সামাজিক মাধ্যমে অসামাজিক অপরাধ

সামাজিক মাধ্যমগুলোর অপব্যবহারে ঘটছে ভয়ংকর অসামাজিক কাজকর্ম তথা গুরুতর অপকর্ম। ফেসবুক লাইভ ভিডিও, ছবির ট্রল বা বিকৃতকরণ, ব্যক্তিগত মুহুর্তের ছবি ও ঘনিষ্ঠ ভিডিওসহ নারীদের ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করে সাইবার অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। ছবি বিকৃত করে অথবা ছবির সঙ্গে আপত্তিকর মন্তব্য জুড়ে দিয়ে প্রকাশ করে ছবি ট্রল হচ্ছে। টিনএজ নারীরা আবেগের বশে বন্ধুদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি তুলছেন; যার মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করে হেনস্থা করা হচ্ছে। বন্ধুত্ব তৈরি করে ও অনৈতিক সম্পর্ক পুঁজি করে ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে প্রতারণা করা হচ্ছে।

ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ও রীতিমতো স্পর্শকাতর অপরাধের বেশিরভাগই আইনী আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে। তথ্য-প্রমাণের অভাবে আইনের মারপ্যাঁচে অনেক সময়ই তদন্তের ফলাফল ডিজিটাল সন্ত্রাসী আসামির দিকে যায়। সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে একশ্রেণীর অসাধু চক্র মেতে উঠেছে নানা অসামাজিক কার্যকলাপে। বিভিন্ন পোস্ট দিয়ে, গোপনে ধারণ করা নোংরা ছবি-ভিডিও আপলোড করে হয়রানি, অহরহ প্রশ্নফাঁসসহ গুরুতর অপরাধগুলো সংঘটিত হচ্ছে। অনলাইনে মিথ্যা তথ্য দিয়ে গুজব রটানো ও ধর্মীয়বিদ্বেষ ছড়ানোর কারণে সহিংসতা ও মানহানির ঘটনা ঘটেছে। বিকৃত যৌনচর্চা, সংঘবদ্ধ চক্রের যৌনাচার, সেক্স চ্যাট করার জন্য পার্টনার খুঁজতে বিভিন্ন পেজে যৌন ব্যবসার ফাঁদ পাতা হচ্ছে। ফেসবুক আসক্তি এখন নেশায় পরিণত হয়েছে, জীবনের বড় একটি সময় কেড়ে নিচ্ছে এই ডিজিটাল কোকেন ও অ্যাডিকশন।

ভালো কাজে এসবের ব্যবহারে অভ্যস্ত করতে সামাজিক বিপ্লব প্রয়োজন; যাতে ইয়ং জেনারেশন ক্রিয়েটিভ হয়, ক্রিয়েটিভ ইউজ জানে, নারীরা হয়রানির শিকার না হয়। সাইবার স্পেসে আপত্তিকর কিছু দেখলে তা ঠেকাতে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। সামাজিক মাধ্যম এখন শুধু অবকাশ-অবসর-বিনোদন যাপনের ক্ষণে বাস্তবের বাইরের জগতে উঁকি দেওয়াই নয়, বাস্তব জীবনের পরিসরেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তবে সৌখিনতার মোড়কে অন্য আঙ্গিকে পেশ করা এই বাস্তবের সঠিক ব্যবহার ও প্রয়োগ না জানলে বিপর্যয় অবশ্যম্ভাবী।

আমি বলছি না তথাকথিত সামাজিক হতেই হবে! সক্রেটিসকে তার অসামাজিক কাজকর্মের জন্য হ্যামলক নামক বিষ পান করিয়ে মরতে বাধ্য করেছিল সমাজ। সমাজের ভাবনা বা বিশ্বাসের উল্টো ভাবনা সামাজিক বিশ্বাসে আঘাত করায় গ্যালিলিওকে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল।ব্যতিক্রমী চিন্তাভাবনার কারণে তৎকালীন সমাজের কাছে তারা অসামাজিক হয়েছিলেন, যদিও বর্তমান সমাজের কাছে তাদের হত্যাকারীরাই অসামাজিক! ভারতবর্ষে রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথা বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়ে নানারকম ব্যঙ্গবিদ্রুপ ও আক্রমণের শিকার হয়ে অসামাজিক ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। তৎকালীন সমাজের অসামাজিক ব্যক্তি বিদ্যাসাগর শেষ জীবনে আদিবাসী গ্রামে গিয়ে জীবন কাটিয়েছেন।

এখনো কারো ক্ষতি করবেন না, হয়তো অন্যেরা উপকৃতও হবে; তারপরও চিন্তা-কাজকর্ম-জীবনযাপন অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র হলেই আপনি অসামাজিক। আমি এই অসামাজিক হবার বিপক্ষে কথা বলছি না। আমি বলছি সামাজিক মাধ্যমে অসামাজিক অপরাধের কথা!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *