সন্তান লালন-পালনে যে ১০টি বিষয় লক্ষ্যণীয়

মিহাদ আলম

আপনি হতে পারেন একজন পিতা অথবা একজন মাতা। কিন্তু সন্তান লালন পালনের ক্ষেত্রে দুজনকেই রাখতে হবে সমান ভূমিকা। নিজেদের জীবনের পাশাপাশি সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সব বাবা মায়েরই দায়িত্ব ও কর্তব্য। একজন পিতা অথবা মাতার প্রকৃত সার্থকতাই হচ্ছে তাদের সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা। এ দায়িত্ব পালনে অনেক বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হয় অনেক অভ্যাসের পরিবর্তন করতে হয় আর পাড়ি দিতে হয় অনেক চড়াই উতড়াই। এখানে এমন ১০টি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে যেগুলো একজন সন্তানকে সু শিক্ষিত হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে খুবই জরুরি।

১। আপনার সন্তানের শক্তির জায়গাটি চিহ্নিত করুন। যা দিয়ে আপনি আপনার সন্তানের মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধ তৈরি করতে পারবেন। আর শিশুরা তখনই তার আচরণ বিধি সঠিক করার ব্যাপারে আগ্রহী ও উৎসাহিত হবে যখন তার ভিতর আত্মমর্যাদাবোধ সৃষ্টি হবে। এছাড়াও এ শক্তির জায়গাটি আপনার সন্তানের মধ্যে আত্মবিশ্বাসেরও সৃষ্টি করবে যা পরবর্তীতে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে তাকে সহায়তা করবে।

২। শাস্তি দিয়ে শিক্ষা প্রদান করার চেয়ে আদর ও ভালোবাসার মাধ্যমে বুঝিয়ে বলাই সবচেয়ে বেশি কার্যকর। আপনার সন্তানের দুর্বল দিকগুলোর দিকে বেশি মনোযোগ না দিয়ে অন্য কোনো পথ অবলম্বন করুন যার মাধ্যমে সে তার সম্ভাবনার জায়গাগুলোতে উন্নতি করতে পারবে। এভাবে উৎসাহিত করলে একসময় সে নিজেই নিজের ঘাটতিগুলো পূরণ করতে সক্ষম হবে।

৩। সন্তানের প্রতি আপনার আচরণ সম্পর্কে সচেতন হন। কখনোই কোনো ভুলের জন্য আপনার সন্তানের সাথে দূর ব্যাবহার করবেন না। এমন কি ব্যঙ্গবিদ্রূপ ও উপহাসও নয়। এটা আপানর সন্তানকে মানসিক অশান্তিতে ফেলে দিবে। যা আপনার সন্তানকে বিপথে চালিত করতে পারে।

৪। কখনোই তাকে তার অন্য ভাই-বোনদের সাথে তুলনা করবেন না। এতে করে আপনার সন্তানদের মাঝে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হবে। তারা একে অন্যের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হবে। আর যে এখনে পিছিয়ে যাবে সে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়বে। এক সময় তাদের মধ্যে পারিবারিক সমস্যারও সৃষ্টি হতে পারে।

৫। সন্তানদের সঠিকভাবে লালন পালন করা কোনো সহজ কাজ নয়। এখানে প্রত্যেকটি ধাপে ধাপে থাকবে অনেক সমস্যা ও চড়াই উতড়াই। যা সব সময় একার পক্ষে সামাল দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। আর তাই সব সময় নিজেকে স্থির রাখতে হবে। প্রয়োজনে যে কোনো সমস্যা থেকে উত্তলন পেতে পেশাদারী বা অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কারো পরামর্শ নিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন সমস্যাগুলো পরিবারের কারো উপর ক্ষোভ আকারে বহিঃপ্রকাশ না পায়।

৬। যতটুকু সম্ভব সন্তানদের সাথে সময় কাটানো চেষ্টা করুন। তাদের সাথে বন্ধুত্বসুলভ ভালো আচরণ করুন। কেননা, প্রতিটি শিশুই পরিবারের সবার কাছ থেকে ভালো আচরণ প্রত্যাশা করে। যদি পরিবার থেকে সাধারণত তার প্রত্যাশা পূরণ না হয় তবে সে এমন ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা করবে যাতে করে সে আপানর মনোযোগ আকৃষ্ট করতে পারে। এতে করে অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়। যা কোনো কোনো ক্ষেত্রে আপনার সন্তানের জন্য মারত্মক ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। এছাড়াও পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে সাড়া না পেয়ে আপনার সন্তান বিপথেও চালিত হতে পারে।

৭। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই যুগে ইনটারনেট আজ সবার ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে। তাই আপনার সন্তানদের ইনটারনেট ব্যবহারে ওপর নজর রাখুন। কেননা, ইনটারনেটে এমন অনেক কিছুই আছে যা আপনার সন্তানদের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। তাই তাদের এসব ব্যাপারে সচেতন করুন এবং সতর্কতার সাথে ইনটারনেট ব্যবহারে ওপর নজর রাখুন। আপনার সন্তান যেনো বিষয়টি বুঝতে না পরে। অন্যথায় হিতে বিপরীত হতে পারে।

৮। সন্তান লালন পালন করতে জীবনে যে পরিবর্তন আসবে সেটা মেনে নিতে হবে। অনেক ভালোলাগার ব্যাপারগুলো তাদের স্বার্থে পরিবর্তন করতে হবে বা ত্যাগ করতে হবে। আর সন্তানদের জন্য সময় বের করতে হবে। সাপ্তহিক ছুটির দিনগুলোতে তাদেরকে নিয়ে বাড়াতে যেতে হবে। এতে সন্তানদের সাথে আপনার দূরত্ব কমবে। ফলে তাদের সাথে ভালো বোঝাপড়ার সৃষ্টি হবে।

৯। শিশুরা সাধারণত অনুকরণ প্রিয় হয়ে থাকে। হয়ত আপনি যা যা করেবেন তার সব কিছুরই অনুকরণ করার চেষ্টা করবে সে। কিন্তু এমন সময়ে নিজের মেজাজ হারিয়ে কখনোই তার সাথে দূর ব্যবহার করা যাবে না। যদি আপনি তার সাথে দূর ব্যবহার করেন তাহলে সেও আপনার সাথে ঠিক একই রকমটাই করবে। কারণ সে অনুকরণ প্রিয়। তাই তাকে বুঝিয়ে বলুন।

১০। পিতা-মাতার উচিৎ কখনোই সন্তানের ওপর নিরাশ না হওয়া। যদি সন্তান নিজেই নিজের উপর হতাশ হয়ে পড়ে তারপরও পিতা-মাতার উচিৎ সন্তানের পাশে থেকে তাকে ভরসা দেয়া। তার সমস্যা সম্পর্কে অবগত হয়ে তাকে যথাযথভাবে সাহায্য করা। আর এর মাধ্যমে নতুন করে তার ভিতর আশার সঞ্চার করা।

আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ কি হবে এবং সেই ভবিষ্যতে আপনি কতটুকু প্রভাব বিস্তার করেছেন আর কতটুকু অবদান রাখতে পেরেছেন সেই সমীকরণের ওপরেই নির্ভর করছে আপনার পরবর্তী জীবন আপনি কিভাবে অতিবাহিত করবেন। একজন সু শিক্ষিত সন্তানই আপনাকে একটি সুন্দর জীবন উপহার দিতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *