খাঁটি মধুতে ৪৫টি খাদ্যগুণ ও ৯৯টি ঔষধিগুণ

পৃথিবীতে মধু বিভিন্ন ফর্মে পাওয়া যায়। ক্রিমি মধু আছে, ড্রাই মধু আছে, পাস্তুরাইজড মধু আছে এবং র মধুও পাওয়া যায়। পাস্তুরাইজড মধু আমাদের দেশে অনেক দিন সংরক্ষণ করা সম্ভব এবং তাতে জীবাণু অনেক দিন মুক্ত থাকে। মধু একটি প্রাকৃতিক গুণাগুণ সম্পন্ন অর্ধ তরল খাদ্য । বিভিন্ন উপকারিতার জন্য বিশ্বের সকল দেশের মানুষ মধু খাদ্য হিসেবে, চিকিৎসা ও সৌন্দর্যচর্চাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যবহার করেন। প্রাকৃতিক খাবার থেকে ওষুধ সবকিছুতে ব্যবহার রয়েছে মধুর।

এক নজরে দেখে নিন লুকিয়ে রাখুন

৪৫টিরও বেশি খাদ্যগুণ

মধুতে প্রায় ৪৫টি খাদ্য উপাদান থাকে। ফুলের পরাগের মধুতে থাকে ২৫ থেকে ৩৭ শতাংশ গ্লুকোজ, ৩৪ থেকে ৪৩ শতাংশ ফ্রুক্টোজ, ০.৫ থেকে ৩.০ শতাংশ সুক্রোজ এবং ৫-১২ শতাংশ মন্টোজ। আরো থাকে ২২ শতাংশ অ্যামাইনো এসিড, ২৮ শতাংশ খনিজ লবণ এবং ১১ ভাগ এনজাইম। এতে চর্বি ও প্রোটিন নেই। ১০০ গ্রাম মধুতে থাকে ২৮৮ থেকে ৩০৩ ক্যালরি। মধুর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, বি৫, বি৬, আয়োডিন, জিংক ও কপার সহ অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান যা আমাদের শুধুমাত্র দেহের বাহ্যিক দিকের জন্যই নয়, দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ প্রত্যঙ্গের সুরক্ষায় কাজ করে।

রোগ প্রতিরোধশক্তি বাড়ায়  

মধু শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায়। শরীরের ভেতরে বাইরে কোনো রকম ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে প্রতিরোধ করে। অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান প্রতিরোধকারী শক্তি গড়ে তোলে, যে কোনো রকম সংক্রমণ থেকে দেহকে রক্ষা করে। নিয়মিত মধু খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। মধু দাঁত শক্ত করে। দৃষ্টিশক্তি ও স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করে। মধুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট দেহকে নানা ঘাত-প্রতিঘাত থেকে রক্ষা করে।

সর্দি-কাশি কমায়

শীতে সর্দি-কাশিতে ভোগা যেন একটি সাধারণ সমস্যা। সর্দি-কাশি থেকে দূরে থাকতে প্রতিদিন সকালে ১ চামচ মধু ও ১ চামচ আদার রস মিশিয়ে সেবন করুন। এ ছাড়া বাসক পাতার রসের সঙ্গে দুই চা চামচ মধু মিশিয়ে খেলেও সর্দি-কাশি সেরে যায়। শিশুদের সর্দি কাশি ঠাণ্ডা লাগা কমাতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিত মধু দেওয়া উচিত।

 দুর্বলতা দূর করে

শারীরিক দুর্বলতায় যারা ভুগছেন তাদের জন্যও মধু উপকারী। প্রতিদিন এক গ্লাস গরম দুধে দুই থেকে তিন চা চামচ মধু মিশিয়ে পান করুন। শরীরে শক্তি বৃদ্ধি পাবে। অনেকেই সারাক্ষণ ঝিমুনি বা দুর্বল অনুভব করেন। এই ঝিমুনি, ঘুম ঘুম বা দুর্বল ভাব কাটানোর জন্য ও সারাক্ষণ তরতাজা থাকতে নিয়মিত খেতে পারা যায় মধু।

পেশিশক্তি বাড়ায়

পেশিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে মধু। এতে আছে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি। এই প্রাকৃতিক চিনি শরীরে শক্তি যোগায়। পেশিকে অনেক বেশি কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে।

শিশুর জন্য উপকারী

শিশুর ওজন বৃদ্ধি, তাদের মুখের রুচি বাড়াতে এবং শিশুর পেট ভালো রাখতে মধুর বিকল্প নেই। এ জন্য প্রতিদিন গরম দুধ অথবা পানির সঙ্গে মধু মিশিয়ে শিশুকে খাওয়াতে পারেন।

হৃদরোগ প্রতিরোধ

নিয়মিত মধু সেবন হৃদরোগ প্রতিরোধ করে। রক্তনালি প্রসারণের মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালনে সহায়তা করে । এটা হৃদপেশিকে সুস্থ সবল করে এবং এর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর

যারা কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন তারা মধু সেবনে উপকার পাবেন। মধুতে রয়েছে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স। এই ভিটামিন বি কমপ্লেক্স কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

হজম শক্তি বৃদ্ধি

মধুতে আছে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমূহ যা সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। মধু ওজন কমাতেও সাহায্য করে । প্রতিদিন সকালে ১ গ্লাস গরম পানিতে ১ চামচ মধু মিশিয়ে পান করুন। এতে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়, এতে খাবারের ক্যালোরি দ্রুত ক্ষয় হয়। মধুর মধ্যে থাকা উপাদানগুলি হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে খাবার খাওয়ার পর বদ হজম, গলা বুক জ্বালা ইত্যাদি সমস্যা দূর হয়।

পাকস্থলীর সুস্থতায়

 মধু খেলে পাকস্থলীর কাজ জোরালো হয়। কারণ এটি হজমে সাহায্য করে। এর ব্যবহার হাইড্রোক্রলিক অ্যসিড ক্ষরণ কমিয়ে দেয়। তার ফলে পাকস্থলীর কাজ ভালো হয়। যারা পাকস্থলীর সমস্যায় ভুগছেন তারা এক গ্লাস পানিতে দুই চামচ মধু মিশিয়ে প্রতিদিন সেবন করতে পারেন। এতে পাকস্থলীর সমস্যা দূর হয়।

ওজন কমায়

নিয়মিত মধু খেলে পাকস্থলীতে বাড়তি গ্লুকোজ তৈরি হয়। এই গ্লুকোজ মস্তিষ্কের সুগার লেভেল বাড়িয়ে দেয়। তার ফলে মেদ কমানোর হরমোন নিঃসরণের জন্য বেশি মাত্রায় চাপ সৃষ্টি করে। ফলে মেদ কমে যায়।

 আর্দ্রতা বজায় রাখতে

অনেক সময় নানান কারণে শরীর জলশূন্য হয়ে পড়ে। শরীরে জলের অভাব বোধ হয়। তার থেকে দেখা দেয় অন্যান্য অনেক সমস্যা।  এই জলশূন্যতা বা আর্দ্রতার অভাব দূর করতে মধু খুবই সাহায্য করে। কারণ এতে রয়েছে জলীয় উপাদানও।

তাপমাত্রা বাড়াতে

অনেক সময়ে শরীরের তাপমাত্রা কমে যায়। কাঁপুনি দেয়। ইত্যাদি সমস্যায় অথবা শীতকালেও শরীরের আভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা ধরে রাখতে সাহায্য করে মধু।

 দাঁতের যত্নে

মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য রক্ষায় মধু ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ এটি দাঁতের জন্য খুবই ভালো। দাঁতের ক্ষয়রোধ করতে পারে মধু। অনেক সময়ই দাঁতে স্টোন হয় অর্থাৎ যাকে দাঁতে পাথর জমা বলে, সেই দাঁতে পাথর জমাট বাঁধা রোধ করে মধু। তা ছাড়াও দাঁত পড়ে যাওয়া আটকাতে বা তা বিলম্বিত করতে সাহায্য করে মধু। সঙ্গে দাঁতের মাড়ির স্বাস্থ্য রক্ষা করে।

মুখের ঘায়ে

অনেক সময়ই ভিটামিনের অভাবে মুখের ভেতরে ঘা হয়। অথবা দাঁতের মাড়িতে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। সে ক্ষেত্রে মধু জলে কুলি করলে উপকার মেলে।

দৃষ্টি শক্তি বাড়াতে 

চোখের জন্য খুবই ভালো মধু। দৃষ্টি শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এই মধু।

গলার স্বর যন্ত্রের জন্য

গলার স্বর যন্ত্রে বা স্বরনালীতে সংক্রমণ হলেও সেই ক্ষত দূর করতে নিয়ম মাফিক মধু সেবন করা যেতে পারে। তা ক্ষত নিরাময় করে। সংক্রমণ দূর করে। শীতকালে গলার স্বর ভেঙ্গে যায় অনেকের। এই সমস্যায়  প্রতিদিন সকালে এক চামচ মধু কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে পান করুন। উপকার পাবেন।

 রক্ত ও রক্তনালী পরিষ্কার

মধু নিয়মিত খেলে রক্তনালীর বিভিন্ন সমস্যা দূর হয়। অর্থাৎ রক্তনালী পরিষ্কার থাকে। সেখানে দূষিত কোনো পদার্থ যা স্বাস্থ্য হানির কারণ তা জমতে পারে না। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়

রক্ত উৎপাদনে

রক্ত উৎপাদনকারী উপকরণ হল আয়রন। আর এই আয়রন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে মধুতে। ফলে শরীরে লোহিত রক্ত কণিকা, শ্বেত রক্ত কণিকা-সহ রক্তের ইত্যাদি উপাদানগুলি গড়ে তুলতে সাহায্য করে মধু।

কোলেস্টেরলের ক্ষেত্রে

মধু রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ ১০% পর্যন্ত কমিয়ে দেয়। রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমার অর্থ হল হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা অনেকাংশে কমে যাওয়া।

শরীরের নানান ব্যথায়

আজকাল বেশি ভাগ মানুষেরই শরীরের বিভিন্ন জায়ফগায় ব্যথা। ছোটো বড়ো সকলেরই গাঁটে বা জয়েন্টে ব্যথায় কষ্ট পাওয়ার একটি সমস্যা তো লেগেই থাকে। এই সমস্যার কারণ হল শরীরের অবাঞ্ছিত রস। এই রসের কারণে বাতের ব্যথা তৈরি হয়। সেই খারাপ রস অপসারিত করতে মধু বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

যৌন দুর্বলতায়

পুরুষের যৌন দুর্বলতার সমস্যা নানান রকমের হয়। এই সমস্যার একটিও যদি কোনো পুরুষের থাকে তবে তিনি নিয়মিত মধু খাওয়া শুরু করতে পারেন। তাতে এই সমস্যা থেকে রেহাই মিলবে।

হাঁপানি

মধুর নানান গুণাগুণগুলির মধ্যে একটি হল এটি হাঁপানি রোগ কমাতে সাহায্য করে। তাই এই রোগ থাকলে তা কমাতে হলে খাওয়া যেতে পারে মধু।

গ্যাসট্রিক আলসারে

যারা গ্যাসট্রিক আলসারের সমস্যায় রয়েছে তারা নিয়মিত মধু খেলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

হাড় ও দাঁতের গঠনে

মধুর মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ক্যালসিয়াম। এই ক্যালসিয়াম দাঁত, হাড়, চুলের গোড়া শক্ত রাখে, নখের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করে, ভেঙে যাওয়া রোধ করে।

ডায়রিয়া

মধু ডায়রিয়া প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। তাই যাঁদের আমাশা, ডায়রিয়া বা পেট খারাপের প্রবণতা আছে তাঁরা নিয়মিত মধু সেবন করতে পারেন।

 অম্বলের সমস্যা

খাঁটি মধু যদি ভোরবেলা খাওয়া যায় তা হলে অম্বলের সমস্যা, মুখে টক ভাব দূর করে।

অরুচি

অনেকেই বেশি খেতে পারেন না। একটু খেয়েই হাঁপিয়ে ওঠেন। বা খাবারে ইচ্ছাটাই থাকে না। অরুচিতে ভোগেন। সে ক্ষেত্রে মধু খেলে খাবরে অরুচি কমে। খাবার চাহিদা বাড়ে।

বমিভাব

অনেকেই আছেন খাবার দেখলেই বা সামান্য খেলেই বমি বমি ভাব আসে। সেই সমস্যার সমাধানও করে মধু। বমিভাব কনায় মধু।

বুদ্ধি বাড়ায়

মধু যে শুধু আপনার কায়িক শক্তি বাড়ায়, তা নয়। ঘুমানোর আগে এক চামচ মধু খেলে তা মস্তিষ্কের কাজ সঠিক ভাবে চালাতে সাহায্য করে। তার ফলে মস্তিষ্কের কার্য ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তথা বুদ্ধির জোর বাড়ে।

অনিদ্রা দূর করে

অনিদ্রার জন্য খুব ভালো ওষুধ হল মধু। রাতে নিয়ম করে মধু খেলে গভীর ঘুম হয়।

শ্বাসকষ্ট লাঘব করে

পাশাপাশি যাদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে, তারা মধু, কালিজিরা, আদা, গোলমরিচ সমপরিমাণ মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে দ্রুত আরোগ্য লাভের সঙ্গে তাৎক্ষণিক বেশ আরাম লাগবে।

ক্লান্তি দূর করে

হ্যাংওভার কাটাতে

সারারাত জেগেছেন। পরদিন মাথা ধরে আছে। কোনো অসুবিধা নেই রয়েছে মধু। ২/৩ টেবিল-চামচ পরিমাণ মধু হ্যাংওভার কাটাতে সাহায্য করে। কারণ শরীরের মেটাবলিজম প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে মধু।

চিকিৎসায় মধুর ব্যবহার 

রোগ নিরাময়ের জন্য মধু কখনো এককভাবে, আবার কখনো ভেষজ দ্রব্যের সঙ্গে মিশ্রিত করে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় সফলতার সঙ্গে ব্যবহার হয়ে আসছে।  মধু ৯৯ প্রকার রোগের প্রতিষেধক।

সর্দি, কাশি ও স্বরভঙ্গে

চায়ের সঙ্গে মধু ও আদার রস মিশিয়ে খেলে সর্দি ও শ্লেষ্মা রেগের উপশম হয় (১ চামচ মধু + ১ চামচ আদার রস)।দুই চা চামচের সমপরিমাণ মধু ও বাসকপাতার রস মিশিয়ে খেলে সর্দি ও কাশি সেরে যায়। তুলসী পাতার এক চা চামচ রস ও সমপরিমাণ মধু মিশিয়ে খেলে অল্প সময়ের মধ্যেই কাশি দূর হয়। সৈন্ধব লবণ, আমলকী, পিপুল, মরিচ ইত্যাদির সঙ্গে সমপরিমাণ মধু মিশিয়ে এক চা চামচ করে খেলে কফ ও স্বরভাঙ্গা ভালো হয়।

খাঁটি মধুর সঙ্গে হরীতকী ও বচচূর্ণ মিশিয়ে লেহন করলে (চেটে খেলে) শ্বাসকষ্টের আশু উপকার পাওয়া যায়। ২ চা চামচ মধু ১ গ্লাস গরম দুধের সঙ্গে সকালে ও সন্ধ্যায় খেলে সর্দিকাশি দূর হয়। হালকা গরম জলসহ মধু মিশিয়ে গড়গড়া করলে গায়কদের গলার স্বর বৃদ্ধি পায়। অনেকের মতে, এটা টনিকের মতো কাজ করে। এক চা চামচ আদার রস এবং এক চা চামচ মধু একসঙ্গে মিশিয়ে সকালে ও সন্ধেবেলা খেলে সর্দি সেরে যায় ও খিদে বৃদ্ধিপায়।

আমাশয়ে মধু

রক্ত মিশ্রিত পায়খানা, তৈলাক্ত পায়খানা এবং সঙ্গে পেট কামড়ানি থাকলে তাকে আমাশয় বলে। কচি বেল ও আমগাছের কচি চামড়া (বাকল) বাটার সঙ্গে গুড় ও মধু মিশিয়ে খেলে আমাশয় ভালো হয়ে যায়। কুল বা বড়ই গাছের ছাল চূর্ণের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে আমাশয় ভালো হয়। ৫০০ গ্রাম আতপ চাল ভেজে গুঁড়া করে এর সঙ্গে ১২৫ গ্রাম ঘি, ২৫০ গ্রাম খাটি মধু, ১২৫ গ্রাম চিনি এবং ২০টি সবরি কলা ভালোভাবে মিশিয়ে (চটকে) জ্বালাল দিয়ে খাবার উপযোগী করে ৩/৪ দিন নিয়মিত খেলে সব ধরনের আমাশয় ভালো হয়ে যায়।

অন্যান্য রোগে মধু

শরীরের বাইরের কোন অংশের ক্ষততে মধুর প্রলেপ লাগালে অনেক সময় মলমের চেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়। পানিতে অল্প মধু মিশিয়ে খেলে পাকস্থলীর ক্ষত সারে। মৌরির পানিতে মধু মিশিয়ে পান করলে দূষিত বায়ু পেট থেকে বেরিয়ে যায়। যারা খুব মোটা হচ্ছেন তাদের মেদ কমানোর জন্য মধুর সঙ্গে সামান্য পানি মিশিয়ে খেলে সুফল পাওয়া যায়। দুর্বল শিশুকে এক ফোঁটা মধু দুধের সঙ্গে মিশিয়ে দিনে দুবার খাওয়ালে তার স্বাস্থ্য ভালো হয় ও শক্তি লাভ করে। এক কাপ দুধে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে রোজ সকালে খেলে শক্তি বৃদ্ধি পায়। মধুর সঙ্গে গুড়ের রস মিশিয়ে খেলে বমি বন্ধ হয়ে যায়। চক্ষু রোগে এক ফোঁটা করে মধু দিনে ৩ বার চোখে লাগাতে হবে।

শিশুদের দৈহিক গড়ন, রুচি বৃদ্ধি, ওজন বৃদ্ধি ও পেট ভালো রাখার জন্য প্রত্যহ এক চা চামচ মধু গরম দুধ ও গরম পানির সঙ্গে নাশতা ও রাতের খাবারের সঙ্গে দিতে হবে। আমাশয় ও পাতলা পায়খানা থাকলে গরম পানিতে আড়াই চা-চামচ মধু মিলিয়ে শরবত বানিয়ে বারবার ‘সেবন করতে হবে’। যক্ষ্মা রোগে বাসক পাতার রস এক চা-চামচ পরিমাণ এক চা-চামচ মধু এবং এক চা-চামচ আদার রস মিশিয়ে কিছু দিন খেলে উপকার পাওয়া যাবে।

যক্ষ্মা রোগ ভালো হওয়ার জন্য- আধাতোলা পেঁয়াজের রস, ২৫০ গ্রাম ঘি এবং ২৫০ গ্রাম মধু মিশিয়ে একটা পাত্রে রেখে দিয়ে প্রতিদিন সকাল বিকাল খেলে এবং প্রতি রাতে শোয়ার সময় চিনি দিয়ে অল্প পরিমাণ গরম দুধ খেলে ৪/৫ দিনের মধ্যে যক্ষ্মা ভালো হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি । রাসূল (সা.) বলেছেন, মধু হৃদপি-কে সতেজ করে। প্রতিদিন হাতের তালুতে অল্প পরিমাণ মধু নিয়ে চেটে খেলে হৃদরোগ থাকে না। জার্মান হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ড. ই কচ বলেছেন, ‘উপযুক্ত ঘাস খেয়ে ঘোড়া যেমন তেজী হয় তেমনি নিয়মিত সকালে এক চা-চামচ করে খাঁটি মধু খেলে হৃদপি- শক্তিশালী হয়। এ ছাড়া মধু আয়ুও বৃদ্ধি করে।’

ডায়রিয়াতে রাসূল (সা.) মধু খাওয়ানোর কথা বলছেন। ডায়রিয়া হলে খয়ের ও দারুচিনির গুঁড়া সমপরিমাণ সামান্য মধুর সঙ্গে মিশিয়ে দিনে ৩/৪ বার খেলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়। পিপুল ও গোল মরিচের শুকনো গুঁড়ার সঙ্গে মধু মিশিয়ে কিছু দিন নিয়মিত খেলে পুরাতন উদরাময় ভালো হয়ে যায়। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে এক গ্লাস গরম দুধ বা গরম পানিতে ২চা-চামচ মধু মিশিয়ে কয়েকবার খেতে হবে।

মধু ও দারুচিনির মিশ্রণ

মধু ও দারুচিনির মিশ্রণ স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। পিত্ত থলির সংক্রমণ রোধ করতে, বাতের ব্যথায়, মুখের দুর্গন্ধ কাটাতে, এমনকি শরীরের বাড়তি ওজন কমাতেও মধু খুবই কার্যকরী উপাদান। মধু খেলে শরীর সুস্থ থাকে। মধু খেলে সর্দি-কাশির সমস্যা এড়ানো যায়। দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে হার্টের সমস্যা- খুব ভালো কাজ করে মধু।

 ড্রেসিং করতে

ক্ষত স্থান সারাতেও মধুর উপকারিতা আছে। ক্ষতস্থানে ড্রেসিং করতে মধুর ব্যবহার করা যেতে পারে।

নরম, কোমল ও মসৃণ ত্বক

ফিলিপ বি. বোটানিকাল প্রোডাক্টস ইন্টারন্যাশনালের ফিলিপ বার্কোভিটজ বলেন, “মধু বাতাস থেকে আর্দ্রতা শোষণ করে ত্বক নমনীয় রাখতে সাহায্য করে। মধুর মধ্যে যে শর্করা রয়েছে তার আলফা-হাইড্রোক্সিড উপাদান ত্বক এক্সফলিয়েট করে মৃত কোষ দূর করে ত্বকের রং স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। ত্বক ভিতর থেকে পরিষ্কার করে নরম, কোমল ও মসৃণ করে তুলতে সাহায্য করে মধু।”

ত্বকের সমস্যা দূর করে

বার্কোভিটজ বলেন, “রোদেপোড়া ত্বকের সমস্যা দূর করতে কাজ করে মধুর অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল উপাদান। তাছাড়া হালকা পুড়ে যাওয়া ক্ষতের জ্বালাপোড়া কমাতে কার্যকর মধু। ডাক্তারদের মতে ত্বকে ক্ষতের দাগ দূর করতেও কার্যকর মধু। এটা ত্বকে জ্বলীয় উপাদানের পরিমাণ বজায় রেখে ত্বক সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে।”

চোখের নিচের কালি ও বলিরেখা

ফিলিপ ওয়ার্নস বললেন , “মধুতে আছে আমাইনো এসিড যা চুল নরম করতে সাহায্য করে। তবে এক্ষেত্রে পানি বা অ্যালোভেরার জেলের সঙ্গে মিশিয়ে চুলে ব্যবহার করতে হবে। ১৫ থেকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে ত্বক মধু শুষে নেবে আর ব্রণের ফোলা ও লালচেভাব কমিয়ে ফেলবে। মধু ত্বকে আর্দ্রতা টেনে নিয়ে ত্বক কোমল করে। ফলে চোখের নিচের কালি ও বলিরেখা কমে আসে।”

 চুলের স্বাস্থ্যে

শুধু ত্বক নয়। সৌন্দর্য বিদ্যায় চুলের বিশেষ যত্নেও মধুর উপকারিতার কথা বলা হয়। তাই চুলের যত্নেও ব্যবহার করা হয় মধু।

ফেইশল

যদি ঘরে মধু থাকে তবে পয়সা খরচ করে বিউটি পার্লারে গিয়ে স্পা আর ফেইশলের কোনোই প্রয়োজন নেই। মধুর শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, জ্বালাপোড়া বিহীন আল্ট্রা-ময়েশ্চারাইজিং উপাদান ত্বকের জন্য উপকারী।শুধু মধু মুখে মাখা যায়। আবার দুই টেবিল-চামচ মধুর সঙ্গে দুই চা-চামচ দুধ মিশিয়ে মুখে মেখে রাখুন। ত্বকে ভালোমতো শুষে নেওয়ার জন্য ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর ধুয়ে পরিষ্কার করে ফেলুন। স্বাভাবিক এক্সফলিয়েটিং ফেইশলের জন্য মধুর সঙ্গে সামান্য চিনি মিশিয়ে তৈরি করতে পারেন ময়েশ্চারাইজিং স্ক্রাব।

খাঁটি মধু চেনার উপায়

কৌশল এক

ফ্রিজে রাখলে খাঁটি মধু জমবে না। ভেজাল মধু ফ্রিজে রাখলে পুরোপুরি না জমলেও জমাট তলানি পড়বে।বৃদ্ধাঙ্গুলে সামান্য মধু নিন, যদি তা বেশ আঠালো মনে হয় তাহলে বুঝবেন এটি আসল মধু। দেখবেন দুটো হাত চিটেই থাকছে।

কৌশল দুই

এক টুকরো সাদা কাপড়ে মধু মাখান। আধা ঘণ্টা রাখুন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। যদি দাগ থেকে যায়, বুঝবেন মধুটি খাঁটি নয়। মধুর স্বাদ হবে মিষ্টি, এতে কোনো ঝাঁঝালো ভাব থাকবে না। মধুতে কখনো কটু গন্ধ থাকবে না। খাঁটি মধুর গন্ধ হবে মিষ্টি ও আকর্ষণীয়।

কৌশল তিন

মোমবাতির সলতে নিয়ে মধুতে ডুবিয়ে আগুন দিয়ে জ্বালানোর চেষ্টা করুন। যদি জ্বলে ওঠে, তাহলে বুঝবেন যে মধু খাঁটি। আর যদি না জ্বলে, বুঝবেন যে মধুতে পানি মেশানো আছে। অনেকদিন ঘরে রেখে দিলে মধুতে চিনি জমতেই পারে। কিন্তু যদি পাত্রসহ মধু গরম পানিতে কিছুক্ষণ রেখে দেখুন। এই চিনি গলে মধু আবার স্বাভাবিক হয়ে আসবে। কিন্তু নকল মধুর ক্ষেত্রে এটা হবে না।

কৌশল চার

এক টুকরো ব্লটিং পেপার নিয়ে তাতে কয়েক ফোঁটা মধু দিন। যদি কাগজ তা সম্পূর্ণ শুষে নেয়, বুঝবেন মধুটি নকল আছে। গ্লাসে বা পাত্রে খানিকটা পানি নিন। তার মধ্যে এক চামচ মধু দিন। যদি মধু পানির সঙ্গে সহজেই মিশে যায়, তাহলে বুঝবেন যে এটা অবশ্যই নকল। আসল মধুর ঘনত্ব পানির চাইতে অনেক বেশী, তাই তা সহজে মিশবে না। এমনকি নাড়া না দিলেও মধু পানিতে মিশবে না।

কৌশল পাঁচ

দুই-তিন ফোঁটা ভিনেগার এবং জল মধুর সাথে মিশিয়ে ঝাঁকিয়ে নিন। মিশিয়ে নেওয়ার পর যদি ফেনার মতো তৈরি হয় তাহলে বুঝে নিবেন এটি নকল মধু। হাতের তালুতে মধু নিন কয়েক ফোঁটা। যদি দেখেন যে তা অন্যান্য তরলের মতোই গড়িয়ে যাচ্ছে তাহলে ধরে নেবেন সেই মধু খাঁটি নয়। মধু খাঁটি হলে কখনই গড়িয়ে যাবে না। এক জায়গায় জমাট বেঁধে থাকবে।

সকালে খালি পেটে মধু

সকালে খালি পেটে হালকা গরম পানিতে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে খেলে তা ওজন কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে লিভার পরিষ্কার থাকে। শরীরে রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে পারে মধু। কারণ মধুতে আছে প্রচুর পরিমাণে মিনারেল, ভিটামিন ও এনজাইম যা শরীরকে বিভিন্ন অসুখ বিসুখ থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও প্রতিদিন সকালে এক চামচ মধু খেলে ঠাণ্ডা, কফ, কাশি ইত্যাদি সমস্যা কমে যায়।

মধুর সঙ্গে দারচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে খেলে তা রক্তনালীর সমস্যা দূর করে এবং রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ ১০ ভাগ পর্যন্ত কমিয়ে দেয়। মধু ও দারচিনির এই মিশ্রণ নিয়মিত খেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে।
হজমের সমস্যা দূর করতে প্রতিদিন সকালে মধু খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। মধু পেটের অম্লভাব কমিয়ে হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। হজমের সমস্যা দূর করার জন্য মধু খেতে চাইলে প্রতিবার ভারি খাবার খাওয়ার আগে এক চামচ মধু খেয়ে নিন। বিশেষ করে সকালে খালি পেটে এক চামচ মধু কিন্তু খুবই উপকারী।

মধুতে আছে প্রাকৃতিক চিনি যা শরীরে শক্তি যোগায় এবং শরীরকে কর্মক্ষম রাখে। বিশেষ করে যারা মিষ্টি জাতীয় কিছু খেতে পছন্দ করেন, তারা অন্য মিষ্টি খাবারের বদলে মধু খেতে পারেন। শরীরের দুর্বলতা ও চা-কফির নেশা কমায় মধু।

চিনি মেশানো মধুতে ক্ষতি

হার্টের অসুখ থেকে ডায়াবেটিস, সবই হতে পারে চিনি মেশানো মধু খাওয়ার ফলে। কারণ, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি করে, সাময়িক অ্যানার্জি বাড়িয়ে দেয় চিনি। এছাড়া ওজন বাড়িয়ে দেওয়ার ফলে স্থূলতা দেখা দেয়। টাইপ টু ডায়াবেটিস দেখা দিতে পারে। হার্টের অসুখের শঙ্কা তৈরি হয়।

এমনকি লিভারের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিসিস হওয়ার শঙ্কা থাকে। মধুর এনজাইম চিনিতে থাকে না, ফলে হজম কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া সংক্রমণ জাঁকিয়ে বসতে সাহায্য করে।এসব থেকে বাঁচতে জেনে নিন খাঁটি মধু চেনার উপায়। মধুতে কখনো কটু গন্ধ থাকবে না। খাঁটি মধুর গন্ধ হবে মিষ্টি ও আকর্ষণীয়।

কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে মধু নষ্ট হতে পারে। যেমন- মধু দূষিত হলে। এই দূষণের কারণ হতে পারে বাহক মৌমাছির হজমতন্ত্র কিংবা ফুলের চারপাশের পরিবেশ। দ্বিতীয় স্তরে মধু নষ্ট হওয়ার কারণ হল- যে বয়াম বা কৌটায় মধু সংরক্ষণ করা হয় সেটা যদি নোংরা হয় বা অস্বাস্থ্যকর হাতের সংস্পর্শে আসলে, কিংবা মধুতে নোংরা পানি মিশে গেলে।

পরাগায়নের সময় মৌমাছি যখন ফুলের ওপর বসে মধু আহরণ করে, তখন ওই গাছ থেকে বিষাক্ত কোনো উপাদান মৌমাছি গ্রহণ করে ফেলতে পারে। এই ধরনের উদ্ভিদ থেকে পাওয়া মধু খেলে বমিভাব, মাথা ঝিমঝিম এবং রক্তচাপজনীত জটিলতা দেখা দেয়। কোন পাত্রে মধু সংরক্ষণ করা হচ্ছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সঠিক পাত্রে সংরক্ষণ করা না হলে মধুর ‘অ্যান্টি-মাইক্রোবায়াল’ উপাদান হারাবে, যা অণুজীব বেড়ে ওঠা রোধ করে।

মধু দীর্ঘদিন খাওয়ার যোগ্য রাখতে এবং তার পরিমাণ বাড়াতে বর্তমানে নানান ধরনের ভেজাল মেশানো হয়। এই পদ্ধতিতে মধুতে যোগ করা হয় পানি থেকে শুরু করে কর্ন সিরাপসহ বিভিন্ন উপাদান। ক্রেতার মনোরঞ্জনের জন্য পরিবর্তন আনা হয় মধুর প্রাকৃতিক প্রস্তুত প্রক্রিয়াতেও। আর একারণেই মধু দ্রুত খাওয়া অযোগ্য হয়ে যায়।

ডায়াবেটিসে মধু খাওয়া ঠিক কিনা

বিশেষজ্ঞরা ডায়াবেটিস রোগীদের চিনি জাতীয় খাবার না খাওয়ার জন্য বলেন। তবে অনেকে বিকল্প হিসেবে মধু খাওয়ার কথা বলে থাকেন। যদি রোগী ইনসুলিন গ্রহণ করেন তাহলে তাকে প্রতিদিনের কার্বোহাইড্রেট সংখ্যার দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের কার্বোহাইড্রেট এবং ফাইবারের উপাদানের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। তা না হলে রক্তে চিনির মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর তা ছাড়া টাইপ-২ রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের মতামত ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই বলা যায় না টাইপ-২ রোগীদের জন্য মধু উপকারী কিনা।

বিশেষজ্ঞদের গবেষণা এটাই বলছে যে, ডায়াবেটিস রোগীদের সীমিত পরিমাণে মধু খাওয়া যেতে পারে। তবে মধু খেতে চাইলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে খাওয়া উচিত।

সতর্কতা

মধু সব রোগের মহৌষধ হলেও একটি কথা থেকেই যায়, সেটি হলো ডায়াবেটিস রোগের ক্ষেত্রে মধু খুবই বিপজ্জনক। কারণ এটি রক্তে সরাসরি শোষিত হয় বলে সহজেই দেহের রক্ত শর্করাকে উচ্চস্তরে নিয়ে আসবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। সুতরাং ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মধু গ্রহণ নিষেধ। তাছাড়া মধু সবার শরীরে গরম তৈরি করে। যেকোনো বয়সের মানুষ অধিক পুষ্টির আশায় বেশিমধু খেলে ডায়রিয়া হয়ে যাবে।

জন্মের পর অনেক বাচ্চাকে মধু খেতে দেওয়া হয়, সেটা কোনোভাবেই করা যাবে না। যদিও মধুর অনেক গুণ ও স্বাস্থ্যকর, তবে এক বছরের নিচের বাচ্চাকে কখনোই খাবারে আপনি মধু সংযোজন করবেন না।

সূত্র: উইকিপিডিয়া,  রয়টার্স , www.somoynews.tv, ও  এনটিভি অনলাইন

পরিবার.নেট

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: poribar.net@gmail.com

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *