সুন্দর সমাজ গঠনে চাই সুস্থ দেহ ও সুন্দর মনের মানুষ

পরিবেশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হয়ে নিয়ন্ত্রণ করুন। ভাবুনতো পরিবেশ ব্যক্তির আচরণের রূপরেখা গড়ে থাকে? ব্যক্তি কেমন আচরণ করবে তা যদি পরিবেশ, পারিপার্শ্বিকতা, বিদ্যমান বাস্তবতা দ্বারাই নির্ণিত হয় তবে একই পরিবেশে মানুষ লালিত-পালিত হয়েও ভিন্ন আচরণ করে কেন? পরিবেশ স্থির থাকে না, তাহলে এটি পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে কে? কে শক্তিশালী প্রকৃতি-পরিবেশ নাকি মানুষ-নাকি অন্য কেউ? প্রত্যেকটি আচরণের পেছনেই কি কোনো কারণ থাকে নাকি অকারণেও কোনো আচরণ প্রকাশ পায়?

আচরণকে ঘিরেই যৌক্তিকতার আবির্ভাব হয় নাকি যৌক্তিকতা বিবেচনায় রেখেই আচরণের উদ্ভব ঘটে? ‘ইচ্ছাকৃত আচরণ’ ‘বাধ্য হয়ে করা আচরণ’ কিংবা ‘ জেনেবুঝে আচরণ’ ‘না জেনে-বুঝে করা আচরণ’-এগুলোর ভিন্নতার জায়গাগুলো কোথায়? ‘ভালো আচরণ’  ‘খারাপ আচরণ’ কোন মানদণ্ডে বিচার হয়ে নির্ণিত হয় সেই মানদণ্ড কে ঠিক করে কিভাবে ঠিক করে? বিচারের প্রক্রিয়া আদৌ প্রশ্নের উর্ধ্বে কী না? চেতনমনে যৌক্তিক বা অযৌক্তিক আচরণ আর অবচেতন মনে যৌক্তিক বা অযৌক্তিক আচরণ দুটোতে পার্থক্য কোথায়? যুক্তির উৎপত্তির স্থান কী মন, নাকি মগজ, কোথায়?

আচরণকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে আবেগ নাকি বিবেক কে শক্তিশালী? দুটোর মধ্যকার আন্ত:সম্পর্ক কী? এদের মধ্যে কী পার্থক্য রয়েছে? অনেকেই পরিবেশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হলেও কিছু মানুষ শত ঝঞ্ঝা বিক্ষুদ্ধ, প্রতিকূলতার সাথে সংগ্রাম করেও স্বমহিমা নিয়ে টিকে থাকে, পরিবেশকেই নিয়ন্ত্রণে আনেন, প্রতিকূলতাকে অনুকূলে ফিরিয়ে আনেন। সমাজ, সংস্কৃতির চর্চায়, সমাজের ব্যবধানে নানান বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়, এটাই পরিবেশ ও বাস্তবতার মধ্যেও ভিন্ন চরিত্রের, ভিন্ন আচরণের মানুষ লক্ষণীয় করে  থাকে। একটি সমাজে-সংস্কৃতিতে যে আচরণ গ্রহণযোগ্য আরেকটি সমাজে-সংস্কৃতিতে তা অগ্রহণযোগ্য হতেই পারে।

মানুষই সমাজ-সংস্কৃতি সৃষ্টি করেছে, আর পরবর্তীতে অনেক পরিবর্তন ঘটিয়েছে। নিয়ন্ত্রক ও স্রষ্টার যে ভূমিকা তা থেকে নিয়ন্ত্রিত হবার পরিণতি অনেকের হয়ে থাকে। এভাবেই মানুষের নানান ধরনের আচরণ পরিলক্ষিত হতে দেখি। স্বাভাবিক আচরণ আর ‘অস্বাভাবিক আচরণ’ বলে মানব আচরণকে গ্রহণযোগ্যতার আলোকে দুভাবে দেখা হয়। একজন বা একা যেটাকে স্বাভাবিক আচরণ ভাবছে আরেকজন বা আরেকটি ঐ সেটাকেই অস্বাভাবিক আচরণও ভাবতে পারে।

এ ধরনের নানান-দ্বিমুখী, পরস্পরবিরোধী, পথে-বিপথে কথাবার্তা, দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে এটাই বাস্তবতা। আর এই বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে দ্বন্দ্বমুখর মানব জীবন, সমাজ জীবন, সাংস্কৃতিক জীবনের গতিধারা প্রবাহমান থাকবে, অব্যাহত থাকবে। তবে সুন্দর সমাজ গঠনে সুস্থ দেহ ও সুন্দর মনের মানুষের বিকল্প নেই  ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *