পানিতে ডুবে গেলে কী করবেন?

ডা: মিজানুর রহমান কল্লোল

পানিতে ডুবে মৃত্যু হওয়ার প্রধান কারণ শ্বাসক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া। পানি শ্বাসনালী ও ফুসফুসে ঢুকে শ্বাসক্রিয়া বন্ধ করে দেয়। মোটামুটিভাবে ছয় মিনিট কিংবা তার কিছুটা কম সময় শ্বাসক্রিয়া বন্ধ থাকলে একজন মানুষের মৃত্যু হতে পারে। তাই এটা খুবই কঠিন ব্যাপার যে পানিতে ডুবে যাওয়া মানুষটি কতক্ষণ শ্বাসক্রিয়া বন্ধ অবস্থায় ছিল তা নির্ণয় করা। হয়তো তাকে যখন উদ্ধার করা হয়েছে, সে পৌঁছে গেছে মৃত্যুর দোরগোড়ায়।

আপনার যা করণীয় :
১. প্রথমেই রোগীর শ্বাসনালী এবং ফুসফুসের থেকে পানি বের করার ব্যবস্থা করতে হবে। রোগীকে উপুড় করে তার পেট ধরে এমনভাবে উঁচু করতে হবে যাতে রোগীর শরীরে ঊর্ধ্বাংশ নিচের দিকে ঝুলে থাকে। এ ক্ষেত্রে রোগীকে কোনো পিপা বা আপনার হাঁটুর উপরেও উপুড় করতে পারেন। এবার রোগীর পিঠে চাপ দিতে পারেন, ফলে ফুসফুস ও শ্বাসনালী থেকে পানি বের হয়ে আসবে। পানি বের করার জন্য বেশি সময় নেয়া উচিত নয়। রোগীর জন্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শ্বাসক্রিয়া চালু করাটাই জরুরি।

২. শিশুদের ক্ষেত্রে তাকে চিকিৎসকরা এক হাতের ওপর লম্বালম্বিভাবে পেটের নিচ দিয়ে ধরে অর্থাৎ উপুড় করে মাথাটা নিচের দিকে ঝুলিয়ে দু-কাঁধের মাঝখানে অন্তত চারবার চাপড় মারতে হবে। পানি বের না হলে শ্বাসক্রিয়া চালু করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

অবশ্য রোগীর নাকের কাছে হাত দিয়ে নিশ্চিত হতে পারেন রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাস চলছে কি না।

শ্বাসক্রিয়া চালু করার জন্য কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রথমে রোগীকে চিত করে শোয়ান। তার ঘাড়ের পেছনে একটি হাত রেখে অন্য হাতে কপালে সামান্য চাপ দিন। এতে রোগীর মুখ খুলে যাবে এবং শ্বাসনালীর পথ উন্মুক্ত হবে। যদি তার মুখ হা না হয় তাহলে তার থুঁতনির ওপর চাপ দিয়ে নিচে চোয়াল নামান। এবার রোগীর নাক চেপে ধরে গভীরভাবে শ্বাস নিয়ে রোগীর মুখে মুখ লাগিয়ে জোরে ফুঁ দিন। রোগীর ফুসফুসে বাতাস ঢুকলে দেখা যাবে তার বুক ফুলে উঠেছে। মুখ সরিয়ে নিলে তার মুখ থেকে যে বাতাস বেরিয়ে আসছে তা আপনি অনুভব করতে পারবেন। এভাবে কৃত্রিম পদ্ধতিতে শ্বাসপ্রশ্বাস চালিয়ে যেতে হবে যতক্ষণ না রোগীর স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস আরম্ভ হয়।

৩. শিশুদের ক্ষেত্রে নাক চাপার প্রয়োজন নেই। সে ক্ষেত্রে নাক ও মুখ উভয়ের মধ্যেই প্রতি তিন সেকেন্ড পরপর ফুঁ দিতে হবে। কোনো রোগীর মুখ খোলা সম্ভব না হলে তার মুখটিকে চেপে নাকের মধ্য দিয়েই জোরে ফুঁ দিতে হবে।

৪. অতঃপর দ্রুত রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে বা চিকিৎসা কেন্দ্রের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাবেন।

লেখক : স্বাস্থ্য নিবন্ধকার, গল্পকার ও সহযোগী অধ্যাপক, অর্থোপেডিকস ও ট্রমা বিভাগ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। চেম্বার : পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিঃ, ২, ইংলিশ রোড, ঢাকা। ফোন: ০১৭১৬২৮৮৮৫৫

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *