বিস্ময় বালিকা নানজীবা

নানজীবা খান। তার বয়স কিন্তু এখনও ১৮’র কোঠা পেরোয়নি। আর এই বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী টিনএজার এরই মধ্যে জন্ম দিয়ে চলেছেন এক একটি বিস্ময়।
ট্রেইনি পাইলট, সাংবাদিক, নির্মাতা, উপস্থাপিকা, টিভি টক শো’র অতিথি, লেখক, ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর, বিএনসিসি ক্যাডেট অ্যাম্বাসেডর এবং বিতার্কিক হিসেবে স্বাক্ষর রেখে চলেছেন নিজের প্রতিভার।

আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন নিয়ে অ্যারিরাং ফ্লাইং স্কুল-এ ‘ট্রেইনি পাইলট’ হিসেবে চলছে তার অধ্যয়ন। এছাড়া তিনি কাজ করছেন শিশু সাংবাদিক হিসেবে, কাজ করছেন বিটিভির নিয়মিত উপস্থাপক হিসেবে, ব্রিটিশ আমেরিকান রিসোর্স সেন্টারের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন। প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা হিসেবে পেয়েছেন ইউনিসেফের মিনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড। আর সম্প্রতি ইউনিসেফের অধীনে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে এসেছেন দেশের বাইরেও। এই নিয়ে ১১টি দেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা জমা হয়েছে তার ঝুলিতে।

লেখক হিসেবে বই মেলায় প্রকাশিত হয়েছে তার গবেষণামূলক গ্রন্থ ‘অটিস্টিক শিশুরা কেমন হয়’। প্রথম সংস্করণের সব বই বিক্রি হয়ে যাওয়ার পর ২য় সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। বইটি প্রকাশ করেছে অন্বেষা প্রকাশন। বইটির প্রচ্ছদও করেছেন নানজীবা নিজে। তথ্যসমৃদ্ধ বইটি ইতোমধ্যে পাঠক সমাদৃত হয়েছে।

নানজীবার শুরুটা হয়েছিল পাঁচ বছর বয়সে রঙ তুলি দিয়ে। মায়ের হাত ধরে গিয়েছিল কিশলয় কচিকাঁচার মেলায় ছবি আঁকা ও আবৃত্তি শিখতে। ২০০৭ সালে জীবনের প্রথম প্রতিযোগিতা জয়নুল কামরুল ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেন পেন্টিং কম্পিটিশনে অংশগ্রহণ এবং পুরস্কার অর্জন করেন। জীবনের প্রথম অর্জনই ছিল আন্তর্জাতিক। সেই থেকে পথ চলা শুরু। ছবি আঁকার জন্য বেশ কিছু জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার তার ঝুলিতে জমা হয়। ছবি আঁকার পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তিতেও প্রশিক্ষণ নেন। বিভিন্ন দিবসগুলোর সকাল থেকে সন্ধ্যা কাটতো বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মঞ্চে কবিতা আবৃত্তি করার মাধ্যমে। ২য় শ্রেণীতে পড়াকালীন বিটিভির ‘কাগজ কেটে ছবি আঁকি’ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মিডিয়ায় তার পথ চলা শুরু।

বর্তমানে বিটিভিতে ‘আমরা রঙ্গিন প্রজাপতি’, ‘আমাদের কথা’, ‘আনন্দ ভুবন’, ও ‘শুভ সকাল’ অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন। ১৩ বছর বয়সে জীবনের প্রথম স্বল্প দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র ‘কেয়ারলেস’ পরিচালনা করেন। তার পরিচালিত প্রথম প্রামাণ্যচিত্র ‘সাদা কালো’র জন্য ‘ইউনিসেফের মিনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন। আর এটি তৈরি করতে যা টাকা খরচ হয়েছে তার সবই ছিল তার টিফিনের জমানো টাকা। তারপর ‘গ্রো আপ’, ‘দ্য আনস্টিচ পেইন’সহ আরও কিছু প্রামাণ্য চিত্র নির্মাণ করেন নানজীবা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *