ব্যবসার প্রচার ও প্রসারে নানা কলাকৌশল

ব্যবসার সফলতা প্রোডাক্টের গুণগত মান, প্রচার ও ব্র্যান্ডিংয়ের উপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল । বড় কিছু পেতে হলে সঠিক মার্কেটিং কৌশল ছাড়া হয় না। এটা ছোট থেকে বড় হতে এবং প্রথম হতে সাহায্য করে। মার্কেটিং নানাভাবে হতে পারে। প্রতিষ্ঠানের সামনে সাইনবোর্ড দেয়া, গলির মাথায় ইন্ডিকেটর দেয়া, উপযুক্ত সময়ে পোস্টারিং করা, সার্ভিসটা এলাকাভিত্তিক হলে কেবল টিভিতে বিজ্ঞাপন দেয়া,  জাতীয় ব্যবসা হলে টিভিতে মানসম্পন্ন বিজ্ঞাপন দেয়া, শহরের সার্ভিস হলে লোকাল বাসে স্টিকার লাগানো, বিলবোর্ডে বিজ্ঞাপন দেয়া, ছোট ছোট ফেস্টুন লাগানো, ডিজিটাল ব্যানার লাগানো, টার্গেট গ্রুপের কাছে লিফলেট বিতরণ, শোভনীয়ভাবে প্রচারপত্র বিলি করা, পত্রিকার হকারদের মাধ্যমে কাগজের সাথে একটা করে ছোট বিজ্ঞাপন দেয়া, ছোট ছোট বাক্যে মাইকিং করা, নিজের-অফিসের -সার্ভিসের নামে আলাদা আলাদা ভিজিটিং কার্ড করা, লেটারপ্যাড ছাপা, কাউকে  প্রতিষ্ঠানের ছোট প্যাডে  নোট দিলে প্রচারটাও হবে।

অফিসের খামে চিঠি ডকুমেন্ট পাঠালে প্রচার পাবে। ক্যালেন্ডার ছাপালে এক বছরের জন্য ঘরে ঘরে বিজ্ঞাপন চলে যাবে। নোটবুক ছেপে গিফট করলে হাতে হাতে প্রচার হবে, ডায়রী ছেপে উপহার দিলে জনে জনে প্রচার পাবে। টেলিফোন ডাইরেক্টরী অফিসের নামে বানিয়ে ভিতরে বিজ্ঞাপন দিয়ে গিফট করলে  তা অনেকদিন বিভিন্ন লোকের কাছে থেকে যাবে। ইয়ার প্লানার ছেপে টেবিলে রাখলে লিখতে গেলেই পন্যের এড দেখবে। নাম লোগেসহ- পেপার ওয়েট উপহার দিলে  মনে থাকবে, মগ দিলে পানি খেতে চোখে পড়বে, পেনস্ট্যান্ড দিলে  কলম রাখতে গেলে চোখে পড়বে। ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিলে নতুন প্রজন্ম আকৃষ্ট হবে, বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন  দিলে নেট ব্যবহারকারীরা দেখতে পাবে। নতুন অফার এলে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিলে লোকে জানবে। ম্যাগাজিনে রঙীন বিজ্ঞাপন দিলে সমঝদার পাঠকের চোখে পড়বে।

বিভিন্ন স্থানে সরাসরি গিয়ে পন্যের কথা বলতে প্রতিনিধি নিয়োগ করুন, কাস্টমারদের কাছে চিঠি দিন, টার্গেট পিপলসদের ইমেইল করা, বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের কাছে এসএমএস  পাঠানো, ফেসবুকে পেইজ খুলে প্রচার করা, ওয়েবসাইট খুলে বিস্তারিত তুলে ধরা, ইউটিউবে ভিডিও এড বানিয়ে তুলে ধরা, বিভিন্ন মেলায় অংশ নেয়া, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অফার দেয়া, কখনো কখনো ছাড় দেয়া, একটি পন্যের সাথে কিছু একটা ফ্রি দেয়া, পন্যের বা সেবার মান বাড়ানো, কর্মীদের আকর্ষণীয় আচরণে অভ্যস্ত করা, প্যাকিং রং সুন্দর করা, সুন্দর একটা স্লোগান প্রচার করা, বড় বড় পার্টির সাথে সরাসরি কথা বলা, নিজের ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত একটি পত্রিকা প্রকাশ করা।

নিয়ে আসলে বিশেষ ছাড় পাবে এমন কুপন ছাড়া, বিজ্ঞাপনসহ শপিং ব্যাগ ছাপানো, পত্রিকায় প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠানো, বিভিন্ন ব্লগে নিজের ব্যবসা সংক্রান্ত লেখা পোস্ট করে পরোক্ষভাবে প্রচারণা চালানো যেতে পারে। ই শপ হলেও আউটলেট থাকতে পারে আবার মার্কেটে দোকান থাকলেও ই কমার্স সাইট থাকতে পারে। বিভিন্ন অকেশানে ছাড় দিয়ে ক্রেতা আকর্ষণ, কমাশিয়াল সার্ভিসের পাশাপাশি ফ্রি সার্ভিস দেয়া ব্যবসার সহায়ক।

এছাড়াও কৌশল হচ্ছে- বিশেষ ছাড় দিয়ে বড়ো গ্রুপ কন্টাক্ট বা কর্পোরেট কন্টাক্ট করলেন আবার তারা আপনার ক্লায়েন্টকে বিশেষ সুবিধা দিলো। একজন কমিশন দিলো এর বিনিময়ে তাদের সব ব্রাঞ্চে এড লাগানো থাকলো। ম্যাগাজিনে দেয়া বিজ্ঞাপনের সাথে থাকা কুপন অংশ নিয়ে আসলে ছাড় দেয়া, একপাশে বিজ্ঞাপন থাকার শর্তে বাস বা লঞ্চের টিকেট ছেপে দেয়া, শপিং ব্যাগ বা খাতার মতো ব্যবসা এবং বিজ্ঞাপন দুটোই হয় এমন প্রচারমূখি পন্যের একটা অংশে বিজ্ঞাপন দেয়া, এসএমএস শো করলে বিশেষ ছাড়ের

অফার দেয়া, অর্ডার নিশ্চিত করতে ফিরতি এসএমএস দিলে বিশেষ ছাড় দেয়া, ওয়েব ইনফোর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে ওয়েব মার্কেটিং হয়। পণ্যের ওপর একটা তথ্যবহুল ওয়েবসাইট বানালে কনটেন্টের সাথে বিজ্ঞাপন থাকলো ভিজিটর পণ্য সম্পর্কে জেনে যাবে। বিভিন্ন মেলায়ও বিজ্ঞাপন শর্তে টিকেট দিতে পারেন। ব্যবসায়িক সেবা বা পন্য সম্পর্কে ডকুমেন্টারী তৈরি করে ইউটিউবে ছেড়ে দিন,বিভিন্ন সিডেতে বিজ্ঞাপন দিন, এ বিষয়ে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করুন, ব্লগে লিখুন, লেখাগুলো এসইও করুন, বিভিন্ন লোকদের সৌজন্যে দিন। অনেক সময় একটি বডি স্প্রে সৌজন্যে দিলে ৫টি বিক্রয় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

কমিশনের ভিত্তিতে অবৈতনিক মার্কেটিং প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া, বিভিন্ন আউটলেট ও শোরুমে ধারে পন্য রেখে বিক্রয়ের পর মূল্য সংগ্রহ করা, বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে সরাসরি এবং ভ্রাম্যমান বিজ্ঞাপন দেয়া, ফেসবুকে ব্যবসা সংক্রান্ত এডভাইস পেইজ খুলে যারা জানতে চায় তাদেরকে জানানো, কমদামী কিছু পন্য ছাড়লে নামটিসহ পন্যকে মানুষের মাঝে নিয়ে যাবে দ্রুত, পণ্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসা নিয়ে একটি টিভি প্রোগ্রাম করা, পন্য ডেলিভারির পর কাস্টমারের সন্তুস্টি সাক্ষাৎকারের নিয়ে ৩০ সেকেন্ডের ২০টি ভিডিও ছাড়া, বিজ্ঞাপন সংযুক্ত মাউসপ্যাড গিফট করা, বিভিন্ন পাবলিক প্রোগ্রামে কোনকিছু স্পন্সর করা, ব্যবসায়িক বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রফেশনালদের প্রশিক্ষণ দেয়া, নগদ টাকা দিয়ে নয় সার্ভিস দিয়ে কো স্পন্সর  হয়ে নাম লোগে ব্যবহারের মাধ্যমে ব্রান্ডিং করা।

একজনের মার্কেটিং করার গুণাবলী আছে মানে- হাসিখুশি ও পোশাক-পরিচ্ছদে স্মার্ট, ব্যক্তিত্ব ও রুচিবোধ ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম, কথাবার্তায় চটপটে স্বভাবের, গুছিয়ে কথা বলতে পারেন, আপনার বাচনভঙ্গি অসাধারণ, উপস্থিত বুদ্ধিমত্তা দারুণ, সহজে যেকোনো মানুষের সঙ্গে মিশতে পারেন, যেকোনো পরিবেশ-পরিস্থিতিতে অতি দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারেন, মানুষকে বুঝানোর বা যুক্তি দাঁড় করানোর ক্ষমতা রয়েছে,  দ্রুত মুক্ত মনে শিখে নেওয়ার মানসিকতা রয়েছে, দেশের যেকোনো প্রান্তে কাজ করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি আছে এবং রসবোধ আছে ইত্যাদি। প্রথম দর্শনেই তাকে আত্মবিশ্বাসী মনে হতে হবে, পেশাগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং বড় স্বপ্ন দেখতে পারতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *