মানুষই প্রকৃত নেতৃত্বের প্রধান শক্তি

ভালো প্ল্যাটফর্ম শুধু নয় মানুষই হলো প্রকৃত নেতৃত্বের প্রধান শক্তি। মেধাবী কর্মী ও চমৎকার সংস্কৃতি ছাড়া যে কোনো ভালো কৌশলই ব্যর্থ হতে পারে। নেতৃত্বের তখনই জয় হয়, যখন মানুষ জয়ী হয়। সত্যিকারের নেতা নির্ধারিত ধারণার মধ্যে আটকে থাকে না, কিছু ছকে বাঁধা নিয়ম মেনে সিদ্ধান্ত নেয় না, রুটিন কাজের মধ্যে বেঁধে রাখেন না, সীমাবদ্ধ গন্ডিতে থাকেন না, কাজের ও মুক্তচিন্তা লালনের চর্চা করেন এবং নতুন কৌশল নেন। নেতৃত্বে কমান্ড করা ও শৃঙ্খলিত নিয়মের মধ্য দিয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে নেতৃত্ব একটি স্কেল নয়, ধরা-বাঁধা নিয়ম নয়, মানুষ যন্ত্র নয়। নেতৃত্ব মানুষকে আলোকিত করে, ভালো কাজে সহযোগিতা করে।

সঠিক সময়ে সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ এবং লক্ষ্য অর্জনের ধারাবাহিকতা ও সমন্বয় করতে হয়। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতার বদলে সহযোগিতার সৃষ্টি করতে হয়। প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কৌশল এবং ব্যক্তির লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কৌশলের যোগসূত্র ঘটাতে হয়, অসাধারণ কাজ করতে হয় এবং কাজগুলোকে উপস্থাপন করতে হয়। যে কোনো বড় কাজই ছোট আকারে শুরু করতে হয়। যে কোনো পরিস্থিতি মুহূর্তেই পাল্টে যেতে পারে এটা মেনে নিতে হয়। নিজের ওপর বিশ্বাস-আস্থা রাখতে হয়, নিজের মন কী বলছে তাও খেয়াল রাখতে হয়। আরাম করা নয়, সর্বদা সতর্ক থাকতে হয়। যে কোনো পরিস্থিতিতে নিজের মূল্য বজায় রাখতে হয়।

অনেকে জন্মগতভাবেই নেতা, অনেকে জন্মগতভাবেই কারো না কারো অনুসারী আর অনেকে জন্মগতভাবে নেতা-অনুসারী কোনোটিই নয়।নেতারা দুইটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে– স্বল্প মেয়াদী পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যতের জন্যে কমপক্ষে পাঁচ বছর মেয়াদী দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা। জ্ঞানী হওয়ার কারণে বা অনেকগুলো ডিগ্রি থাকার কারণে কাউকে নেতৃত্বের আসনে বসানো ঠিক না। সিনিয়রিটি-জ্যেষ্ঠতা বা বয়সের সাথে নেতৃত্বের কোনো অপরিহার্য সম্পর্ক নেই। নেতৃত্বের ব্যাপারে নারী-পুরুষের শারীরিক কাঠামোর ভিন্নতার কারণে ভেদাভেদ করা উচিত নয়। অনেক নারীরাও পুরুষদের তুলনায় পরামর্শ-আলোচনা করে  সিদ্ধান্ত নিতে বেশি পছন্দ করেন, বেশি সৃজনশীল হয়ে থাকে, অনেক গভীর চিন্তা-ভাবনা ও দূরদৃষ্টির সাথে পরিকল্পনা করে থাকে।

ভালো মানের নেতৃত্ব মানে কাজে অনেক বেশি সাফল্য, কোনো সংগঠন বা আন্দোলনে সফলতা। সংগঠন বা দল বহির্ভূত নেতৃত্বের চেয়ে ভিতর থেকে নেতৃত্ব গড়ে তোলা অনেক বেশি কার্যকর।এজন্য নেতৃত্বের যোগ্যতাসম্পন্ন লোক খুঁজে বের করা, তাদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়নে কাজ করা, নেতৃত্ব তৈরির উদ্দেশ্যে সাধারণ ও বিশেষ ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং যোগ্য নেতৃত্বকে পৃষ্ঠপোষকতা করার সংস্কৃতি গড়ে তোলা উচিৎ।

একজন সুযোগ্য-দক্ষ ও দূরদৃষ্টি সুসম্পন্ন নেতৃত্ব মানুষকে পরিচালিত করেন, অনুপ্রাণিত করেন, সর্বোত্তম ডিসিপ্লিন শিখান, মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে অনুপ্রাণিত করেন, অনুগামীদের ভালোবাসেন, উদারতা ও প্রচুর দরদ দেখান, পরস্পরিক ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখেন, অন্যের স্বার্থে নিজেদের স্বার্থ ত্যাগ করেন, পরামর্শের দরজা উন্মুক্ত রাখেন, দায়িত্ববোধ সম্পন্ন ও খোলা মনের হন এবং একে অন্যের বিশ্বাসী ও আস্থা ভাজন হন। ভালো নেতার ক্ষমতা থাকে- দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার, মানুষের সমস্যা বুঝার, দক্ষতার সাথে যোগাযোগের, দূরদর্শী পরিকল্পনা করার, জবাবদিহিতার, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার ও আমানতের খেয়ানত না করার।

ভালো নেতা হন না প্রতিহিংসাপরায়ণ, দেন না ধোকা, করেন না মিথ্যা ওয়াদা, দেখান না কৃত্রিম সমস্যার ভয়  ও নিজের স্বার্থ রক্ষায় ব্যাকুল বরং সমাজের সবার স্বার্থে কাজ করেন।তারা মুষ্টিমেয় কিছু লোককে লাভবান করা নয় বরং সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে কাজ করেন। একজন উত্তম নেতা স্পষ্ট নির্দেশনা দেন এবং তার অধীনের লোকেরা যাতে সমস্যাগুলোকে সফলভাবে মোকাবিলা করার জন্য দৃঢ়সংকল্প ও কর্মক্ষমতা লাভ করতে পারে, সেইজন্য সাহায্য করেন। অন্যদের সঙ্গে শান্তি স্থাপন করার পদক্ষেপ নেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *