বিজয়ের লক্ষ্যপূরণে অগ্নিপরীক্ষায়ও পুষ্পহাসি

যে অগ্নিপরীক্ষায় অংশ নিতে চায় আবার কষ্ট করতেও রাজি থাকে না সে কখনোই বিজয়ের লক্ষ্যে কাজ করতে পারে না। যে শপথ নেয় শপথ ভঙ্গ করার জন্য, সে মুনাফিক! তার দেওয়ার মতো কিছু কখনোই হয় না, যার মানসিকতায় শুধুই নেওয়ার লোভ!

এক নজরে দেখে নিন লুকিয়ে রাখুন

বৃহত্তর পরিবর্তনের সম্ভাবনা

যে রক্ত দিতে প্রস্তুত থাকে অথচ ঘাম ঝরানোর ক্ষেত্রে অলসতা করে, তার দ্বারা বৃহত্তর কোনো পরিবর্তন অসম্ভব। অশ্রু কখনো অত্যাচারী-ক্ষমতালিপ্সুদের কাছে মূল্যবান বিবেচিত হয় না। কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা অবশ্যই মূল্যবান, তবে কিভাবে কষ্ট দূর করতে হবে তা জানাটা আরো বেশি মূল্যবান!

ভালো মানুষ ও ভালো সমাজ

একজন সুস্থ মানুষও শ্বাস-প্রশ্বাস ছাড়া যেমন বাঁচে না, একজন ভালো মানুষও ভালো সমাজ ছাড়া ভালো থাকতে পারে না। চারপাশে যদি আগুন থাকে তবে উত্তাপ-উষ্ণতা লাগবেই, পরিবেশতো আর শীতল থাকবে না! দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশে বসে সুরভিযুক্ত বাতাস কল্পনা করা গেলেও বাস্তবে পাওয়া যায় না। সুন্দর হলেই তা সুন্দর দেখা যায় না, সুন্দরকে দেখার মতো চোখ-মন থাকা চাই।

যা চাহিদাহীন তা মূল্যহীন

আসলে যার যা চাহিদা নেই, তাকে তা দিলে তার মূল্য সে দিতে পারে না বা পারবে না! যদি কাউকে কিছু দিতেই হয়, দেয়ার আগে তার মাঝে সেটি গ্রহণের চাহিদা তৈরি করতে হবে! অধিকাংশ মানুষই রেজাল্ট চায়! পদ্ধতি বা প্রক্রিয়া নিয়ে ভাবে কম মানুষই। কিন্তু যিনি চাষী তাকে ঠিকই চারা রোপনের আগে জমি প্রস্তুত করে নিতেই হয়!

চাওয়া ও পাওয়ার মাঝে ব্যবধান

ক্ষুধার্ত চায় খাবার, সে চায় না সিনেপ্লেক্সের টিকেট! বেকার চায় চাকরি, সে চায় না বেকারত্বের অসহায়ত্ব নিয়ে নানান ছলচাতুরি ও প্রতারণার জালের বিস্তার! দরিদ্রও চায় স্বচ্ছলতা, চায় না দারিদ্রতাকে পুঁজি করে ব্যবসা!

সোজা মেরুদন্ড ও মেরুদন্ডহীন

প্রবাসী বাংলাদেশি রেমিট্যান্স-যোদ্ধারা দেশের উন্নয়নে অবদান রাখে, তারা কখনোই চায় না রিজার্ভের টাকা চুরি হোক! যেসব শ্রমিক-কৃষকদের ভূমিকা জাতির মেরুদন্ডকে সোজা রাখতে সহায়তা করছে তারা স্বীকৃতি-সম্মান-পদক চায় না; তবে চায় দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার না হোক।

সুন্দর মনের সুন্দরের প্রকাশ

অসুন্দর মনের মানুষ কখনোই সুন্দরের প্রকাশ করতে পারে না। চোখ ভরা জল কিংবা অগ্নিচক্ষু কোনোটাই অনুপম সুন্দরের উজ্জল উপমা নয়। যাদের হাতে কারো বাবা খুন হয়েছে, তাদেরকে কোনো সন্তানই কী আর মন থেকে ভালোবাসতে পারবে! যারা স্বামীকে হত্যা করেছে, তাদেরকে কী আর কোনো স্ত্রী বন্ধু ভাবতে পারবে! না পারাটাই স্বাভাবিক!

ভারাক্রান্ত মন নিয়েও আনন্দানুষ্ঠানে

দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়েও আনন্দানুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা যায়, তবে উপভোগ করা যায় না! ব্যথিত পায়ে কী আর স্বাভাবিকভাবে দৌঁড়ানো যায়! যে মৃত্যুকেই পরোয়া করে না, তাকে কী আর কারাগারের অন্ধকূপ আর ফাঁসির মঞ্চ দেখিয়ে ভীত করা যায়! অন্যায়ের বিরুদ্ধে যে লড়াই করে তাকে অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করায় ভণ্ড-কুসংস্কারাচ্ছন্নদের রোষানলেও পড়তে হয়!

কলুষিত অন্তরের মিথ্যাই পুঁজি

যার মিথ্যাটাই পুঁজি, সে সত্যবাদীকে বন্ধু ভাবতে পারে না। যার অন্তর কলুষিত, সে শুদ্ধাচারের প্রয়োগকে কখনোই মেনে নিতে পারে না। যে পচা, যে ভালো তাকেও সে শত্রুই ভাবে! যে যেনতেনভাবে যশ-খ্যাতি চায়, তার নিন্দা-প্রশংসার কোনো মূল্য নেই। যে যেকোনো উপায়ে প্রতিষ্ঠা-নেতৃত্ব চায়; তার সেবার কথা ও আবগের কোনো মূল্য নেই!

পরাজয়ের পথ বন্ধ করা

লক্ষ্য বিজয় হলে বিজয় নিয়েই ভাবতে হবে! পরাজয়ের পথ খোলা রেখে বিজয়ের দীর্ঘ কঠিন পথে টিকে থাকা কঠিন! জীবন যতই দুঃখময় ও বেদনাবিধুর হয়ে ওঠুক না কেন আগে পরাজয়ের পথ বন্ধ করতে হবে!

দূর থেকে বহুদূরে চলে যাওয়া

অন্যের আনন্দের গান কখনো কখনো নিজের বেদনা ভুলাতে কিছুটা সহায়ক হতেও পারে! যে নিজেকে নিঃশেষ করে বিলিয়ে দেয় সে বেঁচে থাকে অন্যদের মনে! তবে যে তার নিজের জন্য অন্যরা বিলিয়ে দেবে বলে সাধনা-তপস্যা করে, সে দিনদিন চলে যায় দূর থেকে বহুদূরে।

 উপযুক্ত কাজে লাগানো

যে যে কাজে উপযুক্ত তাকেই সেই কাজে লাগাতে পারলে সামষ্টিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়! যে কাজে যে সময় দিতে পারে, তাকেই সে কাজে বাছাই করা ঠিক হবে না যোগ্যতা না থাকলে! আবার যে কাজে যার যোগ্যতা আছে ঠিকই কিন্তু সময় দেয়ার মতো সময় মোটেই নেই; তাকে সে কাজে বাছাই করা ঠিক হবে না! যার সময় দেয়ার মতো মানসিকতা আছে এবং কাজটি করার যোগ্যতা-দক্ষতা-পারদর্শিতাও আছে; তাকে সে কাজে বাছাই করলে সেও সুযোগ পেয়ে অনেক কিছু করতে পারে।

সম্ভাবনাময় উদ্যোগের মুখ থুবড়ে পড়া

শুধু সাহসের অভাব ও ঝুঁকি নেয়ার মতো মানসিক দৃঢ়তা না থাকায় অনেক সম্ভাবনাময় উদ্যোগও মুখ থুবড়ে পড়ে। নতজানু হয়ে বাঁচাকে যারা মেনে নেয়, প্রতিবন্ধকতার কাছে যারা আত্মসমর্পণ করে- তারা দেশ গড়ার সংগ্রামে সর্বশক্তি নিয়োগ করতে পারে না। তৈলমর্দন আর পদলেহন করে বা পা চাটা হয়ে কী আর যথাযথ নেতৃত্ব দেয়া যায়!

 দাসত্ব শৃঙ্খলের মতো জীবন

যে প্রকৃত দেশপ্রেমী সে তার শক্তি-সামর্থ্যকে দেশের স্বার্থেই কাজে লাগায়! দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তার আজন্ম সাধ। কারও অনিষ্ট না হওয়া পর্যন্ত চিন্তার-বলার-লেখার স্বাধীনতা হরণ করলে সমাজ আর মানুষের সমাজ আর থাকে না। যেখানে চিন্তা করবার ও ব্যক্ত করবার স্বাধীনতা নেই সেখানে জীবন দাসত্ব শৃঙ্খলের মতোই!

মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো

মেরুদণ্ডহীন মানুষ মেরুদণ্ডহীন দলে নেতৃত্ব দেয়। মেরুদণ্ডহীন কর্মী মেরুদণ্ডহীন নেতার নেতৃত্বও মেনে নেয়। মেরুদণ্ড শক্ত না হলে যেমন সোজা হয়ে দাঁড়ানো যায় না, নেতৃত্ব অনড়-অবিচল-মজবুত না হলে কোনো দলই মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। কেঁচোর মতো মেরুদণ্ডহীনরা ব্যক্তিত্বহীন। অতি উৎসাহী মেরুদণ্ডহীনরা ক্ষমতা পেলেও কাজে লাগাতে পারে না!

চরম মূল্য দেয়ার প্রস্তুতি

পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার পর খুব কম জনকেই স্মরণে রাখা হয়। যে স্বল্প কিছু মানুষকে খুব সামান্য মনে রাখা হয়, যাদের কার্যকলাপকে স্মৃতির পাতায় রাখা হয়; তারা আসলে ভালো কাজ করার জন্যই প্রতিনিয়ত নিজেদের উৎসর্গ করে গিয়েছেন। যে যেটিকে সবচেয়ে বেশি দামি মনে করে, সেটি পাবার জন্যই সে চরম মূল্য দিতেও প্রস্তুত থাকে । যার মনে নিষ্ঠা, যে সংকল্প গ্রহণে দৃঢ়- সে বৃহত্তর স্বার্থে আত্মত্যাগও করতে পারে।

এই দেশ দেশপ্রেমীদের

যারা এই দেশে জন্ম নিয়েছে তাদের এই দেশ। যারা এই দেশের আলো-বাতাসে বেড়ে ওঠেছে, তাদের এই দেশ। যারা এই দেশকে ভালোবাসে, তাদের এই দেশ। যারা জাতীয় পতাকার পবিত্রতা রক্ষার্থে আন্তরিক, এই দেশ তাদের। মানচিত্রকে বাঁচিয়ে রাখতে যারা বদ্ধপরিকর, তাদের এই দেশ। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষায় যারা নিবেদিত প্রাণ, এই দেশ তাদের।

 লুটপাটকারী পাচারকারীদের না বলুন

এই দেশটা সবার শুধু তাদের ছাড়া, যেসব জাতীয় বেইমানরা দেশের অর্থ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করে। যারা নিরস্ত্র মানুষের বুকে গুলি চালায়, এ দেশ সে খুনিদের নয়। যারা দেশবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্র করে, এ দেশ সেসব অপশক্তিদের নয়। যারা দেশবিরোধী মিথ্যা অপপ্রচার বা প্রপাগান্ডা চালায়, এই দেশ সেসব অপতৎপরতা পরিচালনাকারীদের নয়।

নিপীড়িত জনগণের পক্ষে দাঁড়ানো

এদেশ তাদের যারা দেশবিরোধী স্লোগান দেয় না। এদেশ তাদের যারা দেশবিরোধী কনটেন্ট বানায় না। এদেশ তাদের যারা দেশবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত হয় না। এদেশ তাদের যারা দেশের শত্রু নয়, জাতির শত্রু নয়, রাষ্ট্রের শত্রু নয়, জনগণের শত্রু নয়। এদেশ তাদের যারা নিপীড়িত জনগণের পক্ষে দাঁড়ায়। এদেশ তাদের যারা এদেশের নাগরিকেদের অন্যায়ভাবে নির্যাতন করে না।

নেতৃত্ব অধিকার ও হৃদয়ে আসন

কুৎসিৎ মনের মানুষের নেতৃত্বে কখনো সুন্দর দেশ গড়া যায় না। নোংরা মানুষ রাজনীতিতে সামনের সারিতে চলে এলে ভালো মানুষগুলো তাদের দ্বারা অপমানিত হবেই। জনগণের বিপক্ষে দাঁড়ালে কখনো জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করা হয় না! মানুষের অধিকার হরণ করে কখনো মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নেয়া যায় না!

স্বাধীনতা ও মুক্তির সংগ্রাম

যে অন্যের স্বাধীনতাকে হরণ করে তার গৌরব করার মতো কিছুই থাকে না। ভূমির মানুষের প্রতি অন্যায়-অবিচার করে কখনো ভূমিকে পবিত্র রাখা যায় না। দায়িত্বের পবিত্র আমানতকে অপবিত্র করে প্রতিনিয়ত নিজেকে উৎসর্গ করার বয়ান শুনানো বাতুলতা মাত্র! যারা মানুষের মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেন তাদের নাম ইতিহাসে স্বর্নাক্ষরে লেখা থাকে! যারা নিরাপরাধ মানুষকে বন্দী করে, অসহায় মানুষকে দাসের জীবনের দিকে ঠেলে দেয়, তাদের এ দেশ নয়!

এই দেশ সবার

এই দেশ শুধু রাজনীতিবীদদের নয়! এই দেশ শুধু বিশেষ কোনো দল বা মতের মানুষের জন্য নয়! এই দেশ কৃষকের! এই দেশ মজুরের! এই দেশ শ্রমিকের! এই দেশ শুধু ব্যবসায়ীদের নয়! এই দেশ সব পেশার, সব দলের, সব মতের, সব ধর্মের, সব শ্রেণির, সব বয়সীর! এই দেশকে যে ভালোবাসে, এই দেশকে যে নিজের দেশ হিসেবে মর্যাদা অনুভব করে- এই দেশ তার।

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: poribar.net@gmail.com

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *