যৌক্তিক আচরণ করুন দ্বিমুখী নীতি নয়

সুন্দরীর আকর্ষণীয় চেহারা, পারফিউমের ব্যবহারে সুগন্ধী বের হচ্ছে। অপরূপ সাজগোজ। সব মিলিয়ে যেন এক স্বপ্নপুরী। খুবই সংক্ষিপ্ত পোশাক। হাঁটা, কথার ঢং, চলাফেরা। দেহের আকর্ষণীয় প্রদর্শনী।  রূপসী তরুণীর এই নয়নকাড়া আয়োজন অথচ রিক্সার আরেক পার্শ্বে বসা ৭০ বছরের এক বুড়ি। যার চামড়াগুলো কুচকে গেছে, দাঁতগুলো পড়ে গেছে, মাথার চুলগুলো সাদা হয়েছে, সেই বুড়ির পুরো শরীরই কাপড়ে ঢাকা, সর্বাঙ্গ পর্দায় জড়ানো। অথচ পার্শ্বে বসা ষোড়শী নাতনির চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। দুটি বিপরীত দৃশ্যের পাশাপাশি অবস্থানের মানেটা কী?

এটা অনর্থক মনে হত না, অর্থবহ মনে হতো উল্টোটা হলে, যার প্রতি আকর্ষণের ভয় নেই, কামনা-বাসনা সৃষ্টি হবার কারণ নেই, কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত বিপর্যয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ- সেই বড় সচেতন। এই সচেতনতা হাস্যকর। মৃত লাশকে বস্ত্রে আচ্ছাদিত করে জীবন্ত মানুষের উলঙ্গ থাকার মতই বেমানান। অথচ এ ধরনের দৃশ্যপট অহরহই চোখে পড়ে। অদ্ভূত পর্দার এই অনুভূতি আমাকে হাসায়।

আসলে একজন ব্যক্তি তার পরিবার,সমাজ, সংস্কৃতি, শিক্ষা তথা পরিবেশ ও পারিপাশ্বির্ক বাস্তবতা দ্বারা প্রভাবিত হয় । একটি সুস্থ সুন্দর মন ,উন্নত রুচিবোধ ও  ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন্ ব্যাক্তি আসলে শান্ত সমাজেই গড়ে ওঠতে পারে ।  ব্যক্তির উন্ন্য়নে সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই । শান্তিময় সমাজের প্রতিশ্র“তি পূরণ করতে হলে ব্যক্তিত্বের বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশের নিশ্চয়তা সকলক্ষেত্রে সুনিশ্চিত করতে হবে । সেক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে শুরু করে পরিবার , সমাজ, সংগঠন, প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে , কারোরই নির্লিপ্ত থাকার সুযোগ নেই ।

সদা যৌক্তিকবোধের সরব অস্তিত্ব কাম্য । বিশাল প্রাসাদ নির্মিত হয় যদি দুর্বল খুঁটির উপর তবে তার পরিণতি সহজেই অনুমেয়। সুতরাং প্রাসাদ নির্মাণের পূর্বে খুঁটির ধারণ ক্ষমতা যাচাইয়ের প্রশ্ন আসে, এর খাটিত্ব প্রমাণের প্রসঙ্গ আসে। তেমনি কোনো সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, উদ্যোক্তা, প্রধান নির্বাহী এসব শীর্ষস্থানে অবস্থানকারীদেরকে লক্ষ উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্যে প্রয়োজনীয় যোগ্যতার অধিকারী হতে হবে।

ধরুণ, যদি ঘোষণা হয় যে, স্বর্ণের এ বিশাল মজুত থেকে যে যতটুকু একসাথে বহন করে ২ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে নিয়ে যেতে পারবে ততটুকু তার। এখন কেউ যদি ২০ কেজি ওজনের মালামাল বহন করার ক্ষমতা রাখে সে ৫০কেজি নিতে চাওয়াটাও যুক্তিসঙ্গত হবে না। যার যার শক্তি সামর্থ্য ও ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ীই দায়িত্ব নিতে হবে। ব্যক্তিভেদে, পরিবেশ পরিস্থিতি ও অবস্থাভেদে যৌক্তিকতার ধরণও বিভিন্ন রকমের হতে পারে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *