ভালো বন্ধুর ১০ গুণ

মিহাদ আলম

জীবনে চলার পথে আমরা অনেকের সাথে সম্পর্কে জড়াই। তার মধ্যে অন্যতম হলো বন্ধুত্বের সম্পর্ক। আমাদের প্রত্যেকেরই এক বা একাধিক বন্ধু রয়েছে। কিন্তু ভালো বন্ধু আছে কয়জন? একজন ভালো বন্ধুর মাঝে ক্ষুদ্র থেকে মহৎ ইত্যাদি অনেক গুণাবলী বিদ্যমান থাকে। সেসব গুণাবলী বিবেচনা করলে, কে ভালো বন্ধু তা সজেই নির্ণয় করা যায়। এখানে একজন ভালো বন্ধুর ১০টি গুণাবলী তুলে ধরা হলো-

১। বন্ধুর প্রতি ভালোবাসাঃ একজন ভালো বন্ধু হওয়ার অন্যতম একটি শর্ত হলো বন্ধুকে ভালোবাসতে হবে। ভালোবাসা ছাড়া সহজে কারো মন জয় করা সম্ভব নয়। তাই নিজেকে ভালো বন্ধু হিসাবে প্রমাণ করতে চাইলে বন্ধুকে সত্যিকার আর্থেই ভালোবাসতে হবে। আর কারো প্রতি তখনই ভালোবাসা জন্মাবে যখন সেই ব্যক্তি ও তার ব্যক্তিত্বকে আপনার পছন্দ হবে। অন্যথায় ভালো বন্ধু হওয়া কখনোই সম্ভব নয়।

২। বন্ধুর প্রতি সৎ থাকাঃ ভালো বন্ধু হতে হলে অবশ্যই বন্ধুর প্রতি সৎ থাকতে হবে। প্রতিটি সম্পর্কই বিশ্বাসের উপর টিকে থাকে। আর এ বিশ্বাস অর্জন করার উত্তম উপায় হল সত্যতা ও সততা। লুকোচুরি করে যেমন কোনো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়, তেমনি বন্ধুত্বের সম্পর্ককেও টিকিয়ে রাখা যাবে না। তাই যেকোনো সমস্যার ব্যাপারে বন্ধুর সাথে লুকোচুরি না করে সত্য কথা বলুন এবং যতটুকু সম্ভব সৎ থাকার চেষ্টা করুন।

৩। স্বার্থ ত্যাগ করাঃ প্রকৃত বন্ধু সেই যে তার বন্ধুর স্বার্থে কোনো কিছু ত্যাগ করতে পারে। সব সময় নিজের স্বার্থের কথা বিবেচনা করলে কারো সাথে ভালো সম্পর্ক করা সম্ভব নয়। তাই একজন ভালো বন্ধু হিসেবে যেকোনো পরিস্থিতিতে যেকোনো সময় অবশ্যই বন্ধুর প্রয়োজনে এগিয়ে আসতে হবে। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তাকে সর্বোচ্চ সাহায্য করতে হবে। বড় কোনো স্বার্থ না হয় ত্যাগ নাই করলেন, অন্তত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বার্থগুলো ত্যাগ করার চেষ্টা করতে হবে।

৪। আপোষ করে চলাঃ বন্ধুত্বের সম্পর্কে একে অন্যকে ছাড় দিয়ে চলতে হবে। যে কোনো সম্পর্কের মাঝেই নানান সমস্যার সৃষ্টি হয়ে থাকে, বন্ধুত্বের সম্পর্কও এক্ষেত্রে ভিন্ন নয়। ভুল বোঝাবুঝি, মতের অমিল ইত্যাদি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ত্রুটি থেকেই একসময় বড় সমস্যার সৃষ্টি হয়। তাই এধরনের কোনো সমস্যার সৃষ্টি হলে তা নিয়ে বেশি বিশ্লেষণ বা ঘটাঘাটি না করাই শ্রেয়। কার কতটুকু দোষ তা না খুঁজে একে অন্যকে ছাড় দিয়ে সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে নিতে হবে।

৫। ক্ষোভ পরিত্যাগ করাঃ মনের ভিতর ক্ষোভ পোষণ করা, সম্পর্ক নষ্টের ক্ষেত্রে অন্যতম একটি কারণ। বন্ধুর কোনো আচরণে বা কাজে কখনো কখনো খারাপ লাগতে পারে। এর জন্য মনের ভিতর ক্ষোভ পোষণ করা উচিৎ নয়। এক সাথে চলাফেরা করলে একটু-আধটু ভুল-ত্রুটি হতেই পারে। তাই ছোট ছোট ভুল-ত্রুটিগুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখুন। অন্যথায় এই ক্ষোভ থেকে এক সময় সম্পর্কে তিক্ততা সৃষ্টি হবে। সম্পর্কের দূরত্বতা বৃদ্ধি পাবে। সম্পর্ক নষ্টও হতে পারে। এ রকম সমস্যার সৃষ্টি হলে বন্ধুর সাথে খোলাখুলি আলোচনা করে সমাধান করুন।

৬। বন্ধুর প্রতি বিশ্বাসঃ একজন প্রকৃত বন্ধু হিসেবে সবসময় বন্ধুর ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। লক্ষ্য যাই হোক এক সময় সে ঠিকই সফল হবে এমন বিশ্বাস নিজের মনে স্থাপন করে লক্ষ্য পূরণে সাহায়তা করতে হবে। তার লক্ষ্য পূরণের প্রতিটি পদক্ষেপে অনুপ্রেরণা যোগাতে হবে। তার পাশে থেকে তাকে সফলতার দিকে ধাবিত করতে হবে। এতে করে নিজেদের মাঝে সম্পর্কের গভীরতা বৃদ্ধি পাবে।

৭। বন্ধুর সাথে মজা করাঃ একজন ভালো বন্ধুর অন্যতম একটি গুণ হলো বন্ধুদের সাথে মজা করতে পারা। হাসি-ঠাট্টা, রঙ্গ-তামাশা ইত্যাদি বন্ধুত্বের সম্পর্কের অন্যতম একটি প্রধান উপাদান। তাই একজন ভালো বন্ধু হতে হলে হাসি-ঠাট্টা বা রঙ-তামাশা করা জানতে হবে। এটি যেমন মানসিক চাপ দূর করে তেমনি বন্ধুদের মাঝে ভালো সম্পর্কও তৈরি করে।

৮। একসাথে সময় কাটানোঃ বন্ধুত্বের সম্পর্ক গভীর করার মূলমন্ত্র হলো যতটা সম্ভব একে অন্যের সাথে যুক্ত থাকা। এক সাথে সময় কাটানো, আড্ডা দেওয়া। এতে করে নিজেদের মাঝে ভালো বোঝাপড়ার সৃষ্টি হয়। একে অন্যকে ভালোভাবে বুঝতে পারে। তাই ভালো বন্ধু হতে চাইলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতে হবে। যতই কর্মব্যস্ত জীবন হোক না কেন, একটা নির্দিষ্ট সময় বন্ধুদের জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে। বন্ধুদের সাথে সময় কাটানো শুধু বন্ধুত্বের সম্পর্ককেই সুদৃঢ় করে না এমনকি সম্পর্কের অনেক জটিল সমস্যারও সমাধান করে দেয়।

৯। বন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়াঃ ভালো বন্ধুত্বের অন্যতম একটি উপাদান হলো একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। বন্ধুত্বের সম্পর্কে অনেক সময় নিজেদের মাঝে মতের অমিল হওয়া কিংবা চিন্তা ভাবনার মাঝে ভিন্নতা দেখা দিতে পারে। এটা হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু একজন প্রকৃত বন্ধু হিসেবে অবশ্যই বন্ধুর মতামত কিংবা পরামর্শকে শ্রদ্ধা করতে হবে। তাদের মতামত কিংবা পরামর্শকে কখনো হেয় করা উচিৎ হবে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এমনও হতে পারে যে আপনার চেয়ে আপনার বন্ধুর মতামত কিংবা পরামর্শই শ্রেয়। তাই নিরপেক্ষভাবে বিবেচনা করতে হবে।

১০। সারা জীবন পাশে থাকাঃ একজন ভালো বন্ধু সারা জীবন তার বন্ধুর পাশে পাশে থাকে। জন্ম থেকে মৃত্যু এ দুইয়ের মাঝে জীবনে অনেক মানুষের সাথে আমাদের পরিচয় হয়, অনেকের সাথে নতুন সম্পর্কও হয়। কিন্তু ভালো বন্ধুত্বের সম্পর্ক সারা জীবন রয়ে যায়। তাই একজন ভালো বন্ধু হিসেবে সুখে দুঃখে সব সময় বন্ধুর পাশে থাকতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *