সকালের নাশতা বাদ দেয়া মৃত্যু ডেকে আনা

প্রাতরাশ বা সকালের নাশতাকে মনে করা হয় “দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার”। অ্যামেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজি থেকে গত ২২শে এপ্রিল প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ব্রেকফাস্ট বা সকালের নাশতা হতে পারে জীবন-রক্ষাকারী, প্রাতরাশ বাদ দিলে তার ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে।

চিকিৎসক এবং বেশ কয়েকটি আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এই গবেষণা ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখেছেন।

ছয় হাজার পাঁচশো পঞ্চাশ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি, যাদের বয়স ৫০ থেকে ৭৫ বছর এবং তারা ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক জাতীয় জরিপে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের কাছ থেকে নেয়া নমুনা বিশ্লেষণ করেন এই চিকিৎসক ও গবেষক দল।

অংশগ্রহণকারীরা জানান কিভাবে তারা সাধারণত সকালের খাবারটি গ্রহণ করতেন। সামগ্রিকভাবে ৫% উত্তরদাতা বলেছেন, তারা কখনোই সকালের খাবারটি মাঝে মাঝে খান নি, প্রায় ১১% বলেছেন তাদের সকালে খাওয়ার হার একেবারে বিরল, এবং ২৫% জানান যে তারা অনিয়মিতভাবে প্রাতরাশ সেরেছেন।

গবেষকরা এরপর মৃত্যুর তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করেন। ২০১১ সাল নাগাদ জরিপে অংশগ্রহণকারী ২৩১৮ জনের জীবনাবসান ঘটে। গবেষকরা সকালের খাবার গ্রহণের হার এবং মৃত্যুহারের মাঝে যোগাযোগ কী তা জানতে তৎপর হন।

ধূমপান বা স্থূলতার মতো অন্যান্য ঝুঁকি চিহ্নিত করার পাশাপাশি গবেষক দলটি দেখলো যে, প্রাতরাশ বাদ দেয়া ব্যক্তিদের অন্য যেকোনো কারণে মারা যাওয়ার আশঙ্কা ১৯% এবং হৃদরোগে মারা যাওয়ার আশঙ্কা ৮৭%।

চিকিৎসা গবেষণা এরইমধ্যে আমাদের সতর্ক করেছে যে, প্রাতরাশ বাদ দেওয়ার নেতিবাচক প্রভাব আমাদের শরীরের ওপর পড়ছে, কিন্তু বিজ্ঞানীরা এখনো এর মূল যোগসূত্রটি এখনো খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।

এই পর্যবেক্ষণের বিষয়ে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস বলছে যে, আমেরিকান প্রতিবেদন রিপোর্ট “নাশতা না খাওয়া যে হৃদরোগে মৃত্যুর সরাসরি কারণ তা প্রমাণ করতে পারে না।”

“যেসব লোক সকালে নাশতা করে না (গবেষণা অনুসারে) তারা সম্ভবত ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন বা মদ্যপান ছেড়ে দিয়েছেন এমন ব্যক্তিরা, শারীরিকভাবে অক্ষম, বাজে খাদ্যাভ্যাস, এবং যারা সকালের আহার গ্রহণ করে থাকেন তাদের তুলনায় নিম্ন আর্থ-সামাজিক অবস্থান”।

এনএইচএস এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক রিভিউতে এমনটা লেখা হয়েছে। সেখানে হৃদরোগের জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।

এই গবেষণাতে কেবল প্রাতরাশের বিষয়ে এককালীন মূল্যায়ন পেশ করা হয়েছে যে অভ্যাস পরবর্তীতে নাও থাকতে পারে।

উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, বেশিরভাগ মানুষই প্রতিদিন সকালে আহার করছেন, কিন্তু তাদের অভ্যাসের ক্ষেত্রে হয়তো বিশদ পরিবর্তন থাকতে পারে। যেমন সকাল আটটায় স্বাস্থ্যসম্মত নাশতা খেয়েও কারও হয়তো দেরিতে একটি বেকন স্যান্ডউইচ কিংবা মিষ্টি জাতীয় সিরিয়াল খেতে পারেন।

আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ডক্টর উয়েই বাও এই ফলাফলের পক্ষে বলেন, “বহু গবেষণার তথ্য দেখিয়েছে যে, সকালের খাবার গ্রহণ না করার ফলে ডায়াবেটিস, হাইপার-টেনশন এবং হাই কোলেস্টেরল এর ঝুঁকি থাকে।”

“আমাদের গবেষণা বলছে যে সকালের নাশতা খাওয়ার মাধ্যমে হতে পারে হৃৎযন্ত্রের সুস্থতা রক্ষার সহজ উপায়।”

কতটা মারণঘাতী

মিস্টার বাও এবং তার সহকর্মীরা আরও লিখেছেন, ”প্রাতরাশ গ্রহণ এবং হৃদরোগের ঝুঁকির মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয়ের ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির “আর্থ-সামাজিক অবস্থান, বডি মাস ইনডেক্স এবং কার্ডিওভাসকুলার ঝুঁকির বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়া হয়েছে”।

এই গবেষক-দল বলছে, তাদের জানামতে এটাই সম্ভবত প্রাতরাশ বাদ দেয়া এবং কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ সম্পর্কিত মৃত্যুহার বিষয়ে প্রথম কার্যকর বিশ্লেষণ।

কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ- বিশেষ করে হৃদরোগ এবং স্ট্রোক হচ্ছে বিশ্বে মৃত্যুর সবচেয়ে প্রধান কারণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে কেবল ২০১৬ সালে এই কারণে বিশ্বে ১৫.২ মিলিয়ন মৃত্যু ঘটেছে ।

বিবিসি বাংলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *