সোনার হরিণ ‘নিয়োগপত্র’ নিয়ে প্রতারণা

আনিসুর রহমান এরশাদ

বাংলাদেশে এমন অনেক শ্রমিক ও কর্মচারী আছেন, যারা কর্মক্ষেত্রে সকাল ৮ টায় কাজ শুরু করে কখনো ৮ ঘণ্টা, কখনো ১২ ঘণ্টা কাজ করেন। অথচ তাঁদের নেই নিয়োগপত্র, নেই বোনাস, ভবিষ্য তহবিল (প্রভিডেন্ট ফান্ড) ও আনুতোষিক (গ্র্যাচুইটি)। পরিচয়পত্রও দেওয়া হয় না তাঁদের। নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র না থাকায় দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে দীর্ঘদিনের শ্রমিক হবার পরও মালিকপক্ষ তাদেরকে অস্বীকার করতে পারে। এসব মেহনতী শ্রমজীবী ও কর্মজীবীদের ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মসংস্থান মোটেই নেই। নিরাপত্তাজনিত কারণে অনেক সময় পুলিশ পরিচয়পত্র দেখতে চাইলেও তারা দেখাতে পারেন না। অথচ নিয়মানুযায়ী ‘কোন মালিক নিয়োগপত্র প্রদান না করিয়া কোন শ্রমিককে নিয়োগ করিতে পারিবেন না, এবং নিয়োজিত প্রত্যেক শ্রমিককে ছবিসহ পরিচয়পত্র প্রদান করিতে হইবে।’

গণমাধ্যম থেকে জানা যায়- খাদ্য অধিদফতর, রেল বিভাগ, সেনাবাহিনী, ভূমি জরিপ অধিদফতরসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থায় চাকরি দেওয়ার নামে ১৫ হাজার তরুণ-যুবকের কাছ থেকে ঘুষ বাবদ প্রায় ৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার একপর্যায়ে সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা ঢাকা মহানগর ডিবি সদস্যদের জালে আটকে পড়ে। জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে সেনাবাহিনীর বে-সামরিক পদে চাকরি দেয়ার নামে শতাধিক যুবককে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্র। চাকরি প্রার্থীরা কেউ সর্বস্ব বিক্রি করে, কেউ গহনাসহ আসবাবপত্র বিক্রি করে, কেউ জমি বিক্রি করে, আবার কেউবা সুদের উপর টাকা গ্রহণ করে প্রতারককে দিয়ে এখন মানবতের জীবনযাপন করছেন।

ব্যক্তিগত প্রতারণার বাইরে অনেক প্রতিষ্ঠানও নিয়োগপত্র দেওয়ার আগেই প্রার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন মুচলেকায় সই নেয়। ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর এলাকা থেকে হাইকোর্টের জাল সিল, ভূয়া নিয়োগপত্র ও স্ট্যাম্পসহ রিপন জোয়ার্দ্দার নামের এক প্রতারককে আটক করেছিল র‌্যাব। ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে অফিস সহকারী পদে নিয়োগের জন্য আবুল কালাম অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনাসদস্য আবুল কাশেম (৫২), নাসির উদ্দীন (৪৬) কে জমি বিক্রি করে তিন লাখ টাকা দিয়ে নিয়োগপত্র নিয়েছিলেন। চাকরিতে যোগ দিতে গিয়ে তিনি দেখেন তার নিয়োগপত্রটি ভুয়া৷ একদিকে প্রতিনিয়তই সাধারণ চাকরি প্রত্যাশীরা এ ধরনের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে নিয়োগপত্র দেওয়া নিয়ে কর্তৃপক্ষের টালবাহানাও বেড়েই চলছে।

গণমাধ্যমে এসেছে- প্রায় ১০০ লোক প্রতিদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ডিএমসিএইচ) ‘স্পেশাল ওয়ার্ড বয়’ হিসেবে কাজ করেন। নিয়োগপত্র না থাকায় তারা কোনো বেতন-ভাতা পান না। হাসপাতালের প্রভাবশালী একটি চক্র তাদের স্পেশাল ওয়ার্ড বয় নাম দিয়ে অলিখিতভাবে নিয়োগ দিয়েছে। বিনিময়ে দৈনিক গুনতে হয় আগাম কমিশন। তাই তারাও সুদে আসলে তা উসুল করতে চড়াও হন রোগীর স্বজনদের ওপর। ‘বকশিশ’ এর নামে এক রকম জবরদস্তি করে টাকা আদায় করে থাকেন। টাকা না পেলে ট্রলি থেকে রোগী নামাতে কালক্ষেপণ ও অশোভন আচরণ করতেও কুণ্ঠাবোধ করেন না তারা। এ কারণে ডিএমসিএইচে তারা রাতের ‘হিংস্রবাঘ’ নামে পরিচিত।

খবর বের হয়েছিল- বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে ‘সম্মানসূচক’ চাকরির নিয়োগপত্র দিয়ে তার নাম ভাঙিয়ে ব্যবসা করছে এসএমই লোন সার্ভিস নামের একটি প্রতিষ্ঠান। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ধাপ পেরিয়ে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের ‘সহকারী মাঠ তত্ত্বাবধায়ক’ পদের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়ে হাতে নিয়োগপত্র পান জামালপুর সৃষ্টি স্কুলে শিক্ষক আমানুল্লাহ আমান। স্কুলের চাকরি ছেড়ে কর্মস্থলে যোগ দিতে গিয়ে আমান জানতে পারেন, নিয়োগ স্থগিত হয়ে গেছে। ঘুষের টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্ব এমনভাবে আরও অনেকের জন্য বয়ে আনে অভিশাপ।

আইনে মোটরযান শ্রমিকদের নিয়োগপত্র দেওয়া ও দিনে সর্বোচ্চ আট ঘণ্টার বেশি কাজ না করানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও ৯৫ শতাংশ পরিবহন মালিকরা তা মানেন না। মাসিক বেতন না থাকায় প্রায় ৯৫ শতাংশ চালকই রোজগারের জন্য দিনে আট ঘণ্টার বদলে ১৪ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত গাড়ি চালান। ১৯৮০ সালে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের চুক্তির পর শ্রমিকদের নিয়োগপত্র দেওয়ার বিষয়ে আইনও হয়েছিল। তবে শ্রমিকরা আন্দোলন করলেও মালিকরা নিয়োগপত্র না দিয়েই তাঁদের দিয়ে গাড়ি চালিয়ে নিচ্ছেন। প্রতি ট্রিপে গাড়ির মালিকরা বেশি হারে জমা নিতে পারবেন না, একজন চালকের সঠিক বেতন উল্লেখ করতে হবে, গাড়ি চললে বা না চললেও প্রতিদিন খাবারের টাকা বা খোরাকি দিতে হবে, দুর্ঘটনায় পড়লে তাঁর পরিবারের খরচ ও চিকিৎসার খরচ দিতে হবে, কোনো কারণে গাড়ির ইঞ্জিন বিকল হয়ে থাকলে বা গাড়ি রাস্তায় না চললেও চালকদের বেতন দিতে হবে, উৎসব বোনাস দিতে হবে—এসব বাধ্যবাধকতায় পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পেতে মালিকরা নিয়োগপত্র দেন না।

গণমাধ্যমে নিয়োগপত্র তো সোনার হরিণ, এখানে শ্রম আইন মানা হয় না। নিয়োগপত্র, সংবাদ পাঠানোর অনুমতিপত্র, সম্মানি, ওভারটাইম, প্রাপ্য ছুটি, ইনক্রিমেন্টসহ পদে পদে আইন লঙ্ঘনের ঘটনা প্রকাশ্যেই চলে। প্রতিষ্ঠিত ও হাতেগোনা অল্প কয়েকটি গণমাধ্যম ছাড়া জেলা প্রতিনিধিদের পরিচয়পত্র দিলেও নিয়োগপত্র দেয়া হয় না। নিয়োগপত্র না দেয়ার কারণ হলো- নিয়োগপত্রে আইন অনুযায়ী বেতনের পরিমাণ উল্লেখ করলে তো সাংবাদিকদের বেতন দেয়া ছাড়া গত্যন্তর থাকবে না। সরকার অষ্টম ওয়েজবোর্ড গঠন করে ছয়মাসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বললে বেশিরভাগ হাউজই নীতিনির্ধারকদের কয়েকজনকে দিয়ে বলার চেষ্টা করেন যে সেই হাউজে ওয়েজবোর্ড চালু আছে। কাজ করানোর সময় যতটা পারা যায় চাপ প্রয়োগ করা আর সম্মানির সময় বিভিন্ন ছুঁতো খুজে কম সম্মানি দেয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। বার্তাকক্ষ থেকে সাংবাদিকবান্ধব পরিবেশ অনেক সময়ই পাওয়া যায় না। অ্যাসাইনমেন্ট অনেক সময় প্রকাশ বা প্রচার করা হয় না। জেলা প্রতিনিধিদের ভালো রিপোর্ট প্রতিহিংসাবশত গায়েব হয়ে যায়। অনেক সাংবাদিক সম্মানী পান না, অনেকের সম্মানী নিয়মিত অনুমোদন হয় না, প্রয়োজনীয় ছুটি অনুমোদন করা হয় না। নিয়োগ নীতিমালা না থাকা, নিয়োগপত্র না দেওয়া , বেতন-ভাতার বৈষম্য, নিয়মিত বেতন-ভাতা না দেওয়া চাকরিকালীন অনান্য সুবিধার অপ্রতুলতা, বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুতি, মালিকপক্ষের অন্যায় প্রভাব খাটানো সাংবাদিকতায় অভ্যন্তরীণ ঝুকিঁর অংশ ।

পোশাক কারখানায় শ্রমিক/কর্মকর্তা নিয়োগের সময় কোনো নিয়োগপত্র না দেয়া শ্রম আইনের পরিপন্থি। নিয়োগপত্র না দেয়ার কারণ- দুর্ঘটনায় কারও নিকট আত্মীয় মারা গেলে যাতে কোনো ক্ষতিপূরণ চাইতে না পারে, মালিকরা যখন যাকে খুশি ছাঁটাই করতে পারে এবং ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকেরা কোথাও অনিয়মের বিচার চাইতে না পারে। শ্রম আইনে বলা আছে কোন শ্রমিককে ছাটাই করলে ১০০ দিনের বেতন দিয়ে তাকে ছাটাই করতে হবে। অথচ ছাঁটাই হওয়া বা অগ্নিকান্ড/দুর্ঘটনায় কবলিত শ্রমিকদের পরিচয়পত্র ছিনিয়ে নেয়া হয়। দীর্ঘ সময় শ্রমিকদের নিয়োগপত্র না দিয়ে কম মজুরিতে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করানো এবং সকল শ্রমিককে শিক্ষানবিশ শ্রমিকের বেতন দিয়ে মালিক লাভবান হয়।

বছর শেষে ইনক্রিমেন্টের সময় হলে পরিচয়পত্র নতুন করে দিয়ে তাঁকে নতুন কর্মী হিসেবে দেখান। অনেক মালিক পরিচয়পত্রে নিয়োগের কোনো তারিখ উল্লেখ করেন না। বেশি বেতন দেওয়া এড়াতে কর্মীদের চাকরির বয়স কয়েক বছর হলেই বরখাস্ত করেন অনেক মালিক। মজুরি আগে থেকে না জানিয়ে পরে কম মজুরিও দেন। শ্রমিকদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয় না বলে তাঁরা আইনের আশ্রয় নিতে পারেন না। পাওনা দেওয়া এড়াতে শ্রমিকদের জোর করে অব্যাহতিপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়। কেউ স্বাক্ষর দিতে না চাইলে তাঁকে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে এলাকাছাড়া করার নজিরও আছে। চাকরি চলে গেলে অন্য কারখানায় চাকরি পাওয়া যায় কিন্তু প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসীদের হাতে মার খাওয়ার ভয় থাকে। একটি প্রতিষ্ঠানের মুনাফার ৫ শতাংশ শ্রমিকদের দেওয়ার আইন বেশ আগের। কিন্তু খুব কম মালিকই তা মানেন।

অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানই বেতন-ভাতা পরিশোধ না করে অব্যাহতি প্রদান করে থাকে। বিশেষ করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মকালীন সময় কোনো প্রকার নিয়োগ পত্র না দিয়ে মাসের পর মাস শিক্ষকদের ঝুলিয়ে রাখা হয়। অনেক প্রতিষ্ঠানে তো চাকরি দেয়ার নামে প্রার্থীদের কাছে যে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়, তা পরবর্তীতে কমিটির লোকজনসহ ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়। ভুয়ো নিয়োগপত্র দিয়ে কাজ করিয়ে প্রতারণার ঘটনাও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে প্রতারণার বহু ঘটনা ঘটেছে এবং ঘটে চলছে। পত্রিকায় এসেছে- ২০০৬ সালের (সংশোধনী ২০১৩) শ্রম আইন অনুযায়ী, কেবল মাত্র ক্যাজুয়াল কাজের জন্যই অনূর্ধ্ব তিন মাসের ক্যাজুয়াল শ্রমিক নিয়োগ দেয়ার বিষয়ে বলা হলেও তা মানছে না বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বিমানের মেকানিক, ক্লিনার, তদারকির নানা কাজ সাধারণত স্থায়ী কাজ হিসেবে বিবেচিত হলেও প্রায় ১ হাজার ৫০০ ক্যাজুয়াল শ্রমিক কাজ করছেন। এসব শ্রমিকের প্রায় ৭০ শতাংশের কাজের মেয়াদ ৫ বছরেরও বেশি। অথচ তাদের কোনো নিয়োগপত্র নাই। কিন্তু স্থায়ী শ্রমিকদের মতোই কাজ করতে হয়। নিয়োগপত্র না থাকায় বিমান যখন ইচ্ছা চাকরি থেকে বাদ দিতে পারেন। তখন কোনো শ্রমিক পাওনা থেকেও বঞ্চিত হন। বছরের পর বছর ধরে সেবা দিয়ে আসলেও তারা অবহেলিত।

চাকরি হবার পর নিয়োগ দিতে কর্তৃপক্ষ সময়ক্ষেপণ করায় দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে পাস করে বের হওয়ার পরও আত্মহত্যার ঘটনাও কম নয় । জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রী (৩৫ ব্যাচ, অর্থনীতি বিভাগ) তানজিনা আক্তার সুক্তি চাকরি না পেয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। তার মৃত্যুর চার মাস পর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগপত্র এসেছিল হলের ঠিকানায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের ৪৪৯ নম্বর কক্ষে সাবেক আবাসিক ছাত্র তারেক আজিজের আত্মহত্যা করেছিলেন। এরকম হতাশায় আত্মঘাতী হবার ঘটনা অনেক। এমনকি ভালো বেতন ভাতায় বহুজাতিক কোম্পানিতে জব করতেন এমন অনেকেও বাংলাদেশে কোম্পানির কার্যক্রম অনেকটা গুটিয়ে নেয়ায় চাকরিচ্যুত হন। সমাজের স্ট্যাটাস অনুযায়ী চলার মত পান না কোন চাকরি।

অনেক প্রতিষ্ঠান ইন্টারভিউ নেয়, চাকরি ও বেতন চূড়ান্ত করে। পরে বলে কাজ শেখার জন্য প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এ জন্য থাকা ও খাওয়া বাবদ পাঁচ হাজার টাকা দিতে হবে। এরপরই চূড়ান্ত নিয়োগপত্র দেওয়া হবে। পরে টাকা পাঁচ হাজার ঠিকই যায় চাকরি আর মিলে না, এমনকি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ও গায়েব হয়ে যায়। অনেক প্রতিষ্ঠানে চাকরিজীবীরা যত পুরনো হয়, ততই মালিকের চক্ষুশুল হন। মহামান্য মালিকের হিসাব হচ্ছে, একজন পুরনো লোক চলে গেলে অর্ধেক বেতনে আরেকজনকে রাখা যাবে। মৌখিক আশ্বাসে বিশ্বাস রেখে অনেকে ঠকে যান। যারা আগের প্রতিষ্ঠানে চাকরির পদত্যাগপত্র দেখে নিয়োগপত্র দেয়; তারা ঠকালেও কিছু করার থাকে না।

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) তথ্যে জানা যায়, আমেরিকায় ঘণ্টাপ্রতি শ্রমিকের মজুরি ৭ ডলার আর অস্ট্রেলিয়ায় ২ ডলার। এভাবে দেশভেদে প্রতি ঘণ্টায় এই ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের হার কোথাও আরও বেশি, কোথাও এ মাত্রার কাছাকাছিই। মাত্রার তারতম্যে বাংলাদেশে শ্রমিক ঠকানোর চর্চা একটু বেশি। এখানে ন্যায্য ও ন্যূনতম মজুরি পাওয়া কিংবা দাবি করাও স্বাভাবিকভাবে নেয়া হয় না। এর বাইরে শ্রমিক কল্যাণের অন্যান্য খাত যেমন শ্রমিকের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ, প্রাপ্য ছুটিছাটা ও গ্রাচুইটি পাওয়ার অধিকারগুলো একরকম কাগুজে আইনের ব্যাপার হয়েই আছে। ৬৭ খাতের মধ্যে ৪৩টিতে ন্যূনতম মজুরি পরিপালন নেই। এমতাবস্থায় বাংলাদেশে এখন মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় খোলার সময় এসেছে৷ যেখানে চাকরি প্রত্যাশীরা তাদের বায়োডাটা দিয়ে রাখবে৷ সেখান থেকে যার যে লাইন সে অনুযায়ী সেইসব জায়গায় পাঠানো হবে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *