জরায়ুমুখের ক্যানসারের কারণ-লক্ষণ ও প্রতিরোধে করণীয়

ডা. সেলিনা আক্তার
জরায়ুমুখের ক্যানসার বেশ প্রচলিত একটি ক্যানসার। বাংলাদেশের মেয়েরা যেসব কারণে সবচেয়ে বেশি মারা যাচ্ছে, এর মধ্যে এটা অন্যতম প্রধান কারণ। প্রতিদিন বাংলাদেশে ১৮ জন মেয়ে মারা যাচ্ছে জরায়ুমুখের ক্যানসারের জন্য। জরায়ুমুখের ক্যানসারের ঝুঁকিগুলো এই দেশে বেশি। যাদের অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যায়, তাদের জরায়ুমুখের ক্যানসারের আশঙ্কা থাকে। শুধু বিয়েই নয়, বিয়ের পর ঘন ঘন বাচ্চা হচ্ছে, একের বেশি বাচ্চা হচ্ছে, অনেক সময় পরিবার পরিকল্পনা নিচ্ছে না, অনেকে আবার ধূমপান করে, নারীদের মধ্যে অনেকে ধূমপান করে, গ্রামে আমরা দেখি যে তামাক খাচ্ছে, বিড়ি খাচ্ছে—এগুলো হলো জরায়ুমুখের ক্যানসারের কারণ। এছাড়া এসটিডি বা যৌনবাহিত রোগ নিয়ে মেয়েরা চিকিৎসকের কাছে আসে না। অনেক দিন ধরে যখন যৌনবাহিত রোগ থাকছে, সেখান থেকে পরিবর্তিত হয়ে জরায়ুমুখে ক্যানসার হয়ে যাচ্ছে।

যদি কোনো পুরুষ দুটি বিয়ে করে, তার প্রথম স্ত্রী যদি জরায়ুমুখের ক্যানসারে মারা যায়, দ্বিতীয় যে বিয়ে করল সেই নারীর কিন্তু ক্যানসারের ঝুঁকি রয়ে যাচ্ছে। কারণ হলো, এসপিভি নামে একটি ভাইরাস রয়েছে, যাকে বলা হয় হিউম্যান পেপিলোমা ভাইরাস, ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ জরায়ুমুখের ক্যানসারের জন্য এই ভাইরাস দায়ী। এটি প্রধানত যৌনসঙ্গমের মাধ্যমে ছড়ায়। জরায়ুমুখের ক্যানসারের উপসর্গ শুরু থেকে বোঝা যায় না। এ জন্য এতে মৃত্যুর হার খুব বেশি। যেহেতু মেয়েরা চেকআপে আসছে না, এ জন্য দেখা যায় যখন অগ্রবর্তী পর্যায়ে চলে যায়, তখন কিছু লক্ষণ হয়। যেমন—দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব যাওয়া, মাঝেমধ্যে রক্ত যাওয়া, তলপেটে একটু ব্যথা হওয়া। যখন রোগীগুলো আমাদের কাছে আসে, তখন চতুর্থ পর্যায়ে চলে যায়, আমাদের কিছু করার থাকে না।

জরায়ুমুখের ক্যানসার শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য। যেসব এলাকায় নারীরা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে, সেখানে ৮০ ভাগ ক্যানসার কমিয়ে ফেলা গেছে। এর মানে জরায়ুমুখের ক্যানসার যদি প্রথম পর্যায়ে ধরা পড়ে, যদি চিকিৎসা ঠিকমতো দেওয়া হয়, তাহলে শতভাগ নিরাময় হয়ে যাবে। জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে বাংলাদেশে চেকআপ রয়েছে। চেকআপ করতে হবে। সেখানে কারা যাবে, সেটি আমরা ঠিক করে দিয়েছি। তবে আগে চিকিৎসকের কাছে আসতে হবে। কিছু পারিবারিক ইতিহাস থাকে, এটি থেকেও ক্যানসার হতে পারে। হয়তো একটি পরিবারে ক্যানসারের প্রাদুর্ভাব রয়েছে। যেমন—যদি কোনো নারীর মা, খালা, ফুফু ক্যানসারে মারা যায়, তাহলে সেই মেয়েটি ঝুঁকিতে থাকে। তখন তার যে ফলোআপ বা তার যে চেকআপ, এটা কিন্তু ভিন্ন হবে। স্ক্রিনিংও ভিন্ন হবে।

জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে স্ক্রিনিং জরুরি। স্ক্রিনিংয়ে সবাইকে যেতে হবে। ২৫ বছর যে মেয়েটার হবে, তাকে স্ক্রিনিংয়ে চলে আসতে হবে। অথবা ২৫ বছরের আগে যদি কারো বিয়ে হয়ে যায় বা সেক্সুয়াল এক্সপোজার থাকে, তখন তাদের স্ক্রিনিংয়ে চলে আসতে হবে। আমরা প্রথম তিন বছর পর পর ওই মেয়েদের স্ক্রিনিং করি। স্ক্রিনিং যদি ভালো হয়, তাহলে আমরা বলি তিন/চার বছর পর পর আসতে পারো। তবে যাদের পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস থাকে, তাদের কিন্তু প্রায়ই আসতে হবে। কিছু পরীক্ষা রয়েছে, যেগুলো তাকে করতে হবে।

সূত্র : এনটিভি অনলাইন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *