আংশিক সত্য ভীষণ ভয়ঙ্কর

আংশিক দেখাটাই সমাজের সাধারণ চিত্র হয়ে গেছে। অথচ আংশিক সত্য তথ্য, অসত্য ও মিথ্যার চেয়েও ভয়ঙ্কর। সাধারণত সরলিকরণ ব্যাখ্যায় সত্য ও অসত্যের সম্পর্ককে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়। সুবিধাজনক সময়টা অতিক্রম কালে বা সুবিধাজনক অবস্থায় থাকা কালে তা দায়ে পরিণত হতে শুরু করে, গতি কমে-বেড়ে টিকে থাকে।

যা অসত্য নয়, তার সবই সত্য বলে প্রমাণিতও নয়। সবসময় প্রত্যাশানুযায়ী ভাগ্যের বদল হয় না, বদলের প্রকৃত চিত্র দৃশ্যমানও হয় না, দৃষ্টিভঙ্গীতেও যৌক্তিকতার প্রতিফলন ঘটে না। অনেক সময় ফলাও করে প্রচার করার বিষয় হাস্যকরও হয়ে ওঠে, স্বার্থ পরিপন্থীও হয়। পদ্ধতি বাতিল বা সংস্কারের পক্ষে জনমতও বাড়ে। তবে দুর্ভোগ তৈরি করা সবসময় সবক্ষেত্রেই খুব খারাপ কাজ বলেই বিবেচিত হয়।

অর্ধেক দেখা আর পরিপূর্ণ দেখা এক নয়। যুক্তির মারপ্যাঁচে ও মিথ্যা প্রচারণা প্রপাগান্ডায় হারিয়ে যায় নায্য-যৌক্তিক দাবি। সম্পর্ক-বিশ্বাস ও মুখে বলার চেয়ে লিখিত মিথ্যা সাক্ষ্য-প্রমাণাদিও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। হুমকি দাতা পাল্টা হুমকি না পেলে উস্কানি ও প্রশ্রয়ে আরো বেপরোয়া হয় এবং নিরবতা দুর্বলতারই সমার্থক হয়ে ওঠে। আগে-পরের কোনো ঘটনা দেখার প্রয়োজন মনে না করায় নজরেই আসে না প্রকৃত বিষয়টি।

যা দেখা হচ্ছে এবং যা দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে তার পার্থক্য বুঝেও না বোঝার ভান করা কোনো না কোনোভাবে দায় এড়ানো। অসত্য প্রচারণাও জোরালোভাবে চালালে কিছু সংখ্যক মানুষ তার পক্ষে অবস্থান নেয়। যা ত্রুটিপুর্ণ তা সঠিক নয়। অবৈধ সুবিধা যারা নেন, তারা কখনো ধরা পড়ে, কখনো পড়ে না। তবে বোধবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ ঠিকই তা বোঝে থাকে।

সত্য চাপা দিয়ে অসত্য সামনে এনে, অসততার পক্ষে অবস্থান নিলে অসম্মানিত করা হয় সত্যকে। জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে অপরাধকে সমর্থন করার বিষয়টি সরল নয়; তাতে সমাজবিরোধীরা উৎসাহ পায়। তাই আংশিক সত্যকে না দেখে পুরো সত্যকে দেখতে হবে! আনন্দ বা উচ্ছ্বাস দেখে সন্তুষ্টির ঢেকুর তুলায় সার্থকতা নেই।

অবজ্ঞার শিকার করে মূর্খ বানানো যায়! ঢালাওভাবে একজনের আচরণ দিয়ে সকলের মান নির্ণয় করা যায় না! সাধারণীকরণ করে বিচার করলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হয় না। একজনের জানা-অজানা দিয়ে আরেকজনের জ্ঞান পরিমাপ করা যায় না। আংশিক সত্য কখনও পুরো সত্য নয় বলেই সীমাবদ্ধতার বাইরে এসে সত্যকেও তুলে আনতে হবে।

‘কোড অব কনডাক্ট’, ‘নর্মস ফর কনডাক্ট’, ‘কনফেডেনশিয়ালিটি’, ‘পারসোনাল রেকর্ড’, ‘সিক্রেট’, ‘আইডেনটিটি প্রটেক্ট’ ধারণা থাকার অর্থ নীতি-নৈতিকতা বোধ যথার্থ মানে থাকা। ‘অবজেক্টিফাই’ করা ও ‘সাবজেক্ট’ এর আত্মসন্মানবোধ ক্ষুণ্ন করা গ্লানি তৈরি করে, গ্লানিবোধ আত্মসম্মানবোধে আঘাত করে। জোসেফ গোয়েবলসের তত্ত্বানুযায়ী সত্য-মিথ্যার গোলক-ধাঁধা এমন যে, একটা মিথ্যাকে বহুবার প্রচার করলে তা সত্যে পরিণত হয়। এটি হতে পারে পুরোপুরি মিথ্যা কিংবা আংশিক সত্য, ছোট ঘটনাকে বড় করে প্রচার করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *