হাড়ক্ষয় রোধে করণীয়

আমাদের দেশের মানুষ এখনও অনেকটা অসচেতন। নিজের জীবনকে ভালো সবাই বাসেন কিন্তু নিজের প্রতি খুব কম মানুষই আছেন যারা যত্নশীল। অনেক রোগের মধ্য হাড় ক্ষয়টা নারী পুরুষ উভয়ের জন্য খুব মারাত্মক একটা সমস্যা সৃষ্টি করে। যেহেতু হাড় একবার ক্ষয় হলে তা আর পূরণ হয় না তাই আমাদের উচিত হাড় ক্ষয় বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা।

অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয় বলতে শরীরের হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়াকে বুঝায়। অস্টিওপোরোটিক হাড় অনেকটা মৌচাকের মতো হয়ে যায়। এতে হাড় ঝাড়রা বা ফুলকো হয়ে যায়। হাড় অতি দ্রুত ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। মারাত্মক হাড় ক্ষয়ে হাঁচি বা কাশি দিলেও তা ভেঙে যেতে পারে।

পঞ্চাশ বছর পেরনোর পর থেকে শরীরের হাড় ক্ষয় বা এর লক্ষণগুলো প্রতিভাত হতে থাকে। পুরুষ বা নারীর দেহের হাড়ে সাধারণত ২৮ বছর বয়স পর্যন্ত ঘনত্ব বাড়ে এবং ৩৪ বছর পর্যন্ত তা বজায় থাকে। এরপর থেকে হাড় ক্ষয় হতে থাকে। যাদের ক্ষেত্রে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বেশি তাদের দ্রুত হাড়ের ঘনত্ব কমতে থাকে।

মহিলাদের মাসিক পরবর্তী সময়ে  হাড় ক্ষয়ের গতি খুব বেগবান হয়। এ ছাড়াও অনেক কারণ বা ঝুঁকি হাড় ক্ষয়ের আশঙ্কা বাড়ায়। হাড় ক্ষয়ের যেসব ঝুঁকি রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে বয়োবৃদ্ধ, জিনগত ত্রুটি, অপারেশনের কারণে ডিম্বাশয় না থাকা, হায়পোগোনাডিজম এবং অতি খর্বাকৃতি হলে তা অসংশোধনযোগ্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হয়।

অন্যদিকে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি, ধূমপান, অপুষ্টি, ক্ষীণকায় দৈহিক আকার, আমিষনির্ভর খাদ্যাভ্যাস, বেশি বয়সে অতিরিক্ত চা, কফি, চকলেট গ্রহণের অভ্যাস, খাদ্যে বা বাতাসে ভারি ধাতু, কোমল পানীয় এবং মদ্যপান হলে তা সংশোধনযোগ্য ঝুঁকি হিসেবে গণ্য। শুরুতে কোনো শারীরিক লক্ষণ নাও থাকতে পারে। তবে কোমরে বা পিঠে বা অন্য কোথাও ব্যথা, বিশেষ করে তা ব্যথানাশকে কমছে না, এমন চরিত্রের। কারও কারও দৈহিক উচ্চতা কমে থাকবে, কুঁজো হয়ে যাওয়া বা সামনে ঝুঁকে থাকা। তবে সংগোপনে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে মারাত্মক ব্যাপার হলো, মেরদণ্ডে চিড় ধরা এবং ঠুনকো আঘাতেই হাড় ভাঙা।

এ রোগে প্রধান ও প্রথম পদক্ষেপ হবে ঝুঁকি শনাক্তকরণ, সম্ভব হলে তা রহিত করা। অনেক ওষুধ পাওয়া যায় সেগুলোর কোন একটি নির্দিষ্ট রোগীর জন্যে প্রযোজ্য হতে পারে। যেহেতু, হাড় ক্ষয় একবার হলে আর পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ, তাই একে আগে ভাগেই রোধ করার জাতীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসূচি নিতে হবে। এর অংশ হিসেবে কারা কতটুকু ঝুঁকিতে আছেন বা কারা ইতিমধ্যেই হাড় ক্ষয়ে ভুগছেন, তা নির্ধারণ করতে হবে এবং উপযোগী চিকিৎসা নির্বাচন ও প্রয়োগ করতে হবে। সেজন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা নিন, ভালো থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *