পারিবারিক শিষ্টাচার পরিবারের সৌন্দর্য

মানুষের আচার-আচরণ, কথা, বার্তা, কার্যকলাপ, ভাববিনিময় ইত্যাদি সুন্দররূপে, ভদ্ররূপে প্রকাশিত হওয়াই শিষ্টাচার। শিষ্টাচার হল মানুষের চরিত্রের অলংকার। যেসব গুণাবলি মানুষের চরিত্রকে সুন্দর, আকর্ষণীয় ও গৌরাম্বিত করে তুলে তার মধ্যে শিষ্টাচার বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সত্য কথন, পরোপকার, ক্ষমা, দয়া-দানশীলতা, ভক্তি, শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, সম্প্রীতি ও ভালোবাসা, ক্ষমা, ধৈর্য, সহিষ্ণুতা, শালীনতা, বিনয়, ভদ্রতা ইত্যাদি বিশ্বজনীন গুণাবলি নিজের মধ্যে ধারণ, অনুশীলন এবং এর বিপরীত বিষয়গুলো বর্জন করাই হচ্ছে শিষ্টাচার।

শিষ্টাচারের অভ্যাস বা কৌশল রপ্ত করার প্রাথমিক ও প্রধান শিক্ষালয় হল পরিবার। একজন শিশু কিছু বুঝতে শিখলেই সে মা-বাবা, ভাইবোন এবং নিকটাত্মীয়ের কথা, বার্তা ও আচার-আচরণ অনুসরণ করার চেষ্টা করে। শিশুরা প্রশ্ন করলে বিরক্ত হয়ে ধমক দিয়ে শিশুদের শেখার বা জানার আগ্রহ নষ্ট করবেন না। তাকে ধমক বা শাসন না করে বিষয়বস্তু বুঝিয়ে বলুন। এ শিষ্টাচার শেখাতে হবে, বড়দের জরুরি কোনো কথা বলার সময় যেন অহেতুক প্রশ্ন না করে বা বিরক্ত না করে। অনেকে প্রাইভেসির নামে সন্তানকে দূরে সরিয়ে রাখে, আবার অনেকে সন্তানকে ভালোবাসে বলে নিজের প্রাইভেসি নষ্ট করে। সন্তানকে শেখাতে হবে কারও রুমে ঢুকতে হলে তার অনুমতি নেয়া প্রয়োজন।

পরিবারে ছোট-বড় সবার মাঝে পারস্পরিক সালাম বিনিময়ের অভ্যাস গড়ে তুলুন। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় বাবা-মা, কারও বাবা-মা না থাকলে স্ত্রীকে বলে বের হোন। ছোটরা অবশ্যই বড় কাউকে না বলে বাইরে যাবে না। বাসায় ফেরার পর অন্যদের খোঁজখবর নিন। খাবার টেবিলে বয়োজ্যেষ্ঠদের খাবার উঠিয়ে দিন বা সাধাসাধি করুন,  তাদের স্বাস্থ্যের নিয়মিত খোঁজখবর নিন। পারিবারিক কোনো বিষয়ে সবাই মিলে একমতে পৌঁছাতে চেষ্টা করুন। পারিবারিক অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করুন।  একজনের কাজ কর্মে অন্যজনকে যথাসম্ভব সহযোগিতা করতে হবে। অন্যদের সামনে কাউকে হেয় করা উচিত নয়।

মেহমান এলে তাদের সাদরে গ্রহণ করুন এবং যথাসম্ভব আপ্যায়নের ব্যবস্থা করুন। হাসিমুখে কথা বলুন। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ ও সদ্ভাব বজায় রাখুন। তাদের সঙ্গে বিনয়ীভাবে কথা বলুন এবং বিপদে-আপদে সহযোগিতা করুন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করুন। ভুল করলে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। প্রশংসা করুন যখন কেউ সেটা প্রাপ্য হয়। বস্তুনিষ্ঠ বিতর্ক করুন, কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়। উত্তেজিত হওয়া, রাগ করা, খারাপ ভাষা ব্যবহার করা এবং উচ্চস্বরে কথা বলা একেবারেই খারাপ আচরণ। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভালো আচরণ ব্যাপক প্রভাব রাখে। খাবার টেবিল থেকে শুরু করে খেলার মাঠে সর্বত্রই নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিৎ।

দিন শেষে ঘরে ফিরে পরিবারকে অবশ্যই সময় দিবেন, খোঁজ খবর নিন, গল্প করুন, মোবাইল নিয়ে বসবেন না। খাবার খাওয়ার সময় সবার খাবার পরিবেশনের পরে খাওয়া শুরু করা, চাবির গোছা-সানগ্লাস-ছোট ব্যাগ-মোবাইল ফোন টেবিলের ওপর না রাখা, মোবাইলে ম্যাসেজিং-ফেসবুকিং-ছবি দেখা-ছবি তোলা পরহার, লেবু চিপার সময় হাত দিয়ে ঢাকা যাতে অপরের গায়ে না ছিটকায়, মুখ বন্ধ করে খাপার চিবানো, মুখে খাবার নিয়ে কথা না বলা, খাবারের সামনে হাঁচি কাশি না দেয়া, রুমাল বা টিস্যুতে মুখ মুছে পানি পান করা ও খুব তাড়াহুড়া বা অতিরিক্ত খাবার না নেয়া ইত্যাদি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *