তালমিছরির উপকারিতা

প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের সমাজে তালমিছরি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিভিন্ন ধরনের আয়ুর্বেদিক ওষুধে তালমিছরির ব্যবহার এখনো প্রচলিত। সাধারণ সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে দেহের রক্তস্বল্পতায় এখনো অনেকে তালমিছরি ও তালমিছরির শরবত পান করে থাকেন। তাল গাছের রস থেকে তৈরি এই মিছরি দেখতে কিছুটা সাদা ও হালকা সোনালি রঙের হয়ে থাকে। খেতেও দারুন। তালমিছরি প্রাকৃতিকভাবে তৈরি। তাই এর আনপ্রসেসড সুগার দেহের জন্য ক্ষতিকর নয়। তালমিছরির পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক, ফসফরাস প্রভৃতি। এ ছাড়াও ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, বি৬, এবং বি১২ এর একটি ভালো উৎস এই তালমিছরি।

সর্দি-কাশি দূর করতে তালমিছরির ব্যবহার সেই প্রাচীনকাল থেকে। তালমিছরি পানিতে গুলিয়ে একটু গরম করে খেলে কাশি উপশম হয় এবং গলায় জমে থাকা কফ, শ্লেষ্মা নরম হয়ে বেরিয়ে যায়। প্রচণ্ড কাশি হলে এক টুকরো তালমিছরি মুখে রাখলে অথবা তুলসী পাতার রসের সাথে তালমিছরি গুলিয়ে সেবন করলে কাশি কমে যাবে। কাশিতে গলাব্যথা শুরু হলে তালমিছরি, গোল মরিচ ও মধু এক সাথে মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যাবে।

বয়সের সাথে সাথে একজন মানুষের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় হাড়ের ক্ষয় ও হাঁট ব্যথা। এ ক্ষেত্রে তালমিছরি, পানের সাথে তালমিছরি অথবা তালমিছরির শরবত খেলে বেশ উপকার হয়। কারণ, তালমিছরিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম রয়েছে, যা হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি।

রক্তস্বল্পতার সমস্যাতেও তালমিছরির শরবত খাওয়া যায়। তালমিছরিতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন আছে, যা রক্তের লেভেল ঠিক রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে মধ্য বয়সী নারীদের জন্য তালমিছরি খুবই উপকারী।

তালমিছরি চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। চোখের দৃষ্টিশক্তি অটুট রাখতে মাঝে মধ্যে বাদাম, মৌরি, তালমিছরি ও গোল মরিচের গুঁড়ো দুধের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন। এ জন্য পড়ুয়া ছেলেমেয়েদের উচিত তাদের চোখ ভালো রাখতে মাঝে মাঝে তালমিছরি বা মিছরির শরবত পান করা।

তালমিছরির গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্সের মান মাত্র ৩৫, যা রক্তে সুগারের মাত্রা বৃদ্ধি করে না। বরং ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে। তবে ডায়াবেটিস রোগিদের এটি না খাওয়াই ভালো।

মায়েদের বুকের দুধ বৃদ্ধিতেও তালমিছরি খাওয়া যেতে পারে। কালোজিরার সাথে তালমিছরির গুঁড়ো মিশিয়ে গরম দুধের সাথে দিনে দু’বার খেতে হবে। নিমপাতার সাথে তালমিছরি খেলে পেট ব্যথার উপশম হয়। অন্য দিকে শিশুদের খুব প্রিয় তালমিছরি। তাদের জন্য এটি উপকারীও বটে। এতে যে ভিটামিন ও খনিজ উপাদান থাকে সেগুলো শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও মেধা বিকাশে ভালো ভূমিকা রাখে।

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: poribar.net@gmail.com

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *