কৃষক বাঁচলে দেশ ও জাতি বাচঁবে

জলবায়ু পরিবর্তন প্রক্রিয়াটি আসলেই একটি প্রাকৃতিক জটিলতা। মানুষের কর্মকান্ড দ্বারা ইহা প্রভাবিত কিন্তু তার মাত্রা কতটা এবং প্রাকৃতিক কোন কারণটি বা কারণগুলো এর জন্য দায়ী তা একটি বিশাল রহস্যই বটে। মানুষ, মানব সভ্যতা-সংস্কৃতি এবং জলবায়ু ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কোন স্থানের জলবায়ু সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মানুষগুলির মন-মস্তিষ্ক-মেজাজ কেমন হবে তার উপর অবিশ্বাস্য রকম প্রভাব ফেলে।

জলবায়ু নির্ধারণ করছে কি ধরনের খাদ্য শস্য এ অঞ্চলে উৎপাদিত হবে এবং কি হবে এ মানুষগুলির খাদ্যাভ্যাস। একটি অঞ্চলের মানুষের পোষাক-সংস্কৃতি কেমন হবে তাও জলবায়ুর প্রভাবাধীন। আবার এ জলবায়ুর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের বাস্তুসংস্থান। ভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ আর ভিন্ন ধরনের প্রাণীর সমারোহ।

জলবায়ুর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে বিশাল বৈচিত্রময় প্রাণী ও উদ্ভিদ জগৎ। সংক্ষেপে এ কথাই বলা যেতে পারে যে, মানুষ এবং তার আশ-পাশের সম্পূর্ণ প্রতিবেশ ব্যবস্থাপনা, যাবতীয় কর্মকান্ড, সমাজ বিস্তৃতি, জাতীয় অর্থনীতি, মন-মানুষিকতা, চরিত্র, চিন্তা-ভাবনা ইত্যাদি সবকিছুই জলবায়ু দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত। আর আজকের এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে মানব সভ্যতা এই জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত জটিল সমস্যার সম্মুখিন। বাংলাদেশও এই বৈশ্বিক বাস্তবতার বাইরে নয় ।

যেহেতু কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণস্পন্দন, সভ্যতার উষা, উন্নয়নের দিশা । কৃষিই সর্বাপেক্ষা দৃশ্যমান ও অপরিহার্য উৎপাদন উপহার দেয় । যে কৃষিতেই সমৃদ্ধি তাকেই সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবেশে ব্যাপক পরিবর্তন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মারাত্বক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করেছে। বৈরী জলবায়ুর ভয়াল থাবার প্রত্যক্ষ শিকার থেকে কৃষিকে বাচাঁনোর কোনো বিকল্প নেই ।

জলবায়ু বৈরী হবার কারণ ও বাস্তবতা

জলবায়ু পরিবর্তন কেন হচ্ছে বা কেন এই বিশ্ব উষ্ণায়ন এ বিষয়টিই বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত, সমালোচিত এবং বিতর্কিত বিষয়। বর্তমানে যে ব্যাখ্যাটি সবচেয়ে বেশী প্রচারনায় রয়েছে তা হল বায়ুমন্ডলে তাপ ধরে রাখতে সক্ষম গ্যাসসমূহের পরিমান বাড়ছে। ফলে বাড়ছে পৃথিবীর তাপমাত্রা। বৈজ্ঞানিক পরিভাষাতে একে গ্রীন হাউজ প্রভাব বলে। এতে করে এ পরিবর্তনের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে মানুষের কর্মকান্ডের উপর এসে পড়ে। কিন্তু হিমযুগ এবং অন্তর্বর্তীকালীন ঈষদোষ্ণ যুগের যে প্রমান সাপেক্ষ আবর্তনের বিষয় জানা গেল তাতে প্রমাণিত হয় যে, পরিবর্তন প্রক্রিয়াটি জলবায়ুর স্বাভাবিক চরিত্র।

জলবায়ু পরিবর্তনের (দীর্ঘ ইতিহাসের) প্রমান সূত্র রয়েছে । পৃথিবীর আদি প্রানী ও উদ্ভিদের জীবাশ্মাসমূহ থেকে আমরা জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রমান পেয়ে থাকি। জীবাশ্মাসমূহ থেকে মোটামুটি সহজেই উহার বাসস্থান (Habitat), বয়স এবং উহার সময়কার প্রাকৃতিক এবং জলবায়ুগত লক্ষনসমূহ নির্নয় করা যায়। পৃথিবীর জলবায়ুতে সময়ের পার্থক্যের সাথে সাথে জলবায়ুর পরিবর্তন প্রক্রিয়া প্রমাণিত হয়েছে।

Carbondioxide Hypothesis of G.N. Plass (1957): কার্বন-ডাই-অক্সাইড এমন একটি গ্যাস যা অতি সহজে পৃথিবীর দীর্ঘ তরঙ্গের বিকিরণকে শোষন করতে পারে। অতএব বায়ুতে সামান্য কার্বন-ডাই-অক্সাইড বৃদ্ধি পেলে বায়ুর তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য পরিমানে বৃদ্ধি পাবে। বায়ুতে কার্বন-ডাই-অক্সাইড এর পরিমান দ্বিগুন বৃদ্ধি পেলে বায়ুর তাপমাত্রা ২.৫ ডিগ্রি সে. বৃদ্ধি পায়।

বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বায়ুর তাপমাত্রা এবং বায়ুতে কার্বন-ডাই-অক্সাইড উভয়ই ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার অনেক বিজ্ঞানীই কার্বন-ডাই-অক্সাইডের বৃদ্ধি বিষয়কে ইতিবাচক বিষয় হিসেবেই দেখেন। যেমনঃ তারা মনে করেন কার্বন-ডাই-অক্সাইড বৃদ্ধি পাওয়া মানেই মানুষের তথা জলবায়ুর ক্ষতি হওয়া নয়।

বাতাসে এর মাত্রা বৃদ্ধি পেলে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। কারণ এ গ্যাসটি কমতি দেখা দিলে তামাম উদ্ভিদকূল বিপন্ন হবে। আমরা মানুষেরা যেমন অক্সিজেন গ্রহন করি এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড ছেড়ে দেই আমাদের বাঁচার স্বার্থে তেমনি উদ্ভিদ অক্সিজেনকে ছেড়ে দিয়ে কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে গ্রহন করে তার বাঁচার স্বার্থে।

এ কারণেই কাঁচের ঘরে (Green House) টমেটো, বাঁধাকপি প্রভৃতি চাষ করার সময় কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেয়া হয় এ গ্যাসের মাত্রা। কার্বন-ডাই-অক্সাইড এর মাত্রা বাড়িয়ে এসকল শস্যের উৎপাদন দু-তিন গুন বাড়িয়ে দেয়া সম্ভব। এভাবে কার্বন-ডাই-অক্সাইড এর মাত্রা বাড়িয়ে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিকে বলা হয় বাতাসী সার বা Arial Fertilizer।

বৈরী জলবায়ুর কারণ- United Nations Framwork Convention on Climate Change (UNFCCC) অনুযায়ী- পৃথিবীর বিভিন্ন অভ্যান্তরীণ প্রক্রিয়া, বাহ্যিক শক্তি, যেমন-সূর্যালোকের ঘনত্বের তারতম্য এবং মনুষ্যসৃষ্ট কারণ অন্যতম। এসব কারণের পাশাপাশি সৌর তেজস্ক্রীয়তা, পৃথিবীর কক্ষপথ এবং গ্রীন হাউস গ্যাসের ঘনত্বও জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলে। জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম কারণ কার্বন-ডাই-অক্সাইড আটকে পড়া।

IPCC-International Pannel for Climate Change এর দাবি অনুসারে বর্তমান সময়টি হল গত ১০০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে উষ্ণ। IPCC এর ২০০৭ প্রতিবেদন সারাংশ হলঃ ২০ শতকে বিশ্ব উষ্ণায়ন বেড়েছে ০.৬-০.২ ডিগ্রি সে.এবং গত ৩০ বছরে প্রতি দশকে বৃদ্ধি হার হল ০.১৭ ডিগ্রি সে.। শেষ ৫০ বছরের উষ্ণায়ন মানুষের কর্মকান্ড দ্বারাই বেশি হয়েছে। বিশেষ করে গ্রীন হাউজ গ্যাস তথা কার্বন-ডাই-অক্সাইড, মিথেন ইত্যাদি। যদি গ্রীন হাউজ গ্যাস বৃদ্ধি পেতে থাকে তাহলে বিশ্ব উষ্ণায়নও বৃদ্ধি পেতে থাকবে এবং এ উষ্ণায়ন ২১০০ সালের মধ্যে ১.৪-৫.৮ ডিগ্রি.সে. এ পৌছবে।

এধরনের পরিস্থিতি তৈরী হওয়ার পেছনে কে দায়ী? উন্নত বিশ্ব “জলবায়ু পরিবর্তন” বিশেষ করে “বিশ্ব উষ্ণায়ন” প্রক্রিয়ায় অন্যতম বড় দায়ী । যদিও জলবায়ু পরিবর্তন প্রক্রিয়াটি একটি প্রাকৃতিক জটিলতা। তবু মানুষের কর্মকান্ড দ্বারা ইহা প্রভাবিত। শিল্প বিপ্ল¬বের পর থেকেই বায়ুমন্ডলে তাপ ধরে রাখতে সক্ষম গ্যাস সমূহের পরিমান বাড়ছে।

গত শতাব্দিতে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমান বেড়েছে ২৫%, নাইট্রাস অক্সাইডের পরিমান বেড়েছে ১৯% এবং মিথেনের পরিমান বেড়েছে ১০০%। বিশ্ব উষ্ণায়ন, আবহাওয়ার ধরন এবং ঋতু বৈচিত্র পাল্টে দিচ্ছে। এর ফলে প্রাকৃতিক দূর্যোগ যেমন- অতি বৃষ্টি, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, সামুদ্রিক জলোচ্ছাস ইত্যাদি ঘটার সম্ভাবনা ও ফলে ক্ষতির পরিমান বাড়ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ United Nations Framwork Convention on Climate Change (UNFCCC) অনুযায়ী- পৃথিবীর বিভিন্ন আভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া, বাহ্যিক শক্তি, যেমন-সূর্যালোকের ঘনত্বের তারতম্য এবং মনুষ্যসৃষ্ট কারণ অন্যতম।

পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মূল উৎস হলো কয়লা, পেট্রোলিয়াম, ডিজেলের মত জ্বালানি ব্যাবহার, বন নিধন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, ব্যাপক শিল্পায়ন ইত্যাদি। অকেজো ও মেয়াদ উত্তীর্ণ যানবাহনে ব্যবহুত জ্বালানি ভালভাবে নিঃশেষ না হওয়ায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরিত হয় ।

কৃষিতে বৈরী জলবায়ুর প্রভাব

জলবায়ু পরিবর্তিত হচ্ছে। জলবায়ুর এ পরিবর্তন পৃথিবীর প্রাকৃতিক ইতিহসের লক্ষ-কোটি বছরের বিবর্তন ধারা। পৃথিবীর জন্মলগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন যুগে , বিভিন্ন মাত্রায় ও বিভিন্ন সময়ের মাপকাঠিতে জলবায়ুর পরির্বতন ঘটেছে ।

জলবায়ু পূর্বেও অনেকবার উষ্ণ হয়েছিল যা কিনা এখনকার চেয়েও অনেক বা কিছু বেশী ছিল। সী লেভেলও বেড়েছিল অনেক। তখন মানুষের বর্তমানের মত পরিবেশকে দূষন করার ক্ষমতাই ছিলনা। তবুও তা ঘটেছে। বিভিন্ন ধরনের পারিবেশিক পরিবর্তনের নিয়ে আসা পরিবর্তন জন্ম দেবে মানব সভ্যতার ছোট-বড় বিভিন্ন সংকট; এটাই স্বাভাবিক। পরিবর্তনটাই যে সমস্যা তা নয়।

একসময় হিমযুগ থেকে যখন জলবায়ু কিছুটা উষ্ণ হতে শুরু করেছিল তখন পরিবর্তন মানব সভ্যতার জন্য ছিল প্রকৃতির; অন্য কথায় স্রষ্টার আশীর্বাদ স্বরুপ। আর সেই পরিবর্তন এখন ভিন্ন মাত্রায় উপস্থিত; যার নেতিবাচক দিকের বিশালতায় মানব সভ্যতা তার ভবিষ্যৎ নিয়ে শংকিত। এ সমস্যাগুলিকে আমরা দুটি ভাগে তথা প্রাকৃতিক ও সামাজিক ভাগে বিভক্ত করে দেখতে পারি। যেমন-

১. প্রাকৃতিক ভাবে আমরা যেসকল সমস্যার সম্মুখিন হতে পারি তা হলো- স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন, বন্যা হবার প্রবণতা বৃদ্ধি, খরার স্থায়িত্ব ও তীব্রতা বৃদ্ধি, স্থলে টর্নেডো এবং সমুদ্রে সামুদ্রিক ঝড় এর ঘটনা ঘটবার সংখ্যা (Frequency) বৃদ্ধি, তাপ প্রবাহের তীব্রতা বৃদ্ধি, পানির মান (Quality) ও পরিমানে (Quantity) পরিবর্তন, সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, হিমবাহের গলন ইত্যাদি।

২. আর আর্থসামাজিকভাবে পানি সংশ্লিষ্ট সম্পদের স্বল্পতা দেখা দিতে পারে এবং মোটামুটি হারে তা বিভিন্নভাবে দেখা দিচ্ছেও বটে, পানি ব্যবহারের সাধারণ মান অবনতি (যেমন: নদীমাতৃক দেশ বাংলাদেশের মানুষ বাজার থেকে বিশুদ্ধ পানি কিনে খাচ্ছে), কৃষি ও বনজ সম্পদ ভিত্তিক ক্ষতি, খাদ্য নিরাপত্তা, মানুষের স্বাস্থ্য, অবকাঠামোগত ক্ষতি, বসতির ক্ষেত্রে- অধিবাসীদের স্থানান্তর এবং জীবিকার ক্ষতি, উপকূলীয় ব্যবস্থাপনা, শিল্প-শক্তি, দুর্যোগ সাড়া ও উদ্ধার পরিকল্পনা ইত্যাদি বিষয়ে নব নব জটিলতা সৃষ্টি হবারই কথা। আর তা যদি হয় কোন উন্নয়নশীল দেশের উপর তাহলে তার উচ্চমাত্রা সহজেই উপলব্ধির যোগ্য।

বর্তমান সময়ে রাজনীতিবিদ, সমাজবিজ্ঞানী, কৃষিবিদ, পরিবেশবাদী থেকে শুরু করে পৃথিবীর সব মানুষ জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে চিন্তিত। বিজ্ঞানীদের ধারণা তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে আর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দশমিক তিন মিটার বাড়লে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় পড়বে লোনা পানির প্রভাব।

এর প্রভাবে শুধু ধানের উৎপাদন কমবে বছরে পাঁচ লক্ষ টন। ঘাটতি পড়বে বিশুদ্ধ খাবার পানির ও কমবে স্বাদু পানির আয়তন।তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে আদ্রতা কমবে , কমবে বৃষ্টিপাত এতে সৃষ্ট খরার কারণে অনাবাদী জমির পরিমান বৃদ্ধি পাবে। ক্ষুদ্র আয়তনের কৃষি ভূমির বাংলাদেশে এর প্রভাব আরও বেশি। বিশেষ করে খাদ্যের খনি হিসেবে পরিচিত উত্তরাঞ্চলের মরুকরণ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হবে।

নি:সন্দেহে পৃথিবীর আবহাওয়ার গড় অবস্থার পরিবর্তন উন্নত বিশ্বের কর্মকান্ডের ফলেই ঘটছে। মনুষ্যসৃষ্ট দূষণের কারণেই গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। নির্বনীকরণ ও মরুকরণের ফলে ভূমিতে প্রতিফলনীয়তা পরিবর্তন ভূপৃষ্ঠ কর্তৃক সৌর শক্তি শোষণের পরিমাণের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত সালফারের এরোসল মেঘমালাকে পরিবর্তিত করে। ক্লোরোফ্লুরোকার্বনের কারণে স্ট্রাটোস্ফিয়ারে ওজোন স্তরের পরিবর্তন জলবায়ুকে প্রভাবিত করে। জলবায়ুর পরিবর্তনের গড় জলবায়ুর মাত্রা উন্নীত হবে। তবে প্রকৃতপক্ষে গড় নয়, আবহাওয়ার চরম ভাবাপন্নতাই ক্ষতি ঘটাবে বেশি। এতে ঘটবে প্রচন্ড খরা ও ঝড়, পরিণামে ঘটবে মৃত্যু ।

২০০৭ সালে প্রকাশিত জাতিসংঘের আন্তসরকার জলবায়ু বিষয়ক পরিষদের (আইপিসিসি) চতুর্থ প্রতিবেদনে জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তব প্রমাণ এবং বিশ্বব্যাপী এর ক্ষতিকর প্রভাবের প্রভূত বিবরণ রয়েছে।

উন্নত বিশ্বের জীবাশ্ম জ্বালানীর ফলে বায়ুদূষণ প্রতিক্রিয়ার ফলশ্রুতিতে ২০৬০ সালের পরে non melanoma skin ক্যান্সারের ঘটন সংখ্যা শতকরা ৬ থেকে ৩৫ ভাগ বৃদ্ধি পাবে। সমুদ্র সমতল বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে বৃহৎ শহর ও উপকূলের উর্বর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করে লক্ষ লক্ষ জনসাধারণকে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য করবে। এটি শুধু ব্যবস্থাপনার অযোগ্য বিরাট সংখ্যক Environmental Refugees তৈরি করবে না বরং খাদ্য ঘাটতি এবং তার প্রেক্ষিতে কিছু কিছু অঞ্চলে দুর্ভিক্ষও দেখা দিতে পারে।

উচ্চহারে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও অপচয় এবং এরোসল স্প্রেসহ অন্যান্য পরিবেশ বিনষ্টকারী কীটনাশকসমূহের উৎপাদন ও ব্যাবহারের মাধ্যমে ফ্লোরোফ্লুরো কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ায় নানা রোগের উপসর্গ সৃষ্টির পাশাপাশি বিশ্বের তাপমাত্রা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। এই গ্যাসগুলো ওজোনস্তরকে হালকা করে সৃষ্টি করছে ফাটল ।

জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যাটি অতি ব্যাপক, বিস্তৃত ও মানব সভ্যতার জন্য হুমকি স্বরুপ, ভূপৃষ্টের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বরফ গলতে শুরু করবে এবং জলভাগ তুলনামূলকভাবে স্ফীত হবে। ফলশ্রুতিতে উপকূলীয় নিম্মাঞ্চলে বসবাসরত প্রায় দু’কোটি মানুষ বাস্তহারা হবে, এদেশের নিচু এলাকাসমূহ প্লাবিত হবে, স্বাদু পানি এলাকায় লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ ঘটবে। এমনকি ভূগর্ভস্থ পানির ক্ষেত্রেও এটা হবে। বন্যা, ঘুর্ণিঝড়, সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস, খরা ও নদী ভাঙ্গনের প্রকোপ বাড়বে। খরা, বন্যা ও লবণাক্ততার ফলে ফসলের উৎপাদন মারাত্মক ভাবে হ্রাস পাবে ।

পৃথিবীর জলবায়ুর পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। বিশ্বের প্রতিটি দেশেই স্বাভাবিক আবহাওয়া জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটায় কমে যাচ্ছে শীতকালের স্থায়িত্ব, বাড়ছে ভূমি ও পাহাড় ধ্বস, ঘন ঘন দাবানল হচ্ছে, দীর্ঘায়িত হচ্ছে খরা, ঝড়ঝাঞ্ঝা, বন্যা, টর্নেডো, সাইক্লোনের মাত্রা আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ছে পরিবেশ বিপর্যয়ের ক্ষতিকর প্রভাব।

ফলে ধ্বংস হচ্ছে কৃষি, শিল্প, অর্থনৈতিক সম্পদ এবং মানুষের জীবন হয়ে পড়েছে হুমকির সম্মুখীন। ১৮৫০-১৮৬০ সময়কার তুলনায় বর্তমান পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুণ। বর্তমানে বিশ্বের তাপমাত্রা প্রতিদশকে ০.৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস হারে বাড়ছে ।

জলবায়ুর পরিবর্তন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শিশুস্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে। WHO পরিবেশিক স্বাস্থ্য (Environmental Health) এব সংজ্ঞায় বলেছে, Environmental Health includes both the direct pathological effects of chemicals, Radiation and some biological agents and the effects (obften indirect) on health and well being of the broad physical, psychological, social and aesthetic environment, which include housing, urban development, land use and transport . প্রাকৃতিক দুর্যোগ এর প্রভাব স্বাভাবিক র্কাযকলাপে বিঘ্নতা ছাড়াও শ্বাস প্রশ্বাস তন্ত্র , বৃক্কতন্ত্র, অনালিগ্রন্থিতন্ত্র এবং বিশেষ করে শিশুদের জন্য মারাত্মক হয় ।

বৈরী জলবায়ুর কারণে শুষ্ক মৌসুমে মারাত্বক খরা ,শস্যহানি ; আবার প্রলয়ঙ্কারী বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসের পৌণ:পুণিকতা । ষড় ঋতুর দেশ বাংলাদেশে ঋতু বৈচিত্র হারিয়ে যাচ্ছে । একদিকে গ্রীষ্ম ও বর্ষা প্রলম্বিত হচ্ছে ,অন্যদিকে শীতকাল সংকুচিত হচ্ছে । শরৎ ও হেমন্তের অস্তিত প্রায় বিলুপ্ত । আমাদের বেঁচে থাকার লড়াই চলছে ।

IPCC-র অভিক্ষেপ অনুযায়ী অনাগত বছর গুলোতে গড় সমুদ্র পৃষ্টের বৃদ্ধি ঘটবে ৪ মিলিমিটার করে আর এই হিসাবে ২১০০সন নাগাদ গড় সমুদ্র পৃষ্টের বৃদ্ধি ঘটবে ৪৬ সেন্টিমিটার । পৃথিবীর বেশ কটি নীচু এলাকার দেশের সমুদ্রের কাছাকাছি এলাকাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে । ১৯৯০ সালের রির্পোটে প্রকাশ করে যে গ্রীণ হাউস গ্যাস র্নিগমণ যদি না কমানো যায় পৃথিবীর তাপমাত্রা আগামী শতাব্দীর শেষ নাগাদ ৩ ডিগ্রী থেকে ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে ।

গ্রীন হাউস প্রতিক্রিয়া যদি অব্যাহত থাকে তবে অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বের গাছপালা ও পশুপাখির ২০ শতাংশই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এর প্রভাবে সমুদ্র পৃষ্টের উচ্চতা বেড়ে সমুদ্র উপকূলবর্তী নিম্ন এলাকাসমূহ চিরতরে বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও অত্যন্ত স্পষ্ট। আইপিসিসি এর মতে এই মূহুর্তে বায়ুমন্ডলে যে পরিমাণ গ্রীনহাউস গ্যাস আছে তা ২০২৫ সাল নাগাদ ১.৮ ফা: তাপ বাড়াবে এবং পরবর্তী শতাব্দীর শেষ নাগাদ এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে ১০ ফা: । ত্রতে স্থানীয় আঞ্চলিক ও বিশ্বব্যাপী জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হবে এবং তা সামাজিক ও পারিবেশিক ক্ষেত্রে সুদূর প্রসারী প্রতিকূল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে ।

স্বল্প সময়ের তাপমাত্রার নাটকীয় পরিবর্তন মানব স্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলতে পারে। তাপতরঙ্গের ক্ষেত্রে ব্যক্তি বিশেষের বিপদ সবচেয়ে বেশী হবে। এর প্রভাব স্বাভাবিক কার্যকলাপে বিঘ্নতা ছাড়াও শ্বাস প্রশ্বাসতন্ত্র, বৃক্কতন্ত্র, অনালিগ্রন্থিতন্ত্র অথবা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য সবচেয়ে মারাত্মক হয়। ম্যালরিয়াসহ কয়েকটি ভেক্টরবাহিত রোগের বন্টনের ওপর অনুমিত গড় তাপমাত্রাবৃদ্ধির একটি উল্লে¬খযোগ্য প্রভাব থাকতে পারে। জীবানু বাহকের জন্য অনুকূল পরিবেশের সৃষ্টি, মশা ও অন্যান্য রোগ বাহকের জীবনের আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি পেতে পারে ।

জীবাশ্ম জ্বালানীর ফলে বায়ুদূষণ প্রতিক্রিয়ার ফলশ্রুতিতে ২০৬০ সালের পরে non melanoma skin ক্যান্সারের ঘটনার সংখ্যা শতকরা ৬ থেকে ৩৫ ভাগ বৃদ্ধি পাবে। সমুদ্র সমতল বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে বৃহৎ শহর ও উপকূলের উর্বর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করে লক্ষ লক্ষ জনসাধারণকে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য করবে। এটি শুধু ব্যবস্থাপনার অযোগ্য বিরাট সংখ্যক Environmental Refugees তৈরি করবে না বরং খাদ্য ঘাটতি এবং তার প্রেক্ষিতে কিছু কিছু অঞ্চলে দুর্ভিক্ষও দেখা দিতে পারে।

অপেক্ষাকৃত উষ্ণ ও আর্দ্র অবস্থা Bacteria এবং অন্যান্য বিষাক্ত উৎপাদক, যেমন- ফাংগাস থেকে নি:সৃত বিষাক্ত পদার্থ (Aflatoxins) বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে পারে। তার ফলে খাদ্য দূষিত হয়ে নষ্ট হওয়ার পরিমাণ সম্ভবত বৃদ্ধি পাবে। আকাশ মেঘবৃত হওয়ার পরিমাণ বৃদ্ধির ফলে ভূপৃষ্টে পতিত সৌর বিকিরণ হ্রাস পাবে, যা তাপমাত্রা, বাস্পীয় প্রস্বেদন ও বারিপাতকেও হ্রাস করবে ।

স্বল্পমেয়াদে পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়ার ফলে কৃষি উৎপাদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে চাষাবাদের সময়কাল সংকূচিত হতে পারে এবং উৎপাদনশীলতা কমে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে পৃথিবীর উষ্ণতাবাড়ার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বনাঞ্চল এবং সমুদ্রের ওপর। বনাঞ্চলে প্রভাব পড়লে প্রাকৃতিক ভারসাম্যেও পরিবর্তন আসতে পারে, প্রাণীকূল, ভূমি, পানি ইত্যাদির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে ।

বাংলাদেশে প্রতিদিন জলবায়ু বিপন্নদের সংখ্যা বাড়ছে। নদী ভাঙ্গন, প্লাবন ইত্যাদি কারণে মানুষ ঘরবাড়ি, জমি হারিয়ে পরিবেশ উদ্বাস্তু হচ্ছে যারা পরবর্তীতে শহরাঞ্চলে বস্তিতে মানবেতর জীবন যাপন করে। বাংলাদেশ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। ঘন ঘন বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, সাগরে নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড়, খরা, জলাবদ্ধতা, অসময়ে বৃষ্টি-অনাবৃষ্টি, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের বিপর্যস্ত করে ফেলছে। এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেই টিকে আছে বাংলাদেশের মানুষ।

বৈরী জলবায়ু মোকাবেলায় করণীয়

জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য মূলত দায়ী উন্নত বিশ্ব। তাদের উন্নয়ন এবং ভোগ বিলাসিতার জন্য জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহারে যে কার্বন-ডাই অক্সাইড জাতীয় গ্যাস নির্গমন হয় তার ফলেই ঘটছে জলবায়ুর পরিবর্তন। কাজেই আমাদের দাবি তাদের নিঃশর্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। মানুষকেই এই ঝুঁকি থেকে বাচাঁর উদ্যোগ নিতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় হচ্ছে,

মনোযোগী দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা । আই, পি, সির ১৯৯২ সালে সংকলিত উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনার একটি রিপোর্টে সাগরা বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়া স্বরুপ তিন প্রকার অভিযোজন প্রক্রিয়া চিহিৃত করা হয়েছে। এগুলো প্রত্যাহার (Retreat), উপযোজন (Accommodation) এবং প্রতিরক্ষা বা সংরক্ষণ (Protection) ।

জমিকে কৃষি উপযোগী করা । যে সকল দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জমিকে কৃষি উপযোগী করা যাবেনাসেখানে কমবেশী স্বল্পকালীন কৃষি উৎপাদন থেকে আয় হ্রাস ও খাদ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে ।

শিশুরা একান্ত ভাবেই প্রাপ্ত বয়স্কদের উপর নির্ভরশীল তাই বৈরী জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাব থেকে তাদের রক্ষাকরার দায়িত্ব আমাদের। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান শিশুদের অধিকার রক্ষার ব্যাপারে বলেছেন “It was a promise by world leaders to protect the children and diminish their sufferings to promote the fullest development of their fullest potentials to make them aware of their needs , their rights and their opportunities….”

অধিকহারে জীবাশ্ম জ্বালানীর ব্যবহার বায়ুমন্ডলে গ্রীণ হাউস গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধির মাধ্যমে জলবায়ুর পরির্বতন ঘটিয়ে চলছে । জীবাশ্ম জ্বালানীর দহন এবং বন উজাড়ের কারণে বিগত ২০০ বছরে বায়ুমন্ডলে co2, ২৮ শতাংশ পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে । জীবাশ্ম জ্বালানীর দহন থেকে প্রতিবছর ৬০০০ মিলিয়ন টন র্কাবন বায়ুমন্ডলে র্নিগত হচ্ছে । যার ফলে সৃষ্টি হচ্ছে গ্রীণ হাউস প্রতিক্রিয়া । এর প্রতিকারে প্রচার মাধ্যমের সাহায্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে ।

পৃথিবী যে চরম বির্পযয়ের সম্মুখীন হবে বলে বিজ্ঞানীরা র্পূবাভাস দিচ্ছে তাহলো বৈশ্বিক উষ্ণায়ন (global warming) । বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কথা ১৮৯৬ সালে প্রথম বলেন Svante Arrhernius। মানুষের বিভিন্ন ধরনের র্কমকান্ডের কারণে প্রকৃতিতে এত বেশি পরিমানে গ্যাস মজুত হচ্ছে যে , পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে । জাতিসংঘের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে যে , বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫-২.৫ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড বৃদ্ধি পেলে প্রাণী ও উদ্ভিদের এক তৃতীয়াংশ প্রজাতি হুমকির সম্মুখীন হবে । এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য এ অবস্থার জন্য দায়ী সকল র্কমকান্ড পরিহার করতে হবে।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, কৃষির উন্নয়ন ছাড়া এই বাংলার মানুষের উন্নতির কোন পথ নেই ।
কৃষি বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যগত সংস্কৃতি । এ সংস্কৃতি মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সংস্কৃতি এবংবেঁেচ থাকার বিকল্পহীন ভিত্তি । বাংলার শতকরা ৮৫% লোক এ সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং পরিপূর্ণ ১০০ ভাগ জনগোষ্ঠি এর ফলাফলের উপর সম্পূর্ণ র্নিভরশীল। তাই দেশের উর্বর মাটির যথাযথ ব্যবহার করে কৃষক ও কৃষির প্রতি সহমর্মীতার হাত বাড়ানোর বিকল্প নেই।

দেশটি আজ সুন্দর হয়েছে কৃষির উন্নতির জন্য । অধিকাংশ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো কৃষির কাচাঁমাল ব্যবহার করেই দাড়িয়ে আছে । আমাদের সমস্ত খাবারের সাথেই কৃষি জড়িত । শুধু খাবার নয় বেচেঁ থাকার জন্য যে শ্বাস প্রশ্বাস দরকার হয় তার জন্যও কৃষির ওপর নির্ভর করতে হয়। টিকে থাকার জন্য মৌলিক যে কয়টি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান প্রয়োজন তার সব কটিই আসে কৃষি থেকে ।

সভ্যতার উন্মেষতো কৃষির উন্নতির সাথে সাথেই ঘটে । সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এই খাতটির সাথে সম্পৃক্ত কৃষকদের বৈরী জলবায়ুর কারণে যেন দুঃখের কলংক তিলক না পরে এবং দিন দিন তারা যাতে জ্বলন্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত উনুনে নিপতিত না হয় সেজন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে । মাটি বাঁচলে কৃষক বাঁচবে, কৃষক বাঁচলে দেশ ও জাতি বাচঁবে ।

তথ্যসূত্র

দৈনিক ইনকিলাব, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০০৩
বৈশ্বিক উষ্ণতা: বিপদে উন্নয়নশীল দেশ ,বাংলাদেশ র্অথনৈতিক সমীক্ষা ২০০৮,অর্থ মন্ত্রনালয়
এ বি সিদ্দিক, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া, ‘দুর্যোগ বার্তা’ ২য় বর্ষ, ২য় সংখ্যা, জুলাই-ডিসেম্বর ১৯৯৯,পৃঃ১/৪

মনোয়ারা তামান্না খান,‘পরিবেশ দূষণ’দুর্যোগ বার্তা,সংখ্যা-১৫,অক্টোবর-২০০৮,পৃষ্টা-২০
মোহাম্মদ একরামুল ইসলাম,‘শিশু স্বাস্থ্যে পরিবেশ দূষণের প্রভাব’বিজ্ঞান সাময়িকী, পৃঃ৫৭
এ টি এম নূরুল ইসলাম,‘বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা হ্রাসে বৃক্ষের ভূমিকা’ কৃষিকথা, শ্রাবণ ১৪০৬,পৃ:১০৯
পরিবেশ অধিদপ্তর,১৯৯৬

সুভাষ চন্দ্র দাস, ‘গ্রীন হাউস প্রতিক্রিয়া; একটি পর্যালোচনা’, ভূগোল পত্রিকা, সংখা ১৫/১৯৯৬, ভূগোল বিভাগ, জাবি, পৃষ্টা ৯৫
ড: আতিক রহমান “জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য ও উন্নয়ন” প্রথম আলো দশম প্রতিষ্টাবার্ষিকী সংখ্যা, ৪ নভেম্বর ২০০৮
ফাহমিদা আকতার খাতুন, ‘সমুদ্র পৃষ্টের উচ্চতা বৃদ্ধি থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করার অর্থনৈতিক বিশ্লে¬ষণ, বাংলাদেশ উন্নয়ন সমীক্ষা, ফেব্রুয়ারী ১৯৯৯, ঢাকা

জলবায়ু ও সমুদ্র পৃষ্ঠের পরিবর্তন বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা ভোলায় এর প্রভাব, এয়োদশ বষর্, ২য় সংখ্যা, জুন ১৯৯৪, উন্নয়ন বিতর্ক
মুহাম্মাদ হুমায়ুন কবির, পরিবেশকোষ, মাওলা ব্রাদার্স, ঢাকা ফেব্রুয়ারী ২০০৮, পৃ:১৬৫
সৈয়দ বাশিদুল হাসান, ‘ভোক্তা ও পরিবেশ’ দৈনিক সংবাদ, ঢাকা ২২ এপ্রিল ১৯৯৭
জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস,‘গ্রীনহাউস প্রতিক্রিয়া নিয়ে কিছুকথা’ দৈনিক সংবাদ, ঢাকা, ডিসেম্বর ১২, ১৯৯৬

কে,বি, সাজ্জাদুর রশীদ, ‘বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের আক্রম্যতা’ ভূগোল পত্রিকা, ভূগোল বিভাগ, জাবি, ঢাকা, ১৯৯৬
মুহাম্মদ লোকমান হোসাইন, ‘পরিবেশ দূষণ ও বিপন্ন পৃথিবী’ মাসিক প্রফেসর‘স কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স, জুন ২০০৫, পৃষ্টা-৩১
সম্পাদকীয়, উপকূল পরিবেশ বার্তা, ৪২ তম সংখ্যা, জুন ২০০৪, পৃঃ ০২

প্রবন্ধ রচনা, ডিগ্রী বাংলা, গ্রীন হাউস ইফেক্ট’
এজেন্ডা ২১, একুশ শতকের টেকসই উন্নয়নের রূপরেখা, আজকাল, মে, ১৯৯৭। পৃঃ ৯৬-৯৮
আই পি সি-র চতুর্থ সমীক্ষা প্রতিবেদন
রাইসুল ইসলাম আসাদ, জলবায়ুর পরির্বতন রহস্য, অন্বেষণ-২(একটি নিবন্ধ সংকলন)

আনিসুর রহমান, জলবায়ু পরির্বতন ; একটি নিবিড় বিশ্লেষণ, মাসিক এডুকেয়ার,আগষ্ট-২০০৯
ড. হায়াৎ মামুদ, ভাষা শিক্ষা, দি এ্যাটলাস পাবলিশিং হাউস জুলাই ২০০৩, ঢাকা
WMO (World Metorological Organization)
DFID
CDMP
কারেন্ট এ্যাফেয়ার্স, অক্টোবর ২০০৮ ও অক্টোবর,২০০৯

 

 

 

 

 

 

 

 

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: [email protected]

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published.