প্রতিদিন ২টি করে কলা কেন খাবেন?

কলা একটি অসাধারণ পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ফল সেটি নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে অনেক সময় আমরা সেটির পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জ্ঞাত না হওয়ার কারণে কলাকে  অবহেলা করি।

সম্প্রতি হায়ার পারসপেক্টিভ ডটকমের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, প্রতিদিন ২টি পাঁকা কলা খেলে ফলাফল পাবেন হাতেনাতে। এটি আপনাকে সুস্থ এবং দীর্ঘ জীবন যাপনে সাহায্য করবে।

হতাশার সঙ্গে যুদ্ধ করবে

বিজ্ঞানিকভাবেই প্রমাণিত, খাদ্যাভাস হিসেবে কলা বিষন্নতার সঙ্গে লড়াই করতে সাহায্য করে। কলার মধ্যে খুবই উচ্চ ঘনত্বের ট্রিপটোফেন নামক এক প্রকার অ্যামিনো এসিড রয়েছে। বিষন্নতায় ভুগলে তাই দিনে ২টি করে কলা খেতে পারেন। কেননা এতে থাকা ট্রিপটোফেন শরীরের সেরোটোনিনে রূপান্তিরত হয়, যা বিষন্নতা কমাতে সাহায্য করে এবং মেজাজ ভালোর দিকে নিয়ে যায়।

কর্মশক্তি যোগাবে

কলার মধ্যে তিন ধরনের প্রাকৃতিক চিনির শক্তিশালী মিশ্রণ থাকে, সেগুলো হচ্ছে: ফ্রুক্টোজ, গ্লুকোজ এবং সুক্রোজ। কলার এসব প্রাকৃতিক চিনি আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা বজায় রাখবে এবং আপনাকে দেবে দিনের প্রয়োজনীয় কর্মশক্তি।

উচ্চ রক্তচাপ কমাবে

আপনার উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে, প্রতিদিন ২টি কলা খেতে পারেন। কারণ এতে থাকা উচ্চমাত্রার পটাসিয়াম ও নিম্নমাত্রার সোডিয়াম শরীরের রক্ত চাপ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া যারা হৃদরোগে ভুগছেন, তাদের জন্য কলা অত্যন্ত সহায়ক।

শরীরে হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে

কলাতে যে পরিমান ক্যালিশিয়াম পাওয়া যায়, তা আপনার শরীরের হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধির জন্য যথেষ্ট। প্রতিদিন ২টি কলা খেলে, তা আপনাকে দেবে মজবুত পেশী। এছাড়া যারা হাড়ের গাঁটে গাঁটে বাতের ব্যথার সমস্যায় ভুগছেন, তাদের খাদ্যাভাসে কলা রাখতে পারেন।

শরীর থেকে নিকোটিন অপসারণ করবে

ধূমপান ছেড়ে দিয়ে থাকলে, এই সিদ্ধান্তে অটুট থাকতে সাহায্য করবে কলা। ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার পরে শরীরের নিকোটিনের তাড়নায় আবারও ধূমপানে আসক্ত হয়ে পড়ার ঘটনা অস্বাভাবিক কিছু নয়। সুতরাং কলা খেলে তা শরীরে থেকে নিকোটিন অপসারণে ভূমিকা রাখে, ফলে ধূমপান ছাড়ার পর শারীরিক অস্বস্তির মোকাবিলা করা যাবে।

শরীরের ধকল কাটাবে

রাতে পার্টিতে গিয়ে মদ্যপানের পর শরীরে সৃষ্ট ড্রিহাইড্রেশন পূরণে সহায়ক কলা। কারণ, কলায় প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম থাকায় শরীরের আদ্রতা এবং ইলেক্ট্রোলাইটস ফিরে পেতে সাহায্য করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *