হতাশা আমাকে জাগিয়ে তোলে : সাদাত হোসাইন

আমি প্রচণ্ড কষ্ট করে বেড়ে ওঠা মানুষ। প্রচণ্ড দারিদ্র্য ছিল, প্রচণ্ড অর্থাভাব ছিল, ফলে আমার পরিবার থেকে লেখা বা ফিল্ম মেকিংয়ের স্বপ্ন দেখাটা ছিল অসম্ভব একটা বিষয়। আমার মা-বাবাও কখনো চাইতেন না যে আমি এসব করি। তাঁদের ভাবনাটাও তাঁদের জায়গা থেকে খুব স্বাভাবিকই ছিল। তাঁরা চাইতেন, আমি যেন একটা সরকারি চাকরি বা নিশ্চিত অর্থ সংস্থানের কোনো উপায় খুঁজি। কিন্তু আমার ভেতরে গল্প বলার একটা তীব্র খিদে সব সময়ই ছিল। এই খিদে আমাকে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে, যা আমি অনেক দেরি করেই টের পেয়েছি।

আসলে আমার নিজের জীবনের গল্পগুলো প্রচণ্ড যুদ্ধের, হতাশার, দারিদ্র্যের। আমাকে ভয়াবহ প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে উঠে আসতে হয়েছে। প্রচণ্ড হতাশা, দুঃস্বপ্ন, এসব বিষয়ই ছিল তখন আমার কাছে সবচেয়ে বড় সত্যি। কিন্তু আমি সব সময় এই হতাশাকেই অনুপ্রেরণা করার চেষ্টা করেছি। আপনি যদি ক্রমাগত সফল হতে থাকেন, তখন আপনার ভেতরে এক ধরনের শিথিলতা চলে আসবে। নির্লিপ্ততা। সফলতার মূল্যটা আপনি তখন পুরোপুরি বুঝবেন না। এ জন্য ব্যর্থতা দরকার। ব্যর্থতা থেকে ফ্রাস্ট্রেশন আসে। আপনি যদি সেই ফ্রাস্ট্রেশনকে কাজে লাগাতে পারেন, তাহলেই সেটি হয়ে উঠবে আপনার সবচেয়ে বড় ইন্সপায়ারেশন। এ জন্য আমি সব সময় হতাশাকে পছন্দ করি। এই হতাশা আমাকে জাগিয়ে তোলে।

মনে হয়ে হতাশ হওয়া যাবে, কিন্তু হতাশ হয়ে পড়ে থাকা যাবে না। কোনোভাবেই হতাশ হয়ে পড়ে থাকা যাবে না। কাজ করতে হবে, চেষ্টাটা করতে হবে। অসম্ভব হলেও করতে হবে। এবং পুরো চেষ্টা দিয়েই করতে হবে। সুতরাং যতক্ষণ অবধি আমি সফল না হই, ততক্ষণ অবধি আমার অস্থির লাগতে থাকে। এই হতাশার অস্থিরতা আমাকে ঘুমাতে দেয় না, শান্তি পেতে দেয় না। শান্তি পেতে হলে আমাকে অবশ্যই চেষ্টাটা করতে হবে, করতেই হবে। অ্যান্ড, ইট রিয়েলি ইন্সপায়ারস মি।

বেঁচে থাকার জন্য স্বপ্ন দরকার। স্বপ্নবিহীন মানুষ বেঁচে থাকতে পারে না। তবে স্বপ্নের ফারাক রয়েছে। বার্ধক্য ও শৈশব হচ্ছে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখার সময়, আর তারুণ্য হচ্ছে জেগে স্বপ্ন দেখার সময়। কারণ, এ সময়ের স্বপ্নগুলো কেবল স্বপ্ন থাকলে হবে না, এগুলো সত্যি করতে হবে। ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখলে সেটি সম্ভব নয়।

সূত্র : এনটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *