কলুষিত নেতৃত্বে অবধারিত দুর্ভোগ

নেতৃত্ব কলুষিত হয়ে গেলে অন্যদের ভাগ্যেও নেমে আসে অবধারিত দুর্যোগ। বাজে বা ক্ষতিকর নেতৃত্ব হচ্ছে– যে নেতার উদ্দেশ্য খারাপ, ব্যক্তি স্বার্থে কাজ করে থাকে, সুযোগ পেলে অবাধ দুর্নীতি করে, খারাপ নৈতিকতা সম্পন্ন এবং অযোগ্য নেতা। একজন নেতা যদি  চরিত্রহীন ও  দুর্নীতিবাজ হয়, শুধু কাজের অর্ডার দেয় কিন্তু কাজে সহায়তা না করে ডেডলাইন অনুযায়ী একদম পারফেক্ট কাজ চায় আর চেঁচামিচি করে অথবা নিজ স্বার্থে বৃহত্তর স্বার্থ বিসর্জন দেয় তবে তাতে দুর্ভোগ বাড়ে।

দেশপ্রেমিক নেতা  দরকার ও প্রতারক নেতা নয়। ক্রমাগত চেষ্টা করা, ঝুঁকি মেনে নেয়া ও দ্বিধা-নিষ্ক্রিয়তা দূর করার শক্তি অর্জন দরকার। অবস্থার চাপে স্বজনপ্রীতি দুর্বল হতে থাকে আর প্রত্যয় হয় দৃঢ়। ভালো নেতারা ব্যক্তিগত কর্মসূচিকে জাতীয় কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করে নেন। আর অসৎ লোকেরাও দেশপ্রেমের পোশাকে আবৃত হয়ে ভণ্ডামি করেন, ভণ্ড নেতা সাজেন। যেসব নেতারা হীনমন্যতাবোধ ও অহংবোধের প্রভাবে যে কোনো মূল্যে ক্ষমতা, সম্পদ ও মর্যাদা পেতে চায়, তারা জাতিকে পিছিয়ে দেয়।

প্রতিষ্ঠানের সফলতার জন্য সৎ, যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্ব প্রয়োজন। যথোপযুক্ত প্রেষণা নেতৃত্বের বিকাশে সহায়ক। কার্যকরী নেতৃত্বের মধ্যে যোগ্যতা, দায়িত্বশীলতা, নৈতিকতাবোধ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকে। উপযুক্ত নেতা সঠিক নীতিমালা প্রণয়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ,  দীর্ঘমেয়াদি সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে  সরাসরি ভূমিকা রাখে। সুদক্ষ নেতৃত্ব দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মীদের ধরে রাখে এবং সুষ্ঠু মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য নেতৃত্বের উন্নয়নমুখী ও কর্মীবান্ধব প্রয়াস চালায়।

নেতৃত্ব মানেই একক আধিপত্য নয়, ভালো বক্তা, পরামর্শদানে সক্ষম অথবা কোনো সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করায় সক্ষম। ভালো নেতা কখনোই মানুষকে উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত দেন না,  জনবিচ্ছিন্নতা হন না,  জনশূন্য জায়গায় বেঁচে থাকতে পারে না। ভালো নেতা- একটা জিনিসকে বিভিন্ন দিক থেকে ভাবেন, নতুন কিছু করার চেষ্টা করেন, কীভাবে কাজ করলে আরো ভালো ফল আসবে তা নিয়ে অন্যভাবে চিন্তা করার চেষ্টা করেন। একজন নেতা সবসময় চেষ্টা করে কীভাবে নিজেকে আরো ভালোভাবে গড়ে তোলা যায়, কীভাবে নতুন কিছু জানা যায়, নতুন কোন সুযোগ বের করা যায়, কোনো কিছুকে আরো সহজবোধ্য করে তোলা যায়। যে কোনো ক্ষেত্রেই নিজেকে আর দশজনের চেয়ে আলাদা করে প্রমাণ করতে পারলে তাকে নেতা বলা যায়।

সঠিক বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞান কাঠামো গঠন করে সমস্যার সমাধান করা, অধীনস্তদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করে প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তোলা নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মানুষকে লক্ষ্যের দিকে ধাবিত করার বা পরিচালনা করার যোগ্যতা হলো নেতৃত্ব। মানুষ পরিচালনা করা যোগ্যতার বিষয়, কোনো বিজ্ঞান কিংবা জ্ঞানের বিষয় নয়, বই পড়ে নেতা হওয়া সম্ভব নয়। মানুষ পরিচালনার উপায় হচ্ছে– মানুষকে প্রলুব্ধ করা, ভীতি প্রদর্শন করা, বক্তৃতা দেয়া, মানুষকে প্ররোচিত করা এবং অনুসরণের জন্যে আদর্শ হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করা। সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া, স্পষ্ট ভিশন তৈরি করা, নির্দিষ্ট লক্ষ্য প্রতিষ্ঠা করা, অনুসরণকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও সরঞ্জাম সরবরাহ করা নেতৃত্বের কাজ। অধীনস্তদের কাজে উদ্বুদ্ধ করতে নেতৃত্ব চর্চা দরকার।

ভালো নেতা হতে আত্মসচেতনতা, আত্মবিশ্বাস ও ইচ্ছা থাকতে হবে। কার্যকর নেতৃত্ব প্রদানে দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হবে,সংশ্লিষ্টদের সাথে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ক্ষমতা থাকতে হবে, সবার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে হবে, প্রতিনিধিত্ব করার দক্ষতা থাকতে হবে, প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে নতুন নতুন পদ্ধতি বের করতে হবে, সমস্যার মোকাবেলা ও অন্যদের আকৃষ্ট করতে সৃজনশীল হতে হবে, সমস্যা আসলে সমাধানে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এছাড়া সম্পদ, সময় ও জনশক্তি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা থাকতে হবে। কার্যকর পরিকল্পনা করার দক্ষতাও থাকতে হবে। কোন কাজে ক্ষতি হবে এবং কোন কাজে লাভ হবে তা মূল্যায়ন করার ক্ষমতা থাকতে হবে। বিভিন্ন উপায়ে কর্মীদের অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতা থাকতে হবে। নিজেকে সামলাতে বুদ্ধিকে কাজে লাগাতে হবে, অন্যকে সামলাতে হৃদয়কে কাজে লাগাতে হবে। সঠিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিও জানতে হবে। ঝুঁকি গ্রহন করার মানসিকতাও থাকতে হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *