হাতের লেখা সুন্দর করার কৌশল

হাতের লেখা সুন্দর করা মোটেও কঠিন নয়। কয়েকটা ধাপে কিছু সময় অনুশীলন করলেই এর অনেক ভাল ফল পাওয়া যাবে। ধৈর্য এবং আন্তরিকতা থাকলে যে কোনো কাজে সফল হওয়া সম্ভব। আর এর সাথে যদি ভালোবাসা মেশানো যায়, তাহলে আর কথাই নেই। হাতের লেখা একটা অভ্যাসের ব্যাপার যা ছোটবেলা থেকে অনুশীলনের মাধ্যমে গড়ে ওঠে। ছোটবেলা থেকে হাতের লেখার প্রতি যত যত্ন নেয়া হয়, হাতের লেখা তত সুন্দর হয়।

বর্ণমালা অনুশীলনঃ আপনারা হয়ত দেখেছেন কেজি স্কুলের শিক্ষার্থীদের ডট পদ্ধতি কিংবা বর্ণ দেখে তার পাশে বর্ণ লেখা পদ্ধতিতে হাতের লেখা অনুশীলন করানো হয়। এই পদ্ধতিটি অনেক কার্যকরি। আপনি যদি একটি বর্ণ সুন্দর করে দ্রুত লিখতে পারেন তবেই আপনি সুন্দর লেখা লিখতে পারবেন। যদি বর্ণ দেখে বর্ণ লেখার ক্ষেত্রে অক্ষরগুলো আঁকাবাকা কিংবা খুব বেশি হেলে দুলে যায় তবে ডট পদ্ধতি আবশ্যক।ইংরেজি অক্ষরের ক্ষেত্রে ক্যাপিটাল লেটারের মাঝ বরাবর স্মল লেটারগুলো লিখলে দেখতে সাধারণত সুন্দর লাগে।

সোজা করে লেখা অনুশীলনঃ লেখা যদি সোজা না হয় তবে অনেক সমস্যা। একটি লেখা দেখতে সুন্দর দেখায় তখনি যখন সব লেখাগুলো সোজা সাজানো থাকে। বর্ণ সোজা করার জন্য নিয়মিত ডট পদ্ধতি অনুশীলন করতে হবে। আর লাইন সোজা করার জন্য রুলার কিংবা রুল পেপারে লিখতে হবে। ইংরেজি লেখার ক্ষেত্রে অবশ্যই রুল পেপারে লিখে অনুশীলন করতে হবে।

নিয়মিত লেখা অনুশীলনঃ এলোমেলো কোনো কিছু নয়, চাই নিয়মিত। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় থাকতে হবে লেখা অনুশীলনের। এই কাজ খুব মনোযোগ আর ধৈর্যের সাথে করতে হবে। প্রতিদিন দশপাতা লিখলে অনেক সহায়ক হতে পারে। কারো কারো কোন বিশেষ দু’একটা অক্ষরে সমস্যা থাকে। সেক্ষেত্রে সেই বিশেষ দু’একটা অক্ষর অন্য কারোটা, যারটা তুলনামূলক সুন্দর, অনুসরণ করে কিছুদিন প্র্যাকটিস করা যেতে পারে।

স্পষ্ট অক্ষরে লেখাঃ বর্ণমালা অনুশীলনের উদ্দ্যেশ্যই ছিল স্পষ্ট লেখা। যদিও অনেকেই দ্রুত লিখতে গিয়ে বর্ণকে বিকৃত রুপে উপস্থাপন করেন। তাই যদি কোন বর্ণ কেউ না বুঝতে পারে তবে তার প্রতি জোর দিন।  পাঠকের কথা মাথায় রেখে স্পষ্ট করে লিখবেন।

মনোযোগী হওয়াঃ কী লিখছেন তার দিকে মনোযোগী হতে হবে। আপনি লিখছেন একটি বাক্য। কিন্তু ভুলে যাবেন না আপনি খুব দ্রুত কিছু বর্ণ লিখছেন। যখন বর্ণ লিখছেন তখন আপনাকে আবারো মনে রাখতে হবে আপনি ঠিক কোন কাঠামোর বর্ণটি লিখছেন।

সময় ব্যয় এবং টাইম ফ্রেম নির্ধারনঃ হাতের লেখা পাল্টাতে হলে আপনাকে সময় দিতে হবে। একমাস সময় এবং প্রতিদিন একঘন্টা যথেষ্ট। যদি কেউ এর কম সময় দেন এবং পিছিয়ে আসেন তবে তিনি সত্যিই চেষ্টা করেন নি। অনেকের ক্ষেত্রে আগেই হয়, কিন্তু অনেকে এর চেয়েও বেশি সময় নিয়ে থাকেন।

বেশি করে পড়ুন এবং দ্রুত পড়ুনঃ আপনি যখন লিখবেন তখন পড়াটাও জরুরি। তবে নিজের লেখাটাই পড়ুন একটু বেশি। দ্রুত পড়ুন। অন্যকে দিয়েও পড়ান। যদি বেশি করে পড়েন তবে নিজের কোথায় ভুল হচ্ছে তা বুঝতে পারবেন। দ্রুত পড়তে গেলে বুঝতে পারবেন আপনি কোথায় অস্পষ্ট করে লিখেছেন। সহকর্মী কিংবা বন্ধুকে দিয়ে পড়ান। দেখুন তারা দ্রুত পড়তে পারে কি না। যদি পারে তবেই বুঝবেন উন্নতি হচ্ছে।

কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলুনঃ লেখায় ভুল হয়, এই ভুলের মাত্রা কমানোর চেষ্টা করুন। কাটাকাটি করা মানুষের অনেক পুরনো অভ্যাস। তাই একটানে কেটে আবার লিখুন।   কাগজের একপাশে খালি জায়গা রেখে লেখা শুরু করুন। এই খালি যায়গা হচ্ছে মার্জিন। বাম ডান এবং উপর নিচে যথেষ্ট জায়গা রাখুন। অভার রাইটিং কখনোই করবেন না। এটা বিরক্তিকর। ভালো কলমে লিখুন। খারাপ কলমে দ্রুত লেখা যায় না।

 

 

One Comment on “হাতের লেখা সুন্দর করার কৌশল”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *