শিক্ষার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও বর্তমান শিক্ষিত সমাজ

আনিসুর রহমান এরশাদ

বর্তমানে আমরা দেখতে পাচ্ছি শিক্ষিত মানুষ দুর্নীতি করছে, সামান্য স্বার্থের জন্যে দেশ বিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত হচ্ছে। ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থে বৃহত্তর ক্ষেত্রে ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডে লিপ্ত হচ্ছে। অন্যকে বোকা বানানো, ধোঁকা দেয়া ও ফাঁকি দেয়াকে বুদ্ধিমত্তা বলে ধরে নিচ্ছে। সামান্য অর্থ-বিত্ত বা সম্মান লাভের আশায় ব্যক্তিত্ব-নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে শিক্ষিত মানুষ দ্বারা যদি তার গৃহকর্মী নির‌্যাতিত হয়, অধীনস্তরা লাঞ্চিত ও বঞ্চিত হয়, দুর্বলরা নিপীড়িত ও শোষিত হয় তাহলে তার শিক্ষার মূল্য থাকে কোথায়? অর্থাৎ সে শিক্ষিত হয়েছে মানে সার্টিফিকেট অর্জন করেছে কিন্তু ভদ্র-মার্জিত-বিনয়ী তথা সুমানুষ হয়নি। তার মানে শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না।

শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কোন একটা জাতি বা জনগোষ্ঠীর জীবন-দর্শনের প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। কোন জাতি বা জনগোষ্ঠী যদি হয় ধর্মহীন কিংবা ধর্মের প্রতি উদাসীন তাহলে বৈষয়িক কিংবা জাগতিক উন্নতিকে সে তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য মনে করবে এবং তার শিক্ষা ব্যবস্থাকে সে আলোকেই গড়ে তুলবার চেষ্টা করবে। আবার কোন জাতি যদি হয় ধর্মপরায়ন (Pious) তাহলে সে জাতি তার ধর্ম বিশ্বাসের আলোকে তার শিক্ষা ব্যবস্থাকে গড়ে তুলবার চেষ্টা করবে। আবার কোন জাতি ধর্ম পরায়ন হওয়া সত্ত্বেও সে জাতির ধর্মটি যদি সন্ন্যাসবাদী (Asceticism) বা বৈরাগ্যবাদী তাহলে জগৎ সংসারের প্রতি অনাসক্তি সৃষ্টি এবং আত্মার মুক্তি বা মোক্ষ লাভই হবে সে জাতির শিক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্য। পক্ষান্তরে ধর্মটি যদি হয় পূর্নাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা (A complete code of life) তাহলে শিক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্য হবে জগৎ ও জীবনের সুসামঞ্জস্যপূর্ণ সামগ্রিক বিকাশ। যে কোন জাতির শিক্ষা ব্যবস্থা সে জাতির বিশ্বাস, জীবনাচার ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে, পরিচর্যা করে এবং প্রজন্মকে বিশ্বাস ও আদর্শের আদলে গঠন করে।

বাংলা “শিক্ষা” শব্দটি সংস্কৃত “শাস” ধাতু থেকে উদ্ভুত হয়েছে। এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হলো শাসন করা, নিয়ন্ত্রণ করা, নির্দেশ বা উপদেশ দেওয়া। শিক্ষার সমার্থক হিসেবে “বিদ্যা” শব্দটিও ব্যবহার করা হয় সেটিও সংস্কৃত “বিদ” ধাতু থেকে উদ্ভুত। যার অর্থ হলো জানা বা জ্ঞান অর্জন করা। শাব্দিক অর্থে “শিক্ষা” বলতে বিশেষ কোন জ্ঞান অর্জনে বা কৌশল আয়ত্ত্ব করাকে বোঝায়। এটাই শিক্ষার সংকীর্ণ (Narrow) অর্থ যা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও পাঠ্যপুস্তক কেন্দ্রিক জ্ঞান আহরণ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। অপরদিকে ব্যাপক অর্থে শিক্ষা বলতে বোঝায় জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীর সব রকমের সম্ভাবনার পরিপূর্ণ বিকাশ সাধন করাকে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে শিক্ষার লক্ষ্য হলো যে শিক্ষার্থীর দৈহিক, মানসিক, সামাজিক ও নৈতিক জীবনের সুষম বিকাশ সাধন করা, এর ব্যাপ্তি দীর্ঘকালব্যাপী, ইহা বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্যকোন প্রতিষ্ঠানের আওতায় সীমাবদ্ধ থাকে না। বাঞ্ছিত পথে মানুষের ব্যবহারের যে পরিবর্তন তাই শিক্ষা। অভিজ্ঞতা বা পারিপার্শ্বিকের প্রভাব সমাজ কর্তৃক কাঙ্খিত পথে মানুষের ব্যবহারের যে পরিবর্তন তাই শিক্ষা। (Adjustment is the best education) পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টাই বড় শিক্ষা। শিক্ষা ও জীবন অভিন্ন পরস্পর পরস্পরের সম্পূরক Life is education and education is life “দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত শিক্ষাকাল” ক্রমাগত শিক্ষায় জীবন ধরে মানুষের অভিজ্ঞতা তথা শিক্ষার পরিবর্তন পূর্ণগঠন ও নিয়ন্ত্রণ (Education and reeducation) চলতে থাকে।

শিক্ষা শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো “Education” যাহা ল্যাটিন শব্দ Educare, Educure & Educatum থেকে এসেছে। এ শব্দগুলির অর্থ হলো বাহির করা, প্রশিক্ষণ দেয়া, লালন করা,পরিপুষ্টি সাধন করা,পরিচালিত করা ইত্যাদি। Educure – To lead up নিষ্কাশন করা এই অর্থে শিক্ষা হলো “Pack the information in & draw the Talent out” অর্থাৎ ব্যক্তির প্রতিভা বা প্রবণতাকে বের করে আনা সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ। Educatum – to control নিয়ন্ত্রণ করা। আর এখানেই এসে আমরা শিক্ষার সংস্কৃত “শাম” ধাতু এবং Education এর মূল ল্যাটিন Educatum এর মাঝে অর্থের মিল খুঁজে পাই। এক্ষেত্রে ব্যক্তিকে সকল প্রকার অনৈতিক কার্যকলাপ থেকে নিয়ন্ত্রণ বা শাসন করাকেই বুঝানো হয়। সুতরাং ব্যুৎপত্তিগত (Etimologicas) অর্থে আমরা “Education” শব্দটিরও দুটি অর্থের কথা বলতে পারি। একটি হচ্ছে পরিচর্যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীকে জীবনোপযোগী কৌশল বা দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা এটি সংকীর্ণ অর্থে Education -কে নির্দেশ করে। অপরটি হলো পরিচর্যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর অন্তর্নিহিত শক্তি ও সম্ভাবনার বিকাশ ঘটানো যা ব্যাপক অর্থে Education -কে নির্দেশ করে। সুতরাং ব্যুৎপত্তিগত অর্থের ভিত্তিতে আমরা শিক্ষার একটা সংজ্ঞা দাঁড় করাতে পারি এভাবে যে শিক্ষা হলো একটি পদ্ধতি/প্রক্রিয়া যেখানে জ্ঞান প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীকে যুগোপযোগী করে গড়ে তুলা হবে এবং সাথে শিক্ষার্থীর মাঝে যে সুপ্ত প্রতিভা রয়েছে সেটাকে বিকাশ সাধনে সহায়তা প্রদান করে। জীবনের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার ফলে কিছুটা জ্ঞাতে কিছু অজ্ঞাতে মানুষের ব্যবহারের যে পরিবর্তন তাকে অপ্রত্যক্ষ শিক্ষা বলা যায়। আর যুগ যুগ ধরে সমাজ যে জ্ঞান সঞ্চয় করেছে, যে কৌশল আয়ত্ব করেছে এবং যে অভ্যাস ও চারিত্রিক গুণাবলীকে শ্রদ্ধা করতে শিখেছে তা নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ নাগরিকদের মধ্যে বিতরণের যে চেষ্টা তাকেই শিক্ষা বলে।

Oxford Advanced Learner’s Dictionary তে Education শব্দের অর্থ করা হয়েছে, Knowledge, Abilities and the development of character and mental powers.সক্রেটিসের মতে, মিথ্যার বিনাশ আর সত্যের আবিস্কার। প্লেটো বলেছেন, শরীর ও আত্মার পরিপূর্ণ বিকাশ ও উন্নতির জন্য যা কিছুই প্রয়োজন,তা সবই শিক্ষার উদ্দেশ্যের অর্ন্তভূক্ত। এরিষ্টটলের মতে, শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো ধর্মীয় অনুশাসনের অনুমোদিত পবিত্র কার্যক্রমের মাধ্যমে সুখ লাভ করা। জন লকের মতে, শিক্ষার উদ্দেশ্য হবে সুস্থ দেহে সুস্থ মন প্রতিপালনের নীতিমালা আয়ত্বকরণ। কিন্ডারগার্টেন পদ্ধতির উদ্ভাবক ফ্রোবেলের মতে, শিক্ষার উদ্দেশ্য হবে সুন্দর বিশ্বাসযোগ্য পবিত্র জীবনের উপলব্ধি। জন ডিউই বলেছেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য আত্ম উপলব্ধি। সাহিত্যিক হাক্সলি শিক্ষাকে ভেবেছেন ঐশ্বরিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া হিসেবে। রবীন্দ্রনাথ শিক্ষাকে ভেবেছেন পরশ পাথর হিসেবে যা মানুষের মনে জ্বালে আশার আগুন। অর্থনীতিবিদ এডাম স্মির্থ শিক্ষাকে দেখেছেন এমন একটা শক্তিরুপে যা মানুষের অন্তরে নিহিত র‌্যাসানালিটিকে জাগিয়ে তোলে এবং এ্যানিম্যালিটিকে নিয়ন্ত্রনে করে। বিখ্যাত কবি মিল ্টনের বক্তব্যে বলেন “Education is the Harmonious development of body, mind and soul.” অর্থাৎ শিক্ষা হচ্ছে দেহ,মন এবং আত্মার সমন্বিত উন্নয়নের নাম।

Education এর অর্থ হচ্ছে, Edu-Earn Discipline & Unknown Knowledge. Ca-Control Animality & Attitude. Tion-Trimming Idealism, Obedience & Nobility. এডুকেশন শব্দটির প্রতি অক্ষরে কাঙ্খিত শিক্ষার স্বরুপ তথা নৈতিকতারই বর্ণচ্ছটা ফুটে উঠে। E-(ইকুইটি) সকল কাজে নিরপেক্ষতা ও ন্যায়পরায়নতা। D-(ডিইটিফুলনেস)মানবতা, দেশ, জনগন, পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের জন্য সদা কর্তব্যপরায়ন। U-(ইউনিটি) সত্য ও সুন্দরের জন্য এক্যবদ্ধ। C-(কারেজ) সত্য সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সাহসিকতা। A-(একাউন্টিবেলিটি) মেধা,সময় ও জাতীয় সম্পদের সম্যক ব্যবহারের দায়বদ্ধতা। T-(ট্রান্সপারেন্সি)আচার-ব্যবহার ও সকল কাজে সততা, জবাবদিহিতা। I-(ইনভেস্টিগেশন) নবদিগন্তের উন্মোচন বা উদ্ভাবন।O-(ওবেডিয়েন্ট) জাতির প্রতি কর্তব্যবোধ ও আনুগত্যপরায়ন। N-(এনথেসিয়াস) মহৎ কাজের প্রতি আসক্তি। একদল আমরেকিান শিক্ষাবিদ ১৯৪৫ সালে লিখেন, “শিক্ষা এমন এক সুসংবদ্ধ উপায়/কৌশল বা সামাজিক জীব হিসেবে ব্যক্তির সর্বাধিক কর্মক্ষমতা, ধ্যান ধারণা রুচি ও স্বভাবের পরিবর্তন সাধান করে এবং যে পরিবেশে, বিশেষ করিয়া সে স্কুল পরিবেশে যে বাস করে তাহার মধ্যে হইতে সামাজিক সর্বোচ্চ যোগ্যতা ও ব্যক্তিগত উন্নতি আনয়ন করাই শিক্ষা”। র্অথাৎ বলা যায় মানুষকে মানুষ করাই শিক্ষা যা আত্মোপলব্ধিতে সাহায্য করে।

তার মানেই হলো সমাজের উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষার জাতীয় উদ্দেশ্যগুলো হলো- যোগ্যতানুসারে প্রতিটি মানুষের সৃজনশীলতার বিকাশ সাধন। পারস্পরিক সমঝোতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মনোভাব সৃষ্টি। জাতীয় মূল্যবোধ তথা কর্তব্যজ্ঞান, ন্যায় পরায়নতা, শৃঙ্খলাবোধ শিষ্টাচার ও একাত্মবোধ সৃষ্টি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিদ্যার মাধ্যমে দক্ষ ও সৃজনশীল জনশক্তি প্রস্তুতকরণ। শিক্ষার মাধ্যমে শ্রমের মর্যাদাবোধ সৃষ্টি এবং জাতীয় উন্নয়ন সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানে সবাইকে অনুপ্রাণিত করা। মেধা ও প্রবনতা অনুসারে জীবিকা অর্জনের জন্য যথারীতি প্রশিক্ষণ প্রদান। প্রয়োজনীয় বস্তুর উদ্ভাবন এবং সত্য মিথ্যা চিহ্নিতকরণ। শিক্ষার উদ্দেশ্যই হল ভালত্ব ধারণার উপলব্ধি, আত্মার উন্নয়ন ও চেতনার সমৃদ্ধি। শিক্ষা ন্যায়কে উদ্ভাসিত করে। ব্যক্তিকে তার কর্তব্য ও দায়িত্বপালনে সম্পূর্ণ উপযুক্ত করে তোলে। প্রকৃত শিক্ষা নারী পুরুষ সবাইকে সামাজিক অর্থনৈতিক বুদ্ধিবৃত্তিক এবং রাজনৈতিকভাবে যোগ্য করে তোলে। শিক্ষা মানুষের কুপ্রবৃত্তিকে মূলোৎপাটন করে। একটি প্রদীপকে পৃথিবীর সমস্ত অন্ধকার যেমন গ্রাস করতে পারেনা তেমনি যিনি শিক্ষিত তাকে অন্যায় অপকর্ম গ্রাস করতে পারে না।

দু:খজনক হলেও সত্য যে- শিক্ষার উদ্দেশ্য মহৎ হলেও বর্তমানে অধিকাংশ শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের আচার আচরণ ও কার্যক্রমে মহত্ত্বের কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। শিক্ষার উদ্দেশ্য এখন বলা যায় পুরোটাই বাণিজ্যিক। শিক্ষা নিয়ে চলছে এখন বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা। যার ফলে গড়ে উঠেছে অসংখ্য কোচিং, প্রাইভেট স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়। যে কারনে অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা শিক্ষাগত যোগ্যতাকে অর্থনীতিক আয়ের একটা মাধ্যমে হিসেবে মনে করে। নৈতিক ও মানবিক মুল্যেবোধহীন শিক্ষায় শিক্ষিত একজন ব্যক্তি যখন কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে, তখন তার মধ্যে নিজ স্বার্থ সিদ্ধি ছাড়া অন্যান্য উদ্দেশ্য গৌণ হয়ে যায়। এজন্যই স্বার্থসিদ্ধিতে একজন কর্মকর্তা নীতিবহির্ভূত যেকোন অন্যায় করতেও দ্বিধা করে না। তাই শিক্ষার সঠিক উদ্দেশ্য সম্পর্কে শিক্ষার্থীকে অভিহিত করতে হবে। শিক্ষার্থীকে নৈতিকতা, ত্যাগ, জনকল্যাণ, উদারতা, মহানুভবতা এবং সততা শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষক মহোদয়গণ শিক্ষার্থীদের সামনে নিজেদেরকে আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করবেন। শিক্ষার উদ্দেশ্য হবে পরিশুদ্ধ মানুষ তৈরি করা। নৈতিক এবং মানবিক মূল্যেবোধ সমূহ (যেমন-সততা, ন্যায়, মায়া, মমতা, সহিষ্ণুতা, পরোপকার, ত্যাগ) শিক্ষার্থীর চরিত্রে এসব গুণ প্রতিফলিত হল কিনা তা পরীক্ষার ব্যবস্থা করার সাথে সাথে এসব বিষয়ের উপর নির্দিষ্ট নম্বার রাখা যেতে পারে। শিক্ষার্থী কোনো অনৈতিক এবং অপরাধমূলক কর্মকান্ড করলে তাকে শারীরিক শাস্তি প্রদানের সাথে সাথে ব্যবহারিক বিষয় থেকে নম্বার কমিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। যাতে সত্যিকার অর্থে একজন শিক্ষার্থী সৎ এবং নৈতিকতা সম্পন্ন হতে পারে।

ভুলে গেলে চলবে না যে- শিক্ষার উদ্দেশ্য দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন করা।এ সম্পর্কে সিজার বলেন,”Three kinds of progress are significant, there are progress in knowledge and technology, progress in socialization of man & progress in spirituality. The last one is the most important” শিক্ষার উদ্দেশ্য যাই থাকুক আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যে দেশপ্রেমিক, পরোপকারী, মানুষের কল্যাণে ব্যক্তিস্বার্থ বিলিয়ে দেয়ার উদার মনের মানুষ বের হচ্ছেনা এটা খুবই ভাবনার বিষয়। নেপোলিয়ন বলেন, আমাকে ভাল মা দাও, আমি তোমাদিগকে ভাল জাতি দিবো। তিনি খুবই শিক্ষিত মায়ের কথা বলেননি বরং বলেছেন চরিত্রবতী, ধৈর্য্যশীলা ও ন্যায়বান এক মায়ের কথা। চিন্তার ব্যাপার হচ্ছে এমন মা আমরা কেন পাচ্ছিনা? এই সংকটের সমাধানে সংশ্লিষ্ট সকলকে চিন্তাভাবনা করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *