শিশুর শ্রেষ্ঠ খাবার মায়ের দুধ

মায়ের দুধ পান করাতে দেরী করার কারণে, প্রতিবছর ৭ কোটি ৮০ লাখ নবজাতক মৃত্যুর সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকে বলে জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘ। জাতিসঙ্ঘ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, জন্ম নেয়ার একঘণ্টার মধ্যে নবজাতকে মায়ের দুধ পান করাতে হয়।

৭বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশ্ব শিশু সংস্থা ইউনিসেফের যৌথ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সদ্য জন্ম নেয়া ৫ শিশুর মধ্যে দু’জনকে জন্মের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মায়ের দুধ পান করানো হচ্ছে। আফ্রিকার পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলীয়, এশিয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে মাত্র এক তৃতীয়াংশ শিশুকে জন্মের পরপরই মায়ের দুধ পান করানো হয়। এর কারণ হিসেবে মাকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা না করা এবং চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের অসহযোগিতাকে দায়ী করা হয়। শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পান করানোর গুরুত্ব তুলে ধরে মাতৃদুগ্ধের বিকল্প পণ্যের বাজারজাতকরণে কঠিন বিধিনিষেধ আরোপের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

একজন মা যার একটা ৫ বছর বয়সী মেয়ে এবং দুই বছর বয়সী ছেলে রয়েছে তারা একই সাথে মায়ের দুধ পান করছে। এমা শার্ডলো হাডসন বলে এটা তার সন্তানদের শরীরের জন্য ভাল। কারণ তার খুব কম অসুস্থ হয়। ২৭ বছর বয়সী এই মা বলছিলেন, তিনি বিষয়টা ভালো-ভাবে নিচ্ছেন কারণ বুকের দুধে এন্টিবডি রয়েছে যেটা শিশুর শরীরের জন্য ভালো। যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন যতদিন মা এবং শিশু দুজনেই চাইবে ততদিন দুধ পান করানো উচিত।

যুক্তরাজ্যে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস নির্দিষ্ট কোন টাইম বেধে দেয় নি ঠিক কোন সময়ে দুধ পান করানো বন্ধ করতে হবে। শিশুর জন্য প্রথম ছয় মাস মায়ের বুকের দুধ পান করানোর জন্য বিশেষ ভাবে বলা হয়। এর পর ছয় বছর দুধের সাথে সাথে অন্যান্য শক্ত খাবার খাওয়ানো যেতে পারে।

শিশুর জন্য বুকের দুধ শ্রেষ্ঠ খাবার

বিশেষজ্ঞরা একমত হয়েছেন যে বুকের দুধ পান করানো মা এবং শিশু উভয়ের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। যে কোন ধরণের ইনফেকশন, ডাইরিয়া, এবং বমি ভাব বন্ধ করার ক্ষেত্রে মায়ের দুধ ভালো রক্ষাকবচের কাজ করে। পরবর্তী জীবনে স্থূলতাসহ অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। আর মায়ের জন্য স্তন এবং ওভারির ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

কিন্তু কত দিন:

ইউকে তে এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন নির্দেশনামা নেই। ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের ওয়েবসাইটে বলা আছে, “যতদিন আপনার ভালো লাগবে ততদিন আপনি আপনার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারেন”। আরো বলা আছে “দুই বা তার চেয়ে বেশি বছর ধরে বুকের দুধ খাওয়ার পাশাপাশি এসময় অন্যান্য খাবার দেয়া উচিত”।

ক্ষতিকর কিছু নেই

এর অনেক ভালো দিক থাকলেও একজন মা সিদ্ধান্ত নেন কখন বন্ধ করতে হবে। এটার সাথে মায়ের পরিবেশ ,পরিস্থিতি জড়িত। অনেক সময় মায়েদের কাজে ফিরতে হয়, পরিবার বা বন্ধুদের সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। এছাড়া অস্বস্তি কাটানোর জন্য আত্মবিশ্বাসের দরকার পরে। এর মাধ্যমে মা এবং শিশুর আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠে।

ডাক্তাররা বলছেন এটা একেবারেই একটা ব্যক্তিগত বিষয়। এটা মা শিশুর সম্পর্ককে গড়ে তোলে আর এতে কোন ক্ষতি নেই।

বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *