টেকসই উন্নয়নে প্রয়োজন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি

আনিসুর রহমান এরশাদ

দেশের সুখ, শান্তি, উন্নতি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিতকরণে জাতির ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজনীয় অপরিসীম। প্রতিটি মানুষই সাধারণত নিজের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এগিয়ে যেতে চায়, কিন্তু তারা জানে না সেখানে কীভাবে পৌঁছতে হবে। সাফল্য লাভের আকাঙ্ক্ষা সবারই আছে কিন্তু সবাই সে আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে পারে না।
ব্যক্তিগত জীবনে সাফল্য ও পারিবারিক জীবনে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির কাজে ব্যস্ত হয়ে অনেকে ভুলেই যান- নাগরিকের প্রধান কর্তব্য হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত্য প্রকাশ করা, রাষ্ট্রের নির্দেশ মেনে চলা। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, অখন্ডতা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখার জন্য প্রত্যেক নাগরিককে সর্বদা সজাগ এবং চরম ত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়। নেতিবাচক মনোভাব সম্পন্নদের দ্বারা এই কর্তব্য পালন সম্ভব হয় না।

দেশের প্রতিটি নাগরিক যদি সচেতন হয়, সাফল্যের চেয়ে সার্থকতা লাভে সর্বশক্তি নিয়োগ করে, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন হয় তবে দেশের অগ্রগতি না হয়ে পারে না। ইতিবাচক মনোভাবসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব গঠনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত পরিসরে সাফল্য লাভের হার বৃদ্ধিই সামগ্রিক পরিসরে জাতির সামনে এগিয়ে চলাকে ত্বরান্বিত করবে। নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন জাতি দ্বারা দেশের বৃহত্তর কল্যাণ হাসিল অসম্ভব। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন নাগরিকরাই সুষ্ঠু জীবনযাপন, শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন এবং সংবিধান মেনে চলে এবং আইনের প্রতি সম্মান দেখায়।

একটি সমৃদ্ধ জাতিকে যদি একটি মনোরম প্রাসাদের সাথে তুলনা করি তবে জাতির অনেক সদস্যই হচ্ছে সেটির খুঁটি। কেউ ইট, বালু, সিমেন্ট যাই হোক, কারো গুরুত্বই কম নয়; অত্যন্ত মূল্যবান। সবার শক্তি, সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার ও ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসেই মজবুত প্রাসাদ গড়ে উঠতে পারে। তবে শর্ত হচ্ছে, যার ক্ষমতা, যোগ্যতা যে পরিসরে যতটুকুই থাকুক তা ভেজালমুক্ত, খাঁটি হওয়া চাই। একজন ইতিবাচক ব্যক্তিত্ব-দায়িত্ব গ্রহণ করেন, সুবিবেচনা করেন, সকলের লাভ হোক এই চিন্তা করেন, সতর্কতার সাথে শব্দচয়ন করেন, অপরের ব্যবহারের ইতিবাচক ব্যাখ্যা করেন; সমালোচনা এবং অভিযোগ করেন না, আলোচনা করেন তবে তর্ক করেন না, খোশগল্প করেন না। ভালো মনের নাগরিকরাই সততা ও সুবিবেচনার সাথে অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজ প্রার্থীকে ভোটদানে বিরত থেকে যোগ্য ও উপযুক্ত প্রার্থী জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেন।

ইতিবাচক ব্যক্তিত্ব গঠনের পদ্ধতি হচ্ছে, প্রসন্ন এবং সদয় হওয়া, ভালো শ্রোতা হওয়া, সৎ ও আন্তরিকভাবে কাজের মূল্য উপলব্ধি করে অন্যের প্রশংসা করা, ভুল হলে সঙ্গে সঙ্গে স্বেচ্ছায় সেটা স্বীকার করে নেয়া। আবার কেউ ভুল স্বীকার করলে তা মেনে নেয়া এবং তার মুখ রক্ষার সুযোগ দেয়া, প্রতিজ্ঞাকে অঙ্গীকারে পরিণত করা, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, অন্যের কাছে কৃতজ্ঞতার আশা না করা, নির্ভরযোগ্য হওয়া এবং আনুগত্য অনুশীলন করা, উদ্যমী হওয়া, বিদ্বেষ পোষণ না করে ক্ষমা করা, সততা-সার্বিক ন্যায়পরায়ণতা ও আন্তরিকতা অনুশীলন করা, বিনম্রতা অনুশীলন করা, অপরকে বুঝবার চেষ্টা করা এবং তার সম্পর্কে মনোযোগ দেয়া, প্রতিদিনের ব্যবহারে সৌজন্যমূলক আচরণ অনুশীলন করা, বিদ্রুপাত্মক বাক্য পরিহার করা, অন্যকে দমনের মনোভাব না থাকা, বন্ধুলাভের জন্য বন্ধু হওয়া।

সংকীর্ণ চিন্তা নিয়ে বৃহৎ কিছু করা যায় না। ব্যক্তি নিজে তার পরিসরকে সংকীর্ণ ও সীমাবদ্ধ করলে পৃথিবীর কোনো শক্তিরই সাধ্য নেই তাকে বিস্তৃত করার। জীবন থেকে বেশি প্রত্যাশা না করে অল্প প্রত্যাশা করলে জীবন তাকে অল্পই দেয়। চিন্তা ক্ষুদ্র পরিসরে, সীমাবদ্ধ গন্ডিতে নয়। তোমার শক্তি অফুরন্ত আর সম্ভাবনাও অযুত। তাই বৃহৎ চিন্তা ও বেশি প্রত্যাশা প্রয়োজন। জীবনে কৃতকার্য হতে গেলে বা সফলতা লাভ করতে গেলে তিনটি প্রবল শক্তিকে নিজের আয়ত্বের মধ্যে আনতে হবে- আকাঙ্ক্ষা, বিশ্বাস ও প্রত্যাশা। উদার চিন্তার নাগরিকরাই রাষ্ট্রের অর্পিত দায়িত্ব অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় কাজ জনগণের কাজ মনে করে সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করে। নাগরিকদের সততা ও কাজে একাগ্রতা ও নিষ্ঠার উপর সরকার-রাষ্ট্র-জাতির সফলতা, উন্নতি ও অগ্রগতি নির্ভর করে।

নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বলেছেন, যারা মূর্খ, যারা কোনোকালেই কিছু করবে না, তারাই শুধু বলে ‘অসম্ভব’। এ জগতে মানুষের ‘অসম্ভব’ বলে কিছুই নেই। আরেকজন মনীষী বলেছেন ‘ক্ষুদ্র পরিকল্পনা করো না, কারণ তাতে মানুষের রক্তে তরঙ্গ তোলার ইন্দ্রজাল নেই। বড় পরিকল্পনা কর, লক্ষ্য উঁচু রেখে আশা এবং কর্মোদ্যম নিয়ে লক্ষ্য লাভের চেষ্টা কর’-তবেই সফল হতে পারবে। লক্ষ্যের ক্ষেত্রে যে লক্ষ্য শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে, সেই লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে সফল হওয়ার থেকে, যে লক্ষ্য শেষ পর্যন্ত সফল হবে, সেই লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ব্যর্থ হওয়াকে বাঞ্ছনীয় বলে মনে হয়।’ স্বপ্নদর্শীদের স্বপ্ন থেকেই জন্ম নেয় নানা মহান কীর্তি। তবে ঘুমায়ে যার বড় স্বপ্ন দেখার অভ্যাস, আজীবন সে ছোটও থাকতে পারে; তবে জাগ্রত হয়ে দেখা বড় স্বপ্নের মধ্যে বড় হবার সম্ভাবনা লুকায়িত। বড় স্বপ্নদর্শী যিনি নন তাকে কেউ বিন্দু পরিমাণও বড় করতে পারে না। নিজে স্বপ্ন দেখলে, স্বপ্ন পূরণে সিদ্ধান্ত নিলেই কেবল অন্যের পরামর্শ ও সহযোগিতা কাজে লাগে। না হলে তা নিরস, অন্তসারশূন্য হয়ে পড়ে। তাই বড় স্বপ্ন দেখুন, পরিকল্পিত জীবন গড়ুন।

অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তির নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা ও মূল্যায়নই তাকে ক্ষুদ্র মানুষে পরিণত করে। আবার অতি উঁচু ধারণা, ও আত্মদাম্ভিকতা, অহংকারই পতনের কারণ হয়। নিজেকে কিভাবে দেখা হচ্ছে তার উপর ব্যক্তির সফলতা, ব্যর্থতা অনেকাংশেই নির্ভরশীল। এ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটি নিয়ে দুশ্চিন্তা নয়, নিজের সম্পর্কে যথাযথ ধারণা সবারই থাকা উচিৎ। নিজের সম্পর্কে প্রত্যেকেরই একটি নির্দিষ্ট ধারণা আছে। এর তিনটি দিক রয়েছে-১) বিশ্বাস ২) মনোভাব এবং ৩) ব্যবহার। নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক মূল্যায়ন বদলে না ফেললে তার দ্বারা বড় কাজ হওয়া অসম্ভব। তাই নেতিবাচক মূল্যায়ন বদলে ফেলুন, নিজের সম্পর্কে যথাযথ ধারণা রাখুন।

দু’টি ব্যাপার অস্বস্তিকর। একটি হচ্ছে, অফুরন্ত সম্ভাবনা ও নানাবিধ সুযোগ সুবিধা থাকার পরও ছোট হয়ে থাকাতেই কারো তৃপ্তি খোঁজা। আরেকটি হচ্ছে, বড় হতে চেয়েও বড় স্বপ্ন, আশা পূরণের জন্যে কোনো ব্যক্তির জীবনে কঠিন সংগ্রামে অবতীর্ণ না হয়ে অলস সময় কাটানো, অসচেতনভাবে পরে থাকা। নিরুপায় মানুষই মানসিক প্রশান্তি পেতে সবসময় বিধিলিপির আশ্রয় নেয়। দৃশ্যত এ আশ্রয়ে তার মঙ্গল মনে হলেও কার্যত এটি তার গতি স্থিমিত করে। ইটালীয় ধর্মপ্রচারক সেন্ট ফ্রান্সিস অফ আসিসি বলেন, যা প্রয়োজনীয় তা করা শুরু কর, তারপর যা সম্ভবপর তা করা শুরু কর; অবশেষে দেখা যাবে যে অসম্ভব কাজও সম্ভব হচ্ছে। কঠিন প্রতিজ্ঞা থাকলে-‘মানুষের মন যা কল্পনা করে এবং বিশ্বাস করে, মানুষ তা অর্জন করতেও পারে’- নেপোলিয়ন হিল। ডা. লুৎফর রহমানের ভাষায়-‘গুণ থাকলেও চেষ্টা না করলে জগতে প্রতিষ্ঠা লাভ করা যায় না।’ চেষ্টা বাড়াতে হবে, কাজ করতে হবে, পরিশ্রমপ্রিয় হতে হবে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উইলিয়াম জেমস বলেন, ‘যদি নিজেদের জীবনকে বদলানোর মনস্থ করে থাক তা হলে তা শুরু করা দরকার এখনই এবং খুব সোচ্চার ও দর্শনীয়ভাবে।’ এডগার এ্যালেনপো বলেছেন, যে বেশি জানে, সে কর্মে বিশ্বাস করে। তাই আর অপেক্ষা নয় কাজ শুরু করুন এবং তা এখনই।

সময়ের সদ্ব্যবহারেই সাফল্যের সিঁড়ি। জীবন কতগুলো মুহূর্তেরই যোগফল। এই মুহূর্তগুলোকে যে যত বেশি কাজে লাগাতে পারে, তার মানব জীবন ততবেশি সার্থক। মানুষ যখন তার স্বল্পস্থায়ী জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের মূল্য বোঝে, আর তাকে ফলপ্রসূ কাজে লাগায়, তখনি তার জীবন হয় সার্থক। অলসরা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে না, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চলে যাওয়া মুহূর্তগুলো যেমন মানুষের জীবনে ফিরে আসে না, তেমনি ঐ মুহূর্তগুলোতে করণীয় কাজও জীবনে আর করা হয়ে ওঠে না। তাই সময়ের সদ্ব্যবহারকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতে হবে। বিন্দু বিন্দু জল নিয়ে যেমন বিশাল সমুদ্র, কণা কণা বালি নিয়ে মরুভূমির বিস্তৃতি তেমনি অসংখ্য মুহূর্তের সমন্বয়ে মানবজীবন। এই সময়কে যতটা সতর্কতার সাথে কাজে লাগাতে পারবেন সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে ওঠতে ততটাই সহজ হবে। জগতে যারা বড় তারা সময়ের অপচয় সহ্য করবেন না। জ্যানেট কোল বলেছিলেন, “আমাকে একজন লোক দেখান যে নিজেকে সাধারণ লোক বলে মেনে নিয়েছে এবং আমি আপনাকে একজন লোক দেখাবো যার ভাগ্যে অসাফল্য সুনিশ্চিত।” নিজেকে সাধারণ ভাবলে চলবে না।

ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন নাগরিক রাষ্ট্রের অভিশাপ নয় আশির্বাদ। এর‍া যথাসময়ে কর প্রদান করে রাষ্ট্রীয় কাজে সহযোগিতা করে, সন্তানদের সুশিক্ষিত ও সুনাগরিক করে গড়ে তুলে পরিবার-সমাজ-রাষ্ট্রের কল্যাণে অবদান রাখেন। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থাকায় নিজস্ব সংস্কৃতি, রাষ্ট্রীয় অর্জন ও সফলতা এবং সবসময় দেশের মঙ্গল কামনা করেন। জাতীয় সংগীত, জাতীয় ইতিহাস, জাতীয় বীর ও মনীষীদের অবদানকে স্মরণ করেন। প্রত্যেক নাগরিককে সহ্য করার ক্ষমতা থাকে, ভিন্নমতকে মূল্যায়ন এবং সম্মান করার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংহতি অর্জনে ভূমিকা রাখেন। সুশাসন এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান, বেআইনী কাজের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান, আইন নিজের হাতে তুলে নেন না।

দেশের উন্নয়নে জাতির ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম- এতে কোনো সন্দেহ সংশয়ের অবকাশ নেই। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিই সফলতার চূড়া স্পর্শ করার ক্ষেত্রে জাতিকে উদ্দীপ্ত রাখার প্রধান উপায়। জাতির প্রতিটি সদস্য যদি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন হয় অবশ্যই দেশ সামনে এগিয়ে যাবে, মানুষের সুখ-শান্তি, নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। আত্মকেন্দ্রিক ও পরিবারকেন্দ্রিক না হয়ে সমাজ কেন্দ্রিক হতে হবে। বড় মনের অধিকার হোন, প্রকৃত মানুষ হোন, নিজকে সামাজিক অঙ্গনে সংযুক্ত করুন, বিষণ্নতা কাটিয়ে উঠুন, সংঘাত এড়িয়ে চলুন। বিষণ্নতা কাটিয়ে উঠতে নিজেকে জানুন, আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলুন, উদ্যমীদের সাথে মেলামেশা করুন, ইতিবাচক হোন, স্বাভাবিক থাকুন, অবসরকে উপভোগ করুন। সংঘাত এড়িয়ে চলতে অভিযোগের ব্যাপারে সবসময় সচেতন থাকুন, ভুল ধরায় সতর্ক হোন, কোনো সমস্যাকে আন্তঃব্যক্তিক সমস্যা ভাববেন না, অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দিন, সমস্যা মিটিয়ে ফেলুন, নিজে উদ্যোগ নিন, সুসম্পর্ক বজায় রাখুন, প্রতিবাদের ভাষা যাতে যৌক্তিক হয়, বন্ধুত্বে হাত বাড়িয়ে দিন। সমৃদ্ধ দেশ ও উন্নত জাতি গড়ার প্রত্যয়ে নিজে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব হতে উৎসাহিত করুন। নাগরিকদের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দূর হলে অবশ্যই দেশের টেকসই উন্নয়ন সুনিশ্চিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *