কেন খর্বাকৃতির হয়ে যাচ্ছে শিশুরা

অপুষ্টি র ফলে বিশ্বে প্রতি পাঁচ শিশুর মধ্যে এক শিশু খর্বাকৃতির হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। স্বাস্থ্যকর খাদ্যসুবিধাবঞ্চিত মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া, খাদ্যসংকটে ভুগাদের সংখ্য বৃদ্ধির ফলে খর্বাকৃতির শিশুদের সংখ্যা বাড়ছে। পুষ্টিহীনতার কারণে শিশুদের প্রতিবন্ধী হওয়ার হার অনেক বেড়ে গেছে। শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে বা খর্বাকৃতি হয়ে যাচ্ছে।

খর্বাকৃতি বা বামনত্ব কী?

বামনত্ব (Dwarfism) হলো একটি হরমোনঘটিত রোগ, যা মূলত দেহে বৃদ্ধি হরমোনের অভাবে হয়ে থাকে। বৃদ্ধি হরমোন হচ্ছে একটি বিশেষ ধরনের হরমোন, যা শরীরের সব ধরনের কোষের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। এটি কোষ বিভাজনের মাত্রা বাড়িয়ে কোষকে সংখ্যায় এবং আকারে বৃদ্ধি করে। এই হরমোনের কারণেই মানুষ ছোট থেকে বড় হয়, মানুষের শরীর আকার-আয়তনে বৃদ্ধি পায়।

কোনো কারণে যদি শরীরে পর্যাপ্ত বৃদ্ধি হরমোন উৎপন্ন হতে না পারে, তাহলে শরীরের বৃদ্ধি শ্লথ হয়ে আসে। এই সমস্যাটি সাধারণত শৈশবে শুরু হয় আর স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয় বয়ঃসন্ধিকালে। তবে যেকোনো বয়সেই নানা কারণে বৃদ্ধি হরমোন কমে যেতে পারে এবং একজন ব্যক্তি বৃদ্ধি হরমোনঘটিত কোনো রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

বৃদ্ধি হরমোন আপনার মাথার পেছনে অবস্থিত পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। মহাগুরুত্বপূর্ণ এই পিটুইটারি গ্রন্থির আছে দুটো ভাগ- অগ্র পিটুইটারি এবং পশ্চাৎ পিটুইটারি। আলোচ্য বৃদ্ধি হরমোন অগ্র পিটুইটারি থেকে ক্ষরিত হয়। অগ্র পিটুইটারি থেকে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ হরমোনের ক্ষরণ ঘটে থাকে। যেমন- এড্রেনোকর্টিকোট্রপিক হরমোন (ACTH), থাইরয়েড স্টিম্যুলেটিং হরমোন (TSH), ফলিকল স্টিম্যুলেটিং হরমোন (FSH) প্রভৃতি।

শরীরের বৃদ্ধি প্রক্রিয়া শুরু হয় মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে। অন্যভাবে বললে, বৃদ্ধি হরমোন নিঃসরণের ক্ষেত্রে হাইপোথ্যালামাসের বিশেষ ভূমিকা আছে। হাইপোথ্যালামাস থেকে Growth Hormone Stimulating Hormone ক্ষরিত হয়, যা অগ্র পিটুইটারিকে বৃদ্ধি হরমোন (Growth Hormone) নিঃসরণের জন্য উদ্দীপ্ত করে।

ফলে বৃদ্ধি হরমোন নিঃসৃত হয়ে রক্তপ্রবাহে চলে আসে এবং যকৃতে পৌঁছে আরেকটি হরমোন Insulin like growth factor-1 ক্ষরণে উদ্দীপনা যোগায়। এই IGF-1 হরমোনটি প্রত্যক্ষভাবে হাড় এবং মাংসপেশীর বৃদ্ধি ঘটায়। বৃদ্ধির পুরো প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল বলে এই প্রক্রিয়ার যেকোনো ধাপে যেকোনো সমস্যা যথাযথ বৃদ্ধিকে ব্যাহত করতে পারে।

খর্বকায় শিশু অপুষ্টির শিকার

শিশুরা সমাজের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। জাতির ভবিষ্যৎ। তবে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে বর্তমানে বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ৪২ % খর্বকায়। শিশুদের সুস্থ শারীরিক এবং মানষিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা মাতা পিতা, সমাজের সকল বয়স্ক নাগরিক এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

খর্বাকৃতি হওয়ার কারণ

দীর্ঘ দিনের পুষ্টি ঘাটতি খর্বাকৃতি হওয়ার প্রধান কারণ। পুষ্টি ঘাটতি ছাড়াও শিশু খর্বাকায় হওয়ার আরো যে সব কারণ রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়া, অন্ত্রে পরভুক জীবাণুর আক্রমণ, কম জন্মকালীন ওজন এবং গভীর মানসিক চাপ ইত্যাদি।

এ সব কারণ আবার একটি অন্য আর একটির উপর ভর করে প্রতিক্রিয়া বৃদ্ধি করতে পারে। জন্মকালীন কম ওজন সরাসরি মায়ের পুষ্টি ঘাটতির সাথে যুক্ত এবং অপর্যাপ্ত পুষ্টির সাথে দীর্ঘকালীন অথবা বার বার সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়া।

বামনত্বের কারণ বড়ই বিচিত্র। বিভিন্ন কারণেই এটি হতে পারে। যেমন- বাবা-মা বা পরিবারের কারো বামনত্ব থাকলে। কোনো কারণে জিনে মিউটেশন ঘটলেও বামনত্ব হতে পারে। হরমোনজনিত কোনো সমস্যা থাকলে। যেমন- হাইপোথাইরয়েডিজম এবং অবশ্যই বৃদ্ধি হরমোনের অপর্যাপ্ততা।

ব্যক্তি যদি কোনো ক্রোমোসোমাল ডিসঅর্ডারে (যেমন- টারনার সিনড্রোম) আক্রান্ত হয়। অপুষ্টির শিকার হলে। পিটুইটারি গ্রন্থিতে টিউমার হলে বা আঘাত লাগলে। লিউকেমিয়া বা শরীরে অপরিপক্ব শ্বেতকণিকার সংখ্যা বেড়ে গেলে। আরো অজানা (Idiopathic) নানা কারণে বামনত্ব হতে পারে।

খর্বাকৃতি হওয়ার প্রভাব

বয়সের সাথে সাথে স্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধি না হওয়ার প্রধান সমস্যা হচ্ছে বাড়ন্ত শিশুর প্রয়োজনীয় মেধা বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। যখন একটি শিশু বয়স অনুয়ায়ী পর্যাপ্ত পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয় তখন সে নিষ্প্রাণ ও নিষ্প্রভ হয় নিজেকে গুটিয়ে রাখে। লেখা পড়ায় মনোযোগী হয় না। এমন কি খেলা ধুলায়ও আনন্দ পায় না।

অপুষ্টির শিকার শিশুরা শুধু তাদের বয়সের জন্যই ভাগ্য বঞ্চিত নয় তারা তাদের শরীর ও মনের দীর্ঘস্থায়ী অপূর্ণতার বোঝা বহন করেন। খর্বকায় শিশুরা নানা রকম রোগ ব্যাধিতে সংবেদনশীল হয়। পড়া লেখায় পিছিয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে পূর্ণ বয়স্ক ব্যাক্তি হিসাবে আয় রোজগারের ক্ষেত্রেও তারা পিছিয়ে পড়েন।

বামনত্বের প্রতিকার

বয়সের তুলনায় অল্প বাড়া শিশুদের যদি অল্প বয়সে ইনজেকশনের মাধ্যমে গ্রোথ হরমোনের ডোজ দেওয়া হয়, তাহলে বামনত্ব সেরে যায়। শিশুটি স্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে। অনেকেই জানেন নিশ্চয়ই, জনপ্রিয় ফুটবল তারকা লিওনেল মেসিকেও বৃদ্ধি হরমোনের অভাব সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগতে হয়েছিল। ছোটবেলায় যখন তার রোগটি ধরা পড়ে, তখন তার উচ্চতা ছিল ৪ ফুট ২ ইঞ্চি। তারপর বার্সেলোনা ফুটবল ক্লাবের আলোচিত চিকিৎসার পর তার বর্তমান উচ্চতা ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি, যা গড়পড়তা আর্জেন্টাইনদের চেয়েও বেশি!

আগে মৃতদেহ থেকে বৃদ্ধি হরমোন সংগ্রহ করা হতো। কিন্তু এতে ভয়ানক একটি রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকায় আর এভাবে বৃদ্ধি হরমোন সংগ্রহ করা হয় না। এখন রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া কোষ থেকে বৃদ্ধি হরমোন উৎপাদন করা হয়। এছাড়া কিছু কিছু ওষুধ আছে, যেগুলো গ্রহণ করলে শরীরের অভ্যন্তরেই বৃদ্ধি হরমোন উৎপাদন বাড়ে।  শিশু যদি বামনত্বে আক্রান্ত হয়েই থাকে, তাহলে ভয় পাবেন না। যথাযথ চিকিৎসায় বামনত্ব ভাল হতেও পারে। আর চারপাশের খর্বাকার লোকদের প্রতি খারাপ আচরণ করবেন না। তাদের এই অবস্থার পেছনে তারা কোনভাবেই দায়ী নন, তারা একটি রোগের শিকার মাত্র।

খর্বাকৃতির মানুষেরা উপেক্ষিত

খর্বাকৃতির কেউ পাশের বাসার বন্ধুর সমবয়সী হওয়ার পরও তার তুলনায় যথেষ্ট খাটো হওয়ায় হীনমন্যতায় ভোগে। কাছের কোনো আত্মীয় বয়সে বড়  হয়েও  এই অবস্থার শিকার হলে তাকে অনেকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে।

রাস্তায় বেরোলে এরকম মাথা বড়, অস্বাভাবিক খাটো লোকজনদের দেখে  কেউ কেউ কখনো হাসে, কখনো ব্যঙ্গ করে, কটুক্তি ছুড়ে দেয়, কখনোবা অবাক চোখে তাকাই। মানুষ হিসেবে মানবিক আচরণ করতে হয়তো ভুলে যাই ক্ষণিকের জন্য।

জীবনের প্রথমে অপর্যাপ্ত পুষ্টি

স্বাভাবিক বৃদ্ধির ঘাটতি শিশুর জীবনের ভ্রুণ অবস্থা থেকে দুবছর বয়স পর্যন্ত হতে পারে। খর্বকায় শিশুরা স্বাভাবিক শিশুদের চেয়ে উচ্চতায় কয়েক ইঞ্চি কম হয়। তাদের দেখতে বয়স কম মনে হয়।

খর্বাকৃতি অপুষ্টির প্রধান লক্ষণ। তবে অপুষ্টির অন্যান্য ঘাটতির মধ্যে রয়েছে দূর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, সীমিত বোধ শক্তি, মুটিয়ে যাওয়ার আশংকা, উচ্চরক্ত চাপের প্রবনতা, সর্বপরি স্বল্প গড় আয়ু।

গর্ভবতী মায়ের পুষ্টি ঘাটতিতে ক্ষুদ্রকায় শিশু

গর্ভবতী মায়ের পুষ্টি ঘাটতি হলে খর্বাকৃতি শিশু জন্ম হতে পারে। গর্ভবতী মা যদি খর্বাকৃতি হন, ওজন কম হয়, গর্ভকালীন সময় প্রয়োজনীয় বৃদ্ধি না হয় তাহলে খর্বাকৃতি প্রবণতাসহ শিশুর জন্ম হতে পারে।

জন্মের পরেও শিশুর খর্বাকৃতি প্রবনতা সৃষ্টি হতে পারে: নিম্ন মানের খাবার, সংক্রামক রোগ, এবং খাদ্যে পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাব। অণুখাদ্য যেমন আয়রন, জিঙ্ক , ভিটামিন-এ, ভিটামিন- সি এবং ভিটামিন -ডি এর অভাব। পরিবেশগত অবস্থা যেমন ক্রটিপূর্ণ স্যানিটেশন এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেও শিশু খর্বাকৃতি হতে পারে।

শিশুর জীবনের প্রথম ১০০০ দিনের মধ্যে অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। চিরদিনের জন্য খর্বকায় হয়ে যেতে পারে। খর্বকায় শিশুরা অতি সহজে রোগাক্রান্ত হয়। লেখা পড়ায় অন্যদের চেয়ে পেছনে পারে। সহজেই তারা অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা অন্যদের তুলনায় পিছিয়ে পড়ে।

খর্বাকৃতি থেকে বাঁচার উপায়

আজকের শিশু আগামি দিনের নাগরিক। খর্বাকায় অভিশাপ থেকে শিশুদের মুক্তি দিতে হলে মায়ের পুষ্টির কথা ভাবতে হবে সবার আগে। গর্ভবতী হওয়ার আগে, গর্ভকালীন সময়ে, সন্তান প্রসবের পরে মায়ের পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। নবজাতকের বয়স ২ বছর হওয়া পর্যন্ত মাতৃ দুগ্ধ সেবন করতে হবে।

শিশুর বয়স ৫ বছর পর্যন্ত পর্যাপ্ত পুষ্টির সরবরাহ নিশ্চিত করা খুবই প্রয়োজন। অণুখাদ্যের ঘাটতি যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। স্বাস্থ্য সম্মত সেনিটেশন ও পানীয় জলের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করার ব্যাপারে যথেষ্ঠ সচেতন হতে হবে।

বামনত্বের প্রকারভেদ

উপসর্গ, বৃদ্ধির ধরন, শারীরিক ও মানসিক দক্ষতা, রোগের কারণ প্রভৃতি বিষয় বিবেচনা করে বামনত্বকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে-

প্যানহাইড্রোপিটুইটারিজ

পিটুইটারি থেকে ক্ষরিত বেশিরভাগ হরমোনই অগ্র পিটুইটারি থেকে আসে। কয়েকটির নামও উল্লেখ করা হয়েছে উপরে। কোনো কারণে যদি পিটুইটারি গ্রন্থি ক্ষতিগ্রস্থ হয়, তাহলে শুধু বৃদ্ধি হরমোনই নয়,অগ্র পিটুইটারি থেকে ক্ষরিত সব হরমোনেরই অভাব দেখা যায়। ফলে শরীরের বৃদ্ধি হ্রাস পায়। উচ্চতা কম হয়, হাত-পা, বাহু শরীরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ছোট হয়।

কোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আশানুরুপ বাড়তে পারে না, নির্দিষ্ট কাজের উপযোগী হতে পারে না। এই রোগে আক্রান্ত শিশুদের বয়ঃসন্ধি দেরিতে হয়। প্রজনন অঙ্গগুলো পরিণত না হওয়ার কারণে ব্যক্তি বংশবৃদ্ধি করতে পারে না। মাথায় বড় ধরনের কোনো আঘাত লাগলে কিংবা পিটুইটারি গ্রন্থিতে টিউমার হলে এই রোগ হতে পারে।

বৃদ্ধি হরমোনের অভাবজনিত বামনত্ব

এই রোগ হয় শরীরে শুধুমাত্র বৃদ্ধি হরমোনের অভাব থাকলে। বৃদ্ধি হরমোন যথেষ্ট পরিমাণে থাকে না বলে আক্রান্ত ব্যক্তি উচ্চতায় বাড়ে না। অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আকারও ছোট হয়। তবে এরা প্রজননে সক্ষম হয়ে থাকে।

লেভিলরেন বামনত্ব

শরীরে যদি বৃদ্ধি হরমোনের জোয়ারও বয়ে যায়, তবু এটি কাজ করতে পারবে না যদি সোমাটোমেডিন সি (IGF-1) এর অভাব থাকে। লেভিলরেন বামনদের শরীরে যথেষ্ট গ্রোথ হরমোন থাকে, তবে থাকে না IGF-1। ফলে যা হওয়ার তা-ই হয়, গ্রোথ হরমোন শরীরের সব জায়গায় পৌঁছে যায় ঠিকই, তবে শরীর তা কাজে লাগাতে পারে না। ফলে বৃদ্ধি হ্রাস পায়। পৃথিবীর সবচেয়ে খর্বাকার আফ্রিকার পিগমি আদিবাসীরা এই শ্রেণীর বামন।

কোনো কোনো বামনত্বের ক্ষেত্রে শরীরের সব অঙ্গ একই অনুপাতে বাড়ে। মাথা, হাত-পা সবকিছুরই বৃদ্ধি রহিত হয়। সবগুলো অঙ্গই ছোট হয়। আবার কখনো দেখা যায়, শরীর ঠিকঠাক বাড়ছে কিন্তু হাত-পা ছোট, মাথা বড়।

বামনত্ব রোগে ভুগছে কিনা বুঝবেন কীভাবে?

স্বাভাবিক বাচ্চাদের থেকে বৃদ্ধি হরমোনের ঘাটতি থাকা বাচ্চারা সাধারণত ২০-২৫ শতাংশ কম বাড়ে। ২-৪ বছর বয়সেই ব্যাপারটি বোঝা যায়। হাত-পা অতিরিক্ত খাটো হয়। মুখমণ্ডল ছোট হয়, কারণ মুখমণ্ডলের হাড় ম্যাক্সিলা ও ম্যান্ডিবল তেমন একটা বাড়ে না। দাঁতগুলোও পরিপক্ক হয় না। নাক ছোট হয়, চোখ দুটো কাছাকাছি মনে হয়। শরীরে প্রোটিন উৎপাদন কম হওয়ায় মাংসপেশী কম তৈরি হয়। শরীরে অস্বাভাবিক চর্বি জমতে দেখা যায়। প্রজনন অঙ্গ সুগঠিত হয় না। চামড়া কুঁচকানো হতে পারে। বুদ্ধিমত্তা সাধারণত স্বাভাবিকই থাকে। তবে বিষন্নতা, হীনমন্যতার মতো মানসিক জটিলতা কাজ করতে পারে।

বাচ্চার মধ্যে উপরের লক্ষণগুলো দেখলে কি সে আসলেই বামনত্বে ভুগছে? ভাবছেন, এটি নিশ্চত হবেন কীভাবে? কিছু কিছু পরীক্ষা আছে, যেগুলো করলে বোঝা সম্ভব আপনার বাচ্চা সত্যিই বামনত্বে ভুগছে কিনা। হাতের মুষ্টির এক্স-রে তার মধ্যে একটি। এই এক্স-রে করলে হাতের হাড়ের বয়স (Bone Age) নির্ণয় করা যায়। হাড়ের বয়স এবং বাচ্চার বয়সের তুলনা করে বোঝা যায় শিশুর বামনত্ব আছে কিনা। সাধারণত বামনত্বে আক্রান্ত বাচ্চাদের হাড়ের বয়স মূল বয়সের চেয়ে দু’বছর কম হয়। যেমন- বাচ্চার বয়স ১০ বছর হলে হাড়ের বয়স হবে ৮ বছর।

তথ্যসূত্র

roar.media
samakal.com
www.prothomalo.com

About পরিবার.নেট

পরিবার বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘পরিবার ডটনেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। পরিবার ডটনেট এর উদ্দেশ্য পরিবারকে সময় দান, পরিবারের যত্ন নেয়া, পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করা, পারিবারিক পর্যায়েই বহুবিধ সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরি করে সমাজকে সুন্দর করার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পরিবার ডটনেট চায়- পারিবারিক সম্পর্কগুলো হবে মজবুত, জীবনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, ঘরে ঘরে জ্বলবে আশার আলো, শান্তিময় হবে প্রতিটি গৃহ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মানবিক মান-মর্যাদা-সুখ নিশ্চিত হবে । আগ্রহী যে কেউ পরিবার ডটনেট এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে লেখা ছাড়াও পাঠাতে পারেন ছবি, ভিডিও ও কার্টুন। নিজের শখ-স্বপ্ন-অনুভূতি-অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারেন সবার মাঝে। কনটেন্টের সাথে আপনার নাম-পরিচয়-ছবিও পাঠাবেন। ইমেইল: [email protected]

View all posts by পরিবার.নেট →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *