‘সঠিকভাবে চিন্তা করতে শেখানোটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ’

শিশুদের বেড়ে উঠতে উঠতে আমরা শেখাই কীভাবে দাড়াতে হয়, হাটতে হয়. আর একটু বড় হলে শেখাই কীভাবে বর্ণমালা লিখতে হয়, বাক্যগঠন করতে হয়, রচনা লিখতে হয়। আরেকটু বড় হলে আর্ট বা সংগিত বা ক্রীড়া শিক্ষাকেন্দ্রে শিখতে পাঠাই কিন্তু আদর্শ মানুষ হতে হলে কীভাবে সঠিক চিন্তা করতে হয় (Way of Thinking ) সেটা শেখানোর সেন্টার কোথায়?

সুস্থ জীবনের জন্য ,সফল জীবনের জন্য কীভাবে পজিটিভ চিন্তা করতে হয়, কীভাবে ভালো চিন্তা করতে হয়, কীভাবে কল্যাণকামী হওয়া যায়, সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হয়, অন্যের ভালোতে ভালোলাগা ,অন্যের কল্যাণে খুশি লাগা এ সব বিষয় (Way of Thinking) ছোট/ শিশুবেলায় শেখাতে না পারলে বড় হলে শেখানো কঠিন হয়ে যায়। তাই তো শিক্ষাবিদ জাফর ইকবাল বলেন, ‌‌‍”‘সন্তানরা বড় হয়ে উঠছে কিন্তু মানুষ হয়ে উঠছে না’”।

নরম কোমল বাড়ন্ত ব্রেন জন্ম থেকে মুলত: ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত ( যখন ব্রেনের সফটওয়ার তথ্য নেবার জন্য প্রস্তুত হয়) তখন যা শিশুরা শিখবে, জানবে, দেখবে সেটাই ভবিষ্যতে পথের ভিত্তি হয়ে উঠে যাকে বিশ্বাসের ভিত্তি ( Belief system) বলা হয় । সে বয়সে Way of Thinking (সঠিক চিন্তা করতে শিখা ) না শেখানোর কারণে বড় হয়ে ভুল পথে যাওয়া, হিংসা, বিদ্বেষ, পরশ্রীকাতরতা, নেশাগ্রস্থতা, রাগ, টেনশন, ডিপ্রেসন; যার ফলে অশান্তি ও রোগ সৃৃষ্টি হয় যেমন ডায়াবেটিস,উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ,স্ট্রোক। আমিরিকান মেডিকেল এসোসিয়েশন মনে করে মানুষের ৭৫% রোগ সৃষ্টির কারণ মানসিক চাপ। এমন কী আত্মহত্যা।

অনেকেই ভালো চিন্তা করতে চায়, ভাল অনুভব করতে চায়, ভালো থাকতে চায়। কিন্তু সমস্যটি ঐ বিশ্বাসের ভিত্তিতে ( Belief system), যা সংশোধন বা পরিবর্তন দরকার। বিশ্বাসের ভিত্তি ( Belief system) ঠিক করার জন্য Way of Thinking ( সঠিক চিন্তা করতে শিখা ) খুবই জরুরি যা আমরা জীবনের শুরুতে শিখানোর ক্ষেত্রে বা শিখার ক্ষেত্রে একদমই গুরুত্ব দিই না ।

(Way of Thinking সংক্রান্ত আলোচনায় ড. মো.অালমাসুুর রহমান)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *