যে কারণে সফল নারীকে বিয়ে করবেন

মিহাদ আলম

বর্তমান সময়ে নারী-পুরুষের সম অধিকারের বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে খুব গুরুত্ব পেয়েছে। এখন প্রায়শই দেখা যায় নারীরা তাদের পরিবারের অর্থনীতিতে পুরুষের পাশাপাশি সমান ভূমিকা রাখছে। মূলত, পেশাদার জীবনে সফল হওয়ার কারণেই নারীরা অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারছে। আর এর ফলে ধীরে ধীরে সমাজে অনেক কিছুর পরিবর্তন হচ্ছে। ‘বিবাহ’ এর মধ্যে অন্যতম।

কয়েক দিন আগেও বিয়ের ক্ষেত্রে কোনো নারীর রুপ ও সৌন্দর্য বর পক্ষের কাছে বেশি প্রাধান্য পেত। কিন্তু এখন মানুষ রুপের পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বুদ্ধিমত্তাকেও সমান প্রাধান্য দিয়ে থাকে। আর এজন্য বর্তমান সময়ের পুরুষেরা, পেশাদারী জীবনে ভালো অবস্থানে আছে এমন নারীদেরকেই নিজেদের জীবন সঙ্গিনী হিসেবে দেখতে চায়। দেখে নিন, পেশাদারী জীবনে সফল নারী জীবন সঙ্গিনী হলে কি কি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়।

১। পরিবারের অর্থনীতিতে নিয়মিত অবদানঃ যদি আপনি এমন কাউকে বিয়ে করেন যে কিনা পেশাদারী জীবনে ভালো অবস্থানে আছে, তাহলে তিনি পরিবারের অর্থনীতিতে সমান অবদান রাখতে পারবেন। এর ফলে প্রাত্যহিক জীবনের এমন অনেক অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান হবে যা আপনার একার পক্ষে কখনো সম্ভব হতো না।

২। অন্ধবিশ্বাস ও কু-সংস্কৃতিতে কম প্রভাবিতঃ পেশাদারী হওয়ার ফলে কর্মক্ষেত্রে তার অনেকের সাথে পরিচিতি ও মেলামেশা হয়। যার ফলে তার জানার পরিধি আরো সমৃদ্ধ থাকবে। এর প্রভাবে সে অনেকটাই অন্ধবিশ্বাস ও কু-সংস্কৃতি মুক্ত হবেন।

৩। অধিক পরিণত ও পরিপক্বঃ পেশাদারী জীবনে ভালো অবস্থানে থাকার ফলে তিনি দায়িত্ববান ও কর্তব্যপরায়ণ হবেন। যার ফলে নিজের কাজ ও পরিবারের কাজ সমান গুরুত্ব দিয়ে থাকবেন। এরূপ পরিণত ও দায়িত্ববান হওয়ার ফলে নিজেদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া তৈরি হবে। এ ধরনের নারীরা সহজেই আপনাকে বিশ্বাস করবে।

৪। অধিক যত্নবানঃ বর্তমান সময়ে এটা স্বাভাবিক যে একটা সময় আপনার পরিবারে সময় দেয়ার ব্যাপারে অনিহা আসবে। আর সেই সময়ে এমন একজন স্ত্রী যদি আপনার থাকে তবে তিনি আপনাকে বোঝার চেষ্টা করবেন। আপনাকে সাহায্য করবেন, সমর্থন দিবেন। এভাবে এক সময় আপনার সমস্যার সমাধানও হয়ে যাবে।

৫। সময়ের সাথে পরিবর্তনশীলঃ বর্তমান সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারাটা সবার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর পেশাদারী জীবনে ভালো অবস্থানে থাকার ফলে তিনি সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলার ব্যাপারে আরো বেশি সচেতন হবেন। নিজেকে পুরনো চিন্তায় আবদ্ধ না রেখে সব সময় তিনি পরিবর্তনশীল অবস্থায় থাকবেন।

৬। সন্তানদের শিক্ষার নিশ্চয়তাঃ একজন শিক্ষিত মা-ই তার সন্তানকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলার পেছনে বড় অবদান রাখেন। আর এমন শিক্ষিত একজন স্ত্রী থাকার ফলে, তিনি আপনার সন্তানদের শিক্ষার ব্যাপারে সব সময় খেয়াল মনোযোগী হবেন। আর তাই আপনার সন্তানরাও শিক্ষার ব্যাপারে অধিক সচেতন হবেন এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সম্ভাবনাও অনেক বেশি।

৭। গ্রহণযোগ্য পরামর্শঃ পেশাদারী জীবনে ভালো অবস্থান ও কর্মক্ষেত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকার ফলে প্রয়োজনের সময় বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে তিনি আপনাকে সাহায্য করতে পারবেন। যা হয়ত কোনো কোনো সময় আপনাকে অনেক বড় সমস্যার হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।

৮। উচ্চতর সিদ্ধান্ত নেয়ার দক্ষতাঃ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হওয়ায় তিনি যে কোনো পরিস্থিতিতে যে কোনো সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবেন। ফলে পরিবারের অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। যা আপনার কাজকে অনেকটাই সহজ করে দিবে।

৯। আপনার কাজের স্বাধীনতাঃ যেহেতু আপনার স্ত্রীর পরিবার ছাড়াও পেশাদারী একটি জীবন রয়েছে সেহেতু তিনি সধারণত আপনার পেশাদারী জীবনে হস্তক্ষেপ করবেন না। কর্মক্ষেত্রে আপনি অধিক মনোযোগ দিতে পারবেন। এর ফলে কর্মক্ষেত্রে আপনারও সফল হবার বা সফলতা বজায় রাখার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।

সূত্রঃ বোল্ডস্কাই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *