চরমপন্থী মৌলবাদী উগ্রবাদী : সমাজ বিধ্বংসী দুষ্টক্ষত

জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সব মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসা-ক্ষমা-দয়া-মায়া-মমতা-সহনশীলতা-সহিষ্ণুতা প্রদর্শনের সুমহান শিক্ষাই ইসলাম দেয়। ইসলামের নামে যেকোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অনৈসলামিক ও অনৈতিক; ইসলাম মানুষে মানুষে হৃদ্যতা ও সৌহার্দ্য স্থাপনের মাধ্যমে শান্তি ও সমৃদ্ধির পৃথিবী গড়ার তাকিদ দেয়, কল্যাণের কথা বলে, মানবতার কথা বলে। সকল অসুন্দর-অকল্যাণের মূলোৎপাটন ও প্রতিরোধ করে বিশ্বব্যাপী শান্তির সুবাতাস বইয়ে দিতে চায় ইসলাম। তাই এ পথের পথিক হবে শান্তিকামী, সুস্থ, সুন্দর ও সহজ-সরল ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী।

সমাজ ও রাষ্ট্রবিধ্বংসী দুষ্টক্ষত

চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদ সমাজ-রাষ্ট্রবিধ্বংসী দুষ্টক্ষত; যা বর্তমান বিশ্বে একটি বহু আলোচিত, নিন্দিত এবং ধিকৃত বিষয়। সন্ত্রাসের কোনো দেশ নেই, কোনো সীমানা নেই। যত্রতত্র হত্যা আর হামলার শিকার হচ্ছে মানব ও মানবতা, লাশের মিছিল হচ্ছে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর। বিশেষ করে মুসলিম কান্ট্রিগুলো-এর নির্মমতার শিকার ভয়ানকভাবে। এ নিমর্মতা থেকে বাদ পড়েনি আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিও। ফ্রান্সের প্যারিসে ভয়াবহ হামলা, জার্মানিতে হামলা, যুক্তরাষ্ট্রে ক্লাবে ও স্কুলে বন্দুকধারীদের হামলা, ভারতের মুম্বাই হামলা, আফগানিস্তান-সিরিয়া-লেবাননে সরকারি বাহিনী ও সাধারণ মানুষের ওপর নিয়মিত হামলা প্রমাণ করে কোনো দেশই সন্ত্রাসী হামলা থেকে নিরাপদ নয়। দেশে দেশে ইসলামের নামে নানা ধরণের সন্ত্রাসী ঘটনার বিষাক্ত ছোবলে আক্রান্ত পুরো ধরিত্রী।

চরমপন্থা কী?

চরমপন্থা বা চরমপন্থাবাদ, চরমপন্থী শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Extremism, militant, militancy যার অর্থ হলো Holding extreme views বা চরম মনোভাব পোষণকারী বা উগ্রপন্থী। Extremist মানেই হলো Diehard fantic, militant vadical, terrorist, ultraconservative, zealot।
কোনকিছুকে সীমার দিকে, চরম দিকে ধাবিত করা বা চরমপন্থী হওয়ার ধাপ বা বৈশিষ্ট্য, চরম মতবাদ বা দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষ সমর্থন করা, শক্তিমত্ত বা উগ্র বোঝাতেও এই শব্দ ব্যবহার করা হয়। বর্তমান সময়ে এই পরিভাষাটি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় চিন্তাধারায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়, এমন একটি মতাদর্শকে বোঝাতে যা সমাজের মূলধারার আচরণ, গ্রহণযোগ্য বা মনোভাব হতে অত্যাধিক বহির্ভূত হিসেবে বিবেচিত হয়।

চরমপন্থার সংজ্ঞা

‘চরমপন্থী’ বলতে বুঝি রাজনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে বেআইনিভাবে নিরপরাধ বা অযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, হত্যা ইত্যাদি অপরাধে লিপ্ত ব্যক্তি। ত্রাসের সৃষ্টি করে অর্থাৎ ভীতি প্রদর্শন করে নিজ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করাই এ মতবাদের উপজীব্য। নিরপরাধ নিরস্ত্র মানুষের ওপর অত্যাচার, অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ ও অধিকার হরণ এবং তাদের ভূমি দখলের জন্যও চরমপন্থা ব্যবহৃত হয়।

তবে স্বাধীনতা সংগ্রামকে প্রতিপক্ষ চরমপন্থা হিসেবে যেমন আখ্যায়িত করে থাকেন ঠিক তেমনি স্বাধীনতাকামীরা আবার তাদের প্রতিপক্ষকে চরমপন্থা অবলম্বনকারী হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেন। চরমপন্থিদের সাধারণত কেন্দ্রপন্থী ও মধ্যপন্থিদের বিপরীতে তুলনা করা হয়। পাশ্চাত্য দেশগুলোতে ইসলাম বা ইসলামী রাজনৈতিক আন্দোলনসমূহের সমসাময়িক আলোচনায়, চরমপন্থী (মন্দ) এবং মধ্যপন্থী (ভালো) মুসলিমদের মধ্যে পার্থক্যকরণ স্বভাবতই বড় আকার ধারণ করেছে।

চরমপন্থী কট্টরপন্থী কারা?

চরমপন্থী হিসেবে অনুভূত রাজনৈতিক এজেন্ডাসমূহ প্রায়শ ক্ষেত্রেই কট্টর বামপন্থা বা কট্টর ডানপন্থা, পাশাপাশি রাজনৈতিক আমূলসংস্কারবাদ, প্রতিক্রিয়াবাদ, মৌলবাদ ও অন্ধবিশ্বাস এ সকল মতবাদের ধারকদের কাছ থেকে আসে। চরমপন্থাকে স্বাভাবিকের থেকে দুর বিচ্যুত একটি আচরণ বা কর্মকাণ্ডের সমষ্টি (বিশ্বাস, মনোভাব, অনুভূতি, কর্মকাণ্ড, কৌশল) হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যায়। সংঘাত স্থাপনের ক্ষেত্রে এটি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার একটি তীব্র রূপ হিসেবে প্রতিভাত হয়। কোন কর্মকাণ্ড, ব্যক্তি এবং দলকে চরমপন্থী হিসেবে আখ্যায়িত করা এবং কোনটি স্বাভাবিক তা সংজ্ঞায়িত করা সর্বদাই একটি বিষয়ভিত্তিক ও রাজনৈতিক ব্যাপার।

চরমপন্থাবাদ কী?

অর্থনীতিবিদ রোনাল্ড উইনট্রোব বলেছেন, বহু চরমপন্থী আন্দোলন তাদের আদর্শিক দিক থেকে পরস্পর সম্পূর্ণ আলাদা হলেও এরা সকলেই কিছু একই রকম বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। তিনি ‘ইহুদি মৌলবাদীগণ’ ও ‘হামাসের চরমপন্থীগণের’ মাঝে নিম্নোক্ত সাধারণ মিলগুলো তুলে ধরেন: উভয়ই অপরপক্ষকে যে কোন প্রকারের ছাড় দেয়ার বিরোধী। উভয়ই তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত। উভয়ই তাঁদের দাবি অর্জনের জন্য সহিংসতাকে সমর্থন করে এবং অনেক সময় ব্যবহারও করে। উভয়ই স্বদেশপ্রেমী। উভয়ই তাঁদের নিজ দলের ভিন্নমতের প্রতি অসহিষ্ণু। উভয়ই বিরোধীপক্ষকে খারাপ বা দুর্বৃত্ত হিসেবে তুলে ধরে।

আরনো গ্রুয়েন বলেন, ‘চরমপন্থিদের স্বপরিচয়ের অভাববোধ হল আত্মবিধ্বংসী আত্মঘৃণার ফলস্বরূপ, যা তাঁদেরকে জীবনের প্রতি প্রতিশোধের অনুভূতির দিকে এবং নিজস্ব মানবতাবোধকে ধ্বংস করার দিকে পরিচালিত করে।’ তাই, চরমপন্থাকে কোন যুদ্ধকৌশল, বা কোনো মতাদর্শ হিসেবে নয় বরং একটি আবেগপূর্ণ অসুস্থতা হিসেবে দেখা হয় যা জীবন ধ্বংসের খোরাক যোগায়।

ড. ক্যাথলিন টেইলর বিশ্বাস করেন যে- ‘মুসলিম মৌলবাদ একটি মানসিক অসুস্থতা এবং এটি নিরাময়যোগ্য। চরমপন্থা হল- নির্যাতনভোগ, নিরাপত্তাহীনতা, উপহাস, অপমানবোধ, ক্ষতি ও ক্রোধের সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতার অবদমিত তীব্র অনুভূতিসমূহের একটি আবেগপূর্ণ বহিঃনিঃসরণ যেগুলো ব্যক্তি ও দলকে সংঘাতে জড়ানোর কৌশল অনুসরণের দিকে পরিচালিত করার কারণ। চরমপন্থাকে ক্ষমতা নিয়ে খেলা করার একটি যৌক্তিক কৌশল।

ব্যারি গোল্ডওয়াটার ১৯৬৪ সালের রিপাবলিকান কনভেনশনে তার বক্তব্য রচয়িতা কার্ল হেস’র প্রশংসা করতে গিয়ে বলেন, ‘স্বাধীনতা প্রতিরক্ষার স্বার্থে চরমপন্থায় কোনো দোষ নেই, ন্যায়বিচার অনুসরণে শিথিলতা প্রদর্শনে কোনো গুণ নেই।’

রবার্ট এফ. কেনেডি বলেন, ‘চরমপন্থিদের ব্যাপারে যে বিষয়টি আপত্তিকর ও বিপজ্জনক তা তাঁদের চরমপন্থা নয় বরং তা তাঁদের অসহনশীলতা। তারা তাঁদের বিরোধী প্রতিপক্ষদের সম্পর্কে যা বলে সেটাই মূল সমস্যা, তারা নিজেদের স্বার্থে যা বলে তা নয়।’

মূল্যবোধ, চেতনা ও লক্ষ্যের পরিপন্থী

সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থা বাংলাদেশের মূল্যবোধ, চেতনা ও লক্ষ্যের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। বাংলাদেশে রয়েছে- ন্যায়বিচার, সাম্য, শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় সহাবস্থান, সংস্কৃতি, জাতিগত ও অন্যান্য বৈচিত্র্যময়তা এবং মৌলিক স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখার অঙ্গীকার। সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার যে চ্যালেঞ্জ তা মোকাবেলার জন্য বাংলাদেশের জনগণের সাহস ও সক্ষমতা রয়েছে। বাংলাদেশের আবহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সব সময়ই সন্ত্রাস ও মৌলবাদের বিপক্ষে।

সহিংসতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স

দেশের আলেম-ওলামাসহ সর্বস্তরের মানুষ সম্প্রতি বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া কয়েকটি সন্ত্রাসী ঘটনার বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে রুখে দাঁড়িয়েছে।জঙ্গি, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস চরমপন্থা মোকাবিলায় বাংলাদেশের নীতি ‘জিরো টলারেন্স’। শুধু তা-ই নয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কোনো জঙ্গি বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী যাতে দেশে ঘাঁটি গড়তে না পারে, এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ সরকার চরমপন্থা ও সন্ত্রাস দমনে বদ্ধপরিকর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও রয়েছে সজাগ দৃষ্টি। জনগণের সহায়তা জঙ্গি দমন সহজ হচ্ছে। জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের সফল অভিযানে জঙ্গিরা নিহত হয়েছে। গুলশান হামলায় আইএস দায় স্বীকার করলেও মূলত বাংলাদেশের আইএসের কোনো অস্তিত্ব নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ। কারা পরিকল্পনাকারী, অর্থ ও বোমার জোগানদাতা, সরবরাহকারী কীভাবে-কোথায় অস্ত্র ট্রেনিং এবং মগজ ধোলাই হয়েছে অনেক কিছুই তদন্তে বেরিয়ে আসছে।

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ইতিহাস

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ইতিহাস দেখলে দেখা যাবে যে এর সূচনা ১৯৯০-র মাঝামাঝি সময়ে৷ বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ কার্যত পঞ্চম প্রজন্ম বা জেনারেশনে উপস্থিত হয়েছে৷

প্রথম প্রজন্ম হচ্ছে যারা আফগানিস্তানে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে এবং বাংলাদেশে হরকাত-উল-জিহাদ-আল-ইসলাম বা হুজি প্রতিষ্ঠা করে; তাদেরকে আমরা ১৯৭৯-১৯৯২ পর্যায়ে দেখতে পাই৷ বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে একশ্রেণির জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী আমাদের সন্তানদের বিপথগামী করে তুলছে।

দ্বিতীয় প্রজন্মের আবির্ভাব ঘটে ১৯৯৬ সালে, যখন ‘কিতাল-ফি-সাবিলিল্লাহ’ সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়৷ এটিই ১৯৯৮ সালে এসে জামায়াত-উল-মুজাহিদিন বা জেএমবি’তে রূপান্তরিত হয়, যার সঙ্গে হুজি’র যোগাযোগ ছিল ওতপ্রোত৷

তৃতীয় প্রজন্ম হচ্ছে ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হিযবুত-তাহরির৷ এদের সূচনা এবং বিকাশ বৈশ্বিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে৷

চতুর্থ প্রজন্মের জন্ম হয় জামাতুল মুসলেমিন নামে ২০০৭ সালে, পরে যা আনসারউল্লাহ বাংলা টিম নামে কার্যক্রম চালায়৷ এরা অনুপ্রাণিত হয়েছে আনওয়ার আলওয়াকি’র দ্বারা এবং এরাই এখন আনসার-আল-ইসলাম বলে আল কায়েদার প্রতিনিধিত্বের দাবি করে৷

পঞ্চম প্রজন্ম হচ্ছে যারা ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেটের উদ্ভবের পরে ইসলামিক স্টেটের আদর্শের সঙ্গে যুক্ত হয়, কেউ কেউ সিরিয়াতে যুদ্ধ করতে যায়৷

আলোচিত জঙ্গি হামলা

বাংলাদেশে আলোচিত জঙ্গি হামলা শুরু হয় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তখনকার বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা ও ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট ৬৩ জেলায় জেএমবির সিরিজ বোমা বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে। সেই সময় দেশের আদালত চত্বর ও পুলিশ ফাঁড়ির সামনে বোমা বিস্ফোরণে বহু মানুষ হতাহত হয়।

পরবর্তীতে বাংলাদেশে পরপর দুটি নির্মম ও লোমহর্ষক ঘটনা হচ্ছে, গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারি ও শোলাকিয়া ঈদের জামাতে বোমা হামলা এবং বহু মানুষের হতাহতের ঘটনা। এছাড়া দেশের শিয়া মসজিদে হামলা, সংখ্যালঘু হত্যা, গির্জার পুরোহিতকে হত্যা কিংবা নোয়াখালীর এক মসজিদের ইমামকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে ।

উগ্রবাদ উগ্রবাদিতা ধর্মকে অপব্যবহার

ধর্মকে ব্যবহার করে এক ধরনের উগ্রবাদিতা চালু হয়েছে, নারী ও শিশুরা যার প্রধান শিকার। বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক সহিংসতা দেখা যাচ্ছে। গুলশান রেস্তোরায় ‘অপারেশন থান্ডার বোল্ট’-এ বাংলাদেশের চৌকষ নিরাপত্তা বাহিনীর গুলীতে যে পাঁচজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হামলাকারী নিহত হয়েছে, অথবা ইতোপূর্বে বাংলাভাই, শায়েখ আবদুর রহমান, সর্বশেষ তামীমসহ যারা জঙ্গীবাদের কারণে মেরে ফেলা হয়েছে, ব্লগার রাজিবকে চাপাতির আঘাতে হত্যার অভিযোগে যে চারজন গ্রেফতার হয়েছে, অথবা কদিন পূর্বে মাদারীপুরে কলেজ শিক্ষককে হামলার ঘটনায় ফাহিম নামের যে যুবক ধরা খেয়েছে, তারা কেউ কখনো কোনো কওমী মাদরাসায় পড়েনি। ইতোমধ্যে সন্ত্রাসী হামলাগুলোর বিচার কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রীর সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতির পরিপ্রেক্ষিতে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে বেশ কিছু মামলার চূড়ান্ত রায় হয়েছে। কিছু ঘটনার তদন্ত চলছে, আক্রমণকারীরা ধরাও পড়েছে।

শান্তি-শৃঙ্খলা-পারস্পরিক সম্প্রীতি-সহানুভূতির ধর্ম ইসলাম সিরাতুল মুস্তাকিম। ইসলাম কখনো চরমপন্থা-সন্ত্রাস-হত্যাকাণ্ড-নৈরাজ-সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে না, সমাজে অশান্তি-বিশৃঙ্খলা-অনিরাপত্তা-নৈরাজ্য সৃষ্টির ঘৃণ্যতম কাজকে অনুমোদন করে না। ইসলাম পাপ-নির্যাতনমূলক কাজ থেকে বিরত থেকে সৎ-ভালো কাজে সহযোগিতার নির্দেশ দেয়, হত্যা-রক্তপাত-অরাজকতা-সহিংসতা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: poribar.net@gmail.com

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *