প্রচার ও ব্র্যান্ডিংয়েই ব্যবসার সফলতা

মিলান কুন্ডেরা বলেছেন-‘ব্যবসার সফলতা দুটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে— প্রোডাক্টের প্রচার ও ব্র্যান্ডিং’। মার্কেটিং কোম্পানিকে সচল রাখে, ক্রেতা-গ্রাহককে কোম্পানির কাছে আনে। স্ট্র্যাটেজিক রোল প্লে করেন ব্যবসায়িক কৌশল তথা নীতি-নির্ধারণী কাজে সম্পৃক্তরা। আর মার্কেটিং পেশাদারীরা মার্কেটিংয়ের নিজস্ব ব্যাকরণ মেনে ও অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য রক্ষা করে মানুষের মন জয়ের কলাকৌশল প্রয়োগ করেন। সদা পরিবর্তনশীল মার্কেটিং দুনিয়াতে এখন রিলেশনশিপ মার্কেটিং কম্পিটেন্সিকে ভাবা হয় বিপণনকর্মীদের আদর্শ স্কিল।

মার্কেটিং করার গুণাবলী আছে মানে- হাসিখুশি ও পোশাক-পরিচ্ছদে স্মার্ট, ব্যক্তিত্ব ও রুচিবোধ ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম, কথাবার্তায় চটপটে স্বভাবের, গুছিয়ে কথা বলতে পারেন, আপনার বাচনভঙ্গি অসাধারণ, উপস্থিত বুদ্ধিমত্তা দারুণ, সহজে যেকোনো মানুষের সঙ্গে মিশতে পারেন, যেকোনো পরিবেশ-পরিস্থিতিতে অতি দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারেন, মানুষকে বুঝানোর বা যুক্তি দাঁড় করানোর ক্ষমতা রয়েছে,  দ্রুত মুক্ত মনে শিখে নেওয়ার মানসিকতা রয়েছে, দেশের যেকোনো প্রান্তে কাজ করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি আছে এবং রসবোধ আছে ইত্যাদি। প্রথম দর্শনেই আপনাকে আত্মবিশ্বাসী মনে হতে হবে, পেশাগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং বড় স্বপ্ন দেখতে পারতে হবে।

মার্কেটিং জবে সারাজীবনই কমবেশি শিখতে হয়। মার্কেটিং পেশায় শিক্ষা নিতে হবে বস ও সহকর্মীর কাছ থেকে, অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে হবে মার্কেট থেকে। মার্কেটিং করে একটা সাফল্য অর্জন মানে একটা মাইলফলক ছোঁয়া। অন্যের মানসিকতা বুঝে ও তার প্রয়োজন জেনে নিয়ে তাকে খুশি করতে পারা, একই পণ্য বা সেবা দিয়ে তাদের প্রত্যেকের মন জয় করা এই পেশার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু সফল বিক্রয় পেশাজীবীরা হাসিমুখে সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন এবং শেষ হাসিটা তিনিই হাসেন। একই সঙ্গে ক্রেতাও কিন্তু হাসিমুখে বিদায় নেন। এভাবে ‘হ্যাপি- এন্ডিং’ বা আনন্দময় সমাপ্তি ঘটে। পৃথিবীজুড়ে যেহেতু ছেলে ক্রেতা বেশি, তাই বিক্রয়কর্মী হিসেবে মেয়েদের সম্ভাবনা বেশি।

বো ব্যানেট বলেছেন- মার্কেটিং একটা প্রোডাক্টকে কোটি কোটি মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতে পারে। কার্ল লেগেনফিল্ড বলেছেন- মার্কেটিং একটা প্রোডাক্টের গুণগত মানের উপরও নির্ভর করে—এটা প্রোডাক্ট ম্যানেজারের দায়িত্ব। মার্কেটিং এর প্রধান ৪টি ক্ষেত্র হচ্ছে  প্রোডাক্ট, প্রাইস, প্লেস ও প্রমোশন। প্রোডাক্ট মানে যে পণ্যটি নিয়ে আপনি মার্কেটিং করতে চান। প্রাইস হচ্ছে– যে দামে পণ্যটি আপনি ক্রেতার কাছে বিক্রয় করতে চান। প্লেস – যে স্থান থেকে ক্রেতা পণ্যটি কিনতে পারবে এবং প্রমোশন – যেভাবে আপনি আপনার পণ্যের প্রচার এবং প্রসার করতে চান।

মার্কেটিং এর ৫টি কৌশল হচ্ছে ১ .টার্গেটেড গ্রাহক ২.ব্যবসার ধরণ/ক্যাটাগরি ৩. অন্যান্য সুবিধা ৪. আসল প্রতিদ্বন্দ্বী কে? ৫. কিভাবে আপনি অন্যদের থেকে আলাদা? টার্গেটেড কাস্টমার নির্ধারন করে কি পরিবেশন করেন তা পরিষ্কারভাবে উত্তর দিতে হবে। সার্ভিসের উপর ভালোভাবে ফোকাস করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। আপনি কি করেন তা ঠিক করে ব্যবসার ধরণ বা ক্যাটাগরি। কয়েকটি শব্দ বা বাক্যে পুরো ব্যবসার বর্ণনা সহজতর ভাষায় করবেন, যাতে  মানুষ বুঝতে পারে।

টার্গেটেড কাস্টমার কি চায় তা বুঝাতে অন্যান্য ১টা অথবা ২টা সুবিধা অবশ্যই হাইলাইট করতে হবে। শত বেনিফিট অফার না করে মাত্র ৩টা প্রধান বেনিফিট অফার করলেই অনেক কিছু করা হয়। প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে আপনার পণ্যের বা সেবার তুলনা করা হবে। প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বীদের ম্যাসেজ ফোকাস করে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে তুলনা করতে হবে। আপনার যা অন্যদের থেকে ভালো তার লিস্ট করবেন। লিস্ট থেকে টার্গেটেড কাস্টমারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এমন ১টা অথবা ২টা পয়েন্ট হোমপেইজে শো করবেন । এছাড়া পোস্ট করা, টুইট করা, ই-মেইল কর, নতুন ওয়েবসাইট বানানো মার্কেটিং কৌশল হতে পারে।  বড় কিছু পেতে হলে সঠিক মার্কেটিং কৌশল ছাড়া হয় না। এটা ছোট থেকে বড় হতে এবং প্রথম হতে সাহায্য করে।

Philip Kotler তার Ten Deadly Marketing Sins বইয়ে উল্লেখ করেছেন- মার্কেটিংয়ে পাপের সূচনা হয় যথেষ্ট ‘মার্কেট ফোকাসড এবং ক্রেতামুখী’ না হওয়ার মাধ্যমে।লক্ষ্য গোষ্ঠীর চাহিদা মোতাবেক পণ্য বা সেবা অফার করতে না পারলে খরচ বাড়ে, ব্যবস্থাপনা জটিল হয়, কিন্তু প্রত্যাশিত মুনাফা মেলে না। ভোক্তাদের ক্রমাগতভাবে বিশেষায়িত দ্রব্য ও সেবা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বাড়ায় সবাইকে সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা না করে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন একটি গোষ্ঠীর সন্তুষ্টি অর্জনে মনোযোগী হওয়া বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক।

প্রতিষ্ঠানের ‘টার্গেট কাস্টমার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা’র ঘাটতি থাকলে দীর্ঘমেয়াদে অনেক বেশি মাশুল গুনতে হয়। তাই ক্রেতাদের মতামত, অভিযোগ বা পরামর্শ শুনতে হবে, আমলে নিতে হবে। ক্রেতাদের অভিযোগে বিরক্ত না হয়ে সেগুলোকে নিজেদের শোধরানোর ‘সুযোগ’ হিসেবে গণ্য করা উচিত। সমস্যার সমাধানে ‘কুইক রেসপন্স’ করার সংস্কৃতি গড়ে তোলা খুব দরকার। প্রতিষ্ঠান যদি প্রতিযোগীদের যথাযথভাবে সংজ্ঞায়িত ও পর্যবেক্ষণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে ধ্বংস অনিবার্য। প্রত্যক্ষ প্রতিযোগীর চেয়ে পরোক্ষ প্রতিযোগীরাও আজকাল কম বিপজ্জনক নয়। প্রতিযোগীদের প্রতিটি ‘মুভ’ সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে তারা কী ধরনের নতুন কৌশল ব্যবহার করছে তা ধরতে পারা এবং তদনুযায়ী নিজেদের আপডেট করতে হবে।

স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে যথাযথ সম্পর্ক বজায় না রাখা পাপকর্ম। সর্বোত্তম মানের পণ্য ও সেবা অফার করতে হলে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সাপ্লাইয়ার-ডিস্ট্রিবিউটর-বিনিয়োগকারীদের সন্তুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ। একসময় কাস্টমার রিলেশনশিপকে অগ্রাধিকার দিলেও এখন সব পার্টনারের সঙ্গে সম্পর্ক সৃষ্টি ও তা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। অনেক দিন ধরে লাভজনক সুযোগ খুঁজে না পেলে বুঝতে হবে আপনার প্রতিষ্ঠান নতুন সম্ভাবনা ধরার ক্ষেত্রে দক্ষ নয়।এ সমস্যার সমাধানে নতুন পণ্যের ক্রিয়েটিভ আইডিয়া আসতে পারে। প্রতিষ্ঠানে এমন সংস্কৃতি গড়ে তোলতে হবে নতুন ধারণাগুলো টপ বসদের কাছে পৌঁছতে পারে।

নীতিনির্ধারকরা যদি পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা খুব একটা না করেন, তবে বুঝতে হবে প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং পরিকল্পনা প্রক্রিয়া বেশ দুর্বল। মার্কেটিং অবজেকটিভস, স্ট্র্যাটেজিস ও ট্যাকটিকসের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দূরীকরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে শেয়ার করা এবং প্রয়োজনে ‘ভেরিয়েশন’ আনার সংস্কৃতি থাকতে হবে। প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপে ভালো অবদান রাখা ব্যক্তিদের ‘কাজের স্বীকৃতি ও পুরস্কার’ দেয়ার পরিবেশ থাকলে দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফল পাওয়া যায়।

পণ্যের প্রেমে পড়া যাবে না, কাস্টমারকে ভালোবাসতে হবে। তাদের ধরে রাখার প্রয়োজনে পণ্যকে বদলে ফেলতে হবে। তাই প্রতিষ্ঠানের পণ্য ও সেবাসংক্রান্ত নীতিগুলো আরো সমন্বিত হওয়া দরকার। আসলে নতুন পণ্য বাজারে ছাড়া যতটা সহজ, পুরনো একটা আইটেম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত ততটাই কঠিন। দুর্বল পণ্য চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনে সেগুলো লাইন থেকে সরিয়ে ফেলার চর্চাটা নিয়মিত হওয়া দরকার। সেবাগুলোর ন্যূনতম একটা চার্জ ধার্য করলে সেবাগ্রহীতার পরিমাণও কমে, খরচও কিছুটা উঠে আসে।আবার পণ্যের সঙ্গে ফ্রি সেবা দেয়ার চর্চা নিয়মিত থাকলে একপর্যায়ে ক্রেতারা সেগুলোকে খুব একটা ভ্যালু দেয় না। অথচ সে বাবদ কোম্পানির খরচ বাড়তে থাকে।  ক্রস সেলিং বাড়াতে কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ ও প্রেষণা দেয়া জরুরি।

টার্গেট কাস্টমারদের কাছে আপনার প্রতিষ্ঠান ও পণ্য সম্পর্কিত তথ্যগুলো ভালোভাবে পৌঁছানো খুব দরকার। গড় হারে প্রতি বছর একই রকম প্রমোশনাল বাজেট রাখা এবং সেগুলোর রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট’ পরিমাপ না করলে প্রমোশনাল কার্যক্রমও হয় গত্বাঁধা; কার্যকারিতা ক্রমে হ্রাস পায়। এমন পরিস্থিতি স্পষ্ট করে প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা ও যোগাযোগ দক্ষতায় ঘাটতি রয়েছে। প্রতিষ্ঠানে দক্ষ ও কার্যকর মার্কেটিং কার্যক্রমের অনুপস্থিতি বড় পাপ। বর্তমান সময়ে ইন্টারনাল মার্কেটিংকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়ায় ঘাটতি থাকা যাবে না।মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টের সাথে অন্যান্য ডিপার্টমেন্টের মতপার্থক্য প্রবল হলে পুরো প্রতিষ্ঠানকে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। যুগোপযোগী দক্ষতাসম্পন্ন মার্কেটারের অনুপস্থিতি বা স্বল্পতার কারণে প্রতিষ্ঠানের সেলস ও মার্কেটিংয়ে বড় প্রভাব পড়ে।ক্রেতাসংক্রান্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলতে হবে। আধুনিক সফটওয়্যারগুলোর সাহায্যে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করে করণীয় ঠিক করলে অনেক বেশি কার্যকর হয়।

প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারে আপনার প্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতা থাকা বড় রকমের পাপকর্ম। এর লক্ষণগুলো হলো: খুব প্রয়োজন না হলে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না, সেলস অটোমেশন সিস্টেম যথেষ্ট আপডেটেড নয়, মার্কেট অটোমেশনের অনুপস্থিতি এবং মার্কেটিং গ্রুপগুলোর ডিসিশন সাপোর্ট মডেলের ব্যবহার না হওয়া। মার্কেটিং ম্যানেজমেন্ট অ্যানালিটিকসের মতো রিসোর্স ডিসিশন সাপোর্ট মডেল ডেভেলপ ও তার প্রয়োগ আধুনিক এ যুগে নানাভাবে সাহায্য করতে পারে।

পণ্য বা সেবাগুলোকে বিজ্ঞাপনসহ বাজার গবেষণার মাধ্যমে বিক্রি করার প্রক্রিয়াকে মার্কেটিং বলে। আর ডিজিটাল মার্কেটিং হচ্ছে ডিজিটাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে অনলাইন-ইন্টারনেটের মাধ্যমে পণ্য বা সেবার বিক্রয় কাজ পরিচালনা করা।জেনারেল মার্কেটিংয়ের চেয়ে তুলনামূলক কম খরচে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে কাজ করা সম্ভব।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা SEO মূলত গুগল, ইয়াহু বিং বা অন্য কোনো সার্চ ইঞ্জিন অনুসন্ধান ফলাফলগুলো পর্যালোচনা করে থাকে। আজকের প্রতিযোগিতার বাজারে পণ্যের মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে এসইও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এসইওর মাধ্যমে পণ্যকে গুগল সার্চের সবচেয়ে ওপরে নিয়ে আসলে পণ্যের বিক্রিও বৃদ্ধি পাবে, কারণ বর্তমানে মানুষ কোনো পণ্য কেনার আগে গুগল থেকে সার্চ দিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। গুগল তার তথ্যগুলো নিয়মিত আপডেট করে।

সোশ্যাল মিডিয়া Facebook, Twitter, Instagram, Google Plus ইত্যাদি কাজে লাগিয়ে করা প্রচারণাই সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো একজন অন্যজনের সঙ্গে বা একজন অনেক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার্থে  ব্যবহার হয়। সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং দুই প্রকার। Paid Marketing (টাকা দিয়ে পেজ অথবা গ্রুপকে প্রমোট করে)। Free Marketing (পাবলিক গ্রুপ ও পাবলিক পেজ এ পোস্ট অথবা কমেন্ট এর মাধ্যমে)।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের এমন একটি পদ্ধতি বা সিস্টেম যেখানে আমাদের নিজেদের কোনো প্রোডাক্ট নেই, আপনি সেখানে অন্য কোনো ব্যক্তি বা তাদের ওয়েবসাইট থেকে প্রোডাক্ট নিয়ে নিজের ওয়েবসাইট বা পেজ এনে প্রমোট করবেন এবং কেউ যদি আপনার প্রমোট করা লিংক বা ব্যানার থেকে ক্লিক করে ওই প্রোডাক্টটি ক্রয় করে তাহলে আপনি সেখান থেকে কিছু টাকা কমিশন হিসেবে পাবেন।

কন্টেন্ট ছাড়া ডিজিটাল মার্কেটিং অসম্ভব। কন্টেন্ট বলতে সাধারণত বিভিন্ন ধরনের ব্লগ পোস্ট, ভিডিও, ই-বুক ইত্যাদিকে বুঝে থাকি। অনলাইনে কোনো কন্টেন্ট নিয়ে মার্কেটিং করলে তাকে কন্টেন্ট মার্কেটিং বলা হয়। অনলাইন এ মার্কেটিং করা কতগুলো Content : Web Page Blog Post Podcast Slide PDF, E-Book, Book Image Video ইত্যাদি। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের জন্য অবশ্যই Content তৈরি করতে হবে। এমনকি Search engine optimization, Social Media marketing সব জায়গাতেই Content প্রয়োজন।

বর্তমান যুগ ডিজিটাল যুগ, এ যুগকে ভাইরাল যুগও বলা হয়। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাফল্যে ভাইরাল মার্কেটিং ও কনটেন্টের গুরুত্ব অপরিসীম। এমন ছবি বা লেখাকে প্রোমোট করতে হবে যে কনটেন্টটি মানুষই ছড়িয়ে দেবে। কনটেন্ট তৈরি ও প্রকাশের পর তার দিকে নজর রাখতে হয়, যেমন ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদি প্রায় সব সোশ্যাল মিডিয়াতেই ইনসাইট বা অ্যানালিটিকস রয়েছে যা দিয়ে আপনি একটি কনটেন্ট কতটা ভালো পারফর্ম করছে বা না করলে কী সমস্যার কারণে করছে না ইত্যাদি জানতে পারেন। ক্যাপশন, পোস্ট করার সময়, প্রিভিউ ইমেজ ইত্যাদির ওপরও অনেকাংশে ভাইরালিটি নির্ভর করে।

ইমেইল মার্কেটিং এর মাধ্যমে পণ্যের এবং সেবার প্রচার করতে পারবেন এবং সাইটের প্রচার করতে পারবেন। এটি ক্রেতাদের কাছে পণ্যের তথ্য পৌঁছানোর সবচেয়ে কাযকরী পদ্ধতি। এ জন্য বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন বয়সের কিংবা বিভিন্ন ক্যাটাগরির মানুষের মেইল এড্রেস জোগাড় করতে হবে, যে পণ্যের মার্কেটিং করতে চান সেটি নিয়ে ভালোভাবে গবেষণা করতে হবে, অন্য কোম্পানির একই পণ্যকে নিয়ে ও তাদের মার্কেটিং কৌশল নিয়ে গবেষণা করতে হবে। সবচেয়ে সহজভাবে আপনার পণ্যের গুণ বর্ণনা করুন ইমেইলে।

ফেইসবুক মার্কেটিং এক সময়কার খুবই জনপ্রিয় প্রথা ওয়ার্ড-টু-মাউথ প্রথাকে আবারো জনপ্রিয় করে তুলেছে। সাম্প্রতিক এক জরীপে দেখা গিয়েছে যে ৮৭% ক্রেতা কোনো পণ্য/সেবা ক্রয় করার আগে তার আত্মীয় এবং বন্ধুদের কাছে থেকে পরামর্শ গ্রহণ করে। বাকি ১৩% পত্রিকা, রেডিও এবং টেলিভিশন থেকে তথ্য সংগ্রহ করে পণ্য ক্রয় করে। ফেইসবুক এখন পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের মিলন মেলা এবং এ কারণেই এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী মার্কেটিং প্ল্যাটফর্ম। কোম্পানীগুলো তাদের পণ্য ও সেবার প্রচার এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারে। ফেইসবুক আড্ডা দেবার জন্যে, মজা করার জন্যেই শুধু ব্যবহার না করে এর মধ্যে দিয়েই ব্যবসা করতে হবে।

ভোক্তাকে বোঝা ও চাহিদা সৃষ্টি করার মাধ্যমে আর্থিক সক্ষমতা অনুসারে প্রয়োজনীয় ও উত্তম পণ্য দেয়াই হলো মার্কেটিংয়ের মূল মন্ত্র। তাছাড়া মানুষের প্রতি, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা একটি প্রতিষ্ঠানকে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারে। শুধু মুনাফার আশায় ব্যবসা করলে, তা বেশি দিন টেকসই হতে পারে না। সাময়িকভাবে হয়তো ব্যবসায়িক সফলতা আসতে পারে। এ দায়বদ্ধতা শুধু পণ্যের মান নির্ধারণ নয়, মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হয়।ভোক্তাদের চাহিদামাফিক ও কোম্পানির আর্থিক সঙ্গতি রেখে পণ্য উৎপাদনে পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। আর সেই পণ্যকে নতুনভাবে ব্র্যান্ডিং করবে।

দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে নেয়া পদক্ষেপ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করে। গুণগত মান, ক্রেতামুখিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, ন্যায্যতা, ধারাবাহিক উন্নতি, উদ্ভাবন— এ মূল্যবোধগুলো মেনে চললে উন্নতি অবশ্যম্ভাবী। নতুন পণ্য সম্পর্কে ভোক্তাদের ধারণা দিতে হবে। তাহলে নতুন যেকোনো পণ্যই গুণগত মানসম্পন্ন হলে ভোক্তারা সাদরে গ্রহণ করবে। দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তরুণ জনগোষ্ঠীও বাড়ছে। এসব দিক বিবেচনা করে নতুন নতুন পণ্য ও সেবা আনতে হবে।প্রতিটি পণ্যে ব্র্যান্ড প্রমিজ পালন করলে ভোক্তা অনেক খুশি ও সন্তুষ্ট হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *