের ওপর পর্নো আসক্তির প্রভাব নিয়ে গবেষণা হয়েছে ২০১৭ সালের মে মাসে। আমেরিকান ইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনে জানিয়েছে- পর্নোগ্রাফির প্রতি আসক্তির কারণে পুরুষদের জননতন্ত্রের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে কেউ নপুংসক হয়ে যেতে পারেন।

তিন শতাধিক পুরুষের মধ্যে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ পর্নো দেখে নিয়মিত স্বমেহন করার পর শারীরিক সংসর্গ করেন। প্রতি চারজনে একজন বলেছেন, তাঁরা সপ্তাহে অন্তত একবার পর্নো দেখেন। আর ২১ দশমিক ৩ শতাংশ পুরুষ বলেছেন, তারা সপ্তাহে তিন থেকে পাঁচবার দেখেন। সপ্তাহে ছয় থেকে ১০ বার দেখেন পাঁচ শতাংশ পুরুষ এবং ৪ দশমিক ৩ শতাংশ পুরুষ সপ্তাহে ১১ বারের বেশি পর্নো দেখেন।১১

পর্নোগ্রাফি দেখায় ক্ষতিগ্রস্ত সম্পর্ক

ব্যক্তির উপর পর্নোগ্রাফির নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লাবাকয়ের টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটির এরিক রাজমুসে জরিপ চালিয়েছেন। তিন’শ কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীর সাথে আলাপ করেছেন। দেখেছেন- সঙ্গীর পর্নোগ্রাফি দেখার অভ্যেসের কারণে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পর্নোগ্রাফি বিষয়ে বাবা-মায়ের মধ্যস্থতার দরকার রয়েছে। পর্নোগ্রাফি বিষয়ে সন্তানের সঙ্গে অভিভাবকের কথা বলা উচিত। শিশুদের সামনে অশ্লীল ছবির নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরা উচিত।১২

পর্নোগ্রাফির দর্শক থেকে নিপীড়নকারী 

অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অফ মেলবোর্ন এর গেমা ম্যাককিব্বিন এক গবেষণায় বলেছেন, শিশু নিপীড়নকারী তরুণরা জানিয়েছেন যে তারা যদি ‘নিয়ন্ত্রিত’ পর্নোগ্রাফি আর সময়মতো উপযুক্ত ‘যৌন শিক্ষা’ পেতেন তাহলে এমন বিকৃত আচরণ করতেন না।

অবাধে তরুণ সমাজের পর্নোগ্রাফিতে অভ্যস্ত হওয়া চোখের পলকে পরবর্তী প্রজন্মের সংস্কারের সঙ্গে বেড়ে উঠার প্রথা নষ্ট করে দিচ্ছে। ছয় বছরের কম বয়সী শিশুরা হয়রানির শিকার হয় বেশি আর বিকৃত আচরণের নিপীড়কদের বয়স গড়ে মাত্র ১২ বছর।১৩

 পর্নোগ্রাফিতে আসক্তদের জীবনের ছন্দপতন

ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী জেফরি সেটিনোভার দেখিয়েছেন, পর্নোগ্রাফি দেখার ফলে মানুষের মস্তিষ্ক কড়া মাদক সেবনকারীর মস্তিষ্কের মতো বিকৃত হয়ে যায়। যখন একজন মানুষ পার্নোগ্রাফি দেখে তখন তার রক্তের চাপ বাড়তে শুরু করে। তার হৃদস্পন্দনও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে যদি তিনি দুর্বল হৃদয়ের মানুষ হন তাহলে তার হার্ট আ্যাটাকের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়।

পর্নোগ্রাফি থেকে মাস্টারবেশনের অভ্যাস তৈরি হয়। ফলে চোখের সমস্যা, স্মরণশক্তি কমে যাওয়া, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয়। পর্নোগ্রাফি আসক্তি হেরোইনের মতোই বিপজ্জনক। মাদকাসক্ত ব্যক্তির মাদক গ্রহণের সময় মস্তিষ্কের যে অংশে অনুভূতি কাজ করে, পর্নোগ্রাফি দেখার সময়ও মস্তিষ্কের ওই অংশটি ভীষণভাবে উদ্দীপ্ত হয়। ফলে মাদকাসক্তদের মতো পর্নোগ্রাফিতে আসক্তদের জীবনের ছন্দপতন ঘটে।১৪

পর্নো দর্শন থেকে যৌন অনাগ্রহতা

অতিরিক্ত পর্ন দর্শনে ক্ষতি নিয়ে ড. নিকোল প্রস ইতালিতে গবেষণা করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে-  মাত্রারিক্ত পর্নো দেখার ফলে পর্নে আসক্ত ব্যক্তি ক্রমশ ‘সেক্সুয়াল অ্যানোরেক্সিয়া’ বা যৌন অনাগ্রহতার দিকে ঝুঁকতে পারেন।

তাছাড়াও হতে পারে বিষন্ন ও উদ্বেগ ব্যধি। যদি পর্নো দেখার বিষয় প্রতিনিয়ত কাজে প্রভাব ফেলে, ব্যবহারিক আচরণে প্রভাব ফেলে তবে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া উচিত।১৫

পর্নোচর্চায় আচরণের সমস্যা 

মার্কিন গবেষক ড. জুডিথ রিসম্যান জানিয়েছেন, পর্নো ‘ইরোটোটক্সিন’। পর্নোচর্চা করতে থাকলে মস্তিষ্কে ডোপামিন, এপিনেফ্রিন, এন্ডোরফিন জাতীয় রাসায়নিক পদার্থের সাম্যাবস্থা নষ্ট হয়, মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, চিন্তা ও আচরণের সমস্যা দেখা দেয়।১৬

পর্নো নেশায় বহুবিধ সঙ্কট

ডায়াগনিস্টিক অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিক্যাল ম্যানুয়াল অফ মেন্টাল ডিসঅর্ডার্স (DSM-5) জানিয়েছে, নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক যৌনতা বিষয়ক ভিডিয়ো ও ছবি দেখার নেশার প্রকোপে শারীরিক, মানসিক, আনুভূতিক এবং অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

পর্নো আসক্তিতে মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি

কেইস ওয়েস্টার্ন রিভার্স ইউনিভার্সিটির জশুয়া গ্রাবস গবেষণা করে দেখেছেন- পর্নো আসক্তি মানসিক স্বাস্থ্যের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। যারা বিশ্বাস করেন যে তারা পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত তারা বিভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা যেমন: দুশ্চিন্তা, ক্রোধ ও উৎকণ্ঠা অনুভব করে থাকেন।

পর্নো দেখা নিয়ে সবার সামনে অপমানিত হওয়া, বৈবাহিক সম্পর্কে জটিলতা তৈরি হওয়া কিংবা কর্মক্ষেত্রে ধরা পড়া ও চাকরি হারানো— এগুলোই মূলত মনস্তাত্ত্বিক জটিলতার কারণ।১৮

পর্নোগ্রাফি দেখলে স্মৃতিশক্তি কমে

জার্মানির ডুইসবুর্গ-এসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী ডক্টর ক্রিস্টিয়ান লেয়ের পর্নো ছবি দেখার প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেছেন। ২৬ বছর বয়সী ২৮জন মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণাটিতে দেখা গেছে- পর্নোগ্রাফি মানুষের স্মরণশক্তি কমিয়ে দেয়, চিন্তাশক্তি হ্রাস করে, অমনোযোগী করে এবং পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

পর্নো দেখার প্রতিক্রিয়া স্মৃতিশক্তি কমা এবং মনোযোগী হবার ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া। পর্নো দেখার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব হিসাবে ডিপ্রেশন, সামাজিকভাবে ব্যর্থতা ও একাকিত্ব থাকার প্রবণতা পর্যন্ত পাওয়া গেছে। ১৯

পর্নোগ্রাফি জীবনের অন্ধকার দিক

২০১৯ সালে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী লোকজনের ওপর পরিচালিত এক জরিপে ৭৭% পুরুষ এবং ৪৭% নারী বলেছে যে জরিপের আগের মাসে তারা পর্নোগ্রাফি দেখেছে। তবে তাদের বেশিরভাগই বলেছে, পর্নোগ্রাফিতে যে সেক্স দেখানো হয় তার সঙ্গে বাস্তব জীবনের সেক্সের কোনো সম্পর্ক নেই।

পর্নোগ্রাফি তাদের জীবনের একটি অন্ধকার দিক। জরিপে অংশগ্রহণকারী নারীদের ৬০ শতাংশ এবং পুরুষদের ৪৯ শতাংশ বলেছেন, পর্নোগ্রাফিতে যা দেখানো হয় সেটা অসম্ভব।২০

ব্রিটেনে ৫ জনে ১ জন পর্নাসক্ত

MSNBC পরিচালিত ব্রিটেনের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে- প্রতি ৫ জন পুরুষ (পর্নো আক্রান্ত) এর ১ জন তাদের স্ত্রী ছেলে মেয়েদের দেওয়া সময় কেটে নিয়ে পর্নো দেখে পার করেন। নিজের ভিতরে একটি কল্পনার কারণে মানুষ তার বাস্তব জীবনে পরিপুর্ণতায় একটা অভাব দেখা দিতে পারে।২১

পর্নোগ্রাফিকে ক্যারিয়ার হিসেবে বিবেচনা

ব্রিটেনের সাভাম্তা কমরেস নামের একটি সংস্থার দ্য ন্যাকেড ট্রুথ প্রজেক্ট ব্রিটেনে ২ হাজার ৮৭ জনের ওপর জরিপ চালিয়েছে; যাদের প্রত্যেকের বয়স ১৮ থেকে তদুর্ধ্ব। জরিপে দেখা গেছে- যুক্তরাজ্যে প্রতি পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন তরুণ-তরুণী পর্নোগ্রাফিকে ক্যারিয়ার হিসেবে বিবেচনা করতে রাজি আছেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী ৩২ শতাংশ বলেছেন, অর্থ উপার্জনের প্রলোভনের কারণে তারা এই পেশা বেছে নিতে চান।

এছাড়া জরিপে অংশগ্রহণকারী ৫৫ বছরের বেশি বয়সী ৮ শতাংশও একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। জরিপে অংশ নেওয়া ৫১ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন, যদি তাদের পরিবারের কেউ ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট তৈরি করেন, তাহলে তারা উদ্বিগ্ন হবেন। পর্নোগ্রাফি এখন আধুনিক সমাজের একটি গ্রহণযোগ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে বলে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের এক তৃতীয়াংশ একমত পোষণ করেছেন।২২

ইন্টারনেটে পর্নো দেখছে  শিশুরা

যুক্তরাজ্যের মিডলসেক্স ইউনিভার্সিটি ২০১৬-১৭ সালে এক গবেষণায় দেখেছে- ১১-১৬ বছর বয়সী ৪৮ শতাংশ শিশু ইন্টারনেটে পর্নো দেখেছে। এর মধ্যে ৯৩ শতাংশই তাদের বয়স ১৪ হওয়ার আগেই ইন্টারনেটে পর্নো উপভোগ করেছে। ৬০ শতাংশ শিশু প্রথম পর্নো দেখেছে নিজেদের বাড়িতে।২৩

হস্তমৈথুনের জন্য পর্নোগ্রাফি উপভোগ

আয়ারল্যান্ডে এক গবেষণায় দেখা গেছে- ৫২ শতাংশ ছেলে তাদের বয়স ১৩ হওয়ার আগেই হস্তমৈথুনের জন্য পর্নোগ্রাফি উপভোগ করেছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে।২৪ 

পর্নোগ্রাফির কারণে বাড়ছে বিচ্ছেদ

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমায় এক গবেষণায় দেখা গেছে- বিবাহিত ব্যক্তিদের মাঝে পর্নোগ্রাফির কারণে বিচ্ছেদের হার বেড়েছে। পর্নোগ্রাফির কারণে বিয়ে বিচ্ছেদের হার প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। অতীতে এটি ছয় শতাংশ থাকলেও বর্তমানে তা প্রায় ১১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

যে নারীরা দিনে ৩ বারের থেকেও বেশি নীল ছবি দেখেন তাঁদের বিবাহ বিচ্ছেদের ঝোঁক বেশি দেখা যায়। পর্নো বিবাহিত নারী ও পুরুষের শরীরে প্রভাব বিস্তার করে এবং তাঁদের স্বভাবজাত যৌন আচরণেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।২৫

পর্নোগ্রাফিতে ক্ষতিগ্রস্ত দাম্পত্য সম্পর্ক

ইন্ডিপেনডেন্ট এর একটি প্রতিবেদনে জানা যায়, সম্পর্কের মাঝেও প্রভাব বিস্তার করে পর্নোগ্রাফি। দম্পতিদের মাঝে কেউ যদি পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয় তাহলে তা তাদের রোমান্টিক সম্পর্কের মাঝে প্রভাব বিস্তার করে।২৬

পর্নোগ্রাফি শারীরিক ও  মানসিক সমস্যা বাড়ায়

যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের প্রফেসর ডেইডরি ব্যারেট বলেছেন, ইন্টারনেট পর্নোগ্রাফি মূলত কৃত্রিম অতিরঞ্জন। এতে প্রাকৃতিক বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করা হয়, যা যৌনতাকে স্বাভাবিক নয় বরং নানা অসম্ভব বিষয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেয়। ইন্টারনেট পর্নোগ্রাফির কারণে স্বাভাবিক যৌনতার বিষয়গুলো উপেক্ষিত হয়।

তার বদলে এমন সব মডেল ও যৌন আচরণকে প্রাধান্য দেওয়া হয় যা মানুষকে অনেকাংশে কল্পরাজ্যে নিয়ে যায়। এটি যখন মানুষ বাস্তব জীবনে সন্ধান শুরু করে তখন বহু সমস্যার সূত্রপাত হয়। এ কারণে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যাও দেখা দেয়, যার মধ্যে রয়েছে স্খলনজনিত নানা সমস্যা। এছাড়া মানসিক কিছু সমস্যাও তৈরি হয়, যে কারণে পারিবারিক সম্পর্কের মাঝে সমস্যা সৃষ্টি হয়।২৭

পর্নো আসক্তিতে বিয়ের প্রভাব 

পর্নো আসক্তিতে বিয়ের প্রভাব নিয়ে প্রায় ১০০ দম্পতির ওপর পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে-বিয়ের পর নারীদের পর্নোর প্রতি আসক্তি বাড়ে৷ আর ঠিক উল্টোটা ঘটে পুরুষদের ক্ষেত্রে৷ ১০০ জন নারীর মধ্যে বিয়ের আগে মাত্র ৯ শতাংশ নারী পর্নোগ্রাফি দেখতেন বলে জানিয়েছেন৷

আর বিয়ের পর সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ শতাংশে৷ অন্যদিকে, বিয়ের পর পুরুষদের মধ্যে পর্নোগ্রাফি দেখার ইচ্ছা কমে যায়৷ ১০০ জনের মধ্যে ২৩ জন পুরুষের পর্নোর প্রতি আসক্তি থাকলেও বিয়ের পর শতকরা মাত্র ১৪ জন পুরুষই পর্নো দেখার সময়-সুযোগ পান৷ ২৮

পর্নোগ্রাফি দেখায় কার্যক্ষমতা কমে

জার্মান এক গবেষক জানিয়েছেন, নিয়মিত পর্নোগ্রাফি দেখার ফলে মস্তিষ্কের একটি বিশেষ অংশ সংকুচিত হয়ে যায়। একই সাথে কমে যায় এর কার্যক্ষমতা। মানুষ যখন পর্নোগ্রাফি দেখে তখন মস্তিষ্কের অন্যতম পরিবাহক (নিউরোট্রান্সমিটার) ডোপামিনে একটি ঢেউ তোলে।

এই পরিবাহকটির অন্যতম কাজ আনন্দ এবং সুখের অনুভূতিগুলো বহন করে তার স্মৃতি নিউরণে পাঠিয়ে দেওয়া। একটা সময় মানুষ পর্নোগ্রাফি দেখা ছাড়তে চাইলেও মস্তিষ্ক অভ্যস্ততা থেকে একই রকম ঢেউ চায়, অর্থাৎ পর্নোগ্রাফি দেখতে আসক্ত হয়ে পড়ে। পাশাপাশি মানুষ বাস্তব জীবনে যৌনক্রিয়া থেকে আগ্রহও হারিয়ে ফেলে।২৯

পর্নোগ্রাফিতে আসক্তরা ব্যক্তিজীবনে অসুখী

২০১১ সালে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়- নিয়মিত পর্নোগ্রাফি দর্শকদের মস্তিষ্কের একটি বিশেষ অংশ ‘স্টেরিয়াটামের’ আকৃতি ও কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। মস্তিষ্কের এই অংশটি উদ্দীপনা গ্রহণ ও সুখানুভূতির সাথে সম্পৃক্ত।

পর্নোগ্রাফি দেখার ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমতে পারে। পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত ব্যক্তি তাঁর সঙ্গীর কাছে হেয় প্রতিপন্ন হয়। পর্নোগ্রাফিতে আসক্তরা ব্যক্তিজীবনে অসুখী হয়।৩০

পর্নোগ্রাফি সর্বনাশা পথ 

পাভলভ মানসিক হাসপাতালের সাইকিয়াট্রিস্ট অধ্যাপক ডা. শর্মিলা সরকার বলেন, বর্তমান সময়ে বাবা-মা এতটাই ব্যস্ত সময় কাটায় যে তাদের সন্তানকে খুব একটা সময় দিতে পারে না। ফলে শিশুরা একাকী সময় কাটাতে এবং শরীরবৃত্তীয় কামনা নিবৃত্ত করতে পর্নো সাইটের আশ্রয় নেয়।

আর এই একটা আসক্তির পথ ধরে আরও অনেক আসক্তি ঢুকে পড়ে কৈশোরের ঘেরাটোপে। এই সর্বনাশা পথ থেকে সন্তানদের ফেরাতে বাবা-মা-ই পারেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে। শিশুদের আউটডোর গেম, গল্পের বইতে আরও বেশি উৎসাহিত করা উচিত।৩১

ইয়াবা ও পর্নোগ্রাফিতে বিকৃত রূপ  

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক শাহানা হুদা বলেন, কিশোরদের মধ্যে পর্নোগ্রাফি দেখার প্রবণতা নিয়ে করা দেখা গেছে, স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত। প্রায় এক দশক ধরে ইন্টারনেট ও ডিজিটাল ডিভাইসের সহজলভ্যতা এই আসক্তি বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ইয়াবা ও পর্নোগ্রাফি যদি কোনো কিশোরের মাথার মধ্যে কাজ করে তবে সেটা একটি বিকৃত রূপ ধারণ করে।

পর্নোগ্রাফি নিয়ে আমাদের পুরোনো অনেক ধারণাকে বদলে দিয়েছে দেশীয় কনটেন্টে তৈরি পর্নোগ্রাফি, ফেইসবুক লাইভ, ইমো লাইভ, বাংলা নিম্নমানের সিনেমা এবং ওয়েবসিরিজ। পর্নোগ্রাফি ইস্যুটি এখানে নতুনভাবে ও ভিন্নভাবে উঠে এসেছে। যেমন বাংলা ভিডিওতে অশ্লীল গল্প বলা, যৌনপল্লী থেকে সরাসরি, অশ্লীল খবর ও গল্প, বাংলা ইমোতে ভিডিও সেক্স, ওয়েব সিরিজগুলোতে অশ্লীলতা, বাংলা যৌন কামনা উদ্রেককারী ব্লগ, বাংলা ইমো ভিডিও সেক্স প্রমোশন, রিয়াল এন্ড ভারচুয়্যাল সেক্স সার্ভিস গ্রুপস ইন ফেইসবুক, ইমো সেক্স সার্ভিস কাস্টমার ফেইসবুক অ্যান্ড অথিনটিকেশন।৩২

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শাহ এহসান হাবিব বলেন, ঢাকায় শিশুদের খেলাধুলার জায়গা নেই বললেই চলে। তাছাড়া পর্যাপ্ত বিনোদনের ব্যাবস্থাও নেই।

বাচ্চাদের জীবনটা চার দেয়ালের মধ্যে বন্দী হয়ে পড়াতে হাতের কাছে ইন্টারনেট, গেম, সামাজিক মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে দ্রুত পর্নোগ্রাফির দিকে ডাইভার্ট হচ্ছে শিশুরা।৩৩

 পর্নোগ্রাফি দেখছে ৮৫ ভাগ লোক

 বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, এক জরিপ প্রতিবেদনে জানা গেছে- ইন্টারনেট ব্যবহার করে কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৮০ ভাগ ও মোবাইল ব্যবহারকারীদের ৮৫ ভাগ লোক পর্নোগ্রাফি দেখছে।৩৪

পর্নো-আসক্তদের মস্তিষ্কের আকারে পরিবর্তন

জার্মানির বার্লিনে অবস্থিত ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনিষ্টিটিউটের ড. সাইমন কোহন ও চারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদল ২১ থেকে ৪৫ বছরে প্রায় ৬৪ জন সুস্থ ও সুঠাম দেহের পুরুষের উপর গবেষণা করে পর্যবেক্ষণ করেন, সুস্থ ও সুঠাম দেহের সাধারণ পুরুষদের মস্তিষ্কের তুলনায় যারা পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত বা নিয়মিত পর্নো ভিডিও দেখেন, তাদের মস্তিষ্কের আকার ধীরে ধীরে ছোট হয়ে যায়।

ষ্ট্রিয়াটোম নামের এক ধরণের সেনসিটিভ বিকল্প থিওরী পর্নোগ্রাফিতে আসক্তি সৃষ্টি করে। এটিই মূলত পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত ওই সকল পুরুষদের মস্তিষ্কের আকারে পরিবর্তন এনে থাকে। জার্মান সাইকিয়াট্রি জার্নালে এক স্টাডির রিপোর্টে এই তথ্য জানানো হয়েছে।৩৫

মানুষকে হীন আর অপমানিত করে পর্নোগ্রাফি

 স্নায়ুবিজ্ঞানী ডঃ নরম্যান ডয়জ The Brain That Changes Itself নামে একটি বই লিখেছেন। তিনি বলেন, ‘আজ থেকে ত্রিশ বছর আগে হার্ডকোর পর্নো বলতে যা বোঝানো হতো যাতে সঙ্গমের দৃশ্য একদম স্পষ্ট করে দেখানো হতো। তবে এখন হার্ডকোর পর্নো পরিবর্তন হয়েছে। এখন হার্ডকোর পর্নো নৃশংস আর বিকৃত যৌনাচারে ভরপুর। এগুলোতে যৌন মিলনকে শুধুমাত্র নিজের লালসা পূরণ আর জীবন সঙ্গীর প্রতি আক্রোশ আর কষ্ট দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে দেখানো হয়।

বর্তমানে পর্নোগ্রাফি মানুষকে হীন আর অপমানিত করে এতটা নিচে নামানো হয় যা এর আগে মিডিয়ায় আগে কখনো কেউ দেখেনি। কয়েক দশক আগে যা ছিল হার্ডকোর পর্নো বলে বিবেচিত ছিল এখন তা সফটকোর। তখনকার দিনের সফটকোর ক্যটাগরির পর্নো ছবিগুলো এখনকার দিনে টেলিভিশনের পর্দায় দর্শকদের যৌন সুরসুরি দেওয়ার জন্য নাচ-গান, মুভি-সিরিয়াল, পণ্যের বিজ্ঞাপনে প্রদর্শিত হচ্ছে।’ ৩৬

দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিচ্ছে পর্নোগ্রাফি

যুবসমাজে পর্নোগ্রাফির মারাত্মক প্রভাব নিয়ে বিখ্যাত সাইকোলজিস্ট জর্ডান ফোস্টার বলেছেন, ‘পর্নোগ্রাফি আসক্তি এমন একটি ভয়াবহ সমস্যা যা অস্ট্রেলিয়ান তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব বিস্তার করছে। আধুনিক মানব সমাজ আজ প্রযুক্তিতে পরিপূর্ণ এক বিশ্বে পা রেখেছে, একই সাথে আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে যৌনতার বিষয়বস্তুতে পূর্ণ এক বিশাল অন্ধকার জগত, যা কিনা মানুষের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করার চেয়ে অনেক বেশী সহজলভ্য। অনেক কম বয়সী বাচ্চারা পর্নোগ্রাফি থেকেই যৌনতা সম্পর্কে জানতে পারছে।

গুগলে বাহ্যিকভাবে খারাপ নয় এমন কিছু খোঁজ করলেও যৌনতা সম্পর্কিত চিত্র বা ইমেজ কাছে চলে আসে। অস্ট্রেলিয়ান ছেলেরা গড় ১১ বছর বয়সেই পর্নো খুঁজে পেয়ে যায়। ১৫ বছর বয়স হতে না হতেই ১০০ শতাংশ ছেলে এক্সট্রিম লেবেলের বা হার্ডকোর পর্নো দেখা হয়ে যায়। এখানেই সমাপ্ত নয়, সেইসব তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিচ্ছে অন্তরঙ্গ সম্পর্কগুলোর প্রতি, হিংস্র এবং অমানবিক যৌন আচরণ দ্বারা স্বাভাবিক যৌন আচরণকে বিকৃতভাবে রুপান্তর করছে। পর্নোগ্রাফিতে দেখানো অস্বাভাবিক দেহগঠনকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে অবাস্তব সব চিন্তা যা নিকটবর্তী মানুষগুলোকে ক্রমে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।’৩৭

পর্নো-আসক্তরা পরকীয়ায় যুক্ত

২০১৫ সালে ৭টি দেশে ২২টি ভিন্ন ভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, যারা অতিরিক্ত পর্নো বুদ হয়ে থাকে, তাদের কেউ কেউ যৌন নির্যাতনকে সমর্থন করে, এমনকি নিজেরাও যৌন নির্যাতন করে থাকে। যারা পরকীয়ায় যুক্ত তারা ২১৮ শতাংশ বেশি পর্নো দেখেন।

যারা যৌনকর্মীদরে সাথে যৌন মিলন করেন তারা ২৭০ শতাংশ বেশি পর্নো  দেখেন। পর্নোগ্রাফি ভূমিকা রাখছে পরিবার ভাঙ্গার কারণ হিসেবে। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব ম্যাটরিমোনিয়াল লইয়ার্স এক প্রতিবেদনে বলেছে, বৈবাহিক সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার পিছনে ৫৬ শতাংশই থাকে পর্নোগ্রাফি আসক্তি।৩৮

পর্নোসক্তির কোনো বয়সসীমা নেই

বিশ্বের মোট ওয়েবসাইটের ১২ শতাংশ (৪.২ মিলিয়ন) পর্নোসাইট। অ্যালেক্সার মতে, নেট ব্যবহারকারীদের ৬৫.৫ শতাংশ লোক পর্নো দেখে এবং চারশ মিলিয়ন ওয়েবসাইটের উপর করা জরিপে মানুষের প্রতি আটটি ক্লিকের একটি যৌন সাইট। গবেষণায় পাওয়া যায়, পর্নোসক্তির কোনো বয়সসীমা নেই, কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্ক পর্যন্ত সবাই এতে আসক্ত, যার মধ্যে পুরুষের তুলনায় নারীদের সংখ্যা বেশি।৩৯

নৈতিক অবক্ষয় ঘটাচ্ছে পর্নোসক্তি

নৈতিক অবক্ষয়ের অন্যতম প্রধান কারণ পর্নোসক্তি বা সাইবারসেক্সুয়াল আসক্তি। ফলাফল, যৌনাচরণের বিকৃতি ও যৌন নির্যাতনের হার বৃদ্ধি। ২০১৫ সালে দেশে ৩৬২টি যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে যা আগের বছরের চেয়ে ২৪ শতাংশ বেশি। পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতন, ব্ল্যাকমেইলও বাড়ছে। ২০১৫ সালে ৪৯টি পর্নোগ্রাফির ঘটনা গণমাধ্যমে এসেছে। আত্মঘাতি হয়েছে অনেক তারুণ্য, যাদের অধিকাংশই নারী।৪০

পর্নোগ্রাফির আসক্তি থেকে মুক্তির উপায়

লোকলজ্জার ভয় না করে আসক্ত সন্তানদের কাউন্সেলিংয়ে দিতে হবে। ডিজিটাল আসক্তি দূর করতে আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে সন্তানদের সম্পর্ক দৃঢ় রাখতে হবে এবং তাদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সময় ব্যয় করতে হবে।

স্কুলের শিক্ষক এবং মা-বাবার সঙ্গে সন্তানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরিকে গুরুত্ব দিতে হবে। অভিভাবক বা শিক্ষকদের মোবাইল ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কারণ ছেলেমেয়েরা তাদের বাবা-মা বা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের যা করতে দেখে তাই অনুকরণ করে থাকে।

পর্নোগ্রাফির বিষয়টিকে শুধু নৈতিকতার দৃষ্টিতে দেখলে হবে না, এটি যে বড় একটি সামাজিক ক্ষতি করছে বিষয়টিকে সেভাবে দেখতে হবে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

সুস্থ যৌনশিক্ষার বিপরীতে বিকৃত যৌনশিক্ষার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠা অশনি সংকেত। কোনোভাবেই এসব কনটেন্ট যাতে সহজলভ্য না হয় সেজন্য সর্বস্তরে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ জাগানো প্রয়োজন। সংযত জীবনযাপনে অভ্যস্ত করা দরকার । বাসাবাড়িতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রযুক্তিগত ডিভাইস ও মোবাইল থাকা এবং সেগুলো যত্রতত্র রাখা ঠিক নয়।

ডিজিটাল ডিভাইস দেয়ার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ-কড়াকড়ি বাড়াতে হবে এবং উপযুক্ত প্রয়োজন বিবেচনা করতে হবে। ছেলেমেয়েদের ‘স্ক্রিন টাইম লিমিট’ বেঁধে দিতে হবে, প্রয়োজনের আলোকে সময় ঠিক করে দিতে হবে।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফরমকে পজিটিভলি ব্যবহার করতে শেখাতে হবে। মানসিক দক্ষতা এবং অন্যান্য দক্ষতাও উন্নত করে এমন উপকারী ও শিক্ষামূলক অ্যাপ্লিকেশনগুলো ডাউনলোড করে দিতে হবে।

ফ্যামিলি বন্ডিংসটা শক্তিশালী করতে হবে। ছেলেমেয়েকে প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে। চাপ প্রয়োগ না করে এমন পজেটিভ মনোবৃত্তি তৈরি করতে হবে যাতে সে লুকিয়ে লুকিয়ে পর্নোগ্রাফি বা নিষিদ্ধ কোনো জিনিসের প্রতি আসক্ত না হয়।

পর্নোগ্রাফি বিশেষ করে চাইল্ড পর্নোগ্রাফি শিশু ধর্ষণের জন্য বিশেষভাবে দায়ী। তাই মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলতে হবে।

ছেলেমেয়েদের পর্যাপ্ত বই পড়ার প্রতি উৎসাহিত করতে হবে। আউটডোর অ্যাক্টিভিটিতে শরীরচর্চার প্রতি উৎসাহিত করতে হবে এবং উন্মুক্ত মাঠে তাদের নিয়মিত যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

শিশু-কিশোরদের ইন্টারনেট ব্যবহার এবং স্ক্রিন টাইমের ব্যাপারে অভিভাবকদের খেয়াল রাখা দরকার। বকাঝকা বা ভয়ভীতি না দেখিয়ে তাদের সাথে খোলামেলা কথা বলা উচিত। আন্তরিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের কোনো বিকল্প নেই।

অভিভাবকদের অসচেতনতা ও শিশুর প্রতি জীবনদক্ষতার অভাব কমাতে প্রশিক্ষণমূলক প্রোগ্রাম বাড়াতে হবে।

তথ্যসূত্র

১. bangla.bdnews24.com/bangladesh/article1523983.bdnews
২. www.dw.com/bn,
mzamin.com,
www.arthosuchak.com,
samakal.com

৩. mzamin.com,
www.prothomalo.com
৪. www.jagonews24.com
৫. ebanglalibrary.com

৬.www.bbc.com/bengali/news-60944192,
www.thedailystar.net/bangla,
www.samakal.com/bangladesh,
www.manobkantha.com.bd/editorial,
www.deshrupantor.com

৭. edition.cnn.com
৮. www.apa.org (American Psychological Association (APA),
www.iflscience.com,
www.livescience.com
৯. www.bbc.com/bengali/news-54684099

১০. www.protectkids.com/effects/patternofaddiction.htm
১১. nypost.com ,
www.prothomalo.com/lifestyle
১২. Journal of Children and Media,
bangla.bdnews24.com

১৩. bangla.bdnews24.com/tech
১৪. www.jugantor.com
১৫. timesofindia.indiatimes.com
১৬. www.prothomalo.com
১৮. www.medicaldaily.com

১৯. Why online porn make you forget – LiveScience,
amarspondon.wordpress.com/2016/04/18/pornography
২০. www.bbc.com/bengali
২১. www.ourislam24.com
২২. news.sky.com

২৩. news.priyo.com
২৪. www.theguardian.com
২৫.zeenews.india.com,
www.hindustantimes.com
২৬. www.independent.co.uk

২৭.www.kalerkantho.com
২৮. www.sangbadpratidin.in
২৯. www.dailymail.co.uk
৩০. www.psychologytoday.com,
www.ntvbd.com,
www.dailymail.co.uk

৩১. www.sangbadpratidin.in
৩২. www.thedailystar.net/bangla
৩৩. bdtimesnews.com,
prothomalo.com,
www.techmorich.com
৩৪. www.banginews.com

৩৫. সময় নিউজ, ১৭ জুলাই ২০১৮ সংখ্যা, অনলাইন সংস্করণ
৩৬. nobojagaran.com
৩৭. nobojagaran.com/pornography-does-not-increase-human-sexual-satisfaction
৩৮. https://wp.me/p9ntS8-nh
৩৯. https://blog.bdnews24.com/alauddinvuian/181770
৪০. https://blog.bdnews24.com/alauddinvuian/181770

About আনিসুর রহমান এরশাদ

শিকড় সন্ধানী লেখক। কৃতজ্ঞচিত্ত। কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী। ভেতরের তাগিদ থেকে লেখেন। রক্ত গরম করতে নয়, মাথা ঠাণ্ডা ও হৃদয় নরম করতে লেখেন। লেখালেখি ও সম্পাদনার আগ্রহ থেকেই বিভিন্ন সময়ে পাক্ষিক-মাসিক-ত্রৈমাসিক ম্যাগাজিন, সাময়িকী, সংকলন, আঞ্চলিক পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ব্লগ ও জাতীয় দৈনিকের সাথে সম্পর্ক। একযুগেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা, গবেষণা, লেখালেখি ও সম্পাদনার সাথে যুক্ত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন। পড়েছেন মিডিয়া ও জার্নালিজমেও। জন্ম টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর থানার হাতীবান্ধা গ্রামে।

View all posts by আনিসুর রহমান এরশাদ →

Leave a Reply

Your email address will not be published.