উন্নয়নে প্রয়োজন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি

দেশের সুখ, শান্তি , উন্নতি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিতকরণে জাতির ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজনীয় অপরিসীম। দেশের প্রতিটি মানুষই সাধারণত জানে তারা কোথায় যেতে চায়, কিন্তু তারা জানে না কেন সেখানে পৌঁছতে পারছে না। সাফল্য লাভের আকাঙ্ক্ষা সবারই আছে কিন্তু সবাই সে আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে পারে না। দেশের প্রতিটি নাগরিক যদি সচেতন হয়, সাফল্য লাভে সর্বশক্তি নিয়োগ করে, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন হয় তবে দেশের অগ্রগতি না হয়ে পারে না।

ব্যক্তিগত পরিসরে সাফল্য লাভের হার বৃদ্ধিই সামগ্রিক পরিসরে জাতির সামনে এগিয়ে চলাকে ত্বরান্বিত করবে। নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন জাতি দ্বারা দেশের বৃহত্তর কল্যাণ হাসিল অসম্ভব। সফল জীবনের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব গঠনকে তাই অগ্রাধিকার দিতে হবে। সেক্ষেত্রে যা করণীয়-

এক নজরে দেখে নিন লুকিয়ে রাখুন

ইতিবাচক মনোভাবসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব গঠন

একটি সমৃদ্ধ জাতিকে যদি একটি মনোরম প্রাসাদের সাথে তুলনা করি তবে জাতির অনেক সদস্যই হচ্ছে সেটির খুঁটি। কেউ ইট, বালু, সিমেন্ট যাই হোক, কারো গুরু ত্বই কম নয়; অত্যন্ত মূল্যবান। সবার শক্তি, সামর্থ্যরে সর্বোচ্চ ব্যবহার ও ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসেই মজবুত প্রাসাদ গড়ে উঠতে পারে। তবে শর্ত হচ্ছে, যার ক্ষমতা, যোগ্যতা যে পরিসরে যতটুকুই থাকুক তা ভেজালমুক্ত, খাঁটি হওয়া চাই।

একজন ইতিবাচক ব্যক্তিত্ব-দায়িত্ব গ্রহণ করেন, সুবিবেচনা করেন, সকলের লাভ হোক এই চিন্তা করেন, সতর্কতার সাথে শব্দচয়ন করেন, অপরের ব্যবহারের ইতিবাচক ব্যাখ্যা করেন; সমালোচনা এবং অভিযোগ করেন না, আলোচনা করেন তবে তর্ক করেন না, খোশগল্প করেন না।

ইতিবাচক ব্যক্তিত্ব গঠনের পদ্ধতি হচ্ছে, প্রসন্ন এবং সদয় হওয়া, ভালো শ্রোতা হওয়া, সৎ ও আন্তরিকভাবে কাজের মূল্য উপলব্ধি করে অন্যের প্রশংসা করা, ভুল হলে সঙ্গে সঙ্গে স্বেচ্ছায় ভুল স্বীকার করে নেয়া, কেউ ভুল স্বীকার করলে তা মেনে নেন এবং তার মুখ রক্ষার সুযোগ দেন।

এছাড়া প্রতিজ্ঞাকে অঙ্গীকারে পরিণত করা, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, অন্যের কাছে কৃতজ্ঞতার আশা না করা, নির্ভরযোগ্য হওয়া এবং আনুগত্য অনুশীলন করা, উদ্যমী হওয়া, বিদ্বেষ পোষণ না করে ক্ষমা করা, সততা-সার্বিক ন্যায়পরায়ণতা ও আন্ত রিকতা অনুশীলন করা, বিনম্রতা অনুশীলন করা, অপরকে বোঝবার চেষ্টা করা এবং তার সম্পর্কে মনোযোগ দেয়া, প্রতিদিনের ব্যবহারে সৌজন্যমূলক আচরণ অনুশীলন করা, বিদ্রুপাত্মক বাক্য পরিহার করা, অন্যকে দমনের মনোভাব না থাকা, বন্ধুলাভের জন্য বন্ধু হওয়া।

পারস্পরিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়া

অসচেতন বন্ধুর চাইতে সচেতন শত্রু উত্তম। অসচেতন ব্যক্তির গভীর সংস্পর্শ সচেতন ব্যক্তির বড় বিড়ম্বনা । কী ধরনের মানুষের সঙ্গে মেলামেশা শুধু তাই দিয়ে নয়, কাদের সঙ্গ এড়িয়ে চলে তাই দিয়েও মানুষের চরিত্র বিচার হয়। প্রত্যেকের মধ্যেই প্রতিভার স্ফুটিঙ্গ বিদ্যমান।

চরিত্রবান মানুষের সংস্পর্শে এসে এই স্ফুলিঙ্গ সহস্র শিখায় দীপ্তিমান হয়ে ওঠতে পারে, আর সম্পর্ক রক্ষা করতে প্রয়োজন অন্যের প্রতি আগ্রহ, অন্যকে বোঝার চেষ্টা, হাসি হাসিমুখ। অতিদর্প ভালো নয়, আড়ালে সমালোচনা কখনো নয়; অন্যকে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রচেষ্টার দ্বারা মহত্তর জীবনে উত্তরণের পথ খুলে যেতে পারে।

বন্ধুত্বের ব্যাপারে সচেতন থাকা

ইমাম গাযালী (রহ.) বলেছেন, যার সাথে বন্ধুত্ব করবে তার মধ্যে পাঁচটি গুণ থাকা চাই-১) বুদ্ধিমত্তা ২) সৎ স্বভাব ৩ ) পাপাচারী না হওয়া ৪) বিদআতি না হওয়া ৫) দুনিয়াসক্ত না হওয়া ।

হযরত আলী (রা.) বলেছেন, মূর্খের সঙ্গে বন্ধুত্ব করো না; সে তোমার উপকারের চেষ্টা করে তোমার ক্ষতি করবে। নিজের চেয়ে বুদ্ধিমান কাউকে সঙ্গী বা বন্ধু-বান্ধব হিসেবে বেছে নিলে বুদ্ধির তীক্ষ্মতা বজায় থাকে, বুদ্ধি উদ্দীপিত হয়, ফলে স্মৃতিশক্তি ভাল থাকে। সুতরাং এ ব্যাপারটি গুরু ত্বের সাথে বিবেচনা করা জরু রী।

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করা

একসময় মনে করতাম, যে উদ্যোগই নেব সেখান থেকে যাতে অর্থ আসে, জ্ঞান বাড়ে ও ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়। পরে বুঝলাম, না কিছু কাজ শুধু টাকার জন্য, কিছু কাজ শুধু জ্ঞানের জন্য এবং কিছু কাজ ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য হতে পারে। তবে হ্যাঁ যে কাজে সম্পৃক্ত হলে একাধিক ফল আসে সেটা অগ্রাধিকার পাবে নিঃসন্দেহে।

কাজে ব্যস্ত থাকা

সত্যিকারের কর্মপাগল ব্যস্তমানুষের ব্যস্ত তার অজুহাত দেয়ার সময়ও থাকে না, পরিশ্রমপ্রিয় মানুষেরা সর্বদা কাজ খুঁজে বেড়ায়; কাজ-কর্ম-ব্যস্ত তা না থাকাটাই তার অস্বস্থির কারণ। কমব্যস্তমানুষেরাই ব্যস্ত তার অজুহাত দেয় বেশি।

অন্তর্চক্ষুকে শক্তিশালী করা

মনের চোখ শক্তিশালী না হলে কোনো দেখাই পরিপূর্ণ হয় না। তীব্র অনুভূতিশীল চেতন হৃদয়েই ইতিবাচক পরিবর্তন দ্রুত সম্ভব। বিবেকের ক্রিয়াশীলতা নৈতিক অনুভূতির সংস্পর্শে থাকলে মানবতার আশীর্বাদ রূপে গণ্য হয়। অন্তর্চক্ষু দিয়ে দেখার ক্ষমতা অর্জন, অন্ধকেও চক্ষুষ্মানের উপর শ্রেষ্ঠত্ব এনে দেয়।

প্রাপ্ত সুযোগকে কাজে লাগানো

জীবনে সুযোগ বারবার আসে না, তাই প্রাপ্ত সুযোগকে কাজে লাগান। বোকারাই তাদের অসাফল্যের বিচার বিশ্লেষণ করে, তার কারণ কী, পরিণতি কী, তা বুঝবার চেষ্টা করে, কিন্তু তা থেকে এমন অভিজ্ঞতা আহরণের চেষ্টা করে না যাতে তার পুনরাবৃত্তি না হয়।

অথচ, দুঃখ কষ্ট এবং সমস্যার ভিতর দিয়েই স্রষ্টা বেড়ে ওঠার সুযোগ দেন। কাজেই যখন দেখবে তোমার আশা, তোমার স্বপ্ন, তোমার জীবনের লক্ষ সব ভেঙ্গে পড়েছে, সেই ধ্বংসস্তুপের মধ্যে খুঁজে দেখ, হয়তো দেখবে তার মধ্যেই লুকিয়ে আছে একটি সুবর্ণ সুযোগ।

প্রভাবিত হওয়া নয় প্রভাব ফেলা

যে ব্যক্তিসত্তা সহজেই প্রভাবিত হন তার উপর গভীর আস্থা ও বিশ্বাস ঝুঁকিপূর্ণ। যারা প্রভাবিত হন তারা প্রভাব ফেলার শক্তির সন্ধান পেলেও তা এড়িয়ে যেতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

নিয়ন্ত্রিত না হয়ে নিয়ন্ত্রণ করা

যাদের মস্তি ষ্ক পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিকতা দ্বারা সদা নিয়ন্ত্রিত তারা স্বকীয়তাবোধসম্পন্ন যোগ্য ব্যক্তিত্বের মানদন্ডে সম্পূর্ণ অনুত্তীর্ণ। শুধু নিয়ন্ত্রিত হওয়া দাসসুলভ আচরণ। অবশ্য, খুব কম মানুষই প্রকৃতার্থে মুক্ত-স্বাধীন জীবনের সন্ধান পান। মনের অজান্তেই অধিকাংশেই দাসসুলভ মনোভাব তৈরি হয়। যা তাদেরকে আমৃত্যু দাসত্বের স্বভাবে বেঁধে ফেলে। সবচেয়ে দুঃখজনক এটিও অনেকে উপলব্ধিই করতে পারে না। তাই প্রয়োজন নিয়ন্ত্রিত হওয়ার পরিবর্তে নিয়ন্ত্রণ করার।

মস্তিষ্ক ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত নেয়া

অতৃপ্ত হৃদয় স্রষ্টা কিংবা সৃষ্টি কারোরই প্রিয় হবার যোগ্য নয়। দরকার প্রশান্ত আত্মাসম্পন্ন মানুষ। যাদের আত্মমর্যাদাবোধ তীব্র। আত্মমর্যাদাবোধহীন মানুষ পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় প্রাণী। কেননা তাদের থাকে আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি। আর আত্মবিশ্বাসহীন মানুষ কোনো গঠনমূলক উদ্যোগেও সাহসী ভূমিকা রাখতে পারে না।

যে নিজেই সামনে এগিয়ে থাকতে প্রত্যয়ী নয়, অন্যের সহযোগিতা তার ক্ষেত্রে অর্থপূর্ণ হয় না। স্ব-উদ্যোগ ও দৃঢ়সিদ্ধান্ত যেখানে নিস্ক্রিয় চারপাশের সকল প্রচেষ্টা, আন্তরিক প্রয়াস ও সব ধরনের সহযোগিতা সেখানে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হতে বাধ্য। বাহুবলে লড়াই করে পেরে উঠা নয়, মগজ খাটাতে হবে। সকলের পরামর্শ গ্রহণ করলেও সিদ্ধান্ত আপনাকেই নিতে হবে। এবং সে সিদ্ধান্তে অনঢ় থাকতে হবে।

কবি ইকবাল বলেছেন, যে নিজের আদেশ নিজে পারে না পালন করতে সে অন্যের আদেশে হয় চালিত। তাই নিজের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব আপনারই, এক্ষেত্রে পরনির্ভরশীলতা দুর্বলতাই প্রকাশ করে। জীবন সফল মানুষেরা সাধারণত মস্তিষ্ক দ্বারাই সিদ্ধান্ত নেয়।

সংকীর্ণ চিন্তা নিয়ে বৃহৎ কিছু করা যায় না

বাঁধা ও প্রতিকুলতার ফলে কারো চেতনমনের সক্রিয় অনুভূতি শক্তির বিলুপ্তি ঘটে আবার কারো মন সাহসী হয়ে ওঠে, প্রতিবাদী চেতনা যুক্তিশীল হয়, মর্যাদাবোধ তীব্রতর হয়ে আত্মশক্তি জেগে ওঠে। একই পরিবেশ-পরিস্থিতি দুটি মনে সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। যা ব্যক্তিত্বের অবস্থানের ভিন্নতাকে উন্মোচিত করে, পরিচয়ে বৈচিত্রতা আনয়ন কলে।

ধর্মীয় অনেক আলেমদের ধর্ম সংক্রান্ত বিভ্রান্তিই তাদের কর্মপরিসর সীমাবদ্ধ করেছে। অথচ ধর্ম সংকীর্ণ পরিসরে নয়, বি¯তৃত পরিসরে ব্যক্তিকে বিশাল দায়িত্ব ও কর্তব্য অর্পণ করেছে। সে সীমানা এত বড় যে ক্ষুদ্রতর থেকে ক্রমই বৃহত্তর দিকে নিয়ে যায়। যতই সামনে চলা ততই ক্রমান্বয়ে আরো বিরাট কর্মপরিসর উন্মোচিত হতে থাকে। আসলে-ব্যক্তিমাত্রই অসীম ও সম্ভাবনাময়, প্রচন্ড শক্তির অধিকারী। কিন্তু সম্ভাবনা ও শক্তিকে সীমিত করে সে নিজেই।

অফুরন্ত সম্ভাবনা লুকায়িত থাকলেও তা প্রকাশ না পেয়ে অসার প্রতিপন্ন হয়। ব্যক্তি নিজে তার পরিসরকে সংকীর্ণ ও সীমাবদ্ধ করলে পৃথিবীর কোনো শক্তিরই সাধ্য নেই তাকে বিস্তৃত করার। জীবন থেকে বেশি প্রত্যাশা করবে। কেননা জীবন থেকে অল্প প্রত্যাশা করলে জীবন তাকে অল্পই দেয়।

চিন্তা ক্ষুদ্র পরিসরে, সীমাবদ্ধ গতিতে নয়। তোমার শক্তি অফুরন্ত আর সম্ভাবনাও অনন্ত। তাই বৃহৎ চিন্তা ও বেশি প্রত্যাশা প্রয়োজন। কেননা, জীবনে কৃতকার্য হতে গেলে, সফলতা লাভ করতে গেলে, তিনটি প্রবল শক্তিকে নিজের আয়ত্বের মধ্যে আনতে হবে; আকাক্সক্ষা, বিশ্বাস ও প্রত্যাশা।

বড় স্বপ্ন দেখা

নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বলেছেন, যারা মূর্খ, যারা কোনোকালেই কিছু করবে না, তারাই শুধু বলে ‘অসম্ভব’। এ জগতে মানুষের ‘অসম্ভব’ বলে কিছুই নেই। অধিকাংশ মানুষ বড় হতে পারে না কারণ তারা সাহস করে আকাশের মত সুউচ্চ টার্গেট ঠিক করে আকাশের দিকে তাকাতে পারে না।

সুস্পষ্ট ও সুউচ্চ টার্গেট মানুষের সাধনা ও গতিকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। মনের ভেতরে যে শক্তি আছে পৃথিবীর কোনো ক্ষমতাই তার তুল্য নয়। এ বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে যেকোনো মানুষ অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারেন।

স্বপ্নদর্শীদের স্বপ্ন থেকেই জন্ম নেয় নানা মহান কীর্তি। তবে হ্যাঁ, ঘুমায়ে যার বড় স্বপ্ন দেখার অভ্যাস, আজীবন সে ছোটও থাকতে পারে, তবে জাগ্রত হয়ে দেখা বড় স্বপ্ন, ঘুমের সাথে যার তিক্ত সম্পর্ক এমন স্বপ্ন দেখায় বড় হবার সম্ভাবনা লুকায়িত।

বড় স্বপ্নদর্শী যিনি নন তাকে কেউ বিন্দু পরিমাণও বড় করতে পারে না। নিজে স্বপ্ন দেখলে, স্বপ্ন পূরণে সিদ্ধান্ত নিলেই কেবল পরামর্শ ও সহযোগিতা কাজে লাগে। না হলে তা নিরস, অন্তসারশূন্য হয়ে পড়ে।

সঠিক পরিকল্পনা নেয়া

শুধুমাত্র বড় স্বপ্ন দেখলে, তা বাস্তবায়নে উপযুক্ত পরিকল্পনা থাকলে বদলে নিতে পারে। বড় পরিকল্পনা করতে হবে।একজন মনীষী বলেছেন ‘ক্ষুদ্র পরিকল্পনা করো না, কারণ তাতে মানুষের রক্তে তরঙ্গ তোলার ইন্দ্রজাল নেই। বড় পরিকল্পনা কর, লক্ষ উঁচু রেখে আশা এবং কর্মোদ্যম নিয়ে লক্ষ লাভের চেষ্টা কর’-তবেই সফল হতে পারবে।

লক্ষের ক্ষেত্রে যে লক্ষ শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে, সেই লক্ষে প্রাথমিকভাবে সফল হওয়ার থেকে, যে লক্ষ শেষ পর্যন্ত সফল হবে, সেই লক্ষে প্রাথমিকভাবে ব্যর্থ হওয়াকে বাঞ্ছনীয় বলে মনে হয়।’ তাই বড় স্বপ্ন দেখুন, পরিকল্পিত জীবন গড়ুন।

নেতিবাচক মূল্যায়ন বদলে ফেলা

অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তির নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা ও মূল্যায়নই তাকে ক্ষুদ্র মানুষে পরিণত করে। আবার অতি উঁচু ধারণা, ও আত্মদাম্ভিকতা, অহংকারই পতনের কারণ হয়। নিজেকে কিভাবে দেখা হচ্ছে তার উপর ব্যক্তির সফলতা, ব্যর্থতা অনেকাংশেই নির্ভরশীল।

এ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটি নিয়ে দুশ্চিন্তা নয়, নিজের সম্পর্কে যথাযথ ধারণা সবারই থাকা উচিৎ। নিজের সম্পর্কে প্রত্যেকেরই একটি নির্দিষ্ট ধারণা আছে। এর তিনটি দিক রয়েছে-১) বিশ্বাস ২) মনোভাব এবং ৩) ব্যবহার। নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক মূল্যায়ন বদলে না ফেললে তার দ্বারা বড় কাজ হওয়া অসম্ভব।

কঠিন সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়া

দুটো ব্যাপার আমার কাছে অস্বস্তি কর। একটি হচ্ছে, অফুরন্ত সম্ভাবনা ও নানাবিধ সুযোগ সুবিধা থাকার পরও ছোট হয়ে থাকাতেই কারো তৃপ্তি খোঁজা।

আরেকটি হচ্ছে, বড় হতে চেয়েও বড় স্বপ্ন, আশা পূরণের জন্যে কোনো ব্যক্তির জীবনে কঠিন সংগ্রামে অবতীর্ণ না হয়ে অলস সময় কাটানো, অসচেতনভাবে পরে থাকা।

নিরু পায় মানুষই মানসিক প্রশান্তি পেতে বিধিলিপির আশ্রয় নেয়। দৃশ্যত এ আশ্রয়ে তার মঙ্গল মনে হলেও কার্যত এটি তার গতি স্থিমিত করে-যার কুফল মারাত্মক।

কাজ শুরু করা

সেন্ট ফ্রান্সিস অফ আসিসি বলেন, যা প্রয়োজনীয় তা করা শুরু কর, তারপর যা সম্ভবপর তা করা শুরু কর; অবশেষে দেখা যাবে যে অসম্ভব কাজও সম্ভব হচ্ছে। কঠিন প্রতিজ্ঞা থাকলে-‘মানুষের মন যা কল্পনা করে এবং বিশ্বাস করে, মানুষ তা অর্জন করতেও পারে’- নেপোলিয়ন হিল।

ডা. লুৎফর রহমানের ভাষায়-‘গুণ থাকলেও চেষ্টা না করলে জগতে প্রতিষ্ঠা লাভ করা যায় না।’ চেষ্টা বাড়াতে হবে, কাজ করতে হবে, পরিশ্রমপ্রিয় হতে হবে।

হার্ভাট বিশ্ববিদ্যালয়ের উইলিয়াম জেমস বলেন, ‘যদি নিজেদের জীবনকে বদলানোর মনস্থ করে থাক তা হলে তা শুরু করা দরকার এখনই এবং খুব সোচ্চার ও দর্শনীয়ভাবে।’

এডগার এ্যালেনপো বলেছেন, যে বেশি জানে, সে কর্মে বিশ্বাস করে। তাই আর অপেক্ষা নয় কাজ শুরু করুন এবং তা এখনই।

সমালোচনাকে হাসিমুখে গ্রহণ করা

সমালোচকরা অভিশাপ না আশীর্বাদ সে বিতর্কে যাচ্ছিনে। তবে যারা গঠনমূলক ও সৃষ্টিশীল কিছু করে তাদেরকে এ সমালোচকেরাই বেশি উপকার করে। দাউ দাউ করে জ্বলা আগুন ফুঁ দিয়ে নেভানোর প্রচেষ্টা যেমন আরো তীব্রভাবে তাকে জ্বলে উঠতে সাহায্য করে। যারা সৃজনশীল মস্তিষ্কের অধিকারী, সেসব উদ্যমী ব্যক্তিত্বদের উদ্যোগে সমালোচনা বেশি গতিসঞ্চার করে।

আসলে প্রশংসার চাইতে সমালোচনাতেই লাভ বেশি। কেননা এর মাধ্যমে ত্র“টিগুলো সহজেই চিহ্নিত করে তা নিরসন ও সমস্যা-সংকটগুলো স্পষ্ট হওয়ায় তা দূর করার প্রচেষ্টায় নিয়োজিত হওয়া যায়। ফলে নিজেদের শক্তি-সামর্থ্য আভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় ব্যয় না করে তা উত্তরোত্তর আরো উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে ব্যয় করা যায়। ফলে সমালোচকের সমালোচনার উদ্দেশ্য যাই হোক সেটি না দেখে তাদেরকে শত্রু নয় বড় বন্ধু ভাবতে হবে।

বড় মাপের মানুষদের বিশালতার ফলে সাদা চোখে দেখা অনেক ক্ষতিও বড় কল্যাণই বয়ে আনে;যা সাধারণ মানুষের বোধগম্য নয়। যারা প্রত্যেক বস্তুরই দাম জানেন কিন্তু কোনো বস্তুরই প্রকৃত মূল্য জানেন না তারাই সমালোচক। যখনই কোনও ব্যক্তি গড়পড়তা মানুষের উপরে উঠে যাবেন তখনই কিছু লোক তাকে ছিঁড়ে ফেলতে চেষ্টা করবেন। গড়পড়তা মানুষ সমালোচনা এড়িয়ে বলতে চান। কিছু না করলে সমালোচনারও সুযোগ থাকে না।

যত বেশি লক্ষ্য সিদ্ধির পথে এগুবেন, ততই সমালোচিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। সাফল্য ও সমালোচনার মধ্যে একটা যোগসূত্র আছে। অপদার্থ মানুষের সমালোচনাকে ভয় করবে কারা? যারা চিরকাল ছোট হয়ে থাকবে। চিন্তাশূন্য ব্যক্তিত্বহীন মানুষকে ভয় পেয়ো না। অনুকরণপ্রিয় শুধু নয় অনুকরণীয়, অনুসরণীয় হতে হবে।

প্রয়োজনীয় হিম্মতের অধিকারী হওয়া

জীবন বাঁচানোর খাতিরে কর্তব্য পালনে ত্রুটি করলে আয়ু দীর্ঘতর হবে না। সুতরাং মৃত্যুর চোখে চোখ রেখে কাজ করে যেতে হবে, প্রয়োজনীয় হিম্মত থাকতে হবে। উপযুক্ত সাহস না থাকলে অনেকগুণে গুণান্বিত ব্যক্তিত্ব অযোগ্য বিবেচিত হয়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস ও সামর্থ্য কোনো ব্যক্তিকে তার সম্মানিত স্থান করে দেয়। আত্মবিশ্বাসের উপর নির্ভর করার সামর্থই বীরত্বের প্রতীক।

আসলে পৃথিবীর সবচেয়ে সাহসী মানুষতো তারাই, যারা শুধুমাত্র স্রষ্টা ছাড়া আর কাউকেই ভয় করে না। গোটা দুনিয়ার সকল শক্তির বিরোধিতায়ও যে হৃদয়ে বিন্দুমাত্র ভীতি-কম্পনের সৃষ্টি হয়না, মরণকেও যে হাসিমুখে বরণ করে নিতে জানে দুঃসাহসিক সে। তার চেয়ে সাহসী আর কেউ হতে পারে না। সাহস না থাকলে বড় কাজ অসম্ভব।

সংগঠনকে পরিশুদ্ধ করা

ফসল চাষ প্রক্রিয়ায় সাথে জড়িত ব্যক্তিদেরকে ক্ষেতে জন্মানো আগাছা পরিষ্কার করতে হয় শস্যের ফলন বাড়ানোর লক্ষ্যেই। কোনো সংগঠনকে মজবুত ও গতিশীল করতে হলে কর্তৃপক্ষকে জনশক্তিদের মধ্যকার আগাছাগুলোকে খুঁজে বের করে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।

না হলে মাটি থেকে খাদ্যরস খেয়ে হৃষ্ট-পুষ্ট হওয়া আগাছার মতই তারা এমন ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে যে মূলগাছ গুলোই বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। সংগঠন দুর্বল, প্রাণচাঞ্চল্যমুক্ত, নিথর হয়ে যাবে। আগাছা জন্ম নেয়াটা যেমনি প্রাকৃতিক, আগাছা পরিষ্কার করাটাও তেমনি স্বাভাবিক। সুতরাং মঙ্গলের জন্যই নিড়ানী দেয়া যেমন দক্ষ চাষীর কাজ, সংগঠনের ক্ষেত্রেও তেমনি।

এ ব্যাপারে উদাসীনতা ও দুর্বলতা প্রদর্শন মহা বিপর্যয় ঢেকে আনতে পারে। তাই সংগঠনকে পরিশুদ্ধ রাখতে, ভেজাল সমস্যার সমাধান করে খাঁটি করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও আন্তরিকতা প্রয়োজন। যৌথ উদ্যোগের ক্ষেত্রে আয়োজনটা বড় দেখেই আত্মহারা না হয়ে উদ্দেশ্যটা খুঁজে দেখতে হবে, মহৎ উদ্দেশ্য ক্ষুদ্র প্রয়াসকেও বিশালতার পর্যায়ে উন্নীত করতে পারে।

মূল্যবান রত্মের আলাদা যত্ন নেয়া

মিষ্টির সন্ধান পেলে পিপীলিকা আসবে, রেণুর খোঁজ পেলে মৌমাছি আসবেই। যে যা খোঁজে বেড়ায় সে তা-ই পায়। প্রত্যাশিত কিছু পেলে মনে আনন্দ জাগবে এটাই স্বাভাবিক। এই স্বাভাবিক নিয়মটাকে কেউ অস্বাভাবিকভাবে দেখেন। অনেকের বড় সমস্যাই এখানে। রসালো মিষ্টি, কিংবা সুরভিত পুষ্পে রেণু থাকাতো সেগুলোর অসাধারণ যোগ্যতা।

তাদের গুণের ফলেই তাদের সংস্পর্শে অনেকে আসে। অথচ তাদের ব্যাপারে বড়ই উদাসীন থাকা হয়,অবমূল্যায়ন করা হয়, গুরু ত্ব না দিয়ে এড়িয়ে চলা হয়। যাদের মাঝে নতুন কিছু করার ক্ষমতা নেই, কেউ আকৃষ্ট হয়ে আসে না তারাই অনেকের ভীষণ পছন্দ। কেননা এদের গতি কম, নিশ্চল নিশ্চুপ পড়ে থাকে মূর্তির মত। ফলে হারানোর ভয় থাকে না, দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ও সংকোচমুক্তভাবে যেভাবে যেখানে খুশি সেখানে রাখা যায়।

প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায়। মোটেই ঝুঁকি নেই্ অথচ বুঝতে চায় না, গরু র গাড়ি এ্যাকসিডেন্ট করলেও তেমন ঝুঁকি থাকে না বলে নিরাপত্তার স্বার্থেই উড়োপে¬ন বাদ দিয়ে এটা ব্যবহার করে সময়ের দাবী পূরণ করা যাবে না। মূল্যবান কিছুর ক্ষেত্রে প্রয়োজন আলাদা পরিচর্যার, যত্মের-এক্ষেত্রে বেখবর থাকা মারাত্মক ক্ষতিকর।

ধাতুর ক্ষেত্রে স্বর্ণ, রৌপ্য, হীরা যে মূল্যবান এটা ছোট শিশুও বুঝে, ফলে সেটা সিন্ধুকে তুলে রাখে। কিন্তু সংগঠককে মানুষের ক্ষেত্রেও যোগ্য, গুণসম্পন্ন মানুষদেরকে খুঁজে বের করে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে সুরভিত পুষ্প তার সৌন্দর্য বিলাবে ঠিকই, মিষ্টান্নের রসালো স্বাদে অনেকে আকৃষ্ট হবে ঠিকই কিন্তু তা সংগঠনের কোনো কাজে আসবে না। যেখানে ঝুঁকি বেশি, সম্ভাবনা ও সফলতাও সেখানে বেশি- নেতাদেরকে এটা বেমালুম ভুলে গেলে চলবে না।

সময়ের সদ্ব্যবহারেই সাফল্যের সিঁড়ি

জীবন কতগুলো মুহূর্তেরই যোগফল। এই মুহূর্তগুলোকে যে যত বেশি কাজে লাগাতে পারে, তার মানব জীবন ততবেশি সার্থক। মানুষ যখন তার স্বল্পস্থায়ী জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের মূল্য বোঝে, আর তাকে ফলপ্রসূ কাজে লাগায়, তখনি তার জীবন হয় সার্থক।

যারা অলস যখন সে কাজ করা দরকার তখন সেই কাজ নিষ্ঠার সঙ্গে করে না, তারা ইহলোকে এবং পরলোকে উভয় জগতেই ক্ষতিগ্রস্তহয়। চলে যাওয়া মুহূর্তগুলো যেমন মানুষের জীবনে ফিরে আসে না, তেমনি ঐ মুহূর্তগুলোতে করণীয় কাজও জীবনে আর করা হয়ে ওঠে না। তাই সময়ের সদ্ব্যবহারকে অত্যন্ত গুরু ত্ব দিতে হবে।

বিন্দু বিন্দু জল নিয়ে যেমন বিশাল সমুদ্র, কণা কণা বালি নিয়ে মরু ভূমির বিস্ত ৃতি তেমনি অসংখ্য মুহূর্তের সমন্বয়ে মানবজীবন। এই সময়কে যতটা সতর্কতার সাথে কাজে লাগাতে পারবেন সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে ততটাই সহজ হবে। জগতে যারা বড় তারা সময়ের অপচয় সহ্য করবেন না।

অভিজ্ঞতাকে বাস্তবে কাজে লাগান

জে আর লাওয়েল বলেছেন, অনেক সময় বিদ্যার চেয়ে অভিজ্ঞতাই বেশি কাজে লাগে। লুসিলার কাম বলেছেন, বাস্ত ব অভিজ্ঞতা দ্বারা যে জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব, পুস্ত কের সীমাবদ্ধ গণ্ডিতে তা সম্ভব নয়।

ইরাসমুস বলেছেন, বছর হিসেবে অভিজ্ঞতার হিসাব করা অর্থহীন।

জোসেফ রক্স বলেছেন অভিজ্ঞতাকে সঞ্চয় করে অনেক মহৎ কাজ করা যায়। অভিজ্ঞতা, শিক্ষাকে বাস্ত ব জীবনে কাজে লাগাতে হবে।

শেখ সাদী বলেছেন,তুমি যা শিখলে, তা যদি তোমার বাস্ত ব জীবনে রূপায়িত করতে না পারলে, তবে তুমি মস্তবোকা।

তাই জীবন থেকে নেয়া শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা বাস্তবে কাজে লাগান। অভিজ্ঞতা থেকে ভালো কিছু গ্রহণের মানসিকতা না থাকলে ভালো কিছু করা যায় না। প্রকৃত জ্ঞানী মূর্খ মানুষের কাছ থেকেও অনেক কিছু শিখে থাকেন আর যে খাঁটি বোকা সে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পন্ডিতের সংস্পর্শ থেকেও কিছুই শিখতে পারে না।

অস্বাভাবিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত হওয়া

জীবনের কোনো কাজই উদ্দেশ্যবিহীন হবে না। একটু সময়ও উদ্দেশ্যহীনভাবে ব্যয় হবে না। চাই আবেগ। কেননা আবেগে পরিপূর্ণ অন্তরই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সর্বশক্তি নিয়োগ করতে পারে। পরাজয় অগ্রহণযোগ্য নিঃসন্দেহে। পরাজয়কে জয়ে রূপান্তর না করা পর্যন্ত ক্লান্ত হওয়া যাবে না।

বিশাল কিছু যারা করতে চায় তাদের মধ্যকার মানসিক বিপ্লব তাদের জীবনাচরণে আমূল পরিবর্তন বয়ে আনবে। কঠিন সংগ্রামে যারা আত্মনিয়োগ করে তাদের জীবনটা কখনোই সাধারণ, গতানুগতিক, স্বাভাবিক হওয়াটা যৌক্তিক নয়। অলসরা ভাগ্যে বিশ্বাস করে পক্ষান্তরে কর্মটরা ভাগ্য তৈরি করে। প্রচন্ড পরিশ্রম করতে হবে।

নিজেকে উন্নত করার জন্য এত সময় ব্যয় করতে হবে যাতে অপরের সমালোচনরা করার জন্য সময় অবশিষ্ট না থাকে। এত বড় হতে হবে যাতে উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা কাবু করতে না পারে, এত মহান হবে যেন ক্রোধ না বশীভূতি করতে পারে। আপনি যদি অনেক বড় কিছু করতে চান স্বাভাবিক জীবন যাপন থেকে বিরত থাকুন। একজন সংগ্রামী বিপ্লবী মানুষকে অস্বাভাবিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত হতেই হবে।

নিজেকে অসাধারণ ভাবতে শেখা

জ্যানেট কোল বলেছিলেন, “আমাকে একজন লোক দেখান যে নিজেকে সাধারণ লোক বলে মেনে নিয়েছে এবং আমি আপনাকে একজন লোক দেখাবো যার ভাগ্যে অসাফল্য সুনিশ্চিত।”

নিজেকে সাধারণ ভাবলে চলবে না। নিরবতা ভেঙ্গে সক্রিয় কর্মী ও কর্মতৎপর হোন। মৌল মানবীয় গুণসম্পন্ন, সমাজ সচেতন, ব্যক্তিত্বের বিকাশে উদ্যোগী হউন। ইন্টার পার্সোনাল স্কিল, স্পোকেন এ্যান্ড রিটেন কমিউনিকেশন স্কিল বাড়ান। লিডারশিপ এবং টিমওয়ার্ক দক্ষতা আয়ত্বে আনুন। বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করুন, শুধু পাঠ্য বই নয়, গোটা বিশ্বকে জানুন।

মানসিক প্রস্তুতি নিন, ইচ্ছাশক্তির প্রকাশ ঘটান, উদ্দেশ্য ঠিক করুন, পরিকল্পনা মাফিক কাজ করুন, প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করুন, সময়ানুবর্তী হোন। নিজের যোগ্যতার প্রকাশ ঘটাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করু ন। সর্বদা নিজেকে অসাধারণ ভাবতে শিখুন।

সদা নিজের ব্যক্তিত্ব বজায় রাখা

আমাদের সকলেরই কোনো না কোনো বিষয়ে দক্ষতা আছে। ব্যক্তিত্ববান হতে হলে অজ্ঞতা দূর করতে হবে। অনেকেক্ষেত্রে কোনো কোনো বিষয়ে অজ্ঞ হওয়ার মধ্যে কোনও লজ্জা নেই, কিন্তু কোনো করণীয় কাজের সঠিক পদ্ধতিটি আয়ত্ব করার অনিচ্ছা প্রকৃতই লজ্জাকর।

কোনো বিষয়ে না জানা দোষের নয়, কিন্তু এই অজ্ঞতাকে সম্বল করে জীবনে উন্নতি করার ইচ্ছাই মূঢ়তা। ব্যক্তিত্বশালী হতে হলে জ্ঞানী হতে হবে। অবশ্য জ্ঞানই শক্তি নয়,শক্তির উৎস। জ্ঞানকে শক্তিকে রূপান্তরিত করা হয় যখন তা যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হয়।

জ্ঞানার্জন খাদ্য গ্রহণের মতো কতটা খাওয়া হচ্ছে তার উপর স্বাস্থ্য নির্ভর করে না-কতটা হজম হচ্ছে তার উপর স্বাস্থ্য নির্ভর করে। প্রজ্ঞা হচ্ছে জ্ঞানের নির্যাস যা প্রকৃত শক্তি। ব্যক্তিত্ব সর্বদা বজায় রাখতে হলে প্রকার কোনো বিকল্প নেই।

কী পেয়েছেন না ভেবে কী দিয়েছেন ভাবা

ঈধষারহ ঈড়ড়ষরফমব বলেছেন মানুষ যা পেয়েছে, তার জন্য তাকে সম্মান জানানো হয় না, মানুষ পৃথিবীকে যা দিয়েছে তার জন্যই তার সম্মান। আর হ্যাঁ। অবাস্ত ব প্রতিশ্রুতি প্রদান থেকে বিরত থেকো, দ্ব্যর্থকতা ও অস্পষ্টতা ত্যাগ করো, কাজকে উপভোগ করো, দায়িত্ব সহজভাবে গ্রহণ করো।

পৃথিবীতে দু’ধরনের মানুষ আছে। একরকম, যারা সব কিছু গ্রহণ করে। আরেকরকম যারা সবকিছু দিয়ে দিতে পারে। যারা দিতে জানে তাদের আছে প্রখর আত্মমর্যাদাবোধ। শুধু গ্রহণ করা নয় দেয়ারও চেষ্টা করতে হবে। নিজে কষ্ট করে হলেও অন্যের প্রয়োজন পূরণ করার মত বড় মনের অধিকারী হউন।

বিভ্রান্ত না হওয়া

আমাদের শুধু আখেরাতের পুরষ্কারের কথা ভাবলেই চলবে না, ইহজগতেও আমাদের কর্মের ফলাফলের কথা ভাবতে হবে। কখনোই ক্রুদ্ধ হওয়া যাবে না; কনেনা ক্রুদ্ধ মানুষ যুক্তির সাথে চিন্তা করতে পারে না। অনেকে ব্যাপারেই বাণীর অন্তর্নিহিত অর্থের চেয়ে এর বাহ্যিক অর্থের ব্যাপারেই বেশি সচেতন। এটি কল্যাণকর নয়।

অনেকে মুসলমানই ইসলামের মূল বিষয়ের চেয়ে ধরণ ও পদ্ধতিকেই বেশি গুরু ত্ব দেয়; এটা ঠিক নয়। আর রয়েছে গোঁড়ামী। অন্ধা বিশ্বাস, অন্ধ আবেগ। মুসলমানদের মধ্যকার এত বিভক্তি ও বিরোধ কুরআনের কারনে নয়, কিছু সংখ্যক ইমাম ও উলামাদের গোঁড়ামীর কারনে। অনেকে অসহায়, দুর্বল, দারিদ্র্য, পরমুখাপেক্ষাী থাকাকেই স্রষ্টার সন্তুষ্টির পথ বলে মনে করেন।

সদা  সতর্ক থাকা

দারিদ্র্যতা শুধু বস্তুগত সম্পদহীনতাই নয়, বুদ্ধিমত্তা এবং অন্যান্য বিষয়ে, দক্ষতার অভাবও দারিদ্র্যতার অংশ। কুরআন দারিদ্র্যতা সম্পর্কে খোলাখুলি বলেছে ‘‘দারিদ্রতা ঈমান হারানোর পূর্বাবস্থা।” তাই ধর্মের ব্যাপারে ভুল বুঝা, বাড়াবাড়ি করা যাবে না, বিভ্রান্ত হওয়া নয়, সতর্ক থাকুন। আল্লাহর সৃষ্টি সম্পর্কে চর্চা করার সীমারেখা নেই, তাই চর্চা বাড়ান।

প্রকৃত মানুষ হওয়া

কথা ও কাজে যার মিল নেই,তাকে বিশ্বাস করা যায় না, প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে আস্থা রাখা যায় না, যোগ্য না হলে প্রকৃত মানুষ হওয়া অসম্ভব। সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। একজন অসচেতন ব্যক্তি কখনোই জাতির বৃহৎ কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করতে পারে না করতে চাইলেও তা আশীর্বাদ না হয়ে অভিশাপ হয়ে দেখা দেয়। সুতরাং সচেতনতাই সফলতার পূর্বশত। আত্মশুদ্ধিতে গুরুত্ব দিন।

আত্মকেন্দ্রিকতার বলয়ে আটকে যাবে না। অন্যের সমালোচনা নয় আত্মসমালোচনাবাড়ান। সৃষ্টির সেবার মাধ্যমে স্রষ্টার সন্তুষ্টি হাসিল করু ন। মৌল মানবীয় গুণসম্পন্ন ও সমাজ সচেতন হোন। আস্থা অর্জনের প্রক্রিয়া আয়ত্ব করু ন। সম্পর্ক সৃষ্টির মাধ্যমগুলো চিহ্নিত করুন। প্রভাব বিস্তার করার পদ্ধতি বুঝুন। আত্মকেন্দ্রিক ও পরিবারকেন্দ্রিক পা হয়ে সমাজ কেন্দ্রিক হন। বড় মনের অধিকার হোন, প্রকৃত মানুষ হউন। যতবেশি সম্ভব নিজকে সামাজিক অঙ্গনে সংযুক্ত করুন।

বিষণ্নতা কাটিয়ে উঠুন

বিষণ্নতা কাটিয়ে উঠতে নিজেকে জানুন, আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলুন, উদ্যমীদের সাথে মেলামেশা করু ন, ইতিবাচক হোন, স্বাভাবিক থাকুন, অবসরকে উপভোগ করু ন।

সংঘাত এড়িয়ে চলুন

সংঘাত এড়িয়ে চলতে অভিযোগের ব্যাপারে সবসময় সচেতন থাকুন, ভুল ধরায় সতর্ক হোন, কোনো সমস্যাকে আন্তঃব্যক্তিক সমস্যা ভাববেন না, অন্যের মতামতকে গুরু ত্ব দিন, সমস্যা মিটিয়ে ফেলুন, নিজে উদ্যোগ নিন, সুসম্পর্ক বজায় রাখুন, প্রতিবাদের ভাষা যাতে যৌক্তিক হয়, বন্ধুত্বে হাত বাড়িয়ে দিন।

দেশের উন্নয়নে জাতির ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম-এতে কোনো সন্দেহ সংশয়ের অবকাশ নেই। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিই সফলতার চূড়া স্পর্শ করার ক্ষেত্রে জাতিকে উদ্দীপ্ত রাখার প্রধান উপায়। তাই জাতির প্রতিটি সদস্য যদি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন হয় অবশ্যই দেশ সামনে এগিয়ে যাবে, মানুষের সুখ-শান্তি, নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। সমৃদ্ধ দেশ ও উন্নত জাতি গড়ার প্রত্যয়ে নিজে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব হতে উৎসাহিত করু ন। নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি চুর হলে অবশ্যই দেশের সুখ, শান্তি , উন্নতি ও সমৃদ্ধি সুনিশ্চিত হবে।

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: [email protected]

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published.