সরলতার মধ্যে সুখের সন্ধান

মানুষ বহুপূর্বেই প্রকৃতিকেই শুধু নিয়ন্ত্রণের সংকীর্ণ চিন্তার গণ্ডি থেকে বের হয়ে এসেছে। এখন স্বল্প কিছু মানুষের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে মানব সমাজে বৃহত্তর অংশের চিন্তা-ভাবনা, আবেগ-অনুভূতি, আচার-আচরণ-অভ্যাস তথা যাবতীয় কার্যক্রম, মনে হতে পারে/স্বাধীনতা বেড়েছে কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে প্রতিটি ব্যক্তিসত্তাই তার নিজস্ব স্বকীয়তা, স্বতন্ত্রতা নিয়ে বেড়ে উঠতে অক্ষম হয়ে পড়েছে। অন্যের চিন্তায় চিন্তা করা, অন্যের ভাবনায় ভাবা, অনুকরণ-অনুসরণপ্রিয় মানসিকতা তৈরির জন্য গোটা সুক্ষ্ম পারিবারিক বাস্তবতাকে, বিদ্যমান চারপাশের জন্তুকে এমনভাবে কৌশলে সাজানো হয়েছে যে নিজে যে নিজের মাঝে নেই সেটি অনুধাবণের শক্তিও মৃত্যু ঘটেছে। আমি যে আমিতেই আছি এটা বলতে পারাটা দুঃসাধ্য হয়ে ওঠেছে। বলাটা যে ঝুঁকিপূর্ণ তাও অস্বীকার করা যায় না।

মানুষ নিজের প্রয়োজনেই পথ বদলায়েছে, পদ্ধতি-প্রক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। মানব সমাজের কর্তৃত্বশীল, আধিপত্যশীল, ক্ষমতাবান মানুষেরা উঁচু থেকে নীচু সকল স্তরের মানুষের কল্যাণ, মঙ্গলের কথা বিবেচনায় না আনার ফলে সেই পন্থা, উদ্ভাবনী কৌশলই তাকে এমন এক জায়গায় নিয়ে এসেছে যে গোটা মানবতা   দুশ্চিন্তায় হতাশায় আচ্ছন্ন। উপযোগী স্তর থেকে অন্য নানা স্তর পার হয়ে সর্বোচ্চ যে স্তরে এসে থেমেছে সেখান থেকে সরে যাবার প্রত্যাশা বিশ্ব মানবতার চোখে মুখে। ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত এ পথিকটি যেন নিজেকেই অচেনা মনে করে দূর অজানা আশাঙ্কায় শঙ্কিত ভাবে সময় কাটাচ্ছে। তার বর্তমান অবস্থান তাকে যথেষ্ট শান্তি দিতে ব্যর্থ, জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় দারুণভাবে উদ্বিগ্ন। ফিরে আসতে চায় এক মধ্যম স্তরে।

অত নীচু আর অত উঁচু স্তরের কোনোটাই যে তার জন্য প্রযোজ্য মনে হচ্ছে না, উত্তম ভাবতে পারছে না। বারবার ফিরে তাকাচ্ছে, পেছনে নানাকষ্টের স্তরে। যেখান থেকে অনেক পথ পাড়ি এসেছে। আরো সামনে এগুতে নাকি অতীতের ভুল-ত্র“টি থেকে শিক্ষা নিয়ে পেছনের অপূর্ণাঙ্গতা, অস্বয়ংসম্পূর্ণতা। অসামঞ্জস্যতা দূরীকরণে সচেষ্ট হবে। এগুতে যায়, হোচট খায়, পেছনে ফিরে দেখে, সোনালী অতীত হাতছানি দেয়। এগুবে না পিছুবে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগে। ভাবে যদি এগুতেই হয় পাল্টাব গতি, নয়তো সাড়া দেব পেছনের হাতছানিতে। যেহেতু চলমান গতিপথ কণ্টকাকীর্ণ, বিভ্রান্তিকর। সেহেতু বিশ্বমানবতা শান্তি-পিপাসু, সকল নৃশংসতা-বর্বরতার চিন্তা পাল্টে নতুন গতিতে হাটবে নাকী পেছনে ফিরে যাবে সেটাই ভাবনার জগতকে আচ্ছাদিত করে আছে। আর বাস্তব জগৎ তো চিন্তা-ভাবনার জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। তাই ভবিষ্যৎ দেখার অপেক্ষায় অপেক্ষমান বিশ্বমানবতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *