মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পাশে থাকুন

কেউ আকাশছোঁয়া অট্টালিকায় বিলাস বহুল জীবন যাপনে আসক্ত, আর কারো পুরো আকাশটাই ছাদ আর জমিনটাই বিশ্রামের জায়গা। নেই নিরাপদ আশ্রয় আর একেবারে নিজের মনের মতো করে সাজানোর মত কিছু। সম্পদ বলতে নিজের দেহটাই, তারপরও দেহটাকে ইচ্ছা-স্বাধীনমতো ব্যবহারের সুযোগ নেই। দুমুঠো খাদ্যের সন্ধানে থাকে সেটা কী করুণ আকুতি। নিরস কঠিন সে জীবন। স্বপ্ন-আশা-কল্পনার জগৎটা নেহায়েত অসহায়।

নির্মম বাস্তবতার নির্দয়তায় তার অস্তিত্ব যতটুকু বিদ্যমান তাও অন্য কোনো শক্তির প্রভাবে প্রভাবিত। স্বকীয়তা আর ব্যক্তিসত্তার তীব্র নিরবতা সেখানে পরিলক্ষিত। বিশাল জগতের সংকীর্ণ পরিসরে টিকে থাকা তার অস্তিত্ব। যাদের বেঁচে থাকাটাই নিরন্তন সংগ্রামে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত, নিঃশ্বাসটা যাতে বন্ধ না হয় সে জন্যেই সর্বশক্তি নিয়োগ, সবমিলিয়ে অসহনীয় অস্বাভাবিক জীবযাপন। নশ্বর দেহটাতে প্রাণটাকে কোনোমতে ধরে রাখাটা যে কী কষ্টকর হতে পারে বিকলঙ্গ, অসুস্থ, পঙ্গু অবস্থায় মানুষদের আর্তনাদ আর সাহায্য চাওয়ায় উপস্থাপিত কষ্টতেই তার উজ্জ্বল প্রমাণ।

বেঁচে থাকতে চাওয়াটাই যেন অপরাধ। জীবনে নয় মৃত্যুই হাতছানি দেয়, তা উপেক্ষা  করে চলতে হয়। জীবনটা যেন আশীর্বাদ নয় অভিশাপ, উপহার নয় শাস্তি। স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারে না, কষ্ট অনুভূত হয়, সুখ-শান্তি আনন্দ বলতে যে কী বুঝায় তা অপরিচিতই থেকে যাচ্ছে তার থেকে। প্রতিবন্ধী হয়েই জন্ম নেয়া শিশুটির অস্বাভাবিক দেহটা কিসের শাস্তি? জন্মের পর বুঝ শক্তি আমার পরই না ভাল-মন্দ পার্থক্যের যোগ্যতা আসে। সামর্থবান হয়, পাপ পুণ্যের বিচার বিবেচনা শুরু হয়। কিন্তু যৌক্তিক বোধের সব অস্তিত্বের সম্ভাবনা উকি দেয়ার আগেই এক ভয়াবহ শাস্তি পাবার জন্যই যে নতুন প্রাণের আবির্ভাব- সেটার অর্থ কী?

ধরে নিলাম, সুস্থ, স্বাভাবিক মানুষগুলো দেখে নিজের শক্তি, সামর্থ্য, যোগ্যতার কারনে অহংকারী হবে না। যে অদৃশ্যশক্তি তাকে সুন্দর জীবন দিলেন তার প্রতি কৃতজ্ঞতার প্রকাশ করবে। এদের শিক্ষার জন্যই হয় তো অন্যদের সৃষ্টি তাহলো কারো শিক্ষার জন্য, জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার জন্য অন্য কাউকে যন্ত্রণায় দগ্ধ করার যৌক্তিকতা আছে কীভাবে?

মা-বাবার বিভিন্ন ভুলের কারনে অসর্তকতা অসচেতনতার কারনে জন্মাতে পারে। শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক নানা অস্বাভাবিকতায় ভারা নতুন প্রাণ। মানলাম একের দোষেও যে অন্যকে শাস্তি পেতে হবে এটাও প্রকৃতির নিয়ম। অন্যকে দোষারোপ করে তো আর সংশ্লিষ্ট মানুষটির কল্যাণ হাসিল হবে না। তাই অস্বাভাবিক, প্রতিবন্ধী পঙ্গু মানুষদের পাশে দাঁড়াতে হবে সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষগুলোতেই। এটা তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য, মানবিকতা, মনুষ্যত্বকে কারনে প্রকৃতিগতভাবেই শারীরিক সমস্যায় নিপতিত মানুষগুলোর পাশে সাহায্য-সহযোগিতার উদার মানসিকতা নিয়ে সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষেরা দাঁড়াবে এটাই প্রত্যাশা।

প্রশ্ন আর যুক্তি তোলে অদৃশ্য কোনো শক্তিকে দোষারোপ করে বিশাল-বিশাল যুক্তি আর কঠিন-কঠিন তর্কের উৎপত্তি না ঘটায়ে সমস্যার সমাধানে বাস্তবিক পদক্ষেপেই কল্যাণ হাসিল সম্ভবপর। যে তত্ত্বীয় জ্ঞান মানব সমাজের, সৃষ্টি জগতের কোনো কাজে লাগে না, কল্যাণ হাসিল হয় না, তার চর্চা-গবেষণা নিরর্থক। ফলাফল শূন্য  অন্ত:সারহীন ভারি ভারি জ্ঞানভাণ্ডার মাথায় জমিয়ে মাথা ভারি করে কোনো লাভ নেই।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *