নৈতিক শিক্ষা বিস্তারে রাসূল (সা.) এর আদর্শ

প্রেরণার বাতিঘর রাসূল সা. নৈতিকতা শিক্ষাদানের সর্বশ্রেষ্ঠ-সর্বোত্তম শিক্ষক। পরশপাথর তুল্য এই মহামানবের সংস্পর্শে আদবকেতার পাঠ নিয়ে শ্রেষ্ঠ মানুষে পরিণত হয়েছিল সাহাবীরা। কুরআনি সমাজ গড়ার এই কারিগরের মৃত্যুর পরও যুগে যুগে বনি আদম হাদীস থেকে শিষ্টাচারের পাঠ নিয়ে সময়ের সেরা উন্নত চরিত্রের অধিকারী হয়েছে।

তাঁর গাইডলাইন সব জাতি-গোষ্ঠী-বর্ণের মানুষকে নীতি-নৈতিকতা চর্চায় অনুপ্রাণিত করছে। নৈতিকতা শিক্ষাদানকারী এ ওস্তাদের আদর্শ থেকে আদব-আখলাকের সবক শিখে শতাব্দীর পর শতাব্দী স্মরণীয়-বরণীয় ব্যক্তিত্ব তৈরি হয়েছে। টেকসই উন্নয়নে সৎ-যোগ্য-দক্ষ যুবশক্তি তৈরি হতে পারে রাসূলের সা. আদর্শের আলোকে নৈতিক শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমেই।

এক নজরে দেখে নিন লুকিয়ে রাখুন

 শিরোনাম বিশ্লেষণ

তরুণ ও যুব সমাজ

ইতিবাচক নীতির পথে পরিচালিত তরুণ ও যুব সমাজই হচ্ছে সমাজ সংস্কারের মূলচালক। সবচেয়ে বড় ঘটনার নায়ক এরাই চাকা ঘুরিয়ে ইতিহাসের র্কতৃত্ব নিতে পারে। কল্যাণের অনুগামী তারুণ্য একক শক্তি, একক অস্তিত্ব, অমানিশার অন্ধকার বিদূরিত করার সোনালী প্রভা, সমাজকে আলোকিত করার প্রাণশক্তি, দেশ-জাতির এগিয়ে চলার প্রেরণা। প্রেমে, ভালোবাসায়, সেবায়, ত্যাগে, দানে, আশ্বাসে, সহানুভূতিতে যার মঙ্গলময় রুপ প্রকাশ পায়।

এরাই পারে- দীর্ঘদিনের জড়তা ও জীবন বিরোধী প্রথা-বিশ্বাস গুড়িয়ে দিতে, সকল জাতি-ধর্মের মানুষের মঙ্গল সাধন করতে, জীবনের সব পর্যায়ে উত্তরণের দিশা দিতে, সৃজনশীল প্রাণশক্তি ও সাহায্যের বলে পৃথিবীকে সুন্দরভাবে সাজায়ে অশান্তিমুক্ত স্বর্গে পরিণত করতে, মুক্তবুদ্ধি-চিন্তা ও বিবেকের স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করতে, মানবতার কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে, মনুষত্ববোধে উজ্জীবিত হয়ে মানব মর্যাদা ও সৌন্দর্য চেতনার সমন্বয় ঘটাতে, কর্মের মাধ্যমে ধরণীতে নব জীবনের আশির্বাদ আনতে ও দেশকে সুন্দর মধুর করে গড়ে তুলতে।

নৈতিক শিক্ষা

নৈতিকতার মূল ভিত্তি সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস। নৈতিক শিক্ষার বুনিয়াদ ইসলামের মৌলিক বিষয়। ইসলামি দর্শনে আদি শিক্ষক আল্লাহ; আর মানবতার শিক্ষক রাসূল সা.। নৈতিক মূল্যবোধ, গুণাবলী ও বিশ্বাস তথা জীবনের ভালো ও সঠিক নীতি অনুসরণের নীতিগত পাঠ গ্রহণ করাই নৈতিক শিক্ষা। সত্যবাদিতা, কথা দিয়ে কথা রাখা, মানুষ ও পরিবেশের প্রতি সংবেদনশীলতা, ভালোবাসা, সততা, আত্মত্যাগ-দাতব্য, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, নৈতিকতাবোধ, সহনশীলতা-সহমর্মিতা, মায়া-করুণা, আতিথেয়তা, অধিকার ও মর্যাদা দেওয়ার মানসিকতা-অভ্যাস গড়ে তোলা নিয়ে গঠিত নৈতিক শিক্ষা।

নৈতিক শিক্ষা ভালো-মন্দ, সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায়, শুভ-অশুভের পার্থক্য করার বোধশক্তি বাড়ায়। জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। নিখুঁত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে প্রকৃত যোগ্য মানুষ বানায়। সমাজকে বিকশিত করে। সামাজিক কল্যাণমূলক ও দেশের মানোন্নয়নমূলক মানবীয় গুণাবলি প্রতিষ্ঠিত করে। আত্মার বিকাশে, আধ্যাত্মিকতার উন্নতি সাধনে, মানসিক পরিশুদ্ধতা অর্জনে, মনুষ্যত্ব দানে, মানুষ হিসেবে গড়ে, চরম সভ্যতায় উন্নীত করে, পরম আলোকে পৌঁছে দিয়ে ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ দান করতে যা গুরুত্বপূর্ণ।

নৈতিক শিক্ষার লক্ষ্য মূল্যবোধ জাগ্রতকরণ, চরিত্র গঠন, দায়িত্বানুভূতির উন্নতিকরণ; টেকসই উন্নয়নে যোগ্য কর্মী তৈরী করা। এতে রয়েছে সৌজন্যতাবোধ, গুণাবলীর বিকাশ, নম্রতা, শৃঙ্খলা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, সহানুভূতি, দয়া, সাহসিকতা, দেশপ্রেম, মানবপ্রেম, কঠোর পরিশ্রম ও ধৈর্য। এর মাধ্যমে ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ গুণাবলী গড়ে তোলা হয়, সু-সংস্কৃতিবান করে তোলা হয়, অপরের অধিকার ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি যত্নশীল হবার মনোভাব তৈরি হয়।

 রাসূল (সা.)

হযরত মুহাম্মদ সা. জগতের সেরা সৃষ্টি। আল্লাহ প্রেরিত সর্বশ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ। মানবতার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বন্ধু। সবার জন্য সর্বশেষ রাসূল। সর্বযুগের সবচেয়ে প্রিয়-আলোকিত মানুষ। অন্ধকারে আলোর দিশারী। মানবজাতির মুক্তির মহান দূত। হেদায়েতের পথ প্রদর্শক। শান্তির সঠিক পথের সেরা পথিক। কান্ডারীদেরও কান্ডারী, নেতাদেরও নেতা, করুণার আঁধার। তিনি রাহমাতুল্লিল আলামীন, উসওয়াতুন হাসানা।

উদিল আরবের এই সূর্য মানব-মুকুট-মণির জ্বালানো আলোতে পৃথিবী ঝলমলো হয়েছে। মরুভূমির প্রতিটি বালুকণা স্ফুলিংগে বিষ্ফোরিত হয়েছে। বিষ্ফোরণের অগ্নিকণা ছড়িয়েছিল মক্কা থেকে গ্রানাডায়। স্বর্গীয় জ্যোতি নিয়ে আবির্ভূত তাঁর পরশে মানবজাতি আলোকিত হয়েছিল। তিনি ছিলেন বেহেশত ও সীমাহীন মরুভূমির নেতা, আলোর পথের যাত্রী, আলোর পর্বতের নিত্যসঙ্গী।

রাসূল (সা.) এর আদর্শ

মুহাম্মদের সা. জীবনে রয়েছে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, সম্প্রদায়, শ্রেণী-পেশা, দেশ-কাল নির্বিশেষে মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম-অনুপম আদর্শ। বিশ্বনবীর জীবনাদর্শেই বিশ্বমানবতার ইহকাল-পরকালে মুক্তি অর্জন সম্ভব। মানবজীবনের সব দিক ও বিভাগে তাকে অনুসরণেই আল্লাহর নৈকট্য-ভালোবাসা অর্জিত হবে, পাপ মোচন হবে।

রাসুল সা. অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব, আল্লাহর ভালোবাসা প্রাপ্তির মাধ্যম, বিশ্বভুবনের রহমত; তাঁর আদেশ-নিষেধ মানার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সর্বোৎকৃষ্ট নৈতিক অবস্থান রয়েছে। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক তথা সামগ্রিক জীবনে তাঁর মাঝে বিকশিত হয়েছে উন্নত-উত্তম-মহত্তম চরিত্রের গুণাবলি।

কুরআন ছিল রাসূলের সা. চরিত্র। তিনি শুধু কোরআনের শিক্ষাই পেশ করেননি, নিজেকে কোরআনের জীবন্ত নমুনা হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। সর্বোন্নত চারিত্রিক মাধুর্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। কুরআনে বর্ণিত নৈতিক গুণাবলী, উত্তম কাজকর্ম ও মহৎ চরিত্রের গুণে তিনি বাস্তবেই ছিলেন পরিপূর্ণ গুণান্বিত।

নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

নৈতিকতা সম্পন্নদের কাজ ন্যায়-সত্যের পথ অনুসরণ করা। যতটুকু সম্ভব অপরের উপকার-কল্যাণ করা। প্রতিটি ধর্মেই নৈতিকতার কথা বলা হয়েছে গুরুত্ব সহকারে। মানবজীবনের উন্নয়ন ও মানবকল্যাণের প্রধান নির্ণায়ক নৈতিকতা। যার স্বরূপ প্রকাশিত হয় সততা, ন্যায়পরায়ণতা, দৃঢ়তা, আদর্শবাদী মনোভাবে। পরিবার-সমাজ-রাষ্ট্র ও ধর্মের ওপর ভিত্তি করে সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি মানার প্রবণতা-মানসিকতা-চর্চাই নৈতিকতা।

সামাজিক সমস্যার সমাধানে নৈতিক শিক্ষা

নিয়ম-নীতি-আচরণবিধির প্রতি মূল্যায়ন, সম্মান-শ্রদ্ধা প্রদর্শন থেকেই আসে নীতিবোধ। মানবিক গুণাবলির সমন্বয়ে তৈরি এই নীতিবোধ থেকে আসা নৈতিকতা জীবন-যাপনকে প্রভাবিত করে, শিক্ষাকে উঁচু স্তরে নিয়ে যায়, সৃষ্টিকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে অধিষ্ঠিত করে। নৈতিকতার অভাবে সঠিকভাবে কাজ করেন না, ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করে না, মানবসেবার নামে হয়রানি-ঠকানো হয়। ফলে সামাজিক সমস্যার সমাধানে নৈতিকতার বিকল্প নেই।

মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে নৈতিক শিক্ষা

নৈতিক শিক্ষা মূল্যবোধের মর্ম বোঝায়ে মূল্যবোধ চর্চা করায়। স্রষ্টা ও সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসার গভীর অনুভূতি গড়ে। দেশপ্রেম বোধের সঞ্চার ও দেশ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে। বিশ্বাসের মৌলিক উপাদানের সাথে পরিচিত করায়। বিভিন্ন ধর্মের প্রতি সহনশীল থাকার মানসিকতা তৈরি করে। অপরাধ থেকে বিরত রাখে। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে শেখায়।

ইতিবাচক পরিবর্তনে নৈতিক শিক্ষা

নৈতিক শিক্ষা মনে ধর্মীয় সহনশীলতা গড়ে। ধর্মের ঐক্য ও সমন্বয়ের জ্ঞান ধর্মীয় উগ্রবাদ থেকে বাঁচায়। বিশ্ব ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে অন্য জাতির প্রতি বিদ্বেষ বা ক্ষোভ না জন্মানো মন নিশ্চিত করে। আচরণে-আমলে-কর্মে অভীষ্ট ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। সুশাসন, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, দুর্নীতি দমন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রবৃদ্ধি ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার উন্নয়ন সাধন করে।

টেকসই উন্নয়নে নৈতিক শিক্ষা

নৈতিক শিক্ষার অভাবে যেকোনো অর্জনই ম্লান হয়ে যায়। উন্নয়নের বড় নিয়ামক মানবিক উন্নতি অর্জন হ্য় না। নৈতিক অবক্ষয় ঠেকানো যায় না। সুস্থ ধারার জাতি বিনির্মাণ সম্ভব হয় না। অনৈতিক কাজ করে। অসদুপায় অবলম্বন করে। দেশে সঠিক মাত্রায় নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। কোনো কাজ পরবর্তীতেও মানুষের কল্যাণে কাজে না লাগলে টেকসই উন্নয়ন হয় না।

প্রকৃত মানুষ বানায় নৈতিক শিক্ষা

নৈতিক শিক্ষা না থাকলে নীতি-নৈতিকতার দুর্ভিক্ষ চরম আকার ধারণ করে। ধনবান-ক্ষমতাবান হলেও প্রকৃত মানুষ হতে পারে না। অন্যের সফলতা সহ্য হয় না। সুযোগ পেলেই কাউকে বিপদে ফেলে। কারও বিপদে সাহায্য না করে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখে। আদর্শহীনতার ছোঁয়া লাগে। নীতিতে অটল-অবিচল থাকতে পারে না।

নৈতিক শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড

ধর্মীয় নীতি শিক্ষা বিবর্জিত শিক্ষা কখনও হিতকর নয়। ইসলাম ধর্ম বা ধর্মীয় নীতি শিক্ষা বর্জন করলে অহিংস মানব সমাজ গঠন হবে না। পাসের হার বৃদ্ধি পেলেও শিক্ষিত মূর্খের সংখ্যা বাড়বে। ধর্মজ্ঞানহীন মানুষগুলো শিক্ষার মানকে হানি বা নিম্নমুখী করবে। শুধুমাত্র নৈতিক শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড, যথার্থ উৎকর্ষ সাধনের উপায়। কারণ বস্তুবাদী শিক্ষাব্যবস্থায় ভাই বোনকে, মা সন্তানকে, পিতা কন্যাকে হত্যা করতে কুন্ঠাবোধ করছে না।

দুর্নীতি বন্ধে নৈতিক শিক্ষা

নীতি শিক্ষার অভাবেই প্রশ্নপত্র ফাঁস, অনৈতিক কাজ তথা অসদুপায় অবলম্বন। ব্যাংক ডাকাতি, রিজার্ভ চুরি, একাউন্ট হ্যাক, শেয়ার বাজার লুট, জনগণের সম্পদে পুকুরচুরি, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়সহ ঘুষ-দুর্নীতির ঘৃণ্য-অপকর্ম। নৈতিক শিক্ষার অপ্রতুলতা আচরণ নিয়ন্ত্রণে অক্ষম। তাই সব স্তরেই নৈতিক শিক্ষা অত্যাবশ্যক।

অপরাধ প্রতিরোধে নৈতিক শিক্ষা

ঘুষ-দুর্নীতি-অপকর্ম এমনভাবে বাড়ছে, যেন কোথাও নৈতিকতার ‘ন’ অবশিষ্ট নেই। একটি পর্দা ৩৭ লাখ টাকা দিয়ে কিনছে, ভবন নির্মাণে রডের বদলে বাঁশ দিচ্ছে, একটি বালিশ কিনতে ও খাটে তোলতে ৭ হাজার টাকা খরচ করছে, খিচুড়ি রান্না শিখতে ও ঘাস চাষ শিখতে বিদেশ সফরের ব্যবস্থা হচ্ছে। সব খাতেই চরমভাবে বিপর্যস্ত নৈতিকতার এমন অবস্থা থেকে উত্তরণে রাসূলের সা. আদর্শই দরকারী অবস্তুগত মোটিভেশন।

 নৈতিক শিক্ষায় কাঙ্ক্ষিত সুনাগরিক তৈরি 

নৈতিক শিক্ষার প্রভাব জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের সাথে জড়িত। যা সুনাগরিক তৈরি করে, সুবিধাবাদী মানসিকতা কমায়, পরগাছা না হয়ে বটবৃক্ষ হতে উদ্বুদ্ধ করে, অন্যের কাঁধে পা রেখে বা অন্যকে ধ্বংস করে নিজে সবল হবার মনোভাব বদলে দেয়। যারা বিবেক বিক্রি করে না, ক্ষমতার অপব্যবহার করে না, জনগণ-দেশের ক্ষতি করে না, অপরাধে জড়ায় না, ধর্মনিরপেক্ষ-নাস্তিক হয় না!

ধার্মিকরা শিক্ষাকে প্রযুক্তিনির্ভর-আধুনিকায়নের পাশাপাশি ধ্যান-ধারণা-মূল্যবোধের উন্নয়ন-সমৃদ্ধির জন্য নৈতিক শিক্ষা অটুট রাখতে ধর্মীয় শিক্ষার বিস্তার-বিকাশ করে! নৈতিক শিক্ষা চিন্তার বিশুদ্ধতা বাড়ায়, বিশ্বাসের খাটিত্ব তৈরি করে, যুগচাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে কৃষ্টি-সভ্যতাকে এগিয়ে নেয়, কল্যাণকর মূল্যবোধের জাগরণ ঘটায় এবং উন্নত দৃষ্টিভঙ্গি-রুচিবোধ তৈরি করে। নৈতিক শিক্ষা এমন অনিবার্য বাস্তবতা যা ছাড়া মানুষ যতই ডিগ্রি অর্জন করুক আসলে মানুষ হয় না।

নৈতিক শিক্ষা বিস্তারের অন্তরায়

নবী মুহাম্মদ সা. একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র তৈরি করে প্রমাণ করেছেন যেসব সমাজ তার নীতি অনুসরণ করবে, সেসব সমাজই সমৃদ্ধি লাভ করবে। পশ্চিমা মূল্যবোধ-সংস্কৃতি অনুসরণ থেকে বাঁচাতে সন্তানদের মজবুত ভিত্তি দিতে তার শিক্ষা আশীর্বাদ। কুরআন, হাদীস, নবী-রাসূল ও মহানবী (সা.) এর সাহাবীদের জীবনীসহ ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়নের মাধ্যমে তাঁর শিক্ষা অনুসরণ জাতির সমৃদ্ধির জন্যই সময়ের অনিবার্য দাবি।

 ধর্মহীনতা চর্চা

দক্ষতার বিকাশ ও বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে ঈর্ষনীয় সাফল্য লাভের পরও ব্যক্তি ও সমাজ জীবনকাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়ে। মাদকাসক্তি, লাগামহীন যৌনাচারসহ বিভিন্ন নৈতিকতা বিবর্জিত কর্মকান্ড পুত:পবিত্র সমাজব্যবস্থাকে চরমভাবে কলুষিত করে। ধর্মহীনতা চর্চায় অপসংস্কৃতির বাতাস প্রবাহিত হয়। অন্যদের ওপর কর্তৃত্ব করা, অবৈধ বিষয়কে বৈধতার রূপদান করা, সম্পদ লুট করা, রক্তপাত করা এবং ইজ্জত ভূলুণ্ঠিত করা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়। এমনকি শিশু, নারী, বৃদ্ধ ও অসহায়দের জন্যও তাদের হৃদয়ে কোনো মমত্ববোধ থাকে না।

নৈতিকতা অর্জনে ব্যর্থতা

মানব দেহের দু’টি অংশের একটি দক্ষতা অপরটি নৈতিকতা। একটা থাকলে অন্যটা না থাকলে সে প্রাণ পূর্ণতা পায় না। দেশ-রাষ্ট্র পেয়ে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে গান ‘এই দেশ তোমারি দান’ ৭০ দশকে শোনা যেত। সেই দেশে আজ নৈতিক অবক্ষয় চরম আকার ধারণ করেছে। কেউ হয়তো বিশেষ কোনো কাজে দক্ষতা অর্জন করেছেন ঠিকই কিন্তু নৈতিকতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থা ও নাস্তিক্যবাদ

ধর্মহীন ও চরিত্রহীন নাস্তিক্যবাদী ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থার ফলে শিক্ষিতরা দাম্ভিক ও অহংকারী হয়। অন্যকে ধ্বংস করে হলেও নিজেরা পৃথিবীতে নেতৃত্ব স্থাপন করে প্রাচুর্যময় ও ভাগ্যবান হতে চায়। ড. সৈয়দ আলী আশরাফ বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা পেশাগত শিল্পভিত্তিক প্রজন্ম ও যুবকদের তৈরি করে, যারা নিজ নিজ পেশায় দক্ষ হয়ে গড়ে ওঠে; কিন্তু তারা নৈতিকতার দিক থেকে সবচেয়ে পাপাচারী বা দুরাচার হলেও তাতে কোনো অসুবিধা নেই।’

ইসলাম বিরোধী সরকার ও আইন

প্রতিটি সভ্যতাই গড়ে উঠেছিল কোনো না কোনো ধর্মকে আশ্রয় করে। ইতিহাসে ধর্মকে বিসর্জন দিয়ে গড়ে উঠা কোনো সভ্যতা খুঁজে পাওয়া যাবে না। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট দেশের সরকারের দায়িত্ব যুব সমাজকে দক্ষ ও নৈতিকতা সম্পন্ন করে গড়ে তোলা, মদের লাইসেন্স দিয়ে আইন পাশ না করা। যুব সমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে গেলে নীতিহীন কর্মকান্ড প্রতিরোধ-নির্মূল অসম্ভব।

 শিক্ষাবিমুখ শাসক

ফেরাউন আমৃত্যু শ্রেষ্ঠত্ব আঁকড়ে ধরে রাখার উপায় খুঁজতে সভাসদকে নির্দেশ দিলো। উজির হামান পরামর্শ দিলো মানুষকে অজ্ঞতার অতল গহবরে নিমজ্জিত করতে পারলেই শুধুমাত্র একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে আমৃত্যু আপনার শর্তহীন আনুগত্য মেনে চলবে জনসাধারণ। ফেরাউন সকল শিক্ষালয় বন্ধ করে ঘোষণা দিলেন ‘আমি সব চেয়ে বড় খোদা’। তার তৈরি নয়া শিক্ষাব্যবস্থায় ছিল না ধর্মীয় শিক্ষা; শুধুমাত্র ফেরাউনের আনুগত্য করা ও তার গুণকীর্তন শিক্ষা দেয়া হতো।

নৈতিক শিক্ষা বিস্তারের উপায় ও করণীয়

নৈতিক শিক্ষা শেখা যায় ঘরে-বাইরে, প্রতিষ্ঠানে, বই পড়ে বা নীতিবানদের সান্নিধ্যে। ছোটদের নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার আদর্শ জায়গা বাড়ি, কারণ শৈশবের অনেকটা সময় বাড়িতেই কাটে; তবে বড়দের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রসহ পরিসর আরও বিস্তৃত। মানুষ নৈতিকতা কোথায় শিখবে, কিভাবে শিখবে এবং কার কাছ থেকে শিখবে সেই ব্যাপারগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নৈতিকতা জোর করে কাউকে গ্রহণ করাতে বাধ্য করা যায় না। যদি না সে নিজে তা গ্রহণ করতে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকে। সুস্থ বিবেক বিকাশে সঠিক শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে হয়।

রাসূলের নৈতিক শিক্ষাক্রমকে অনুসরণ

সরওয়ারে কায়েনাত রাসূলের সা. শিক্ষা ও শিক্ষাদান পদ্ধতির তরীকা এমন নয় যে, শিক্ষার বুনিয়াদ বা ইমারত শুধুমাত্র পরজগতের ধর্মকর্মের ওপর প্রতিষ্ঠিত। শিক্ষার উৎস আল্লাহর নির্দেশ বা ফরমানে ইলাহীকে নির্ধারিত করেছিলেন। শিক্ষা-তালীমে দর্শন, বিজ্ঞান, প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তাকে বিবেচনায় নিয়েছিলেন। তাঁর শিক্ষার মধ্যে নৈতিকতার বীজ গভীরভাবে প্রোথিত ছিল।

রাসূলের সা. নৈতিক শিক্ষাক্রমের তারতীব অনন্য বিধানের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের কারণে মর্যাদার অধিকারী। যে শিক্ষার মাঝে আছে আল্লাহর নির্দেশাবলির সূক্ষ্ন বিশ্লেষণ, ঐশী নির্দেশ ও প্রাকৃতিক হুকুমের নির্যাস এবং কিতাব ও হিকমতের মধুর সংমিশ্রণ। আছে জীবনধর্মী বৈশিষ্ট্যাবলির বিশ্লেষণ, নৈতিকতার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নির্ধারণ এবং ব্যবহারিক শক্তির সীমারেখা নির্দিষ্টকরণ।

নৈতিক শিক্ষা অর্জনকে বাধ্যতামূলক করা

ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরজ। যা অন্তরকে আলোকিত ও পরিমার্জিত করে। রাসূল (সা.) মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক মূল্যবোধের পাশাপাশি আদর্শিক মূল্যবোধের সমন্বয় ঘটানোর শিক্ষা দিয়েছেন। নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তি গুম, খুন, হত্যা, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, রিজার্ভ চুরি, দুর্নীতির মতো অসৎ কাজ করতে পারে না। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সব ধরনের অপরাধ থেকে দেশ-জাতি ও মানবতাকে বাঁচাতে নৈতিক শিক্ষাকে শিক্ষাব্যবস্থার সব স্তরে সবার জন্য আবশ্যক করতে হবে।

রাসূলের আদর্শের ব্যাপক প্রচার 

রাসূল সা. গণমুখী জীবনব্যবস্থা নিয়ে এসেছেন; যাতে রয়েছে সর্বজনীন জীবন ব্যবস্থার বাস্তব ও জীবন্ত রূপ। প্রত্যেক শ্রেণির মানুষের জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপের প্রতিটি জীবনঘনিষ্ঠ প্রশ্নের জন্য তাঁর জীবনে রয়েছে উত্তর। তিনি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের শিক্ষা দিয়েছেন। বস্তুজগতের মধ্যেই অধ্যাত্ম-জগতের সন্ধান দিয়েছেন।

 ঘর থেকে নৈতিক শিক্ষা প্রদান করা

প্রতিটি পরিবারেই নৈতিক শিক্ষার ব্যবস্থা থাকা জরুরি। নৈতিক শিক্ষার প্রথম-প্রধান-অন্যতম উৎস পিতা, মাতা ও অভিভাবকেরা; যাদের জীবন ও কর্ম পৌষ্য বা সন্তানের জীবনে সরাসরি প্রতিফলিত হয়। তাঁরা সৎ-সুন্দর পরিশীলিত চরিত্র ও মার্জিত আচরণের অধিকারী হলে সন্তানেরা তা আয়ত্ত করে। নীতি-নৈতিকতা-আদর্শ-মূল্যবোধের শিক্ষাদীক্ষা দিলে সন্তান অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ায় না। ঘর থেকে নৈতিক শিক্ষা প্রদান শুরু করতে হয় বাস্তব জীবনে অনুশীলনের মাধ্যমে।

স্রষ্টার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া

বাবা-মায়ের ব্যস্ততা, সন্তানদের প্রতি উদাসীনতা, তাদের অনৈতিক উপায়ে অর্জিত অর্থ কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যদের অসদাচরণ, মিথ্যাচার, দুর্নীতিপরায়ণতা, ভারসাম্যহীন ব্যবহার সন্তানদেরকে অনৈতিক কাজে উৎসাহ জোগায় ও বিপথগামী করে তোলে। তাছাড়া সে কোথায় যায়, কি করে, কার সাথে মিশে, এগুলো ফ্রন্টলাইনার হয়ে অভিভাবককে নজরদারিতে রাখতে হয়। মায়ের প্রথম কর্তব্য সন্তানকে স্রষ্টার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া।

 ধর্মের জ্ঞানে আলোকিত করা

নৈতিক শিক্ষার ভিত্তি বপন হয় পরিবারে। মা-বাবার সঠিক নির্দেশনা বুঝায় ভালো মন্দের পার্থক্য, ছোট-বড়দের সাথে কাঙ্ক্ষিত আচার-আচরণ। আবেগ, মন, আচরণ সম্পর্কে মা-বাবার অপরিপক্বতায় বিপথগামিতার আশঙ্কা বেশি। ইসলাম ধর্মের জ্ঞানই ভালো বই পড়া, ভালো সিনেমা দেখা, বন্ধুত্বের যথার্থতা বোঝা নিশ্চিত করবে। নৈতিকতা আসে ধর্ম থেকে। নৈতিক শিক্ষার মূল বিষয়টি ধর্মীয় শিক্ষা থেকে উৎসারিত। সন্তানকে অনুগত করতেও ধর্মীয় শিক্ষা অত্যাবশক।

শিক্ষক হবেন হিরো বা আইকন

প্রত্যেক মানুষকেই অর্জন করতে হয় নৈতিক শিক্ষা। জীবনের প্রধান প্রভাবক বা নায়ক বা আইকন শিক্ষককে হতে হবে রোল মডেল বা আদর্শের বাস্তব নমুনা। শিক্ষার্থীর জীবনকে কোনো আদর্শের লক্ষ্যে পরিচালিত করে তার চরিত্রের উৎকর্ষ সাধন করে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে তা প্রতিষ্ঠা করতে শিক্ষক ভুমিকা রাখতে পারে। নৈতিক শিক্ষা না দিলে শিক্ষার দাম নেই। শিক্ষকের নৈতিকতা ছাড়া শিক্ষার গুরুত্ব কমে, শিক্ষামুখী না হয়ে অন্যকিছুতে মনোযোগী করে, নীতি-নৈতিকতা ঠুনকো হয়ে যায়।

নৈতিকতা অনুশীলন কেন্দ্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

শিক্ষাজীবনই নৈতিকতা অনুশীলন ও মূল্যবোধ চর্চার সেরা সময়। প্রয়োজন নৈতিক মূল্যবোধের আলোকে শিক্ষাব্যবস্থা চালু রাখা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু করা। ভালো শিক্ষক-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিশ্চিত হলে অসততা, মিথ্যাচার, অসদাচরণ বর্জন করার এবং দেশ-মানুষকে ভালোবাসার মতো নৈতিকতার শিক্ষাও পাবে।

সময়োপযোগী শিক্ষাব্যবস্থাকে গড়ে তোলা

সাইয়েদ আ’বুল আলা মওদূদী (রহ) বলেন, “যে জাতির রয়েছে একটি স্বতন্ত্র সংস্কৃতি, বিশ্বাস ও জীবনাদর্শ তাদেরকে তাদের প্রজন্মকে সে স্বতন্ত্র সংস্কৃতি, আকিদা বিশ্বাস, উদ্দেশ্য ও জীবনাদর্শের সংরক্ষণ, বিকাশ ও উন্নয়নের যোগ্য গড়ে তোলা কর্তব্য। আর সে উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে তুলতে হবে তাদের শিক্ষাব্যবস্থা (তালিমাত)।” জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা, চিন্তা-চেতনার সাথে মিলিয়ে সময়োপযোগী সমৃদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থা সময়ের অনিবার্য দাবি।

সমাজে প্রাধান্য থাকবে নৈতিকতার

সমাজজীবনের প্রতিচ্ছায়া মন-মানস-শিক্ষাকে প্রভাবিত করে। সুশিক্ষার জন্য চাই সহায়ক পরিবেশ, ন্যায়বিচার, সুশাসন, স্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক সহনশীলতা। নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন জাতি সৃষ্টি ও অবক্ষয়হীন সমাজ বিনির্মাণে নাগরিকদের মধ্যে জবাবদিহিতার অনুভূতি সৃষ্টি, ধর্মীয় মূল্যবোধের সম্প্রসারণ, লালন ও অনুশীলনের বিকল্প নেই। মানবীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতার প্রাধান্য থাকা সমাজই সভ্য সমাজ। সুশৃঙ্খল সমাজ তৈরী ও চারিত্রিক বিকাশে নৈতিক শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।

নৈতিকতা চর্চায় কার্যকর ভূমিকা রাষ্ট্রের

নৈতিক শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাষ্ট্রের। নৈতিকতা শিক্ষা অর্জন করতে হয়; যার কোনো সার্টিফিকেট নেই। সমাজের মানুষ ও পরিবেশ-পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করেই কেউ শিক্ষিত বা অপরাধী হয়ে বেড়ে উঠে। উন্নত দেশগুলো নৈতিকতা চর্চায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে। জাপানের স্কুলগুলোতে নৈতিকতা শিক্ষার জন্য সময় বরাদ্দ রাখা হয় ও কারিকুলামেও অন্তর্ভুক্ত। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ায়ও বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে।

নৈতিকতার দিকে আলেম-ওলামাদের নজর

ইসলাম নৈতিক চরিত্র গঠনের শিক্ষা দেয়। মানুষের নৈতিক উন্নতির জন্যই রাসূল সা. পৃথিবীতে এসেছিলেন। আলেম-ওলামারা নৈতিক চরিত্র গঠনের দিকে নজর দিলেই উন্নত মানুষ তৈরি হবে। সবার আগে নৈতিক উন্নতি প্রয়োজন, দরকার ধর্মীয় শিক্ষা। নতুবা ঘটবে নৈতিক চরিত্রের অবক্ষয়, ঠকাবে মানুষকে, কথায় কথায় বলবে মিথ্যা!

নৈতিক শিক্ষার বার্তাকে সর্বত্র পৌঁছানো 

বিভিন্ন কোর্স-ওয়ার্কশপ-কার্যক্রমের মাধ্যমে নৈতিক শিক্ষার বার্তাকে সহজ-সরল-আকর্ষণীয় উপায়ে পৌঁছাতে ভালো বই-সাহিত্য-চলচ্চিত্র ব্যবহার করতে হবে। যা মনে মূল্যবোধ স্থাপন করার সাথে সাথে কীভাবে অন্যের সাথে আচরণ করতে হয় তাও শেখাতে সাহায্য করবে, সমাজের মূল্যবোধ সম্পর্কে শেখাবে এবং নৈতিকতা-শৃঙ্খলা-মর্যাদা প্রদানের জ্ঞান বাড়াবে।

 উপসংহার

মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মুহাম্মদ সা. এর অনুপম আদর্শ বিদ্যমান। তাঁর মাঝে- পুত্র দেখবে মাতৃ-পিতৃভক্ত আদর্শ পুত্রের সর্বোত্তম চরিত্র, পিতা দেখবে কর্তব্যপরায়ণ আদর্শ পিতার চরিত্র, স্বামী দেখবে স্ত্রী-অনুরাগী আদর্শ স্বামীর চরিত্র, ব্যবসায়ী দেখবে সত্যবাদী আদর্শ ব্যবসায়ীর চরিত্র, যোদ্ধারা দেখবে আদর্শ সৈনিকের চরিত্র, সেনাপতিরা দেখবে আদর্শ সেনাপতির চরিত্র, জনসেবকেরা দেখবে আদর্শ জনসেবকের চরিত্র, বিচারকেরা দেখবে ন্যায়-নিরপেক্ষ বিচারকের চরিত্র।

তিনি শ্রমিকের আদর্শ, অতিথিপরায়ণতার আদর্শ। একজন আদর্শ পরোপকারী, আদর্শ শিক্ষক, আদর্শ প্রচারক, আদর্শ বিপ্লবী, আদর্শ নেতা ও আদর্শ রাষ্ট্রনায়ক। শিশুর আদর্শ, যুবকের আদর্শ, বয়স্কের আদর্শ। এমন অপূর্ব দৃষ্টান্তের সমাহার ও সংমিশ্রণ শুধু তাঁর জীবনাদর্শেই বিদ্যমান। যাকে অনুসরণ-অনুকরণ করায় মানব জীবনের ঐকান্তিক সফলতা নিহিত।পৃথিবী যতদিন টিকে থাকবে, ততদিন পর্যন্ত তিনি সর্বমানবের কাছে সর্বোৎকৃষ্ট অনুসরণীয় আদর্শ ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত হবেন।

 রাসূলের সা. আদর্শকে অনুসরণ করেই জীবনকে সুখী ও সমৃদ্ধ করা যায়। নৈতিকতার মাধুর্যের উৎকর্ষ–সাধনা করা যায়। সমাজ জীবনে ন্যায়–নীতি, মানবিক মূল্যবোধ ও মহৎ আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা যায়। সত্য ও ন্যায় কর্মে সচেতনতার জোয়ার সৃষ্টি করা যায়। জীবনবোধের সঙ্গে নৈতিকতার সমন্বয়ে মনুষ্যত্বের উন্নয়ন ঘটে। সততা, ন্যায়পরায়ণতা, আদর্শবাদী মনোভাব প্রকাশিত হয়। মহৎ-সৎ-সুন্দর জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য নৈতিক শিক্ষা লাভ হয়। নৈতিক মূল্যবোধের জন্ম হয়। তাই তরুণ ও যুব সমাজের মাঝে নৈতিক শিক্ষা বিস্তারে রাসূল (সা.) এর আদর্শই সর্বোত্তম ও অতুলনীয়।

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: [email protected]

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published.