সংসার সুখের হয় বোঝাপড়ার গুণে

কাজী সাবির

ফেসবুকের কারণে সংসার বেশি ভেঙে যাচ্ছে—এ কথা প্রায়ই শোনা যায়। তবে স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে যদি বোঝাপড়া ঠিক থাকে, ঘরের–বাইরের কাজে যদি দুজন দুজনের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তবে ফেসবুক কেন—কোনো কিছুই সংসার ভাঙার কারণ হবে না।

অনলাইনের ভার্চ্যুয়াল জীবনে একজনের আচরণ দেখে তার ‘আসল’ জীবন সম্পর্কে মানুষ ধারণা করে নেয়ায় ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে । স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের গভীরতা ফেসবুক প্রোফাইলের হাস্যোজ্জ্বল ফিল্টার দেওয়া প্রোফাইল পিকচার দিয়ে যাচাই করা খুবই কঠিন। আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওয়েবসাইটগুলোই অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্কের ভিত নষ্ট করে দিচ্ছে।

 যখন ইন্টারনেট ছিল না তখনো বিশ্বাস ভঙ্গের ঘটনা ঘটেছে। সঙ্গীকে বিশ্বাস করলে নিঃশর্তভাবেই করা উচিত। এটি শুধু বিশ্বাস করা নয়, জীবনসঙ্গীকে সম্মান করাও। বলার অপেক্ষা রাখে না, স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই এই বিশ্বাসকে শ্রদ্ধা করতে হবে এবং সচেতন থাকতে হবে।  ফেসবুক বা ইমেইলের পাসওয়ার্ড জানার চেয়ে জরুরি নিজের সঙ্গীকে ভালোভাবে চেনা ও জানা!

নারীদের চাকরির ব্যাপারটা পরিবারে এখনো অনেকটা বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবেই দেখা হয়। পেশা হিসেবে নয়। সিঁড়ি বেয়ে খুব বেশি ওপরে ওঠার দরকার নেই। খারাপ কী—সংসারে কিছু অর্থ যোগ হচ্ছে। অথচ সংসারে দায়িত্ব ও অধিকারটা সমান হওয়া উচিত। নারী–পুরুষ দুজনেরই ছাড় দেওয়ার মানসিকতা খুব জরুরি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সন্তান লালনপালনের চাপটা শুধু মায়ের ওপরই থাকে। ঘরের রান্নাবান্নার দায়িত্বও থাকে । আবার অর্থ উপার্জনের দায়িত্বের মূল চাপ পুরুষদের ওপরই। অথচ নারী-পুরুষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চাকরি—সব ক্ষেত্রেই লড়াই করছেন সমানে সমান।

‘আমার স্ত্রী গৃহিণী’ এই কথা বলার মধ্যে কোনো গ্লানি নেই, কিন্তু ‘আমার স্বামী কিছু করেন না বা উনি সংসার সামলান’ আমাদের সামাজিক বাস্তবতায় এই কথাটা বলতে যেকোনো নারী সংকোচ বোধ করবেন। এসব ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর বোঝাপড়া খুব জরুরি।

ফেসবুকে একটা ছবি প্রায়ই দেখা যায়। ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ আর তাঁর স্ত্রী প্রিসিলা চ্যান একসঙ্গে খাবার তৈরি করছেন। সেই ছবি নিয়ে মিমও কম তৈরি হয়নি। একটা মিমে এমন লেখা—ফেসবুক বানিয়ে হাজার হাজার সংসার ভেঙে জাকারবার্গ বউয়ের সঙ্গে রুটি বানায়। দাম্পত্য, তা জাকারবার্গের হোক আর সাধারণ মানুষেরই হোক—স্বামী–স্ত্রীর পরস্পরের প্রতি হাত বাড়ানোটা জরুরি। ঘরের কাজ নারীর, বাইরের কাজ পুরুষের—এ ধারণাকে বিদায় বলতে হবে।

বিবাহিত জীবনকে যদি একটা খেলার সঙ্গে তুলনা করি, তাহলে এই খেলায় আপনি জিতলে শুধু আপনার সঙ্গী হারবে না, সঙ্গে আপনিও হেরে যাবেন। জয়ী হবেন যখন আপনার সঙ্গীও জিতবেন। লক্ষ্য জয় বা পরাজয়ের না, সমতার…পথচলাটা এগিয়ে যাবার নয়, সঙ্গে চলার।

লেখক: উদ্যোক্তা  সূত্র: প্রথমআলো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *