‘উপস্থাপনার দায়িত্বশীল পেশায় নারীকে পণ্য বানাবেন না’

উপস্থাপনা একটি দায়িত্বশীল পেশা। সংবাদ উপস্থাপকদের থাকতে হবে সংবাদ, সাংবাদিকতা এবং সমসাময়িক বিষয়ে ব্যাপক জ্ঞান। শুদ্ধ উচ্চারণের পাশাপাশি অব্যাহত প্রশিক্ষণ ও চর্চার মধ্য দিয়ে সংবাদ উপস্থাপকদের দক্ষতা উন্নয়ন সম্ভব। অনুষ্ঠান উপস্থাপকেরও থাকতে হয় সময় জ্ঞান ও কান্ড জ্ঞান।

অথচ এখন গেম শো চলাকালীন আচমকাই অভিনেত্রীর বুকে উপস্থাপক চুমু দিচ্ছেন। মিশরের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ৮ জন নারী উপস্থাপককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল, ‘উপযুক্ত চেহারা’ নিয়ে, ‘ডায়েট কন্ট্রোল’ করে চিকন হয়ে তারপর আসতে বলা হয়েছিল। পর্তুগিজ টিভি শোতে উপস্থাপক লাইভ অনুষ্ঠানেই সহকর্মীর অন্তর্বাস (ব্রা) দেখিয়ে জঘন্য রুচির পরিচয় দিয়েছিলেন। দেশের টিভি চ্যানেলেও দেখা যাচ্ছে উপস্থাপক নারী অতিথিকে আপত্তিকর, কুরুচিপূর্ণ ও অত্যন্ত নোংরা প্রশ্ন করে বিব্রত করছেন। পুরুষতান্ত্রিক গণমাধ্যম নারীকেও পণ্য বানিয়ে ছেড়েছে।

কেন টেলিভিশনে নারী উপস্থাকদের নিয়োগের ক্ষেত্রে রূপ ও সৌন্দর্যই প্রধানতম যোগ্যতা বলে বিবেচিত হচ্ছে? বলবেন- টেলিভিশন চ্যানেলগুলো দর্শকদের টানতেই সুন্দরী উপস্থাপকদের ব্যবহার করছে। সুন্দরী উপস্থাপিকা দেশের টিভিতে দেখা গেলেও ব্যতিক্রম বিবিসি, সিএনএন তে। অনেক বয়স্ক, মোটা, কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকানদের দিয়ে খবর পড়ানো হয়। কানাডার টরেন্টোর ‘সিটি নিউজ’ টেলিভিশনে হিজাবধারী মুসলিম নারী সাংবাদিক জিনেলা মাসা টেলিভিশনে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা ও সঞ্চালনার সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু দেশের টেলিভিশনে সুন্দরী নারী উপস্থাপক ও সংবাদ পাঠিকা যতটা দেখা যায়, নারী প্রতিবেদক ততটা দেখা যায় না।

অথচ পুরুষ হয়েও একসময়ে জনপ্রিয় উপস্থাপক ছিলেন- অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, বর্তমানের সফল মেয়র আনিসুল হক,ফজলে লোহানী, জাতীয় অধ্যাপক মুস্তফা নূর উল ইসলাম। আর বর্তমানেও জনপ্রিয় হানিফ সংকেত,আব্দুন নুর তুষার। রূপ- সৌন্দর্য ও বাহ্যিক আকর্ষণকে গুরুত্ব না দিয়ে গুণ ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব না দিলে চাকচিক্যের আড়ালে ঢাকা পড়ে যাবে উপস্থাপনার আসল সৌন্দর্য।

আনিসুর রহমান এরশাদ এর ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *